Showing posts with label News Update. Show all posts
ইসরায়েল থেকে গাজা উপত্যকায় যাওয়ার পথে জাতিসংঘ মহাসচিবের গাড়ি বহরে জুতা নিক্ষেপ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিবাদকারীরা।


প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ইসরায়েলের জেলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের আত্মীয়-স্বজন। তাদের ভাষ্য মতে, বন্দি সমস্যা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বান কি মুন অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে এই প্রতিবাদ।


যে পথ দিয়ে বান কি মুনের গাড়ি বহর যাচ্ছিল সেই পথে সারবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে অনেকেই গাড়ি বহরে জুতা ছুড়ে মারে। এসময় প্রতিবাদকারীরা ‘ইসরায়েলের প্রতি যথেষ্ট পক্ষপাতদুষ্ট’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করছিল।


উল্লেখ্য, শান্তি আলোচনা ফের শুরু করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব সফর এই অঞ্চল করছেন। বান তার সফর শুরু করেন ইসরায়েল থেকে।


একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, ইসরায়েল হয়ে গাজার ইরেজ ক্রসিং পার হওয়ার সময় ৪০ থেকে ৫০ জনের একদল প্রতিবাদকারী ওই গাড়ি বহরে ওপর জুতা নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদকারীরা এসময় মানববন্ধন করে গাড়ি বহরটিকে থামানোর
চেষ্টা করে। কিন্তু হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেয়।


পরে অবশ্য গাড়িবহরটি নিরাপদেই খান ইউনুসের দিকে চলে যায়। সেখানে একটি স্কুল এবং জাপানের অর্থায়নে পরিচালিত একটি গৃহায়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন বান কি মুন।


banglanews24.com

লন্ডন : পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেল রোডের ইস্ট লন্ডন মসজিদে আবারও হামলার চেষ্টা করেছে ব্রিটেনের চরম বর্ণবাদী সংগঠন ইংলিশ ডিফেন্স লীগ (ইডিএল)।


গত শনিবার মাগরিবের নামাজের পর (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিট) মসজিদের উল্টোদিকে অবস্থিত একটি পাব থেকে ইডিএল কর্মীরা এই হামলার চেষ্টা করে। পাবের সামনের দিক থেকে ইডিএল-এর কয়েকজন কর্মী নামাজে আসা মুসল্লিদের উদ্দেশে হঠাৎ করে মদের বোতল ছুঁড়ে আক্রমণের সূচনা করলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।


ইডিএল কর্মীদের মদের বোতল ছোড়ার সাথে সাথেই উপস্থিত মুসল্লিরা এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন, শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।


সংঘর্ষ শুরুর সাথে সাথে পাবের আশপাশে লুকিয়ে থাকা আরো ইডিএল কর্মীরা এসে সংঘর্ষ সূচনাকারী কর্মীদের সাথে যোগ দেয়। সংঘর্ষের খবরে দ্রুত পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ও পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।


বেথনালগ্রীণ-বো আসনের এমপি রোশনারা আলী খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ছুটে এসে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পরে তিনি সবাইকে আশ্বস্থ করেন। বিষয়টি হোম সেক্রেটারিকে অবহিত করে পার্লামেন্টেও তুলবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন কমিউনিটিকে।


টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান পুলিশের উদ্বৃতি দিয়ে বলেছেন, গ্রেফতারকৃত ইডিএল সদস্যদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ইডিএল পূর্ব লন্ডনে কেনো এ হামলা চালালো সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে এতে ইস্ট লন্ডন মসজিদের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইডিএল কর্মীদের আক্রমণ নিয়ে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।


পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে রোশনারা আলী এমপি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শনিবার বিকেলে গ্রেটার লন্ডনের বার্কিং এলাকায় ইডিএলের একটি র‌্যালি ছিল। সেখান থেকে পরিকল্পনা করেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। বার্কিং এর ওই র‌্যালি থেকে পুলিশ ৫ জন ইডিএল কর্মীকে গ্রেফতার করে।


উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে বাঙালিপাড়াখ্যাত টাওয়ার হ্যামলেটসে আসে উগ্র বর্ণবাদী দল ইডিএল নেতা-কর্মীদের একটি দল। তবে সেদিন বাঙালি কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার কারণে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।


ওইদিন ইডিএল বিরোধী পাল্টা শো-ডাউনও করে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দারা। হোম সেক্রেটারি ইডিএল’র মার্চ নিষিদ্ধ করলেও প্রায় ৬শ’ সদস্যের শোডাউন ব্যর্থ হয় মূলত পুলিশি বাধা ও কমিউনিটির মানুষের প্রতিরোধের মুখে। সেদিন পুলিশ ৪৪ জন ইডিএল কর্মীকে আটক করেছিল।


এর আগে ইডিএল যখন তাদের র‌্যালির তারিখ ঘোষণা করেছিল, তখন সেটি নিষিদ্ধের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় স্থানীয় ২৫ হাজার বাসিন্দার স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও রোশনারা আলী এমপি মেট্রোপলিটন পুলিশ বরাবরে হস্তান্তর করে।
বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, টঙ্গী থেকে: বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। বেলা ১২টা ৩৩ মিনিটে শুরু হয়। শেষ হয় ১২টা ৫৩ মিনিটে। ২০ মিনিট স্থায়ী মোনাজাতে লাখ লাখ মুসল্লির ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে পুরো টঙ্গী মুখরিত হয়ে ওঠে।


মোনাজাত পরিচালনাকারী ভারতের মাওলানা জোবায়রুল হাসান দোয়া করলেন বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও দোয়া করা হলো। আর এই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়েই শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব শুরু হবে আগামী ২০ জানুয়ারি। শেষ হবে ২২ জানুয়ারি।


বিশ্বের ৯৫টি দেশের প্রায় ১০ হাজার বিদেশি মেহমানসহ প্রায় কয়েক লাখ মানুষ এই আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন সরাসরি আখেরি মোনাজাত সম্প্রচার করার ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মুনাজাতে শরিক হতে পেরেছেন।


রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তা, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই আখেরি মোনাজাতে শরিক হন।


হেদায়তি বয়ান
এদিন সকাল নয়টা থেকে মোনাজাতের আগে চলে হেদায়তি বয়ান। হেদায়তি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা সাদ। বয়ানে তিনি বলেন, আল্লাহর গজবের বড় স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। তিনি আল্লাহর রাস্তায় (তাবলিগে) দাওয়াতি কাজে পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ পায়ে হেঁটে বেশি মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া সম্ভব। এতে পায়ে যে ধূলাবালি লাগবে তা জাহান্নামের আগুনকে ঠাণ্ডা করে দেয়। তিনি তাবলিগের দাওয়াতি কাজে গিয়ে মানুষের কাছে ইহজগতের জন্য সওয়াল করতে বারণ করে বলেন, যে জামায়াত সওয়াল করে আল্লাহর সাহায্যের দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সওয়াল করলে দিলে শয়তান স্থান পায়। দাওয়াতি কাজে সবচেয়ে বড় কাজ হলো নিজের নিয়তকে সহি করা এবং অন্যের কাছে সওয়াল না করা।


মোনাজাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে যানজট এড়াতে গণভবনে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।


রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ইজতেমার দোয়া মঞ্চে পৌঁছেন ১২টা ২০ মিনিটে, আর বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া অ্যাটলাস হোন্ডা কারখানা ভবনে বিশেষ মঞ্চে মোনাজাতে অংশ নিতে উপস্থিত হন ১২টা ১৫ মিনিটে।


আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার ভোর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা অভিমুখে শুরু হয় মানুষের ঢল। টঙ্গীর পথে শনিবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিং মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন। সকাল ১০টার আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলিগলিতে অবস্থান নেন। ইজতেমা স্থলে পৌঁছাতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোনাজাতের জন্য পুরানা খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়েন।


এছাড়াও পার্শ্ববর্তী বাড়ি-কলকারখানা-অফিস-দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায় মুসল্লিরা অবস্থান নেন। যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ। সবাই অপেক্ষায় আছেন কখন শুরু হবে সেই কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাত। ইজতেমা স্থলের চারপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।


আখেরি মোনাজাতের জন্য রোববার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে ছিল ছুটি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মোনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি নারীরাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছান।


মোবাইল ফোনে মোনাজাত
ইজতেমা স্থলে যেতে পরিবহন সংকট ও ভিড় এড়াতে গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে এলাকাবাসি মোবাইল ফোনে মোনাজাতে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। ইজতেমার মূল মাঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে কয়েক হাজার মুসল্লি জমায়েত হন। পরে তারা মোবাইল ও পুলিশের ওয়াকিটকির মাধ্যমে ইজতেমা স্থলে যোগাযোগ রক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হয়েছেন। একইভাবে জেলার ভোগড়া, বাসন সড়ক ও শিমুলতলী এলাকায় মোবাইল মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


মোনাজাত শেষে যানজট ও মানবজট
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করেন। মুসল্লিরা শুরু করে দেয় হুড়োহুড়ি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এতে টঙ্গীর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় যান ও মানুষের জট। ফলে আবারও পায়ে হেঁটে রওনা দেয় মুসল্লিরা। আর পায়ে হাঁটা মুসল্লিদের চাপে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের যানবাহন রোববার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থেমে থাকবে।


হাজারো পরিত্যক্ত জুতা
আখেরি মোনাজাত শেষে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে জুতা-স্যান্ডেল ফেলেই মাঠ ত্যাগ করেন মুসল্লিরা। আশপাশের সড়ক-মহাসড়কে কয়েক হাজার জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে।


বিশ্ব ইজতেমা: কাকলী মোড়ে ডিএমপি ট্রাফিকের ব্যারিকেড
বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তায় হেলিকপ্টার ও নৌ-টহল
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে জনস্রোত
ইজতেমায় তিন মৃত্যু, ১০৪ বিয়ে
রোববার আখেরি মোনাজাত
আখেরি মোনাজাতে নারীদের অংশগ্রহণ
আমিন, ছুম্মা আমিন
ঢাকা: বিদায়ী যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলভবনে এসে বিদায় নিয়ে গেছেন।

এদিন সকাল সাড়ে নয়টায় সৈয়দ আবুল হোসেন রেলভবনে আসেন। 

রেলভবনের পরিচালক (পরিবহন) সরদার শাহাদত আলী জানান, মন্ত্রী এক ঘণ্টা রেলভবনে ছিলেন। তিনি প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে তিনি চলে যান।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেতু, সড়ক ও রেল বিভাগ থেকে পৃথক করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হচ্ছে। জানা গেছে, রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

সেতু, সড়ক ও রেল বিভাগ নিয়ে গঠিত যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন বহুল আলোচিত মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। বিশ্বব্যাংক তাঁর বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে।
 মন্ত্রিসভায় নতুন দুই জনের দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি পুরনোদের মধ্যে জি এম কাদের ও ফারুক খানের মন্ত্রণালয় অদল-বদল হয়েছে। 

যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেনকে নবগঠিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

নতুন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পেয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। নতুন মন্ত্রণালয় রেলপথের মন্ত্রী হয়েছেন সদ্য শপথ নেওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 

ইয়াফেস ওসমান থাকছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। রোববারই বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ভেঙে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভেঙে রেলপথ নামে আলাদা মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হয় একই দিনে। 

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রিসভার দপ্তর রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক খান। 

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যাবেন মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদের। 

গত ২৯ নভেম্বর ক্ষমতাসীন মহাজোটের মন্ত্রিসভার তৃতীয় দফায় স¤প্রসারণে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুরঞ্জিত ও কাদের। 

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাদের আওয়ামী লীগের গত সরকারে যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 

প্রবীণ সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত এবারই প্রথম মন্ত্রী হলেন। 

নবম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, গঠন করেন ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভা। 

এর ১৮ দিন পর মন্ত্রিসভায় আরো ছয় জন যোগ হন। ওই বছর ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফা কলেবর বাড়ে মন্ত্রিসভার। সেদিন নতুন একজন মন্ত্রী ও পাঁচ প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। 

বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৫ জন- এদের ২৮ জন মন্ত্রী এবং ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী। 
লন্ডন: বাঙালি তরুণ সাইমানের নকশায় তৈরি হবে আসছে লন্ডন অলিম্পিকের স্মারক মুদ্রা। লন্ডনে ২০১২ সালের অলিম্পিককে সামনে রেখে রয়েল মিন্ট ৫ পাউন্ডের দুটি স্মারক মুদ্রা বাজারে ছাড়ার জন্য মুদ্রা দুটির নকশা আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বার্মিংহাম মুইজলি এলাকার বাসিন্দা, বার্মিংহাম স্কুল অব আর্কিটেকচারের মাস্টার্সের ছাত্র বাঙালি তরুণ সাইমান মিয়ার নকশাটি অলিম্পিক স্মারক মুদ্রার জন্য বিজয়ী হয়। অপর স্মারক মুদ্রাটির নকশা বিজয়ী হন ওর্চেস্টাশায়ারের হারফোর্ড কলেজের আর্ট গ্যাজুয়েট পিপার সান্ডারল্যান্ড।
 
বাঙালি তরুণ সাইমান মিয়া তার নকশায় তুলে এনেছেন লন্ডনের স্কাইলাইন ও অলিম্পিকের নানা ইভেন্টের প্রতীক আর পিপার নকশায় স্থান পেয়েছে প্যারাঅলিম্পিক, স্টপওয়াচ ও চাকা।

এ খবরে উচ্ছ্বসিত সাইমান মিয়া বলেন, ‘আমি রীতিমত রোমাঞ্চিত। নকশাটি অলিম্পিকের স্মারক মুদ্রা হিসেবে সারা জীবন মানুষের সংগ্রহে থাকবে, এটা ভেবে আমি বিশেষ আনন্দিত।’

স্থাপত্যবিদ্যার প্রতি তার অনুরাগ স্মারক মুদ্রা তৈরিতে তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাঙালি এ তরুণ সাইমানের বাংলাদেশের বাড়ি বৃহত্তর সিলেটের ছাতক উপজেলার বুরাইয়া গ্রামে।

সাইমান আরো বলেন, ‘লন্ডনের বাইরে দেশ-বিদেশ থেকে অলিম্পিক দেখতে আসা মানুষ গোটা লন্ডন ঘুরে ফিরে যাওয়ার সময় তারা যেন ‘এক টুকরো লন্ডন’ নিয়ে যান। তাই আমার নকশায় আমি অলিম্পিকের খেলাধূলার প্রতীকের সাথে লন্ডনের ভবন ও স্থাপত্যকর্ম যোগ করে দিয়েছি যা লন্ডনের প্রতিনিধিত্ব করে।’

বহুল আলোচিত লন্ডন অলিম্পিকে বাঙালি তরুণ সাইমানের একটি শিল্পকর্ম চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে এ নিয়ে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটি গর্বিত। এ মাসের শেষের দিকে এ স্মারক মুদ্রাটি বাজারে ছাড়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হিসাবে সাইমানকে সম্মানী দেওয়া হবে পাঁচ হাজার পাউন্ড।
 
উল্লেখ্য, ব্রিটেনের বর্তমান রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় বাঙালিরা আজ একটার পর একটা তাদের মেধা ও কর্ম দিয়ে সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও বাঙালি ছেলে-মেয়েরা আজ আর পিছিয়ে নেই। এরই মধ্যে লর্ড সভা, ব্রিটেনের পার্লমেন্টে বাঙালি এমপি, এমন কি লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটেস্ এর নির্বাহী মেয়রও হয়েছেন বাঙালি। কূটনৈতিক দিক দিয়ে বাঙালিরা পিছিয়ে নেই বিচার ব্যবস্থায়ও আমাদের বিচারপতি হওয়ার গৌরব রয়েছে। এবার আসন্ন লন্ডন অলিম্পিকের স্মারক মুদ্রার নকশা তৈরির গৌরব অর্জন করায় বাঙালিদের সাফল্য আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
ঢাকা: ২০১১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। গড় পাসের হার ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ হাজার ৭৫৯ শিক্ষার্থী। গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ২৮ হাজার ৬৭১ শিক্ষার্থী।

এসএইচসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পাসের হার রাজশাহীতে ৭৯ দশমিক ০১। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৫৮৮ শিক্ষার্থী।

সকল বোর্ড চেয়ারম্যানরা আজ সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

এছাড়া ঢাকা বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৭৬ দশমিক ৮৯। প্রথম হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৬৮ দশমিক ৬৮। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩৮৯ শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।

দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৬৬ দশমিক ১৮। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২২৬০ শিক্ষার্থী।

সিলেট বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৭৫ দশমিক ৬৮। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৭ শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ।

বরিশাল বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৭১ দশমিক ১২। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩১০ শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ।

যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৩৭। এ বোর্ডে প্রথম হয়েছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ০৩। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৯৫ শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ।

এবার (www.educationboardresults.gov.bd) ছাড়াও বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাওয়া যাবে।

এবারের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) পরীক্ষায় দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ২৯ হাজার ৬১৯ জন। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় এবার অংশ নিয়েছেন ৭৬ হাজার ৯৫৭ জন।

অন্যদিকে কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ জন। এছাড়া ঢাকা বোর্ডের অধীনে ‘ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজে’র পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯০৪ জন।
কোপা আমেরিকা মিশনটা অন্যতম প্রধান ফেবারিট হিসেবেই শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১৮ বছর পর কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেছে ১৪ বারের শিরোপাজয়ীদের। গ্রুপ পর্বের বাধাটা কোনোমতে পেরোতে পারলেও বিদায় নিতে হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। কোস্টারিকার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়টাই তাদের একমাত্র সাফল্য। হতাশাজনক এই পারফরম্যান্সের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সার্জিও বাতিস্তা। গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আর্নেস্তো চেরকুইস বিয়ালো গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বাতিস্তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। তিনি নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে আর্জেন্টিনার সব কোচিং স্টাফদের একটা মূল্যায়ন খুব দ্রুতই হাজির করবে ন্যাশনাল টিম কমিশন।’ হঠাত্ করে বাতিস্তা এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে পরবর্তী মাসে রোমানিয়ার বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচ বাতিল করেছে আর্জেন্টিনা। তবে খুব দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়ার কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে টেকবিশ্বে গুজব ছিলো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জায়ান্ট ফেসবুক ভিডিও চ্যাট সুবিধা আনবে। অবশেষে সে গুজবকে সত্যি করতেই যেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক জুকাবার্গ জানিয়েছেন, আগামি সপ্তাহেই ফেসবুকে যোগ হচ্ছে ভিডিও চ্যাটিং সুবিধা। খবর ম্যাশএবল-এর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ফেসবুক এবং স্কাইপি মিলেই ফেসবুকে এই সুবিধা যোগ করতে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, স্কাইপি কর্তৃপক্ষ এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এর ফলে ফেসবুকের ডেটা সরাসরি স্কাইপিতে যোগ হবে। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে স্কাইপি সফটওয়্যারটিই আসলে চলে আসছে ফেসবুক-এ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ভিওআইপি জায়ান্ট স্কাইপি কিনে নিয়েছে।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম
সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

শনিবার জোট নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের পর রোববার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, সংবিধান এখন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

সংশোধিত সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও 'বিসমিল্লাহ,,' বহাল রাখা হলেও 'আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' শব্দবন্ধ বাদ পড়ায় বিএনপির মিত্র বলে পরিচিত ১২টি দল ইতোমধ্যে ১০ ও ১১ জুলাই সারাদেশে ৩০ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার পর জোটের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে শনিবার রাতে শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

ওই বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, চার দল সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ ও অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৫ জুন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি।


বুধবার বিকাল ৩টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না রাখার পক্ষে অবস্থানের কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে সরকারি দল। বিএনপির এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে আগামী নির্বাচনে যাবে না তারা।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আদালতের রায়ের পর তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার আর সুযোগ নেই।


সরকারি দলের অবস্থান জানার পর মঙ্গলবারই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর চারদলীয় জোট শরিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।


এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, "সরকারের এ সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র ধ্বংস করার একটি মহাপরিকল্পনা। এটি প্রকৃতপক্ষে এক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার নীল নকশা। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।"


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
 সেলফোনের ব্যবহারে মস্তিষ্কে ক্যান্সার হতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) সম্প্রতি এক গবেষণায় এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে বলে এনডিটিভি জানায়।


১৪ দেশের ৩১ জন বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল এ গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। এর নেতৃত্ব দেন ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ডা. জোনাথন এম. সামেট। তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার ন্যাশনাল ক্যান্সার অ্যাডভাইজরি বোর্ডের একজন সদস্য।


এটি নতুন কোনো গবেষণা নয়। গবেষক প্যানেল মানবদেহে সেলফোন থেকে নির্গত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির প্রভাব বিষয়ক বিদ্যমান অসংখ্য গবেষণা পর্যালোচনা করে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।


এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. সামেট জানান, খুব বেশি মাত্রায় সেলফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে গিলোমা নামের বিশেষ এক ধরনের ব্রেইন টিউমার হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। আর এ তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণায় সেলফোনকে 'ক্যান্সারের সম্ভাব্য ঝুঁকি' হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


গত বছর ১৩টি দেশে পরিচালিত এক গবেষণায় সেলফোন ব্যবহার ও ব্রেন টিউমারের ঝুঁকির মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া না গেলেও এতে উচ্চ মাত্রায় সেলফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে গিলোমা আকান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়। সেলফোন ব্যবহারের প্রভাব বিষয়ে এটি ছিলো সবচেয়ে বড় গবেষণা।


বর্তমান গবেষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্যানেল সেলফোনকে ক্যাটাগরি 'টুবি' তে ফেলেছে। এর অর্থ হলো এরা ক্যান্সারের জন্য দায়ী হতে পারে। অবশ্য গবেষণায় কীটনাশক ডিডিটি, ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়া, সিসা ও শিল্প কারখানার বিভিন্ন রাসায়নিক সামগ্রীসহ ২৪০টি বিষযকে এ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে।


ডা. সামেট বলেন, "ক্যান্সার কীভাবে হয় সে বিষযে কিছু তথ্য পেয়েছি আমরা। তবে এক্ষেত্রে যে ঘাটতি ও অনিশ্চয়তা রয়েছে তাও স্বীকার করতে হবে।"


তবে সেলফোনের রেডিয়েশন থেকে মানবদেহে ক্ষতির মাত্রা বিষয়ে প্যানেল কোনো মন্তব্য করেনি।


প্যানেল যে সুপারিশ করেছে তাতে তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। একে সেলফোন ব্যবহারে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতার সুপারিশ করা হতে পারে।


এদিকে এক বিবৃতিতে সিটিআইএ-দ্য ওয়ারলেস এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ওয়ালস বলেন, "আইএআরসি যে শ্রেণীবিভাগ করেছে তার অর্থ এই নয় যে সেলফোন থেকে ক্যান্সার হতে পারে।"


বিডিনিউজ টোযেন্টিফোর ডটকম/
  ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতে নিয়েছে বার্সেলোনা। 


এ নিয়ে চারবার ইউরোপ সেরা হলো বার্সেলোনা। এর আগে ২০০৯ সালে এই ম্যান ইউকে হারিয়েই তৃতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে দলটি।


ওয়েম্বলিতে শনিবার রাতের ফাইনালে ঘরের সুবিধা পেয়েও প্রতিশোধ নিতে পারেনি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যান ইউ। স্পেনের লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সমান তালে লড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে ছুটতে হয়েছে বলের পিছু পিছু।


নিজের মাঠ, তার উপর প্রতিশোধের স্পৃহা; দুইয়ে মিলিয়ে শুরুটা ভালোই করে ম্যান ইউ। প্রথম ধাক্কায় ভিক্টর ভালদেজের বেশ পরীক্ষাই নেয় তারা। তবে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সা। খেলায় প্রথমে গোল করার সুযোগও পায় তারা।


১৫ মিনিটের ওই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও ২৭ মিনিটে দলকে হতাশ করেননি পেড্রো। মাইকেল ক্যারিকের ঠিক পেছনে থেকে 'স্লাইড' করে জাভি বল ঠেলে দেন পেড্রোর পায়ে। এবার আর ভুল করেননি তিনি। বল জড়িয়ে দেন ম্যান ইউ'র জালে, সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ ওয়েম্বলি; বার্সা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।


গোল হজম করে যেন জেগে ওঠে ম্যান ইউ। বার্সাকে মাঝমাঠ ছেড়ে দেয়া ঠিক হয়নি, তা বুঝতে পেরে মাঝমাঠের দখল নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন স্যার আলেক্স ফার্গুসনের খেলোয়াড়রা। ফল পেতে বেশি দেরি হয়নি।


ওয়েম্বলি দেখেছে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এক গোল। ওয়েন রুনি, রায়ান গিগসরা পুরো বোকা বানান বার্সার রক্ষণভাগকে। গিগস-রুনির দারুণ বোঝা পড়ায় ৩৪ মিনিটে প্রাণ ফিরে পায় ওয়েম্বলি, খেলায় ফিরে আসে ১-১ গোলে সমতা।


প্রথমার্ধের বাকি সময়টুকু বার্সার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা ম্যানচেস্টারের রক্ষণভাগে বার বার হানা দিলেও কাজ হয়নি। গোল আদায় করতে পারেননি পেপ গার্দিওলার খেলোয়াড়রা।


তবে প্রথমার্ধে যে আভাস দিয়েছিল বার্সেলোনা, তা বাস্তবায়ন করতে বেশি দেরি করেনি দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৫ মিনিটে লিওনেল মেসির জাদুর স্পর্শে আবার এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এভরাকে বোকা বানিয়ে ২০ গজ দূর থেকে মেসির শট ফেরানো সম্ভব হয়নি ফন ডার সারের।


এবার পিছিয়ে পড়ার পর আর বার্সাকে ধরা সম্ভব হয়নি ম্যান ইউ'র। বরং তাদের রক্ষণভাগকে আরো চেপে ধরে বার্সেলোনা। একের পর এক সংঘবদ্ধ আক্রমণের ফসল ঘরে তোলে তারা ৭০ মিনিটে। গোল করে ব্যবধান (৩-১) বাড়ান ডেভিড ভিয়া।


মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান ঘুচানো সম্ভব হয়নি ম্যান ইউ'র। তিন বছরের মধ্যে তাই দু'বার বার্সার কাছে হেরে ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন ভাঙলো তাদের।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বিভিন্ন কর্মসূচিতে পালিত হচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১২তম জন্মবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে বুধবার থেকে ঢাকাসহ দেশের চারটি এলাকায় কবির স্মৃতি বিজড়িত স্থানে সরকারি উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হচ্ছে।

বিদ্রোহী কবি নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জৈষ্ঠ্য) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রামরত দুখু মিয়া নামে পরিচিত নজরুল অল্প বয়সেই চলে আসেন ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে। ত্রিশাল উপজেলার কাজীর শিমলা গ্রামে দারোগা রফিজউল্লাহ ১৯১৪ সালে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন।

১৯১৭ সালের শেষদিকে ভারতীয় সেনবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। আড়াইবছর সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে ১৯২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতায় ফিরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখিতে জোর দেন নজরুল।

এ সময় ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্য উঠে আসে তার রচনায়। বিদ্রোহী, ভাঙার গানের মতো কবিতা মানুষকে মুক্তির চেতনায় উজ্জীবিত করে। রাজবন্দীর জবানবন্দি লেখায় তাকে কারাগারে পাঠায় উপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও অনুপ্রেরণা জোগায় নজরুলের গান-কবিতা।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে অসুস্থ কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স (ডিলিট) ডিগ্রি দেয়।

১৯৭৬ সালে কবিকে 'একুশে পদক' দেওয়া হয়। সে বছরের ২৯ অগাস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে প্রয়াত হন মানবতা ও বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় মর্যাদায় কবিকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তরপাশে।
- মে ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-
গ্রাহকদের কাছে আসা পাঁচ হাজার ডলার বিষয়ক এসএমএসে যে নম্বরে ফোন করতে বলা হয় সেটিতে কল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মঙ্গলবার জানান, বিটিআরসির সহায়তায় দুপুর থেকে ওই নম্বরে কল আটকে দিয়েছে গ্রামীণ ফোন।

তিনি জানান, যে নম্বর থেকে ওই এসএমএস পাঠানো হয় সেটি আফ্রিকার দেশ সিয়েরালিওনের।

গত কয়েকদিন ধরে গ্রামীণ ফোন ব্যবহারকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে পাঠানো ভুয়া ও প্রতারণামূলক এসএমএস পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে পাঠানো ওই এসএমএসে বলা হয় "The owner of this number have to call us immediately to get 5000$. remember to call 0023222291091."

বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে পাঠানো এই এসএমএস বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মনিরুল জানান, এ ধরণের এসএমএম শুধু গ্রামীণ ফোনের গ্রাহকদের কাছেই এসেছে। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

"তদন্তের প্রথম দিকে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তা নয়। পরে গ্রামীণ ফোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয় যেন দেশের মানুষ প্রতারণার শিকার না হয়।"

তিনি বলেন, "ইতিমধ্যে বিটিআরসি'র সহায়তা নিয়ে গ্রামীণ কর্তৃপক্ষ আউট গোয়িং বন্ধ করেছে। যে নম্বর থেকে খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে সে বার্তা যেন আর না আসে সে ব্যাপারেও কাজ করছে গ্রামীণ কর্তৃপক্ষ।"

গ্রামীণ ফোনের বরাত দিয়ে উপ-কমিশনার জানান, পাঁচ হাজার ডলারের জন্য যে নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে সেটি সিয়েরালিওনের একটি গ্রাহকসেবা নম্বর যাকে প্রিমিয়াম রেট সার্ভিস (পিআরএস) বলা হয়। সেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ নম্বর ব্যবহার করে থাকে।

"ওই নম্বরে কোনো কল গেলে সেবাদানীকারী প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান ওই দেশের ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।"

মনিরুল জানান, এর ফলে প্রতিটি কল অনুযায়ী প্রতারক চক্র তাদের জমা হওয়া অর্থ তুলে নেবে।
    ঢাকা, মে ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-
সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী সিদ্দিক আহমেদকে সামরিক আদালতে দেওয়া সাজাও বাতিল হয়েছে।

সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ওপর রোববার এ রায় দেয় প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারকের বেঞ্চ।

এরশাদের সামরিক শাসনের সময় একটি হত্যামামলায় সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদের রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ২৬ অগাস্ট সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে।

তবে রায়ে সিদ্দিকের সাজা বহাল থাকায় তিনি হাইকোর্টের রায়ের অংশ বিশেষের বিরুদ্ধে এ বছরের ১১ এপ্রিল আপিল করেন। শুনানি শেষে রোববার রায় হলো। তার আপিল আংশিক মঞ্জুর হয়েছে। সামরিক আদালতে তার সাজা বাতিল হলেও মামলা বাতিল করেনি আপিল বিভাগ।

রায়ে আপিল বিভাগ এরশাদের শাসনামলের ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা সব সামরিক ফরমান, আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে ওই সময়কালের কিছু বিষয় শর্ত সাপেক্ষে মার্জনা করা হয়েছে। বহাল রাখা হয়েছে রাষ্ট্রের পক্ষে করা সব চুক্তি।

রায়ে বলা হয়, সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা বহাল রাখা হলো। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের প্যারাগ্রাফ-১৯ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হলো।

রায়ের পর আপিলকারীর আইনজীবী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, এর ফলে এরশাদের সামরিক শাসন অবৈধই থাকলো।

কী শর্তে বিভিন্ন বিষয় মার্জনা করা হলো- জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত এ বিচারপতি বলেন, "যে সব কাজ পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজ। অর্থাৎ কাউকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে, সে ইতোমধ্যে সেই সাজা ভোগ করেছে। তাহলে তা পাস্ট এন্ড ক্লোজ হিসাবে মার্জনা করা হয়েছে।"

হাইকোর্টের রায়ে সিদ্দিককে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিলো।

সিদ্দিকের অন্য আইনজীবী হাসান এসএম আজিম সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেল গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আমিরুল বলেন, "রায়ে বলা হয়েছে, সামরিক আদালতে স্থানান্তরের পূর্বের অবস্থা থেকে সিদ্দিক আহমেদের মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হবে।"

মামলা বাতিলে সিদ্দিকের আবেদন নাকচ হলেও তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়েছে, বিচারিক আদালতে বিচার শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ জামিন কার্যকর থাকবে। বিচার শুরুর পর তা ওই আদালতের বিচারকের ওপর নির্ভর করবে।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছিলো, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের জারি করা সামরিক শাসন, এর পর থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা সব সামরিক আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন আদেশ ও সামরিক আইন-নির্দেশ অবৈধ।

তবে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে এরশাদের আমলের কর্মকাণ্ডকে মার্জনা করে আদালত।

এর আগে জিয়াউর রহমানের সময়ের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীও বাতিল করে উচ্চ আদালত।

সপ্তম সংশোধনীর বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে আরো বলা হয়, "ভবিষ্যতে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল রোধ করার জন্য সংসদ অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর শাস্তি নির্ধারণ করতে পারবে।"

"খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সা'দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের মতো এইচএম এরশাদও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী। তার এ কাজকে মার্জনা করা যেতে পারে না। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে এরশাদ তার দায় এড়াতে পারেন না", বলে হাইকোর্ট।

আপিলের শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত আদালত-বন্ধু (অ্যামিকাস কিউরি) হিসেবে তিন জনের বক্তব্য শোনে। তারা হলেন- রফিক উল হক, মাহমুদুল ইসলাম ও এম আমীর-উল ইসলাম।

সামরিক আদালতে দণ্ডিতদের জন্য 'সুখবর'

রায়ের পর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের পর এরশাদের সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্তদের জন্য আদালতের দরজা খুলে গেলো। তারা এখন আদালতে এসে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

"তবে তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন না। সাধারণ আদালতে তাদের মামলা চলবে", বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, আশা করছি, হালিমা খাতুন মামলাসহ আরো কয়েকটি মামলায় সামরিক শাসনের পক্ষে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়গুলো এখন রিভিউ করা হবে।

এরশাদকে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে বলে হাইকোর্টের রায়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহবুবে আলম বলেন, এ বিষয়ে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে আদালতের নির্দেশনা বোঝা যাবে।
বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. মোজাম্মেল হোসেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বুধবার এ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে।


মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান আপিল বিভাগের বিচারক মো. মোজাম্মেল হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন।


এ নিয়োগ ১৮ মে থেকে কার্যকর হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


বিচারপতি মোজাম্মেল দেশের ২০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে এবিএম খায়রুল হকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। খায়রুল হক অবসরে যাচ্ছেন ১৭ মে।


বর্তমানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মো. মোমিনুর রহমান। তাকে ডিঙ্গিয়েই প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ পেলেন মো. মোজাম্মেল হোসেন। এবিএম খায়রুল হকও ওই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন আবু নাঈম মো. মোমিনুর রহমানকে ডিঙ্গিয়েই।


সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলো।


১৯৪৮ সালের ১৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী মোজাম্মেল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি পান ১৯৭০ সালে। এরপর যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে øাতকোত্তর ডিগ্রি পান তিনি।


১৯৭১ সালে জেলা জজ আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ শুরু করা মোজাম্মেল হোসেন আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে কাজ শুরু করেন ১৯৭৮ সালে। ১৯৯৮ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০০৯ সালে তাকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়।


বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৫ সালে।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
     সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর আওতায় আগামী দুটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত আরো বলেছে, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে সংসদ এ সরকার পদ্ধতি সংস্কার করতে পারে। 


সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এবিএম, খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে এ রায় এসেছে।


রায়ের পর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছেন। তবে বলেছেন, শান্তিশৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে আগামী দুটি সাধারণ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে এর সঙ্গে না জড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।"


অ্যাটর্নি জেনারেল পরে সাংবাদিকদের বলেন, "আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যাবে। তবে এরপর তা করা যাবে না। এর মধ্যেই সংবিধান সংশোধন করতে হবে।"


আপিলকারীর আইনজীবী এমআই ফারুকী রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, "এটা সংবিধান ও জনগণের জন্য ভালো হলো। আমরা সংবিধান রক্ষা করতে পেরেছি। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও তা হচ্ছে।"


"তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যত সামরিক আইনেরই আরেক রূপ। সামরিক আইন এলে সংবিধানের কিছু ধারা স্থগিত করা হয়, যা জিয়ার সময় ও পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি। তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলেও সংবিধানের কিছু ধারা স্থগিত হয়ে পড়ে", বলেন তিনি।


হাইকোর্টের পর আপিল বিভাগে বাদি


ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজনের রিট আবেদনে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ বলে ঘোষণা করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় রিট আবেদনকারী পক্ষ।


সলিম উল্লাহ মারা যাওয়ায় এবং অন্য আবেদনকারী রুহুল কুদ্দুস বাবু হাইকোর্টের বিচারক হওয়ায় বর্তমানে মো. আব্দুল মান্নান খান এ রিট আবেদনের বাদি হিসাবে রয়েছেন।


রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মান্নান খান সাংবাদিকদের বলেন, "রায়ে খুশি হয়েছি। দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলেও বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদকে দিয়েছে।"


আপিল বিভাগে গত ১ মার্চ আপিলের শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৬ এপ্রিল।


দুই পক্ষের রাজনীতিকের দুই মত


রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেছেন, এটি রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে। একই মত প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোন্দকার মাহবুব হোসেনও।


সংশোধনী বাতিল করে আবার তার আওতায় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুটি নির্বাচনের মতকে পরস্পরবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন তারা।


অন্যদিকে রায়ের প্রশংসা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় বিবেচনায় নেবেন তারা।


সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেনন ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমও।


১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যোগ করা হয়। এরপর থেকে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষে এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়ে পরবর্তী সরকার গঠিত হচ্ছে।


আইনজীবীদেরও ভিন্নমত


আপিলের শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে কামাল হোসেন, টিএইচ খান, রফিক উল হক, এম জহির, মাহমুদুল ইসলাম, আমীর উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসির বক্তব্য শুনেছে।


প্রবীণ আইনজীবী রফিক উল হক বলেন, রায়টি কিছুটা স্ববিরোধী। কারণ একদিকে বলা হয়েছে, ১৩তম সংশোধনী আজ থেকেই অবৈধ। আবার বলা হয়েছে, আগামী দুই নির্বাচন এই ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে।


"বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় হয়তবা এটা করা হয়েছ্"ে


ড. এম জহির বলেন, "সুন্দর রায় হয়েছে। আমরা বার বার বলেছি, বিচার বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাইরে রাখতে। রায়ে আমাদের বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে।"


"এই রায়ের ফলে আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে হবে। এ ব্যবস্থায় বিচারপতিদের না জড়ানোর বিষয়ে সংসদ আইন করতে পারবে।"


ব্যরিস্টার মো. আমীর উল ইসলাম বলেন, "এই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প বের করার দায়িত্ব পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর। তাই সংকট এড়াতে তাদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে।


"এজন্য সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন্"


তিনি বলেন, "তবে রাজনৈতিক দলগুলো বিকল্প খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হলে ওই গুরু দায়িত্ব সাবেক প্রধান বিচারপতির ওপরই বর্তাবে।"


ব্যরিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, "এই রায়ের পর ১৩তম সংশোধনীর আর কোন বৈধতা থাকলো না। তবে আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে।"


"এই ব্যবস্থায় বিচারপতিদের না রাখার কথা বলেছে আদালত। তবে নির্দেশের মানার বাধ্যবাধকতা সংসদের নেই। সংসদ চাইলে মানতে পারে। আবার উপেক্ষাও করতে পারে।"




রিট আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিলো- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের প্রজাতান্ত্রিক চরিত্রকে নষ্ট করেছে। তারা এ ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণার আবেদন করেন।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পূর্বাপর


দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির সাংবিধানিক স্বীকৃতি ১৯৯৬ সালে এলেও ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বতীকালীন একটি সরকারের অধীনে হয় সাধারণ নির্বাচন।


১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের চাপে অনীহা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান এনে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি।


২০০৬ সালে রাজনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা জারির পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর এ পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।


বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করার সুপারিশ আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৩ মাস মেয়াদে নির্বাচন করতে না পারলে আগের সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান যোগ করতে।


অ্যামিকাস কিউরিয়াদের মধ্যে অধিকাংশই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষেই বক্তব্য রাখেন। তবে আজমালুল হোসেন কিউসি বক্তব্য রাখেন বিপক্ষে।


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির সমালোচনা করে এলেও বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, এ ব্যবস্থা বাতিল হলে আন্দোলনে নামবে তারা।
Copyright © 2013 MEDIA INFO