বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত?

বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত? কিংবা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত? ঘনত্ব কত? এ রকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর নিয়ে দেশের পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহ গণনার প্রাথমিক প্রতিবেদন আগামী ১৬ জুলাই প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএসএস)।


রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলায় এক অনুষ্ঠানের মাধমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার। আরও থাকবেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অথচ ১১ জুলাই (আজ) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রাক্কালেই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু হরতালের কারণেই তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিবিএস’র সচিব রীতি ইব্রাহিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘আদম শুমারির প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ চলতি মাসের ৬ তারিখ নির্ধারণ করা হলে হরতালের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এজন্য ১৬ জুলাই শনিবার নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহ গণনার কাজ গত ১৫ মার্চ মধ্য রাত থেকে শুরু হয়ে ১৯ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত চলে।

এবার গণনা কাজ চালাতে সারা দেশকে ৩ লাখ ৩০ হাজার ‘গণনা এলাকায়’ ভাগ ও এলাকাগুলোর ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করে গণনা কাজ চালানো হয়। যাতে কেউ বাদ না পড়েন।

৪৩ হাজার ১৯২ জন সুপারভাইজরের তত্ত্বাবধানে ৩ লাখ ৩০ হাজার গণনাকারী এ পাঁচ দিনে সারা দেশের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।

এবারের শুমারি অনেক বেশি প্রযুক্তিবান্ধব ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয়েছে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, ইউএসএআইডি, ইউএন সেনসাস ডিভিশন, ইউএস সেনসাস ব্যুরো বাংলাদেশকে কারিগরী ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।

দাতাদের দেওয়া অত্যাধুনিক স্ক্যান মেশিনে ঘণ্টায় যেমন তথ্য ফরমের ১০ হাজার পাতা স্ক্যান করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি আইসিআর সফটওয়্যার ব্যবহারে বৃত্ত ভরাট ও লিখিত তথ্য সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

এ ব্যাপারে রীতি ইব্রাহিম আরও বলেন, ‘এবারের শুমারিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার বিগত সময়ের তুলনায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। তাই প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আগে যেখানে ১ বছর সময় লাগতো, এবার সেখানে মাত্র ৩ মাস লাগছে।’

আদমশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য থাকলেও প্রাথমিক প্রতিবেদনের মাত্র কয়েকটি বিষয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর মধ্যে রয়েঝে মোট জনসংখ্যা, সমন্বয়কৃত জনসংখ্যা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, ঘনত্ব, বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যা, নারী-পুরুষের অনুপাত, খানার (বাড়ি) সংখ্যা, শহরভিত্তিক জনসংখ্যা, বৃহৎ শহরভিত্তিক খানা ও জনসংখ্যার তথ্য।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে কত দিন লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিবিএস মহাপরিচালক শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশে যে চারটি শুমারি হয়েছে, সেগুলোর একেকটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে চার বছরের বেশি সময় লেগেছিল। প্রযুক্তির কারণে এ বছর দেড় থেকে দু’বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব হবে।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৭ লাখ ৮১ হাজার ৬৫১ জন।

২০০১ সালের শুমারি অনুসারে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার। আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ১ দশমিক ৫৯ জন।

এর আগে ১৯৯১ সালের হিসাব মতে, দেশের জনসংখ্যা ছিল ১১ কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার। বৃদ্ধির হার শতকরা ২ দশমিক ১৭ জন।

একইভাবে ১৯৮১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার। আর তা বৃদ্ধির হার শতকরা ২ দশমিক ৩৫ জন।

সবচে বেশি বৃদ্ধির হার ছিল ১৯৭৪ সালে, শতকরা ২ দশমিক ৪৪ জন। তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার ।
  
বিবিএস সচিব রীতি ইব্রাহিম বলেন, ‘লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রতিটি শুমারিতে আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। বর্তমানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় বিগত সময়ের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে এসেছে। এবারের শুমারি প্রতিবেদনেও সেই ধারাবাহিকতা দেখা যাবে।’

উল্লেখ্য, আদমশুমারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সরকারিভাবে অর্থায়ন করা হয় ৮৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইউএনএফপিএ’র মাধ্যমে অর্থায়ন করে ৯০ কোটি টাকা।
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

0 comments:

Thanks for Comment

Copyright © 2013 MEDIA INFO