Showing posts with label Dreamlife. Show all posts
সম্ভাব্য পাত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখায় তাঁকে চশমা পরা অবস্থায় দেখতে চান না অনেক পুরুষই। কিন্তু অনেক নারীই সম্ভাব্য পাত্রের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময় চশমা পরেই দেখা করতে চান। আর গায়ে কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ এমন পাত্রদের প্রথম দেখাতেই সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পছন্দ-তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন নারীরা। ভারতের নারী-পুরুষদের এ পছন্দের কথা উঠে এসেছে দেশটির জনপ্রিয় ম্যাচ-মেকিং ওয়েবসাইট ‘শাদি ডটকম’-এর এক সাম্প্রতিক জরিপে। ইন্দো-এশিয়ান নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

 সাত হাজার ২০০ নারী ও পুরুষ এই জরিপে অংশ নিয়েছিলেন। পুরুষেরা বলেছেন, চশমা পরা পাত্রীর সঙ্গে বিয়ের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেন তাঁরা। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ পুরুষই এ মত দিয়েছেন।

নারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সম্ভাব্য পাত্রের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে কোন কোন বিষয় টের পেলে তাঁরা বিয়ের বিষয়টি নাকচ করে দিতে চান। জবাবে প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী বলেছেন, গায়ে দুর্গন্ধ এমন পুরুষদের প্রথমেই পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দেন তাঁরা। আর প্রায় ৩২ শতাংশ নারী বলেছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসে বাজে গন্ধ পেলে ওই পুরুষদের পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দেন তাঁরা। এ ছাড়া প্রায় ১১ শতাংশ নারী বলেছেন, চুলে খুশকিওয়ালা পুরুষদের সঙ্গেও ঘর করতে আগ্রহ নেই তাঁদের।

পুরুষদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সম্ভাব্য পাত্রীদের মধ্যে কী দেখলে ওই নারীদের পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দিতে চান তাঁরা। জবাবে প্রায় ৬১ শতাংশ পুরুষই বলেছেন, উচ্চ স্বরে কথা বলা নারীদের বিয়ে করতে আগ্রহী নন তাঁরা। প্রায় ২৪ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, প্রথম সাক্ষাতের সময় অনেক বেশি মেকআপ করা নারীকে পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন তাঁরা। আর প্রায় ১৪ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, বাজেভাবে নেইল পলিশ মাখা নারীদের জীবনসঙ্গী করতে আগ্রহী নন তাঁরা।

শাদি ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরব রক্ষিত বলেছেন, ‘জরিপের এই ফলাফলে এটা বোঝা যায় যে যুগ এবং জীবনযাপনের ধরন পাল্টালেও পাত্র-পাত্রীদের প্রথম দেখা এখনো খুবই গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।’


:- প্রথম আলো
ধনী হতে কে না চায়। কিন্তু সবাই ধনী হতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের সম্ভাবনাময় এমন লাখ লাখ কোটিপতি আছেন যারা শুধু তাদের বদ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে পারলেই ধনীদের খাতায় নাম লেখাতে পারতেন।
লাইফস্পান সাময়িকীর মতে, কিছু আর্থিক ভুলই মানুষকে সম্পদ থেকে দূরে রাখছে।
অমিতব্যয়ী: আপনি যদি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করেন তা সেটা সম্পদ অর্জনের অন্তরায়। সুতরাং মাসিক খরচ কোথায় কত করলেন সেটা লক্ষ্য করুন। খরচ কমানোর উপায় বের করুন। বাস্তবসম্মত সাংসারিক বাজেট তৈরি করুন।
সঞ্চয়ের পাত্র খালি: শুধু খরচ করলেই হবে না। সঞ্চয়ে দিকেও খেয়াল করতে হবে। সম্পদ বাড়ানোর জন্য সঞ্চয়ের বিকল্প নেই।
খুব বেশি ঋণ: সামান্য ঋণ আপনার সাফল্যের সহায়ক হতে পারে। তবে অতি উচ্চমাত্রায় ঋণ কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এতে করে ঋণের বৃত্তের ভেতর থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পরিকল্পনার ‍অভাব: পরিকল্পনাহীন জীবনে ধনী হওয়া দিবা স্বপ্নের মতো। পরিকল্পনা মাফিক নিয়মিত কাজ করে যেতে থাকলে সাফল্য অবধারিত।
বিপদকালীন ফান্ড: বলা হয়ে থাকে, কারো ছয়মাস চলার মতো জরুরি ফান্ড থাকা দরকার। বিপদের সময় এই ফান্ড যেকোনো দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবে।
দেরিতে শুরু করা: আগে শুরু করলেন মানে আপনি এগিয়ে গেলেন। সময় যেহেতু চলেই যাচ্ছে সুতরাং আজই সেভিং করা শুরু করে দিন না।
কাজের চেয়ে অজুহাত বেশি: আমি যথেষ্ট আয় করতে পারছি না, জীবন যাত্রা খুবই ব্যয়বহুল এ জাতীয় কথাবার্তা শুধু বলেই যাচ্ছেন কিন্তু কাজ করছন না তাহলে তো ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। যে পর্যন্ত না আপনি পরিবর্তনে হাত না দেবেন সে পর্যন্ত কিছুই পরিবর্তন হবে না। সুতরাং অজুহাত- অভিযোগ বাদ দিয়ে কাজ করা শুরু করুন।
আজই সব: আপনি যদি আগামীকালের জন্য কিছু না রেখে আজই সব খরচ করে ফেলে থাকেন তাহলে ভুল করছেন। কালকের জন্য ভাবুন।
এক স্থানে বিনিয়োগ: কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপনি সব টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছেন? তাহলে ভুল করেছেন। এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছেন। বহুমুখী খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।
কেউ এসে করে দিবে: অনেকে ভেবে থাকেন আ-রে ব্যাপার না এমনিতেই হয়ে যাবে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের কাজ নিজে করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নন-ফিকশন লেখক এবং সাংবাদিক মাইকেল লুইস। তার লেখা বহু বই পৃথিবী বিখ্যাত। জনপ্রিয় ও ধনী লেখক লুইস ২০১২ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ পান।,
অসাধারণ বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে যায় প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। মাইকেল লুইসের সমাবর্তন বক্তৃতাটি সংক্ষিপ্ত আকারে অনুবাদ করে দেওয়া হলো। যেখানে তোমরা বসে আছো, সেখানে ৩০ বছর আগে আমিও ছিলাম। সে সময়টিতে কোনো এক বুড়ো আমার মতই বক্তৃতা দিতে এসেছিল। কি বলেছিল তার কিছুই মনে নেই। এমনকি সেই ব্যক্তিটি কে ছিলেন তাও মনে নেই। আমার শুধু সমাবর্তন সময়টির কথাই মনে পড়ে। অত্যন্ত চাঞ্চলকর অনুভব করছিলাম। এমনকি অন্যরকম স্বস্তিও পাচ্ছিলাম। তোমাদেরও নিশ্চয় এমন অনুভূতি হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস করো- আমার মোটেও এ মুহূর্ত ভালো লাগছিল না। আমার জীবনের মূল্যবান সেরা চারবছর তারা আমাকে দিয়েছে। আমিও তো ৪ বছর সময় দিলাম। অথচ তারা আমাকে বের করে দিয়ে ধন্যবাদ জানাচ্ছে!
এখন আমার অনেক কিছুই মনে পড়ছে। পড়াশোনা শেষ করার পর আমার তেমন কোনো মূল্যই ছিল না। আমার বিষয় ছিল ‘আর্ট হিস্টরি’। চাকরির বাজারের জন্য আমি মোটেও চাকরির বাজারের জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কি করবো কিছুই মাথায় ঢুকছিল না। কিন্তু তারপরও কোনোভাবে জীবনের যুদ্ধে এখন আমি ধনী এবং জনপ্রিয়। আমি সে বিষয়েই কথা বলতে চাই। তোমরা এখান থেকে বের হওয়ার আগে জেনে যাও জীবনের বাঁক কিভাবে বদলে যায়। জীবন একটি রহস্যজনক অধ্যায়। এটা তোমাদের বুঝতে হবে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি পাশ করেছি। কিন্তু কখনও এ সম্পর্কে একটা বাক্যও লেখা হয়নি। এমনকি যখন আমি পড়তাম তখনও কিছুই লিখতাম না। লেখার বিষয়ে কখনও ভেবেও দেখিনি। অনেকেই মনে করেন, আর্ট হিস্টরি পড়েছি বলে লেখার হাতেখড়ি হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই। আসলে এটা ভুল ধারণা।
তবে থিসিসের কাজ করতে গিয়ে লেখার বিষয়টি মাথায় আসে। আমার থিসিস তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক উইলিয়াম চাইল্ড। তিনি আমার থিসিস বিষয় নির্ধারণ করে দেন, গ্রিক ও রোমান নিদর্শনের উপর। ঈশ্বর আমাকে অধ্যাপক উইলিয়ামকে হয়ত উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। থিসিসের কাজ করতে গিয়েই প্রাচিন কৃষ্টির উপর ব্যাপক আগ্রহ অনুভব করতে থাকি। থিসিসের রিপোর্ট লেখার সময় এতো মনোমুগ্ধ হয়ে পড়ি যে- আমি তখনই সিদ্ধান্ত নেই, বাকিটা জীবন লেখালিখি করেই পার করে দিব।
যেদিন থিসিসের ডিফেন্স হলো তখন আমি অপেক্ষা করছিলাম অধ্যাপক উইলিয়ামের মন্তব্য পাওয়ার। এতো যত্ন করে লেখা রিপোর্ট সম্পর্কে তিনি কি বলবেন সেটাই জানতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু তিনি কিছুই বলছিলেন না। বাধ্য হয়ে প্রশ্ন করলাম, আমার লেখা সম্পর্কে তোমার মন্তব্য কি? অধ্যাপক উইলিয়াম গম্ভীর হয়ে বললেন, ভুলেও এর সঙ্গে থাকার কথা চিন্তা করো না।
আমি তার কথা শুনিনি। আমি তাই করেছি যা অন্য সবাই করে। কিছু না ভেবেই কাজ শুরু করে দেওয়া। সে রাতেই আমি লিখেছি। কোনো কিছু চিন্তা করা ছাড়াই লেখা শুরু করেছি।
২.
কয়েকদিন পর রাতের খাবারের দাওয়াত পেলাম। শুনে অবাক হবে, বিশ্বখ্যাত সালোমন ব্রাদারস্ প্রতিষ্ঠানের মালিকের স্ত্রী আমাকে দাওয়াত দিলেন। গেলাম সেখানে। আমার সামনেই তিনি তার স্বামীকে অনুরোধ করলেন, আমাকে চাকরি দেওয়ার। বিষয়টি আমার কাছে বিস্ময় লাগার মতো ছিল। আমি এ প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে খুব একটা জানতাম না। তবুও এটা জানা ছিল যে এ প্রতিষ্ঠানটি ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে নামিদামি প্রতিষ্ঠান।
শেষ পর্যন্ত চাকরি হলো। দেড় বছর চাকরির পর হুট করেই মালিক আমাকে ডাকলেন। আমার হাতে হাজার ডলারের চেক তুলে দিলেন। বললেন, প্রফেশনাল ইনভেস্টারদের ব্যবসা সম্পর্কে জানানোর জন্য এবং প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রিয় করার জন্য কিছু লিখতে হবে। এই প্রথমবার লেখার মতো বিষয় পেলাম। বিষয়- সালোমান ব্রাদারস্। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সৌভাগ্যের। আমি পরবর্তী থিসিসের কাজ পেলাম মনে হলো। ঘরে এসে বাবাকে বললাম, আমি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি। লেখার জন্য তো হাজার ডলার পাওয়া যায়, তবে তো নিজে কিছু লিখলেই মিলিয়ন ডলার কামানো সম্ভব। বাবা চুপ করে শুনলেন। তারপর বললেন, এই প্রতিষ্ঠানে আগে ১০ বছর চাকরি করো। জীবনটাকে গুছিয়ে নাও। তারপর বই লেখ। আমি এমনটা ভাবিনি। তখন আমার বয়স ২৬ বছর। আমি যদি আরও ১০ বছর অপেক্ষা করি তবে বয়স হবে ৩৬। সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই না। এছাড়া মনেসময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই না। এছাড়া মনে হলো- কখনও লেখাও হবে না। আমি বই লিখে ফেললাম। বইয়ের নাম ‘লায়ারস পোকার’। এ বইটিএ বইটি মিলিয়নএ বইটি মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল কপি বিক্রি হয়েছিল। তখন আমার এ বইটি মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল ২৮। আমার অন্যরকম ক্যারিয়ার হলো। কিছুটা পরিচিতিও পেলাম। হুট করেই সমালোচকরা বলা শুরু করলো,আমার অন্যরকম ক্যারিয়ার হলো। কিছুটা পরিচিতিও পেলাম। হুট করেই সমালোচকরা বলা শুরু করলো, আমি নাকি জন্মেছি লেখক হওয়ার জন্য। হাস্যকর।
৩.
আমি এখন ক্যালিফোর্নিয়া শহরে থাকি। কয়েকবছর আগে আমার বাড়ির কাছেই মনোবিজ্ঞানের কয়েকজন গবেষক একটি গবেষণা করছিলেন। এ জন্যই শিক্ষার্থী পেলেই তারা পরীক্ষাগারে নিয়ে যেতেন। শিক্ষার্থী পেয়ে দুটি দল করা হলো। তিনজন ছেলে, তিনজন মেয়ে। দুটি দলকে আলাদা আলাদা কক্ষে থাকতে দেওয়া হলো এবং একজনকে নেতা নির্বাচিত করে দেওয়া হলো। তারপর থেকে নেতার কথা সবাই মানতেও থাকলো। কয়েক ঘণ্টা পার হওয়ার পর তাদেরকে চার প্লেট খাবার দেওয়া হলো।
বিষয়টি কেমন যেন। তাই না? মানুষ তিনজন কিন্তু খাবার চার প্লেট। গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন, চার নম্বর প্লেটটি কে খায়। তাদের ধারণা ছিল, খাবারটি মিলেমিশে খাবে। কিন্তু ধারণাটি ভুল ছিল। চার নম্বর প্লেটটি খেল তাদের নেতা।
এই নেতা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেনি। তার মধ্যে নেতার কোনো যোগ্যতাই ছিল না। সে নেতা হয়েছে ভাগ্যের জোরে। গবেষকরা মন মতই তাকে নেতা বানিয়ে দিয়েছিল। এজন্য নেতার কোনো মহত্ত্ব তার মধ্যে দেখা যায়নি।
তোমরা পাশ করে চলে যাচ্ছো। তোমাদের সামনেও এমন নেতা হওয়ার সৌভাগ্য দেখা দিতে পারে। এটাকে যদি সৌভাগ্য হিসেবে ধরে নাও তবে তো সবই ভাগ্যের উপর। তুমি ভাগ্যবান কারণ তোমার মা-বাবা আছে। তুমি সৌভাগ্যবান কারণ তুমি পৃথিবীর ধনী একটি দেশে জন্ম নিয়েছ। তুমি সৌভাগ্যবান কারণ তুমি প্রিন্সটনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে পড়তে পেরেছ। সুতরাং এতো সৌভাগ্যের ভেতর হয়ত তুমি উৎসর্গ বা বিসর্জন দেওয়া ভুলে গেছ। কিংবা কোনো কিছু উৎসর্গ করার বিষয়টিও তোমাদের মাথায় নেই।
তোমাদের সবার সামনে এক প্লেট বেশি খাবারের সুযোগ আসবে। সবাই এমন সুযোগ জীবনে বহুবার পাবে।
তোমরা দেখবে- খুব সহজেই অতিরিক্ত প্লেটের খাবার তুমি খেতে পারবে। কিন্তু এই অতিরিক্ত খাবারের প্লেটটি না খাওয়ার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে। নেতা হওয়ার অন্যরকম আদর্শ লুকিয়ে আছে।
ভুলে যেও না- নিজের দেশের জন্য কাজ করা মানে, পৃথিবীর সব দেশের জন্য কাজ করা।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’
থ্রি ইডিয়টস চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে। চেতন ভগত সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। জন্ম ভারতের নয়াদিল্লিতে, ১৯৭৪ সালের ২২ এপ্রিল। বই লেখার পাশাপাশি তরুণদের জন্য উৎসাহমূলক বক্তৃতা করেন তিনি। চেতন ভগত ২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর দিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এই বক্তৃতা দেন।

আমি নেতা নই। আমি একজন স্বপ্নচারী মানুষ যে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে জানে। আজ আমি বলতে এসেছি কীভাবে দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা জাতির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি।
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আগে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। ভেবে দেখো, সবাই সুখী, ধনী আর সফল প্রতিবেশীর সঙ্গেই বন্ধুত্ব করতে চায়, তাই না? যে পরিবারে সব সময় দ্বন্দ্ব আর ঝগড়া লেগেই থাকে, তাদেরকে সবাই এড়িয়ে চলে। জাতির ক্ষেত্রেও ঠিক একই নীতি প্রযোজ্য। আমাদের মধ্যে অসংখ্য সমস্যা আর বিভেদ। তবে আজ আমাদের প্রশ্ন এটা নয় যে এই সমস্যার দায় কার। আমাদের প্রশ্ন, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা হবে? এমন দেশ গড়তে হবে যেখানে সবাই নিজের যোগ্যতা, উদ্যম আর পরিশ্রম দিয়ে উন্নতি করতে পারবে। যেখানে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, তুমি কোথা থেকে এসেছ, সবাই জানতে চাইবে, তুমি কোথায় যচ্ছে। আমরা সবাই এমন দেশের স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অনেক কিছু করতে হবে এবং রাজনীতিবিদদের দোষ দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আমি মনে করি, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের চিন্তাধারা অবশ্যই বদলাতে হবে, শুধু জনগণ নয়, নেতাদেরও একই কাজ করতে হবে। এগুলো হলো, ভেদাভেদের রাজনীতির বদলে ঐকমত্যের রাজনীতির প্রচলন করা, আভিজাত্যের খোলস ছেড়ে জনতার কাতারে মিশে যাওয়া এবং ব্যবহারিক ইংরেজির চর্চা করা।
প্রথমে রাজনীতির কথায় আসি। আমি পাঁচ বছর ধরে ভারতের তরুণদের পর্যবেক্ষণ করছি। শুধু বড় শহরগুলোতে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তাদের গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমাদের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশজুড়ে আছেন এই তরুণেরা, এঁরাই প্রকৃত ভোটব্যাংক। কিন্তু রাজনীতিবিদদের ভাষণে তরুণদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয় না। নেতারা এখন পুরোনো আমলের দেশপ্রেমের বুলি কপচান আর ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদি সংস্কারের মাহাত্ম্য প্রচার করেন। কিন্তু তরুণেরা আসলে কী চান? তাঁরা চান ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে, ভালো চাকরি করতে, নিজেদের সামনে আদর্শ হিসেবে অনুকরণীয় কাউকে পেতে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্থান করে দেওয়ার মতো এত আসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই, চাকরির ক্ষেত্রেও তাই। তরুণদের সবচেয়ে বড় একতা এখানেই যে তাঁরা সবাই দেশকে এগিয়ে নিতে চান, উন্নতি করতে চান। তরুণদের এই স্বপ্ন পূরণের জন্য অবকাঠামো প্রয়োজন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এসব অর্জন করা মোটেই সহজ নয়, কিন্তু আমাদের মধ্যে একতা গড়ে তোলার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি দৃঢ় কিন্তু নিরপেক্ষ কণ্ঠের খুব প্রয়োজন। কেউ যখন কোনো ছুতোয় আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইবে, তখন সেই বিভেদ সৃষ্টিকারীর দলের কাউকেই জোর গলায় এর প্রতিবাদ করে তার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কেউ যদি বলে যারা মারাঠি নয়, তাদের আক্রমণ করা উচিত, তাহলে মারাঠিদের মধ্য থেকেই এই আগ্রাসী আহ্বানের প্রতিবাদ করতে হবে। জাতির বিবেকরূপী কণ্ঠস্বরই পারে সবাইকে দেশের স্বার্থে একত্র করতে। তরুণ প্রজন্মও তাই চায়।
দ্বিতীয়ত, আমাদের ঠুনকো আভিজাত্যের অহংকারে মাটিতে পা না ফেলার অভ্যাসটা একটু বদলাতে হবে। যখনই কেউ একটু সফল, একটু বেশি শিক্ষিত, ধনী, বিখ্যাত, মেধাবী কিংবা সংস্কৃতিমনা হয়ে ওঠে, সে নিজেকে খুব একটা কেউকেটা ভাবা শুরু করে। নিজেকে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আলাদা করে এমন লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করা শুরু করে, যারা সাধারণ মানুষকে মানুষ বলেই মানতে নারাজ। বায়বীয় বুদ্বুদে বুদ্ধিজীবী পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে ভালো লাগে মানি, কিন্তু এই বুদ্ধির উপযোগিতা কোথায়?
টিভি খুললে শতকরা ৭০ ভাগ সময় দিল্লি, মুম্বাই কিংবা বেঙ্গালুরুর খবর দেখতে পাই, কিন্তু শুধু এই তিনটি শহর নিয়েই ভারত নয়। ভারতের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ এসব শহরে থাকে না। তাদের খবর যদি গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রচার করা না হয়, দেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে? আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে এসব করতে বলছি না। দেশে ব্যবসা করতে হলেও জনগণকে জানতে হবে, তাদের চাহিদা বুঝতে হবে। এতে মানসম্মান নষ্ট হয় না। আমার বই রেলস্টেশনে, শহরের অলিগলিতে বিক্রি হয়। এতে তো পাঠকের চোখে আমি সস্তা হয়ে যাই না। শুধু মুম্বাইয়ের র‌্যাম্পে হেঁটে চলা মডেলরা কী পরেছে, তা নয়, ইন্দোর আর রায়পুরের রাস্তায় হেঁটে চলা মানুষেরা কী ভাবছে, তা-ও জানতে হবে। মেকি আভিজাত্য না দেখিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। শুধু অপসংস্কৃতির ধুয়ো তুলে গালিগালাজ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
সবশেষে আমি বলতে চাই, ইংরেজি শেখার ব্যাপারে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই আর পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে, ইংরেজি শিক্ষা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি একজন গ্রামের ছেলেকে হিন্দিতে জ্যামিতি বা পদার্থবিদ্যা শেখাতে পারি, কিন্তু সে যখন চাকরি খুঁজতে যাবে, তখন সেটা তার খুব একটা কাজে লাগবে না। কিন্তু ইংরেজি তাকে একটা ভালো চাকরি পেতে সাহায্য করবে। ইংরেজির প্রসার ঘটিয়ে আমরা যদি দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারি, তাহলে আমরা সংস্কৃতি রক্ষার জন্য অনেক উদ্যোগ নিতে পারব, কিন্তু অসংখ্য মানুষকে বেকার কিংবা ক্ষুধার্ত রেখে আর যা-ই হোক, সংস্কৃতি রক্ষার কথা ভাবা যায় না।
এসব শুধু বক্তৃতা করার জন্য বলা নয়, আমাদের নিজেদের অবস্থান থেকেই আমরা কোনো না কোনোভাবে এই কাজগুলো করতে পারি। অন্তত বন্ধুদের আড্ডাতেই না-হয় সবাই কিছুক্ষণ এটা নিয়ে কথা বললেন। যদি আরও কোনো উপায়ে এই ধারণাগুলো দশজনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন, তবে তা-ই করুন। আজ আমরা এখানে বসে চমৎকার বক্তৃতা শুনছি, এর অর্থ হচ্ছে আমাদের অনেক কিছু আছে, যা এ দেশের কোটি কোটি মানুষের নেই। দেশের কাছ থেকে তো অনেক কিছুই নিলাম, আসুন, এবার ভেবে দেখি, দেশকে আমরা কী দিতে পারি।
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার
টাকা কি গাছে ধরে? এমন কথা আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি কিংবা বলি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দাবি, গাছ থেকে টাকা পাওয়া না গেলেও সোনা পাওয়া সম্ভব। তাঁরা গাছ থেকে সোনা পাওয়ার এ পদ্ধতিকে বলছেন ফাইটোমাইনিং বা উদ্ভিদের মাধ্যমে খনিজ আহরণ।
গাছ থেকে সোনা আহরণের পদ্ধতিটি বের করেছেন প্রাকৃতিক ভূ-রসায়নবিদ নিউজিল্যান্ডের ম্যাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস এন্ডারসন। পদ্ধতিটি সম্পর্কে তিনি বলছেন, সরষে, সূর্যমুখী বা তামাকের মতো পাতাবহুল দ্রুত বর্ধনশীল গাছ বাছাই করা হয় প্রথমে। এরপর সোনার উপস্থিতি রয়েছে এমন মাটিতে গাছ রোপণ করতে হবে। গাছ পূর্ণবয়স্ক হলে সেখানকার মাটিতে সোনা দ্রবীভূত করার জন্য নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে হবে। এতে মূলের মাধ্যমে গাছে শোষিত পানিতেও সোনার কণার উপস্থিতি ঘটবে।
সোনা আহরণের ক্ষেত্রে এটি একটি অভিনব পদ্ধতি হলেও তা প্রচলিত পদ্ধতি সরিয়ে দিতে পারবে না। এন্ডারসন বলেন, দূষিত খনি এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণে এটি মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে তিনি ইন্দোনেশিয়ায় এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে অন্য গবেষকদের সঙ্গে পারদ দূষণ কমানোর লাগসই প্রযুক্তি আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন।
তবে কিছু বিজ্ঞানী এ পদ্ধতিতে দূষণ আরও বেশি হবে বলে মনে করেন। কেননা, মাটিতে উপস্থিত সোনাকে দ্রবীভূত করতে যে সায়ানাইড ও থায়া সায়ানাইড ব্যবহার করা হয়, তাতে দূষণ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ জে. স্কট এঙ্গেল বলেন, এ পদ্ধতি নিজেই পরিবেশ দূষণ ঘটাতে পারে। লাইভসায়েন্স।

সূত্রঃ প্রথম আলো 
১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই প্রথম মানুষ হিসেবে চন্দ্রপৃষ্টে পদার্পণ করে মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং। তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালের ৫ আগস্ট। সম্প্রতি (২৫ আগস্ট ২০১২) তিনি ৮২ বছরে মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৫ সালের ১৩ মে সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই ভাষণটি দেন।

সবাইকে স্বাগতম। অভিনন্দন নতুন গ্র্যাজুয়েটদের।
জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ হাইনরিশ শ্লাইমান মনে করতেন হোমারের মহাকাব্য ইলিয়ড-এর সূত্র ধরে প্রাচীন ট্রয় নগরের সন্ধান পাওয়া যাবে। প্রচলিত ধারণার বাইরে ছিল তাঁর এই বিশ্বাস। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি ট্রয় নগরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করেন। ধ্বংসাবশেষে শুধু ট্রয় নগরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, আরও নয়টি নগর সভ্যতার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। একটি সভ্যতা যখন ধ্বংস হয়, তখন তার ওপর নির্মাণ করা হয় আরেকটি সমাজ-সভ্যতা। পূর্বতন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতো নতুন সভ্যতা। ট্রয় নগরের দশম সভ্যতার মানুষের কয়েকজন নতুন আরেকটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বেছে নেয় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই উপকূলকে। নতুন প্রতিষ্ঠিত সেই সমাজের মূল লক্ষ্য ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছানো। অনুসন্ধানের নতুন এক সুযোগ সৃষ্টি করা।
আজকে আমরা একত্র হয়ে সেই মহাসাগরের উপকূলে দাঁড়িয়ে ট্রয়বাসীকে সম্মান জানাচ্ছি। তাদের সৃষ্টি করা অনুসন্ধানকেই আঁকড়ে ধরে তোমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে যাচ্ছ। তোমরা হতে যাচ্ছ গ্র্যাজুয়েট।
যারা গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছ, তাদের জন্য আজ বিশেষ একটি দিন। শুধু তাদের জন্যই না—তাদের পিতামাতা, শিক্ষকদের জন্যও আজ স্মরণীয় দিন। কয়েক বছর আগে আমি একজন বক্তার কাছে শুনেছিলাম, ‘আমরা যা বলি এই পৃথিবীর কাছে তার কোনো গুরুত্ব নেই; কেউ মনে রাখবে না সে কথা।’ সত্যি বলতে কি সেই বক্তা ভুল বলেছিলেন। আমরা যা বলি তার গুরুত্ব অবশ্যই আছে এবং তা পৃথিবীতে অনেক দিন টিকে থাকে। আমাদের চলে যাওয়ার পরও। তারপরও আমি সেই বক্তার ভুল কথাটি আজ তোমাদের বলতে চাই। আজকে আমি যা বলব, তা তোমাদের অনেক দিন ধরে মনে রাখার কোনো দরকার নেই। তোমরা আজকের দিনটা শুধু তোমাদের আনন্দের দিন হিসেবে মনে রেখো। শুধুই আনন্দের দিন, প্রত্যাশার একটি দিন। নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কিছু বলতে চাই। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আজকের দিন বিশেষ একটি দিন। আজকের দিনটির জন্য তোমরা অনেক পরিশ্রম করেছ, অনেক সময় দিয়েছ। তোমরা এখন একটি শিক্ষা সনদের গর্বিত বাহক। এই সনদ সুনিশ্চিত করবে তোমার শিক্ষার মাপকাঠি। তোমরা এখানে শিখেছ জীবনের বাস্তবতা ও নানা মুনির নানা মতের গুরুত্ব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তোমরা এখন বাস্তবতা ও ভিন্ন মতের মধ্যে পার্থক্য করতে শিখেছ। এ জন্যই হয়তো তোমাদের সংবাদপত্রগুলোর বিশেষজ্ঞ আলোচনায় দেখা যাবে।
তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, সবাই তোমরা যেকোনো ক্ষেত্রে সরলতার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে। বলতে অনেকটা সহজ হলেও বাস্তবে কোনো বিষয়ের ভেতরে সরলতাকে খুঁজে বের করা কিন্তু অনেক কষ্টকর। আমি প্রত্যাশা করব, তোমরা যৌক্তিকভাবে যেকোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। অন্য কোনো কিছু যেন তোমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে না পারে। সুনির্দিষ্ট করে বলা চলে, তোমার নিজের চিন্তাশক্তিকে আলিঙ্গন করে নাও। রবার্ট ফ্রস্টের বিখ্যাত একটি উক্তি আছে চিন্তাশক্তি নিয়ে। তিনি বলতেন, ‘কোনো কিছু নিয়ে চিন্তাভাবনা সে বিষয়ে একমত বা দ্বিমত পোষণ করা বোঝায় না, চিন্তাভাবনা হচ্ছে ওই ঘটনা সম্পর্কে ব্যক্তি-ইচ্ছার অভিব্যক্তি।’ চিন্তাভাবনা এবং শেখার ইচ্ছার কারণেই আজকে তোমাদের জীবনে এই দিনকে তোমাদের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
তোমাদের অনেকে অন্য কোনো ভিন্ন জায়গা থেকে এই জায়গায় পড়াশোনা করতে এসেছ। তোমরা আমাদের গর্বিত করেছ। আমাদের দেশের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তোমরা আমাদের সম্মানিত করেছ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তোমাদের সময় ও শ্রমের যে বিনিয়োগ করেছ, এখানে তা অবশ্যই কাজে লাগবে এবং এই বন্ধুত্ব অনেক দিন ধরে টিকে থাকবে।
১৯৪০-এর দশকে আমাদের শিক্ষার্থীদের ছিল না কোনো ক্যালকুলেটর, মুঠোফোন, ক্রেডিট কার্ড, কম্পিউটার কিংবা ইন্টারনেট। তারপরও আমাদের প্রজন্মকে অনেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করত। আমার কলেজ গ্র্যাজুয়েশেনের সময় দূরপাল্লার বিমানগুলোতে প্রোপেলার ব্যবহার করা হতো। সামরিক বাহিনীতে কিছুসংখ্যক জেট ইঞ্জিনের বিমান ছিল, রকেটের ইঞ্জিন ছিল সেকেলে প্রাথমিক যুগের। সেই সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক যদি নভোযান পরিচালনাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিতেন, সবাই তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত। সে সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নভোযানের যাত্রা দেখা যেত প্রতি সন্ধ্যায় ‘দি ওয়ান্ডারফুল ওয়ার্ল্ড অব ডিজনি’ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে। কিন্তু হঠাৎ করে মানুষ বদলে ফেলে তার সমাজকে। নির্মাণ করে নতুন ইতিহাস, নতুন যুগের। তিন বছরের মধ্যে সোভিয়েত প্রকৌশলীরা পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরণ করেন। শুরু হয় নতুন নভোযুগের। এক দশকের মধ্যেই কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে। বিভিন্ন ধরনের নভোযান প্রেরণ করা হয় পৃথিবীর কাছাকাছি গ্রহগুলোতে। শুরু হয় মানুষের মহাশূন্যে যাতায়াতের নতুন যুগ। চাঁদে ও পৃথিবীর কাছের গ্রহ মঙ্গলে মানুষের পদচিহ্ন এঁকে দেওয়ার অলীক স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবে দেখা মিলতে শুরু করে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অগ্রগতিই তোমাদের মধ্যে এনে দিয়েছে নতুন সুযোগ, কাজ করার নতুন ক্ষেত্র। তৈরি করেছে নতুন সম্ভাবনার। আশা করা যায়, তোমরা যা শিখেছ তা কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবে।
ভবিষ্যতে তোমরা কখনোই নিজেকে জ্ঞানার্জন থেকে বঞ্চিত করবে না। জ্ঞান অর্জন করা যায় সমগ্র জীবন ধরে। তোমাদের সেই শুরুটা আমাদের থেকেও অনেক ভালো। ট্রয়বাসীর মতোই তোমরা নিজেদের উন্নত করতে থাকবে। একেকজন হয়ে উঠবে একজন ট্রয়-যোদ্ধা।
প্রচলিত রীতি অনুসারে আমাকে বক্তা হিসেবে তোমাদের কিছু উপদেশ দিতে হচ্ছে। উপদেশ দিতে হলে অনেক আত্মবিশ্বাস থাকতে হয়। অস্বস্তির পরেও আমাকে কথা বলতে হচ্ছে। আমি মনে করি, উপদেশ থেকেও আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসই তোমাদের মনোযোগ আর্কষণ করবে। আমি শুধু তোমাদের একটি বিশ্বাসের কথা বলতে চাই। মাঝেমধ্যে অনেক কিছু তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার জন্য তোমার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে পারে। তোমার অর্থ-সম্পত্তি কোনো না কোনোভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে। তোমার কাছ থেকে শুধু একটা জিনিসই তোমার অনিচ্ছায় হারিয়ে যেতে পারবে না, সেটা হলো তোমার নীতিবোধ, তোমার আদর্শ। এটাই তোমার দখলে যেসব জিনিস আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তুমি যদি তোমার ভেতরের নীতিবোধগুলোকে পরিচর্যা করতে থাকো, সতর্কতার সঙ্গে নির্মাণ করতে পারো তোমার ব্যক্তি-আদর্শ, তা হলেই তুমি ট্রয়বাসীর মতোই সফল। এই নীতিবোধ, আদর্শই তোমাকে পরিচালনা করবে, তোমার সমাজকে পরিচালিত করবে। সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে মানব চরিত্রের নীতিবোধ, আদর্শের ওপর। ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য কী নিয়ে আসবে? সেটা আমি জানি না, কিন্তু যা আনবে তা নিশ্চয়ই রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসিক।
ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য নিজের জ্ঞান-মেধাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাও, তাকে নিয়ে কোনো ধরনের পূর্বধারণার দরকার নেই। ট্রয়বাসীকে ছাপিয়ে তোমার পরিশ্রমের ওপরই নির্মাণ করা হবে আগামীর সমাজ, দেশ, নতুন সভ্যতা। সবাইকে ধন্যবাদ, সবার জন্য শুভ কামনা।
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর: জাহিদ হোসাইন
ব্যবসাভিত্তিক অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘লিঙ্কড ইন’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের জন্ম ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্কড ইনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন সারাবিশ্বে এক কোটি ৭৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আজ আমি বক্তৃতা শুরু করব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘সব মানুষই আসলে উদ্যোক্তা হয়ে জন্ম নেয়। মানুষ যখন গুহায় বাস করত, তখন তারা সবাই ছিল এক অর্থে উদ্যোক্তা। তারা নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করত, নিজেদের কাজের সংস্থানও করত। এভাবে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমেই মানব ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। সভ্যতার সূচনালগ্নে বেকার বলে কোনো শব্দ ছিল না। কিন্তু সময় যত পেরিয়েছে, আমরা আমাদের সহজাত উদ্যোক্তাসুলভ মনোভাবকে তত দমিয়ে ফেলেছি। আমরা উদ্যোক্তা থেকে পরিণত হয়েছি শ্রমিকে। আমাদের মগজে পাকাপাকিভাবে এই ধারণা ঢুকে গিয়েছে যে আমাদের চাকরি করতে হবে।’ আমি এই উক্তিটি বিশেষভাবে উল্লেখ করলাম, কারণ উদ্যোক্তারা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। আজ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণের অধিকাংশই অভিবাসী কিংবা অভিবাসীদের বংশধর। তাদের পূর্বপ্রজন্ম মহাসাগরের ওপার থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একদিন এই নতুন ভূখণ্ডে এসেছিল। আজকে অনেক বড় বড় কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা একদিন অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা ফেলেছিলেন, তাঁদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন বলতে আজ এটিই বোঝায়, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর মেধার সমন্বয়ে নিজের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎকে নিজের হাতে গড়ে তোলা। উদ্যোক্তারা হলো সেসব হাতেগোনা মানুষ যারা সমাজের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজেদের পথ নিজেরাই সৃষ্টি করে নেয়। তাঁরা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এর সবকিছুই সমাজকে এগিয়ে নিতে অপরিহার্য। এখন বেকারত্বের হার কত একটু ভেবে দেখো। আজ যদি আমাদের মধ্যে আরও অনেক উদ্যোক্তা থাকতেন, আরও নতুন নতুন ব্যবসা গড়ে উঠত! তা হলে বেকারত্ব দূর করা কোনো ব্যাপারই ছিল না। এই আধুনিক সমাজে ব্যবসায় উদ্যোগ শুধু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আর মানুষের কর্মসংস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উদ্যোগী মনোভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আজ প্রায় সব পেশাতেই দরকার। নিঃসন্দেহে এটি একটি নতুন ব্যাপার। পৃথিবী এখন বিশ্বায়ন আর প্রযুক্তির কল্যাণে যত দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। গত দশকে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ধাপে ধাপে তার ক্যারিয়ার গড়ে তুলত। কর্মক্ষেত্রে তার কাজের একটি নির্দিষ্ট বিভাগ থাকত, ক্যারিয়ারের পথ ছিল সুনির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। যে কোম্পানিতেই কাজ করুক না কেন, সে সেই ছকের ভেতরে থেকেই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেত। পরিশ্রম এবং কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা পেলে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু বিশ্বায়ন যেখানে প্রতিমুহূর্তে পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, সেখানে তোমাদের মতো তরুণদের ক্যারিয়ার-ভাবনাও বদলে ফেলতে হবে। আগে ক্যারিয়ার ছিল একটি সোজা ওপরে উঠে যাওয়া সিঁড়ি, এখন তা পরিণত হয়েছে গোলকধাঁধার মতো এক পাহাড়ি এলাকায়। এখানে ওপরে উঠে যেতে হলে তোমাকে কখনো নিচেও নামতে হতে পারে, অনেক চড়াই-উতরাই পাশ কাটিয়ে যেতে হতে পারে বুদ্ধি করে, কখনো কখনো ঝুঁকি নিয়ে লাফ দিতেও হতে পারে। আবার সময়ের প্রয়োজনে হয়তো তোমাকে পাহাড়ের পাদদেশে নেমেও আসতে হতে পারে। হয়তো দেখা যাবে পাহাড়ের গা ঘেঁষে তুমি সুন্দর একটা খেলার জায়গা বানিয়ে ফেলেছ! কিছুই আসলে একরকম থাকবে না, কখনো থাকে না। যা আছে তা বদলায়, কখনো বদলে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি হয়, কখনো আগে যা ছিল তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। আধুনিক ক্যারিয়ার, যা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, তার এভাবেই প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনকেই তোমাদের একমাত্র স্থায়ী ব্যাপার বলে ধরে নিতে হবে। আশপাশের সবকিছুই বদলে যাবে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তোমার দক্ষতা ও সামর্থ্যকেও দ্রুত বদলে ফেলতে হবে। বর্তমান সময়ে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন কৌশল। আর সেই কৌশলটি হলো, উদ্যোক্তাদের মতো চিন্তা করা। বসে বসে দীর্ঘ পরিকল্পনা করে জীবন পার করে দিলে চলবে না, কাজে নেমে পড়তে হবে। নিজের কাজ, নিজের ক্যারিয়ার নিজেকেই সৃষ্টি করে নিতে হবে। তোমাদের মধ্যে খুব কমই নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান শুরু করবে, কিন্তু তার পরও প্রত্যেকেরই উদ্যোক্তাদের মতো চিন্তা করা উচিত। কীভাবে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে বা নিজের ভেতরে উদ্যোগী-ভাবনা জাগিয়ে তুলবে, তা নিয়ে নানা জনের নানা মত আছে। কিন্তু আমার কাছে যদি একটিমাত্র পরামর্শ চাওয়া হয় এ ব্যাপারে তা হলে আমি বলব, নিজের ‘নেটওয়ার্ক’ তৈরি করো। তোমার পরিচিতজনেরাই তোমাকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। তোমার নেটওয়ার্ক যত শক্তিশালী হবে, তুমি তত বেশি তথ্য পাবে, ব্যবহারিক জ্ঞান পাবে। তোমার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাই তোমাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এমনভাবে সাহায্য করবে, যা তুমি হয়তো চিন্তাও করতে পারবে না। মানুষের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কেমন, সেটা তোমার সফল হওয়ার পেছনে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তোমার নেটওয়ার্ক থেকে তুমি যেমন মূল্যবান তথ্য আর প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারো, তেমনি আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা তোমার একার পক্ষে কখনোই মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না, তাও তুমি সামাল দিতে পারো। অনেক অবশ্যম্ভাবী ব্যর্থতা আর দুর্যোগকে তুমি এড়িয়ে যেতে পারো, অনেক নতুন সম্ভাবনাও খুঁজে বের করতে পারো, শুধু তোমাকে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। আজ যেখানে তোমরা সমাবর্তনের জন্য হাজির হয়েছ, এখানেও তোমাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। আমাকে প্রথম চাকরি দিয়েছিল আমার এক বন্ধুর রুমমেট, আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমি ‘পেপাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড মেম্বার, সেটিও হয়েছিল আমার এক কাছের বন্ধুর মাধ্যমে যে কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা। আসলে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক শুধু যারা তোমার পরিচিত তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, একটা মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। যাদের সঙ্গে তোমার সুসম্পর্ক তারা, তাদের পরিচিত মানুষেরা, এমনকি সেই মানুষদেরও পরিচিত মানুষেরা—সবাই এক অদৃশ্য সুতায় জড়িয়ে আছে। জীবন একটি দলগত খেলা, যেখানে একাকী তোমার কোনো অস্তিত্ব নেই। তোমার আশপাশের সবকিছু, তোমার দলের সবাইকে নিয়েই ‘তুমি’। উদ্যোক্তাদের অদম্য মনোভাব থেকে যেকোনো পেশার মানুষই তাদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা নিতে পারে। আজকের পৃথিবী খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা আর নতুন কিছু আবিষ্কার করার তাগিদও দিন দিন বাড়ছে। এই পৃথিবীর নেতৃত্ব দিতে হলে উদ্যোক্তাদের মতো ভাবতে হবে, তারাই নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, আমাদের উদ্যোক্তা প্রয়োজন। ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা, ভুলে যেয়ো না তোমরাই আমাদের নেতা, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তোমাদের মধ্যে থেকেই নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে, তোমরাই সমাজকে বদলে দেবে। তোমরা শুধু নিজেরা উদ্যোক্তা হয়েই থেমে যেয়ো না। তোমাদের মতো আরও অসংখ্য উদ্যোক্তা যাতে সৃষ্টি হতে পারে, বিকাশ লাভ করতে পারে, এ সমাজে তার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে এগিয়ে এসো। জেনে রেখো, একজন মানুষ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে ঠিকই, কিন্তু সেই পরিবর্তন ফলপ্রসূ হয় তখনই যখন আরও অসংখ্য মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়। আজ থেকে তোমরা এক নতুন পথে পা বাড়ালে, এখনই সময় নতুন কিছু করে দেখানোর। তোমাদের জন্য শুভকামনা।
সুত্রঃ প্রথম আলো
     www.khanacademy.org 
বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় যখন বাংলাদেশিদের নাম থাকে তখন অবাক হওয়া ছাড়া উপায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সালমান খান। টাইম ম্যাগাজিনের ভাষায়, নিজ কাজের মাধ্যমে যারা সারাবিশ্বকে পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, যাদের আছে প্রভাব সৃষ্টির অপার সম্ভাবনা; সালমান খান তেমনই ব্যক্তিত্ব। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে শিক্ষাকে তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন বিশ্বব্যাপী।


তবে মজার বিষয় হলো, বিশ্বকে বদলে দেওয়ার জন্য সালমান খান মোটেও কাজ শুরু করেননি। নিছক বোনকে গণিত শেখানোর কাজ করছিলেন তিনি। এবার গল্পটি বলা যাক। সালমান খানের বিয়ে হয় বোস্টনে। সেখানে থাকার সময়ে তার মামা বোস্টন শহরে আসেন। একদিন মামার কাছ থেকে জানতে পারেন মামাতো বোন নাদিয়া গণিতে খুব কাঁচা। এটি শুনতে পেয়েই তিনি নাদিয়াকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বোনের কাছে গণিত বিষয়টিকে মজার করে তোলার জন্য নিত্য-নতুন কৌশল প্রয়োগ করতে থাকেন। একসময় দেখা যায় নাদিয়া গণিতে ভালো নম্বর পাচ্ছে। বোনকে পড়ানোর বিষয়টি সালামান উপভোগ করতে থাকেন। শিক্ষক হয়ে যাওয়াটাও উপভোগ করতে থাকেন।


কিন্তু ধীরে ধীরে নতুন সমস্যা শুরু হয়। সমস্যাটা হলো ‘সময়’।   চাকরি শেষে তিনি যখন বাড়ি  ফেরেন তখন নাদিয়া ব্যস্ত থাকে অন্য কোনো কাজে। ঠিক তখনই তার মাথায় ভিন্ন ভাবনার সূত্রপাত হয়। ২০০৬ সালের নভেম্বরে ইউটিউবে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন সালমান। গণিতের সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে ভিডিও তৈরি করে তা আপলোড করেন ইউটিউবে। তখন নাদিয়া ও তার ভাইবোনরাও ভিডিও দেখে গণিত করা শুরু করে।


পড়ানোর এ ভিন্ন পদ্ধতি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এটি বুঝতে পেরে সালমান শুধু গণিতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে জীববিদ্যা, অর্থনীতি, রসায়ন, ইতিহাস সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করতে থাকেন। তার কিছুদিন পরই প্রতিষ্ঠা করেন নিজ নামে ‘খান একাডেমী’ নামে চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান। তারপর থেকে শুধুই এগিয়ে চলা। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন খান একাডেমি নিয়েই।


এখন শুধু বোন নয়; তার ছাত্র বিশ্বজুড়ে। আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে গড়ে তোলার চিন্তা যার মাথায় তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান তরুণ শিক্ষক সালমান খান।


সালমান খানের দাদাবাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। তাঁর বাবা ডা. ফখরুল আমিন খান চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর দাদা আব্দুল ওয়াহাব খান ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার। সালমানের বাবা অভিবাসী হয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্স শহরে ১৯৭৭ সালে সালমানের জন্ম। সবাই আদর করে ডাকেন ‘সাল’। তবে ১৯৯১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন সাল।


মেধাবী সালমান বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে গণিত এবং তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান—এ দুই বিষয়ের ওপর স্নাতক সম্পন্ন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এর ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। অতঃপর এমবিএ করেন হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে।


মেধাবী সালমান কাজ করেছে ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানে। সে সঙ্গে সিলিকন ভ্যালির এক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ করেই তিনি বিপুল অর্থের অধিকারী হতে পারতেন। কিন্তু এতো কিছু চিন্তা করেননি তিনি। অনলাইন ক্লাসরুম খুলেই খুশী সালমান খান।


যাইহোক, তরুণ সালমান খান ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির নিজ অ্যাপার্টমেন্টে সাজিয়েছেন তার শ্রেণীকক্ষ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেখান থেকেই আলো ছড়িয়ে পড়ছে সারাবিশ্বে। আর এ মহান কর্মের গুণেই তিনি আজ বিশ্বের প্রভাবশালীদের একজন।


সালমান খানের ‘খান একাডেমী’ বিভিন্ন বিষয়ের উপর তিন হাজারের বেশি ভিডিও লেকচার, টিউটোরিয়াল তৈরি করেছে। বিষয়গুলোর মধ্যে আছে বীজগণিত, পাটীগণিত, ইতিহাস, ব্যাংকিং, পদার্থবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, ভেনচার ক্যাপিটাল, ক্রেডিট ক্রাইসিসের উপর নানা বিষয়ে অসংখ্য ভিডিও। যে কেউ খুব সহজেই যে কোনো সময়ে বিনা পয়সায় তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়টি জেনে নিতে পারবেন।


তবে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই স্বীকার করে বলেছেন, আমি কোনদিনই চিন্তা করিনি চাকরি বাদ দিয়ে শিক্ষার জন্য কাজ করবো। ‘খান একাডেমী’র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ছে এই বিষয়েই খুশী তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, বহু প্রতিষ্ঠান খান একাডেমীকে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বলেছে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। অল্প কয়েকজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে ঠিকই চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অনলাইন ক্লাসরুম। তাঁর ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো ওপেনসোর্সে লাইসেন্সের অধীনে থাকায় যে কেউ অনলাইন থেকে লার্নিং ভিডিও ডাইনলোড করতে পারবে। শুধু তাই নয় অন্যকেও দেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে নিজের উদ্যোগে যদি কেউ নিজ দেশে অনুবাদ করে চালাতে পারে সেটা করারও অধিকার দিয়ে দেওয়া হয়েছে।



২০১২ সালের জুনে অনুষ্ঠিতব্য এমআইটির ১৪৬ তম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সালমান খান। ৩৫ বছর বয়সী সালমান খানই হতে যাচ্ছেন এমআইটির ইতিহাসে কনিষ্ঠতম সমাবর্তন বক্তা। ২০১২ সালের মে মাসে রাইস ইউনিভার্সিটিতেও সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে সালমান খানের।


উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় আরেকজন বাঙালি স্থান পেয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তালিকায় স্থান পাওয়া অপর উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেট, পাকিস্তানের প্রথম অস্কার বিজয়ী শারমিন ওবায়েদ চিনয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ফুটবলার লায়নেল মেসি, টেনিস খেলোয়াড় নোভাক জোকোভিচ, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিট রমনি, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ, কলাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল স্যান্তোস, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সঙ্গীতশিল্পী রিহানা প্রমুখ।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
পৃথিবীর ইতিহাসে মহানায়ক হওয়ার যোগ্যতা আছে কয়জনের? এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেক নামই উঠে আসবে। তবে দেখা যাবে এদের অধিকাংশই মানুষের মন জয়ের চেয়ে দেশ জয়কেই বড় করে দেখেছেন। আবার তাদের দেশ জয়ের পেছনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেয়ে নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের ইচ্ছেটাই ছিল বেশি। তারপরও যুগে যুগে এমন বহু নেতার জন্ম হয়েছে যারা নিপীড়িত জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। যারা পিছিয়ে পড়া জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছেন।


এমনই একজন নেতা হলেন মালয়েশিয়ার ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ। দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে।


স্বপ্নযাত্রার পাঠকদের জন্য তাঁর জীবনের কিছু দিক ছোট করে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


মাহাথিরের পূর্বপুরুষ চট্টগ্রামের!


চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাংশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা ও কাপ্তাইগামী সড়কের সামান্য পূর্বে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম মরিয়ম নগর। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এ গ্রামের এক যুবক ব্রিটিশ শাসিত মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তিনি ছিলেন জাহাজের নাবিক। মালয়েশিয়ায় আলোর সেতার গিয়ে এক মালয় রমনীর সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরেই জন্ম নেয় বিখ্যাত মাহাথিরের পিতা মোহাম্মদ ইস্কান্দার।


এ সূত্রে মাহাথিরের রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশের রক্ত। সে কারণেই বাংলাদেশের জন্য মাহাথিরের রয়েছে আদালা ভালোবাসা।


মাহাথিরের জন্ম ও শৈশব:
মাহাথির মোহাম্মদের জন্ম ১৯২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর। পিতা মোহাম্মদ ইস্কান্দারের নয় সন্তানের মধ্যে মাহাথির ছিলেন সবার ছোট।
মাহাথিরের পিতা ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ মানুষ। পিতার কাছ থেকে মাহাথির এ গুণটি পেয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খল জীবন পালন করেছেন মাহাথির।


মাহাথির তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন সেবেরাং পেরাক মালয় স্কুলে। কিন্তু তিনি চাইতেন ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতে। সমস্যা হলো, ইংরেজরা মালয় ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে সহজে সুযোগ দিত না। ভর্তি পরীক্ষা হতো খুবই কঠিন। তাই মালয় ছেলেমেয়েদের জন্য সুযোগ পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য।


সেই ছোটবেলাতেই তিনি এ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথমদিকে স্থান করে নেন। আলোর সেতারের গভর্নমেন্ট ইংলিশ স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন মাহাথির।


ভয়কে জয় করার গল্প:
শৈশবে তিনি কুকুরকে ভীষণ ভয় পেতেন। পথে কোনো কুকুর দেখলেই ভয়ে দৌড়াতে শুরু করতেন। এই ভয় তাকে অস্থির করে তুলতো। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে একদিন হঠাৎ তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন আর ভয় পাবেন না। সিদ্ধান্ত হলো- যখনই কুকুর দেখবেন তখন চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে থাকবেন। সিদ্ধান্ত কাজে দিল।


এই সিদ্ধান্তটিকে তার জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে বার বার উল্লেখ করেছেন। কোনো সমস্যা এলে ভয় পেয়ে তা থেকে পালিয়ে না গিয়ে তাকে মোকাবিলা করা, সমস্যা উৎস খুঁজে বের করা পরিণত হয় তার স্বভাবে। এবং এই মন্ত্রই তাকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের চূড়ায়।


মাহাথির থেকে ড. মাহাথির:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মাহাথির অনুভব করেন সমাজের জন্য কিছু করার। তখন সিদ্ধান্ত নেন সমাজের জন্য কিছু করতে হলে হয় তাকে আইনবিদ অথবা ডাক্তার হতে হবে। মেধাবী মাহাথির খুব সহজেই বৃত্তি পেয়ে যান। প্রথম পছন্দ আইন হলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয় ডাক্তার হওয়ার। কেননা মালয়েশিয়ায় তখন বেশ কয়েকজন আইনবিদ ছিলেন। সিঙ্গাপুরের কিং অ্যাডওয়ার্ড সেভেন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন মাহাথির। ১৯৪৭ সালে মাত্র সাতজন মালয় শিক্ষার্থী ছিলেন ঐ মেডিকেল কলেজে।
মেধাবী মাহাথির পড়াশোনা শেষ করে ফিরে আসেন নিজ দেশে।


রাজনীতিতে মাহাথির এবং নির্বাচন:
মাহাথির ১৯৫৬ সালে বিয়ে করেন সিতি হাসমাকে। স্ত্রী সিতি বুঝতে পারছিলেন মাহাথির ধীরে ধীরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। মেডিকেল কলেজে পড়া অবস্থাতেই তিনি দেখেছেন মাহাথিরের নেতৃত্ব প্রতিভা প্রখর।


বিয়ের এক বছর পর মাহাথির নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। পরে ১৯৬৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোটা সেতার দক্ষিণ এলাকা থেকে বিপুল ভোটে এমপি পদে তিনি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়েই মালয়দের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেন।


যেহেতু তিনি ডাক্তার ছিলেন তাই মানুষের সঙ্গই তার পছন্দ ছিল। এ প্রসঙ্গে একবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াই। দেহরক্ষী আছে তবে তাদের অনেক দূরে থাকতে হয়। আমি মনে করি, যেসব নেতা জনগণ থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকেন, আমি তাদের মতো নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে থাকতেই পছন্দ করি। পছন্দ করি নিজে বাজার করতে। সবার সাথে মিশে কফি পান আমার পছন্দ।’


যাইহোক। যে দল থেকে নির্বাচন করেছিলেন সে দলের নীতির সঙ্গে বারবার মাহাথিরের দ্বন্দ হয়। দলের বিভিন্ন ভুল পরিকল্পনা ও অদক্ষতা মাহাথিরকে বিচলিত করে তোলে। এক পর্যায়ে দলীয় প্রেসিডেন্ট ১৯৬৯ সালে তাকে দল থেকে বহিস্কার করে। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক নানা হয়রানি। মোড় ঘুরতে থাকে মাহাথিরের।


প্রধানমন্ত্রী মাহাথির:
দল থেকে বহিস্কার হওয়ার পর তিনি আবার চিকিৎসা পেশায় ফিরে যান। তবে বন্ধুদের সহযোগিতায় তিনি অবার রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ১৯৭৪ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী হন।


শিক্ষামন্ত্রী হয়েই কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কার্যকর নানান পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন মাহাথির। মালয়েশিয়াকে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা সংস্কার হচ্ছে মাহাথিরের প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।


মাহাথির ১৯৭৫ সালে উমনো’র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তুন হোসেন হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ফলে মাহাথির হন উপ-প্রধানমন্ত্রী।


কয়েকবছর পর তুন হোসেন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই ৫৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হন ড. মাহাথির মোহাম্মদ।


অন্যরকম প্রধানমন্ত্রী:
মাহাথিরই পৃথিবীর একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি নিজের নাম লেখা ব্যাজ পরতেন। মাহাথির সঙ্গে ছোট্ট একটি নোটবুক রাখতেন। তার সব চিন্তা লিখে রাখতেন সেই নোটবুকে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর সাজানো থেকে শুরু করে সরকারি রীতিনীতি পর্যন্ত সবকিছুই তিনি লিখে রাখতেন।


আধুনিক মালয়েশিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা মাহাথির দেশে গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেন। প্রোটন সাগা নামের মালয়েশিয়ান গাড়ি তৈরি হয় জাপানি মিটসুবিশির সহায়তায়। এভাবেই ধীরে ধীরে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে থাকেন মাহাথির।


আমাকে দশজন যুবক দাও...


‘আমাকে দশজন যুবক দাও, তাহলে আমি সারা বিশ্বকে তোলপাড় করে দেব’- বলেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ। কিন্তু মাহাথিরের কাছে ব্যাপারটি ছিল - ‘ দশজন যুবক দেওয়া হলে মালয়ীদের সাথে নিয়ে আমি বিশ্বজয় করে ফেলবো।’


বাস্তাবে হয়েছেও তাই। মালয়েশিয়ার নতুন প্রজন্মকে তিনি স্বদেশপ্রেমে এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন যে, তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন।


অবসরে মাহাথির মোহাম্মদ:
এক নাগাড়ে দীর্ঘ ২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ৭৭ বছর বয়সে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ ক্ষমতা ও রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। তবে তার এ বিদায় ছিল ব্যতিক্রমী। রাজনীতি ও ক্ষমতা থেকে নেতা-নেত্রীদের বিদায় ঘটে মৃত্যু, হত্যা, নির্বাচনে পরাজয় বা বিদ্রোহ-বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু মাহাথিরের বিদায় সেরকম নয়। এটি ছিল নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগ।


উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ্ আহমদ বাদাওয়াবীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে কেমন লাগছে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাঁধ থেকে দেশ পরিচালনার বোঝা সরাতে পেরে স্বস্তি লাগছে।’


সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির আরো বলেন, জনগণ আমাকে ভুলে গেলেও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। শেক্সপিয়ারের জুলিয়াস সিজার নাটকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মন্দটাই মনে রাখে মানুষ। ভালোটা হাড়গোড়ের সঙ্গে মাটিতে মিশে যায়। জনগণ আমাকে মনে রাখল কি রাখল না তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।


সহায়ক বই: মালয়েশিয়ার মহানায়ক ড. মাহাথির মোহাম্মদ
সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
শেরিল স্যান্ডবার্গ ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার।
শেরিল ১৯৬৯ সালের ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ বক্তব্যটি তিনি বার্নার্ড কলেজের সমাবর্তনে প্রদান করেন ২০১১ সালের ১৭ মে।


ধন্যবাদ এবং অনেক অনেক অভিনন্দন সবাইকে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করে বেরিয়েছি প্রায় ২০ বছর হলো। আমার কাজের জায়গাটি অবশ্য আমার প্রতিটি দিনকে মনে করিয়ে দেয়। আর এটি যেন আমাকে অনেক বেশি বুড়ো বানিয়ে দিয়েছে। মার্ক জুকেরবার্গ একদিন বলছিলেন, ‘শেরিল, মধ্যবসয়ী সংকটগুলো কবে নাগাদ দেখা দেয় বলো তো? তোমার যখন বয়স ৩০ পেরিয়েছে তখন? আসলেই অনেক বয়স তো হয়ে গেল, আর এ জীবনটাতে এমন সব দিনলিপিতে ভরে গেছে, যেগুলো আমি মনেও রাখিনি। আজকের দিনটি অবশ্য ভুলে যাওয়ার নয়, তোমাদের হয়তো মনেও থাকবে না, আমি কী বলে গেলাম। সমাবর্তনের এই বক্তার নামও হয়তো মনে থাকবে না।
আজ এই যে তোমরা নিউইয়র্কের বার্নার্ড কলেজ ছেড়ে যাচ্ছ, তোমরা কি শুধু এখান থেকে অর্জিত শিক্ষাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছ? না, তোমরা পৃথিবীর অন্যতম একজন সৌভাগ্যবান হিসেবেও এ ক্যাম্পাস ছেড়ে পেশাজীবনে প্রবেশ করছ। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো এমন পরিবার থেকে এসেছ, যেখানে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কেউ কেউ এমনও আছো, যারা অনেক লড়াই করে আজকে এখানে আসতে পেরেছ, কেউ হয়তো তাদের পরিবারের মধ্যে প্রথম স্নাতক। কী অসাধারণ অর্জন এটি, তাই না? তোমরা যেভাবেই শিক্ষাজীবন শুরু করো না কেন, আজ তোমরা সবাই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত স্নাতকদের দলে। এমনটা বলছি কারণ, তোমাদের সামনে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, তোমরা তোমাদের এ অর্জনকে নিয়ে কী করবে ভবিষ্যতে?
আজ পৃথিবীতে কী রয়েছে বদলে দেওয়ার? সেটি বদলে দেওয়ার জন্য তোমাদের পরিকল্পনাগুলো কেমন?
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশে আইনের দৃষ্টিতে আমরা (নারী-পুরুষ সবাই) সম-অধিকার ভোগ করি। অথচ এ প্রতিশ্রুতি তো সবখানে সমান নয়। এই যে আজ আমরা নীল পোশাকে সমাবর্তনে বসে আছি, আমাদের মানতেই হবে পুরুষেরাই পৃথিবী শাসন করছে। ১৯০ জন রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র নয়। সারা পৃথিবীর সংসদগুলোয় নারীর সংখ্যা শতকরা মাত্র ১৩ জন। যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট জগতে শতকরা ১৫ জন নারী, যা বিগত নয় বছরে বদলাইনি। অধ্যাপকের মধ্যে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র শতকরা ২৪ জন নারী অধ্যাপক রয়েছেন।
আমি স্বীকার করি, আমাদের অতীত প্রজন্মের তুলনায় অনেক উন্নতি হয়েছে নারীদের জীবনে। আমার মায়ের সমাবর্তনের দিন তাঁর মনে হয়েছিল সেবিকা কিংবা শিক্ষকতা করার দুটি পথ খোলা আছে তাঁর। মা আমাকে আর আমার বোনকে বড় করেছেন এই বিশ্বাসকে ধারণ করে যে আমরা পৃথিবীর সবকিছু অর্জন করার সুযোগ পাব। কিন্তু আমার কষ্ট হয় ভাবলে যে আমাদের প্রজন্ম কী করছে নারীদের পথ খুলে দেওয়ার জন্য?
৩০ বছর আগে ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ স্নাতক হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। ৩০ বছরে সেই স্নাতকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার টেবিলে আমাদের স্থান কোথায়? পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা কি সমান সুযোগ পাই? তাই আজ থেকে এ দায়িত্ব পালনের ভার রইল তোমাদের। তোমরাই আরও সমান একটি বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি নেবে। তোমরাই আমাদের ভরসা। আমি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করি, যখন আমরা জেন্ডার বৈষ্যম্য দূর করতে পারব, সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব, তখনই আমরা সরকারব্যবস্থা, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ অর্জন করতে পারব। আমাদের প্রয়োজন সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন— প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অবস্থান। নারীদের উপদেশ কিংবা ভুলে যাওয়া নয়, পৃথিবীর গতিকে বদলে দিতে, আমাদের কথোপকথনের ধরন বদলে দিতে। প্রতিটি নারীর কথা শোনা এবং শোনানোর জন্য প্রয়োজন তোমাদের। তাই আমার আশা, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক স্নাতককে নিয়ে, যা বদলে দেবে পৃথিবী।
তো, জীবনে তোমাদের লক্ষ্য অর্জনে কী উপদেশ দেব তোমাদের? প্রথমে আমি যা বলে তোমাদের উৎসাহিত করতে চাই তা হলো, চিন্তার জগৎ বিস্তৃত করো। সমীক্ষায় দেখা গেছে, নারীদের চেয়ে পুরুষেরা অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়। স্নাতক হওয়ার দিন থেকে তারা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কর্ম জীবনের প্রতিটি দিন অতিবাহিত করে। আমরা তো কখনোই সফলতা অর্জনের শূন্যতার কাছে পৌঁছাতে পারব না, যদি আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষার শূন্যতা পূরণ না করি। কিন্তু যদি আজ থেকে আমরা সব স্নাতক নারীর আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এগিয়ে না যাই, তবে কেমন করে বড় কিছু অর্জনে আমরা সফল হব। নেতৃত্বপ্রদানের সুযোগ তাদের হাতেই আসে, যা নেতৃত্বপ্রদানের জন্য এগিয়ে যায়। আর তোমাদের সবার সামনে আজ নেতৃত্ব গ্রহণের দিন এসেছে।
সফলতার পরবর্তী ধাপ হলো নিজের ক্ষমতা এবং সম্ভাবনায় বিশ্বাস করা যে একদিন তুমি পারবেই। দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা তাঁদের কর্মক্ষমতায় কম আস্থা রাখেন। যদি তুমি একজন পুরুষকে তার সফলতার কারণ জিজ্ঞেস করো, সে সফলতার জন্য তার নিজেকেই তুলে ধরবে, কিন্তু নারীরা বলবে কঠোর পরিশ্রম, অন্যদের সহযোগিতাসহ অন্যান্য বিষয়কে। নারীরা বলবে, “আমি ভাগ্যবান, আমি পরিশ্রম করেছি, অনেকের সাহায্য পেয়েছি।” পুরুষেরা বলবে, “কী অদ্ভুত প্রশ্ন, আমি যোগ্য এবং আমি অসাধারণ।” তাই নারীদের শিখতে হবে পুরুষদের থেকে, যাতে তারা তাদের সফলতাকে নিজের করে ধারণ করতে পারে। আমার ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল।
যদি তুমি অনেক বড় কিছু স্বপ্ন দেখো, নিজের সফলতাকে নিজের মাঝে ধারণ করে নাও, যদি তুমি নেতৃত্ব দাও, তাহলে বাইরে অনেক কিছুর মূল্য চুকিয়ে ব্যক্তিগত জীবনেও কিছুটা বিসর্জন দিতে হয়। পুরুষদের অবশ্য নারীদের চেয়ে অনেক কম ত্যাগ করতে হয় পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনে সফল হওয়ার জন্য। পুরুষদের দিনের যতটুকু সময় কাজ করতে হয়, নারীদের তার থেকে দ্বিগুণ কাজ করতে হয় এবং তাদের থেকে তিনগুণ বেশি পরিবারের খেয়াল রাখতে হয়। তাই নারীদের ক্ষেত্রে কর্মজীবনের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়—তুমি কি জীবনসঙ্গী চাও না? চাইলে সে কে? যদি তুমি এমন কাউকে বেছে নাও যে তোমার ব্যক্তিগত জীবনের সব বোঝা এবং সুখ ভাগাভাগি করবে, তাহলে তুমি জীবনে অনেক এগিয়ে যেতে পারবে। পৃথিবীটা হয়তো তাহলে আরও অনেক সুন্দর হবে, যদি পুরুষেরা সংসারের অর্ধেক দায়িত্বের ভার নেয় আর নারীরা কর্মক্ষেত্রের অর্ধেক দায়িত্বের ভার নেয়।
আমার ছয় বছরের একটি ছেলে এবং তিন বছরের একটি মেয়ে আছে। তাদের ঘিরে আমার স্বপ্নের শেষ নেই। আমি চাই আমার ছেলে ও মেয়ে উভয়েই তাদের পরিবারে এবং বাইরে সমান দায়িত্ব পালন করবে। কাজ আর সংসারের ভারসাম্য করে কীভাবে তারা চলবে, সেটা বলা কঠিন। কারণ, জীবনে উত্থান-পতন আছেই। জীবনের নানা মোড়ই আমাদের সম্ভাবনা তৈরি করে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছু করে যাও, যাতে ওই দিন তোমরা সফলভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারো। তাহলে, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কী বেছে নেবে— প্রতিযোগিতা না অন্যের সংজ্ঞায়িত সফলতাকে? চেষ্টা করে যাও শেষ পর্যন্ত যতক্ষণ না তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছ, যতক্ষণ তুমি এমন একটা কাজ পাচ্ছ, যা তোমার ও সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তোমার আবেগ এবং কর্মদক্ষতাকে মিলিয়ে দাও। সাফল্য আসবেই। আমি তোমাদের প্রতীক্ষায় আছি। আমি জানি, এটি অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। অনেক ভীতিপ্রদ। তাই বাসায় গিয়ে রাতে চিন্তা করো, আমি যদি ভয় না-ই পাই, তাহলে করব কীভাবে এ দায়িত্ব পালন।’ এরপর এগিয়ে যাও পৃথিবী জয়ের জন্য। অভিনন্দন সবাইকে।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ০৭, ২০১২
ডেনজেল ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত অভিনেতা, লেখক ও পরিচালক। দুবার জিতেছেন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, দুই গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড। ডেনজেলের জন্ম ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৪। ২০১১ সালের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতা দেন তিনি।

এখানে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি আসলেই অনেক গর্বিত ও কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। আজ আমি একটু নার্ভাস। কারণ সমাবর্তনের মতো এমন একটি বৃহত্তর পর্যায়ে বক্তব্য দেওয়াটা অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। আমার আয়েশি ধারার জীবনযাপনের একেবারে বাইরে। এর চেয়ে সৈনিকের পোশাক পরে কয়েকটি কঠিন শট দেওয়াটাও বোধ হয় সহজ ছিল। কিংবা কোনো ছবির শটে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে দেওয়া হোক আমাকে; অথবা আমাকে ম্যালকম এক্স, রুবিন হ্যারিকেন কার্টারের মতো চরিত্রগুলোয় অভিনয় করতে বলা হোক— আমি রাজি হয়ে যাব। কিন্তু দিতে হবে একটি সমাবর্তনের বক্তব্য? এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাপার।
কীভাবে নতুন এই স্নাতকদের সামনে বক্তব্য দেব, সেটা নিয়ে বেশ ভেবেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, সবচেয়ে মনোযোগ ধরে রাখার ভালো উপায় হলো হলিউডের রসাল কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলে চলা। শুরু করা যেতে পারে আমেরিকান গ্যাংস্টার ছবির সেটে আমার আর রাসেল ক্রোর মধ্যকার বাগিবতণ্ডা নিয়ে। কিংবা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে আমার কাটানো কিছু আন্তরিক মুহূর্ত নিয়ে। কেউ কি তোমরা সেসব গসিপ শুনতে চাও? আমার তা মনে হয় না। তাই এভাবেই আমি বিপদে পড়ে গেলাম। তোমরা কি এখন ভাবছ যে এতটাই যখন কঠিন মনে হয়েছে বক্তব্য দেওয়া, তাহলে কেন আমি এ আমন্ত্রণে রাজি হলাম?
ভালো একটা কারণ হতে পারে যে তোমাদের মধ্যে আমার ছেলে বসে আছে। আমি এভাবে এসে দেখে গেলাম আমার অর্থ কীভাবে খরচ হলো তার পেছনে। অন্যান্য কারণ হতে পারে, নিজের প্রচারণার জন্য এখানে এসেছি। কিন্তু আমি এখানে এসেছি এই অসাধারণ ক্যাম্পাসের জন্য। আমি জানি, হয়তো আমি তোমাদের মধ্যে হাস্যকর কোনো বস্তুতে পরিণত হব। কিন্তু তার পরও আমাকে এই ঝুঁকিটা নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে আমি বুঝতে পারব না যে আমি সফল না বিফল হতে যাচ্ছি।
আর আমি যদি ব্যর্থ না হই, পড়ে না যাই, তাহলে কীভাবে বুঝব যে আমি কিসের সঙ্গে আঘাত খাব? আমি কী বলতে চাইছি বুঝতে চেষ্টা করো।
রেগি জ্যাকসন বেসবল খেলার ইতিহাসে বহুবার ব্যর্থ হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন। টমাস আলভা এডিসন ১০০০ বার ব্যর্থ হওয়ার পর ১০০১তম বার বানিয়েছিলেন অভাবনীয় আবিষ্কার বৈদ্যুতিক বাতি। ব্যর্থতার প্রতিটি ধাপ তোমাকে সফলতার একেকটি ধাপ কাছে এগিয়ে নিয়ে আসে। আর তাই তোমাকে ঝুঁকি নিতে হবে। ব্যর্থ হতে হবে সফলতার জন্য।
তোমরা হয়তো অনেকের কাছেই এমনটা শুনেছ।
আমি তিনটি কারণ দেখাতে চাই, সে জন্য একে আমি এতটা গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রথমত, জীবনের কিছু বিষয়ে তুমি ব্যর্থ হবে। এই ব্যর্থতাকে মেনে নাও। হয়তো তুমি হেরে যাবে, নিজের কাজে লজ্জিত হবে। দুর্বিষহ হয়ে উঠবে সবকিছু। এমনটাই হয়তো সবাই বক্তব্যে বলে। আমি বলব, এই ব্যর্থতাকেই আলিঙ্গন করো। কারণ ব্যর্থতা জীবনের অনেক ক্ষেত্রে অনিবার্য। আমার অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল একটি ছবির অডিশন দেওয়ার মধ্য দিয়ে। সেখানে গান গাইতে হবে। কিন্তু আমি তো গান গাইতে জানি না, অভিনয় জানি। সুতরাং আমার পক্ষে আর সেই ছবির চরিত্রটি পাওয়া সম্ভব হয় না। পুরোদস্তুর ব্যর্থ হয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি। তারপর পরবর্তী অডিশন, পরেরটি, আবার পরেরটি, চলতেই থাকল। আমি খুব প্রার্থনা করছিলাম। কিন্তু আমার ব্যর্থতা যেন বহাল থেকেই চলল। কিন্তু আমার কিছুই মনে হয়নি তাতে। কারণটা কী জানো? সেলুনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তুমি শেষমেশ সত্যিই চুল কাটার সুযোগ পেয়ে যাবে। আগের বছর আমি একটা নাটক করলাম, ফেনসেস। এবং তার জন্য আমি জিতেছিলাম টনি অ্যাওয়ার্ড। আমার সেখানে গাইতে হয়নি। কিন্তু পরিহাসটা ছিল যে এই সেই কোর্ট থিয়েটার, যেখানে আমি ৩০ বছর আগে অডিশন দিতে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছি। তোমরা এখানে স্নাতক যারা বসে আছো, তোমাদের সেই প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা আছে সফল হয়ে ওঠার। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার সাহস কি আছে কারও?
আমার কাছে দ্বিতীয় কারণটা হলো, যদি তুমি ব্যর্থ না হও, তুমি চেষ্টা করবে না, নিজেকে শুধরোবে না। আমার স্ত্রী এ প্রসঙ্গে প্রায়ই বলে, যা তোমার নেই সেটি অর্জনের জন্য তোমাকে এমন কিছু করতে হবে যা তুমি কখনোই করোনি। লেজ ব্রাউন একটি কথা বলেছিলেন, ভেবে নাও তুমি মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে; তোমার আশপাশে তোমার অব্যবহূত সব গুণ অশরীরী আত্মার আকার ধারণ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে তোমাকে বলছে, তুমি আমাদের ব্যবহার করলে জীবনটা আরও সার্থক করতে পারতে, আমাদের কবরে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারতে। আমি আজকে উপস্থিত স্নাতকদের জিজ্ঞেস করতে চাই, তোমরা কতগুলো এমন সৎ গুণবিশিষ্ট আত্মাকে কবরে তোমার সঙ্গে নিয়ে যেতে দেবে না, বলো? এ পৃথিবীর বড্ড প্রয়োজন তোমাদের মেধা ও প্রতিভার।
ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে কথাগুলো বলতে চাওয়ার শেষ কারণটি হলো, আমাদের জীবন কিন্তু সোজা কোনো পথ নয়। আমি আমার শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলাম ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রি মেডিকেল পড়াশোনা দিয়ে, শেষ করেছিলাম যে কোর্সটি দিয়ে, কার্ডিয়াক মর্ফোজেনেসিস, যা উচ্চারণ করতেও আমার কষ্ট হয়। কারণ আমি ওই কোর্সে ফেল করেছিলাম। তারপর মনে হলো, আইন নিয়ে পড়ব। তারপর সাংবাদিকতা।
যেহেতু লক্ষ্যের ঠিক ছিল না, গ্রেডগুলোও তাদের ইচ্ছামতো নিচের দিকে নামতে শুরু করল। যখন জিপিএ হলো ১.৮ তখন কর্তৃপক্ষ বলল কিছুদিন সময় নিয়ে আবার শুরু করতে। আমি তখন আমার মায়ের পার্লারের কাজে সহযোগিতা করতে শুরু করলাম। আমার বেশ দিনটি মনে আছে, ১৯৭৫ সালের ২৭ মার্চ। মায়ের এক পরিচিতা একটি বই দিয়ে বললেন, তোমাকে একটা আধ্যাত্মিক দৈববাণী বলে যাই, হাল ছেড়ো না। তুমি সারা পৃথিবী ভ্রমণ করতে যাচ্ছ এবং কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছ। আমি একটু ভড়কে গিয়েছিলাম। পরের বছর কানেকটিকাটে আমি একটি ক্যাম্পে উপদেষ্টা হয়ে কাজ করছিলাম। একজন আমাকে এসে বলল, ‘তুমি কি কখনো অভিনয় করার কথা ভেবেছিলে? তোমার উচিত ভেবে দেখা।’ আমি ফোর্ডহামে ফিরে শেষবারের মতো আমার ‘মেজর’ বদলে নিলাম। অভিনয় নিয়ে সারা পৃথিবীতে আজ আমি বেরিয়ে পড়েছি, কথা বলছি বহু মানুষের সঙ্গে।
তাই ব্যর্থতা নিয়ে ভয় পেয়ো না। ব্যর্থতা তোমাদের জীবনের বন্দী হয়ে থাকা জিনিসগুলো খুলে দেবে। কখনো থামিয়ে দিলেও ব্যর্থতা জীবনের অনেক সুযোগ খুলে দেয়। তাই কখনো আশাহত হোয়ো না, পিছিয়ে পোড়ো না। তোমার সবকিছু দিয়ে এগিয়ে যাও। জয় করো। এগিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যর্থ হও। অভিনন্দন সবাইকে।


Click here
বাংলা ব্লগিংয়ের শক্তি ও সম্ভাবনাকে আরও নিবিড়ভাবে বিস্তৃত করতে গত দুবছর যাবৎ বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হয়ে আসছে। ২০০৫ সালের এ মাসে বাংলা কমিউনিটি ব্লগের যাত্রা শুরু। এ অবদান এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে ২০০৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রথমবার পালিত হয় বাংলা ব্লগ দিবস। এবছরও ১৯ ডিসেম্বর (সোমবার) বিকেল পাচটায় পাবলিক লাইব্রেরিতে তৃতীয় বাংলা ব্লগ দিবস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

এ আয়োজনের অন্যতম  উদ্যোক্তা সামহোয়্যার ইন ব্লগ। বাংলাদেশে বাংলা ব্লগের পথিকৃৎ বলা হয় সামহোয়্যার ইন ব্লগকে। বাংলা ব্লগ দিবস উপলক্ষে সামহোয়্যার ইন ব্লগের হেড অব অ্যালিয়েন্সেস সৈয়দা গুলশান ফেরদোস জানার সাথে ব্লগ কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলানিউজের ব্লগ এডিটর শেরিফ আল সায়ার। 

ঠিক কবে ব্লগ শুরুর চিন্তা মাথায় আসে? কেন?

২০০৪ সালের মার্চ মাসের একটি সকালে কাজের ফাঁকে mannfred mann`s earthband এর "somewhere in Africa" গানটি শুনতে শুনতেই মাথায় ‘somewhere in...’ গেঁথে যায়। ভাবনার শুরু হয় সামহোয়্যার ইন থেকেই। ভেবেই বসে ছিলাম না। কাজ শুরু করি পূর্ণ উদ্যোমে। ১ মে ২০০৫; আমাদের স্বপ্নকে সত্যি করে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল সত্যিকারের সামহোয়্যার ইনের পরিকল্পনা। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া, লোকাল কমিউনিটি ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রয়েই যায়। 

ব্লগ, মার্কেট প্লেস, সিটিজেন নিউজ, ভ্রমণ সাইট, ইভেন্টস ইত্যাদি নিয়ে দু`জন মিলে নানান পরিকল্পনা চলতে থাকে প্রতিদিন।

২০০৪ এর জুনে আমরা একটি কমিউনিটি ব্লগ প্ল্যাটফর্মের কথা ভাবি এবং সর্বস্তরের বাংলা ভাষাভাষির অংশ গ্রহণের কথা মাথায় রেখে তা বাংলাতেই হবে বলে সিদ্ধান্ত নিই। 

বাংলাদেশে বাংলা ব্লগ তখনও ছিল না। এমনকি এই সম্পর্কে কোনো ধারণাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে ব্লগ শুরু করার সাহস কীভাবে পেলেন?

নিঃসন্দেহে সেটা ছিল বেশ কঠিন। প্রথমত: সেই সময় সারা বিশ্বে ইন্টারনেটের জয়জয়কার। সবাই ভার্চুয়াল জগতে লিখে মেধাচর্চা বা মত প্রকাশে ব্যস্ত। যার মাধ্যম ছিল প্রধানত ইংরেজি। আমাদের দেশেও কিছু মানুষ ইংরেজিতে আগে থেকেই ব্লগিং করতেন।

তাতে স্বভাবিকভাবেই ইংরেজিতে যারা দূর্বল তারা মুক্তবুদ্ধি চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। আবার ইংরেজিতে পারদর্শীরাও ইন্টারেনেটে বাংলায় লেখার প্ল্যাটফর্ম খুঁজে বেড়াতেন।  

প্রকৃতপক্ষে ‘ব্লগিং’ ধারণাটি তখনও ছোট্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। জনমত তৈরির মূলধারার মাধ্যমগুলোতে যখন দ্বিপাক্ষিক অংশগ্রহণ সম্ভব নয় তখন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রাত্যহিক জীবনের আলাপচারিতায় সর্বসাধারণের অংশ গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি মাথায় রেখে এই বাংলা কমিউনিটি ব্লগিং এর শুরুটা করে দেয় সামহোয়্যার ইন। এ ক্ষেত্রেও সাফল্যের শুরুটা সেই হাতে গোনা ক`জন ব্লগারকে দিয়েই। কেননা আমরা সেই অল্প ক`জন ব্লগারকে খুঁজে নিয়ে তাঁদের সাথে পরিচিয় করিয়ে দিয়েছি এই প্ল্যাটফর্মটিকে। 

কোন রকম বিজ্ঞাপণ ছাড়াই সেই সমস্ত ব্লগারদের প্রবল আগ্রহ, মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা আর আমাদের অসাধারণ টিমটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুত ছড়িয়ে যেতে থাকলো আজকের `সামহোয়্যার ইন ব্লগ`।         

ব্লগের কাজ শুরু করার পর সমস্যাগুলো কীভাবে সামনে আসছিল? সাড়া কেমন পেলেন?

সাড়া পাওয়ার গল্পটি আগেই বলেছি। আজকে যেমন প্রায় এক লক্ষ ব্লগার তাঁদের সামহোয়্যার ইন ব্লগটিকে ভালোবেসে সমৃদ্ধ করে চলেছেন; বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এর শুরুটাও হয়েছিল সেই ব্লগারদের দিয়েই। আমরা কেবল বাকস্বাধীনতার একটি উন্মুক্ত মঞ্চের কথা ভেবেছি এবং তা তৈরি করতে সফল হয়েছি।

সমস্যার ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি বেশ জোরালো ছিল তা হলো বাংলা কম্পিউটিং বা অনলাইনে বাংলায় লেখা। বাংলা লেখা সহজ করে তোলার জন্য আমরা শুরু করি ফোনেটিক। তৈরি হয় একটি ভার্চুয়াল কি-বোর্ড যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয়। 

পরে ২০০৭ এ ইউনিকোডের জনপ্রিয়তা এবং চাহিদা বিবেচনা করে তা যুক্ত করা হয়।  

এসবকিছুর মূলে একটি বিষয় আমি গৌরবের সঙ্গে বলতে চাই। সেটি হলো সামহোয়্যার ইন ব্লগ তৈরির পেছনের দলটির কথা। অনেক দিন, অনেক রাত অক্লান্ত শ্রম এবং ভালোবাসা দিয়ে যারা একে দাঁড় করিয়েছেন। বিভিন্ন ভার্সন তৈরির আগের রাতটি, বিশেষ উপলক্ষের আগের দিন-রাত এবং সেই সাথে হরতাল বা রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমাদের এই দলটি ছোট্ট অফিসে আটকে থেকে প্রবল উৎসাহে এবং নির্মাণে কাজ করে গেছেন। যত্নের সাথে সাজিয়ে তুলেছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশে ব্লগ সংস্কৃতি বিস্তারে সামুর বড় অবদান আছে। এ বিষয়টিকে আপনারা কীভাবে দেখেন?

এ বিষয়টি নিয়েও কথা বলার দায়িত্ব এবং অধিকার ব্লগারদেরই। আমরা আনন্দিত যে বাংলা ভাষার চর্চা, মত বিনিময় এবং জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে আমরা যে যাত্রা শুরু করে দিয়েছি তার রেশ অব্যাহত রয়েছে এবং একটির পর একটি বাংলা ব্লগ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। লেখক তৈরি হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগের জায়গাটি এখন আর দূরের কিছু নয়। অনেকখানি সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
  
ব্লগ সংস্কৃতি যেখানে দলাদলিকে গালাগাল করে। সেখানে দেখা যায় ব্লগার/ব্লগগুলোর মধ্যেও দলাদলি চলে আসে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

এখানে ভিন্নমত প্রকাশ করছি। ‘ব্লগ সংস্কৃতি’ কোন ভাবেই একে অন্যকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ থেকে দ্বিমত বা ভিন্নমত প্রকাশের এবং পারস্পরিক আলোচনা-সমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ খোলা মাঠ যেখানে সকলের স্বাধীন বিচরণের অধিকার রয়েছে। 

স্বাধীনতার অপব্যবহারও কেউ কেউ করে থাকেন এবং তার নেতিবাচক ফলাফল দুঃখজনকভাবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দলাদলি তৈরি করে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিস্ট দায়িত্বশীলদের জোরালো আইনী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। 
   
বাংলাদেশে ব্লগের ভবিষ্যত কেমন?

দেখুন, মাত্র ছ`বছর আগে জন্ম নেওয়া একটি কমিউনিটি বাংলা ব্লগ এখন এক লক্ষ সদস্যের একটি গর্বিত পরিবার। ব্লগিং চর্চার মধ্য দিয়েই এই সময়টায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য নাগরিক সাংবাদিক, লেখক, সমালোচক, গণসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ে গবেষক। 

পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এদেশের মানুষকে ভাবতে এবং কথা বলতে শিখিয়েছে বাংলা ব্লগ কমিউনিটি। জাতীয় স্বার্থে চোখ খোলা রেখে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করেছে ব্লগ কমিউনিটি। নারীকে তার সম্মানজনক অবস্থানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শিখিয়েছে ব্লগ। বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় রোধে কথা বলে ব্লগার। স্বদেশ, স্বাধীনতা আর ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উন্মুখ থাকে এই ব্লগাররাই। বর্তমান ব্লগের পরিসরই বাংলাদেশের ব্লগের ইতিবাচক ভবিষ্যতটি নিশ্চত করে। 

এবার ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি। আপনি নিশ্চয় জীবনের শুরুতে ব্লগ নিয়ে কিছু করবেন এটা ভাবেননি। জীবনের শুরুতে কী হতে চেয়েছিলেন। স্বপ্নটার কথা জানতে চাচ্ছি। সে সঙ্গে জীবনের বাঁক যে ব্লগের দিকে নিয়ে আসলো। এ বাঁকগুলো সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কী?

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছোটবেলায় টিউব-ওয়েল স্থাপনের দৃশ্য আমাকে বেশ আন্দোলিত করতো। সারাদিন ধরে একটার পর একটা দীর্ঘকায় পাইপ মাটির নীচে পৌঁছে দিয়ে বিশুদ্ধ পানি তোলার ব্যবস্থার মত একটি সাধারণ বিষয় আমাকে আগ্রহী করেছিল শুদ্ধতার জন্য একাগ্রতা। আরেকটু বড় হবার পর ট্রাক, ট্রাক্টর এবং অ্যারোপ্লেনের মত বড় বড় যানবাহন চালাবার স্বপ্ন দেখি। যখন বোধ-বুদ্ধি আর বিবেচনা করার বয়স হলো তখন  বাংলা ভাষা, বাংলা শব্দ-বাক্য, সুর, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, লালন- এসবই আমার সবসময়কার ভাবনা হয়ে উঠলো। তবে বিশেষ কিছু হয়ে ওঠার স্বপ্ন আমি কখনও দেখিনি এবং  বিশেষ কেউ হয়ে ওঠাও খুব দরকারী বলে আমার মনে হয়না। মাতৃভাষায় সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটিকে উন্মুক্ত করতে এবং বিভিন্ন প্রক্ষাপটে তা বিশ্বময় করে তোলার প্রচেষ্টাটুকু চালিয়ে যাবার আনন্দ প্রবলভাবে অনুভব করি।  
   
দেশকে নিয়ে কেমন স্বপ্ন দেখেন? সে স্বপ্নগুলো কী ভার্চুয়াল জগত দিয়ে পূরণ সম্ভব?

স্বপ্ন দেখিনা; বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধ মাথায় রেখে দেশ এবং দেশের সর্বসাধারণের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষায় মঙ্গলময় ও কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে চাই রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছ থেকে।  

সবার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের নিশ্চয়তা চাই। দেশ এবং দেশের স্বাধীনতা বিরোধতাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। আমার এইসব চাওয়া ভার্চুয়াল জগৎ দ্বারা সরাসরি পূরণ সম্ভব নয়, তবে তা পূরণ করার পথ তৈরি এবং প্রশস্ত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে এবং তা ক্রমশ জোরালো হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

বাংলানিউজ
অধ্যাপক মো: মঈনউদ্দিন খান আশা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য। তিনি তার ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের বিজনেস স্টাডিজের ডিন, একাউন্টিং এবং ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক মঈনউদ্দিন খান ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শিল্প, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। 

তাঁর হাত ধরেই আশা ইউনিভার্সিটি এগিয়ে চলছে সফলতার সঙ্গে। অধ্যাপক মঈনউদ্দিন খানের সঙ্গে শিক্ষার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন স্বপ্নযাত্রার বিভাগীয় সম্পাদক শেরিফ আল সায়ার।

অনেকেই বলছে স্কুল পর্যায়ের তিনটি স্তরে পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়াবে। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন? 

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন পদ্ধতি একটা এক্সপেরিমেন্ট। আমি মনে করি যত বেশি পাবলিক পরীক্ষা হবে, এক প্রশ্নে যত বেশি পরীক্ষা নেওয়া যাবে; শিক্ষার মান তত বেশি ভালো হবে। 

আর ঝরে পড়ার বিষয়টা নিয়ে বলতে হয়, আগে একসঙ্গে ঝরে যেত। এখন বিভিন্ন ধাপে এসে ঝরে পড়ছে। আবার অনেক সময় ভয়ে পড়াশোনা থেকে অনেকেই দূরে সরে যাচ্ছে। শুধু পরীক্ষায় খারাপ করলেই পড়াশোনা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা দূরে সরে যায় তাও সঠিক না। আমি অনেক সময়ে দেখেছি একজন ছাত্র চিন্তা করে দেখল তাকে দিয়ে পড়াশোনা হবে না। তখন সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। যা খুবই দুঃখজনক। 

আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, স্কুলে যে সব শিক্ষার্থী ঠিক মতো পড়াশোনা করে না। মনোযোগ নেই। তারাই শেষ পর্যন্ত ছিটকে যায়। একবার যদি কেউ ছিটকে যায় তাকে ফিরিয়ে আনাটাও খুব কঠিন। 

তবে বর্তমান এডুকেশন সিস্টেমটা মাত্র শুরু হলো। ধীরে ধীরে এটার ভালো-খারাপ দিক বেরিয়ে আসবে। খারাপ দিকগুলো ডেভেলপ করতে হলে যা যা করা দরকার আশা করি সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। তবে এখনো এই সিস্টেমটিকে নিয়ে কথা বলার সময় হয়নি। 

এবার একধাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে আসি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেখা যায় নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর পড়াশোনা করায়। এমনটা কেন হয়? যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বহু বিষয়ের উপর ডিগ্রি দিচ্ছে। 

প্রথম কথা হচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বয়স কত? বিশ বছরও হয়নি বলতে গেলে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ৯০ বছর। তারা তো একসঙ্গে এতোগুলো বিষয়ের উপর ডিগ্রি চালু করেনি। ধীরে ধীরে এগিয়েছে। 

এছাড়াও মনে রাখা উচিত যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের কোনো সহযোগিতা পায় না। নিজস্ব অর্থায়নেই আমাদের চলতে হয়। আবার সরকার এখন সবাইকে বাধ্য করছে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মার্ণের জন্য। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জমি কিনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। 

আশা ইউনিভার্সিটি কী নিজস্ব জমি কিনেছে? 

আশা ইউনিভার্সিটি আশুলিয়াতে জমি কিনেছে। সাড়ে ছয় বিঘা জমির উপর হবে আশা ইউনিভার্সিটি। সেখানে আমরা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করবো। যদিও বর্তমানের শ্যামলীর ক্যাম্পাসটিও থাকবে। কারণ ইভিনিং কোর্সগুলো শিক্ষার্থীরা আশুলিয়া গিয়ে করতে পারবে না। যারা চাকরি করার পাশাপাশি এমবিএ করে; তাদের জন্য এটা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। তাদের কথা চিন্তা করেই শ্যামলীর ক্যাম্পাসটি আমরা রেখে দিবো। স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রামগুলো স্থায়ী ক্যাম্পাসেই হবে। আমরা ছাত্রদের জন্য আলাদা হোস্টেল এবং ছাত্রীদের জন্য আলাদা হোস্টেল তৈরি করবো। আবাসিক সব সুযোগ সুবিধা আশা ইউনিভার্সিটি দেবে।   

আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য। আশা ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে কিছু বলুন। 
আশা ইউনিভার্সিটি চেষ্টা করে শিক্ষার মান ধরে রাখতে। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। আমাদের ১শ জন স্থায়ী শিক্ষক আছে। যেটা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহজে দেখা যায় না। আমরা ২০০৭ সালের মে মাসে তিনটি বিভাগ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। আপনি শুনলে আবাক হবেন প্রথম সেমিস্টারেই আমরা ৭৭১ জন শিক্ষার্থী পাই। অন্যদিকে এখন আমাদের ছয়টি বিভাগ। এটা একটা ইতিহাস। আমার জানা মতে এমন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে প্রথম ব্যাচেই এতজন শিক্ষার্থী পেয়েছে। এজন্য অবশ্য ‘আশা’-কে ধন্যবাদ দিতে হয়। আপনি জানেন ‘আশা’ অনেক নামকরা এনজিও। সমাজে তাদের একটি সুনাম আছে। সে পথ ধরেই আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন। 

আমরা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকি। এ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটি টাকা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আপনি কখনো শুনেছেন, টিউশন ফি কমাতে? আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কী তাদের টিউশন ফি কমিয়েছে? কিন্তু আশা ইউনিভার্সিটি সেই নজির তৈরি করেছে। আমরা দুটি প্রোগ্রেমের ফি কমিয়ে দিয়েছি। আমরা যখনই টিউশন ফি কমিয়ে দিলাম তখনই উক্ত বিষয়ে সাইত্রিশ জন শিক্ষার্থী পেলাম। সুতরাং আশা ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে এমন অভিযোগ ধপে টিকবে না।  

এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। আপনার দৃষ্টিতে একজন ছাত্রের জীবন কেমন হওয়া উচিত? 

শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না। প্রতিটি ছাত্রকে আলোকিত মানুষ হতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত হাজার ছাত্র-ছাত্রী বের হয়েছে। সবাই কী আলোকিত মানুষ হতে পেরেছে? অবশ্যই হতে পারেনি। যদি সবাই আলোকিত মানুষ হতো তাহলে তো দেশের আজ এই পরিস্থিতি হতো না। তবে খুব যে হতাশাব্যঞ্জক তাও না। শিক্ষা যদি আমাদের জাতি না পেত তবে তো ক্ষুদ্র উন্নতির ছোঁয়া পাওয়াও সম্ভব হতো না। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ভালো-খারাপ যাইহোক; শিক্ষার তো বিকল্প নেই। শিক্ষা তো জাতির মেরুদন্ড। এটার উপর ভর করেই যতটুকু এগিয়ে যাওয়া যায়।  

তাহলে শিক্ষা আলোকিত হওয়ার জায়গা তৈরি করতে পারছে না? 

আমি কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছি। শিক্ষা মানেই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় না। শিক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার। পরিবারগুলো এখন দূর্বল হয়ে গেছে। ছোটবেলায় দেখতাম, ছোটরা বড়দের কথা শুনতো। এখনতো সেটা দেখা যায় না। সবাই এখন নিজের মত করেই চলতে চায়। পারিবারিক সিস্টেমটি দূর্বল হয়ে পড়েছে। 

এছাড়াও রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যেও অনেক পরিবর্তন আনা দরকার। রাজনীতিতে সুবিধাবাদিদের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। যখন একজন ছাত্র দেখবে রাজনীতিতে গেলে অন্যপন্থায় সুবিধা পাওয়া যাবে; তখন তো স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনার প্রতি সবার আগ্রহ কমে যাবে। তাই এই সুবিধাবাদি দর্শন বন্ধ করতে হবে।  

শেষ প্রশ্ন, আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে আপনি কী কোনো সম্ভাবনা দেখতে পান? 

আমাদের দেশের উন্নতির জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই আমাদের দেশে আছে। আমাদের নতুনদের মধ্যে সব শক্তি আমি দেখতে পাই। অনেকে বলে আমাদের জনসংখ্যা হলো প্রধান সমস্যা। কিন্তু আমার কাছে এটা জনশক্তি। সমস্যা হিসেবে নয়; জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে মনোনিবেশ করা উচিত। সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের সব কিছুই আছে। শুধু দরকার নেতৃত্ব। আমাদের মহাথীর মোহাম্মদ দরকার। তার মতো একজন নেতা দরকার। একজন সৎ নেতা আমাদের দেশটাকে পাল্টে দিতে পারবে বলে আমি মনে করি। নতুনদের মধ্যেই হয়ত লুকিয়ে আছে মাহাথীর মোহাম্মদ। 
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের একটি। সারাদেশে বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন চরম লোডশেডিংয়ের ভুক্তভোগী। বিশেষ করে ঢাকায় অবস্থিত নতুন আবাসিক এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের পরিমান একটু বেশিই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  দেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করা হবে। আর এ জন্য তিনি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার কথা চিন্তা করে আর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি শদ্ধা রেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে গবেষণা শুরু করি। বায়ুগতিবিদ্যা, ইলেকট্রিক্যাল, ম্যাকানিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স বিয়য়ে অনেক গবেষণার পর আমি দেশিয় পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি। যেটি এখন আমি পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করছি।

আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিদ্যুৎ শক্তি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। যেখানে থেকে আমি জানতে পারলাম উন্নত দেশে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো খুবই ব্যয়বহুল এবং সেগুলো ব্যবহার করে ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত বিদুৎ সরবরাহ করা যাবে না। ঢাকার অধিকাংশ ভবন-ই জনাকীর্ণ এবং তলা অনুযায়ী ছোট ছাদ বিশিষ্ট। সাধারণত জায়গা সংকটের কথা মাথায় রেখে ভবনগুলো নকশা করা হয়।

যদি আমরা কোনও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদের পুরো অংশটা সোলার প্যানেল বা সোলার বোর্ড বসাই তাহলেতা দিয়ে প্রত্যোকটি ফ্লাটে একটি লাইট এবং একটি ফ্যান চালানো সম্ভব হবে। যেটা বহুতল বিশিষ্ট ভবনের জন্য উপযোগী নাও যেতেপারে। এ পদ্ধতি সূর্যের তাপের প্রখরতার ওপর এবং মেঘলা অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমার বায়ু চালিত পাওয়ারজেনারেটর দিয়ে একটি বহুতল ভবনের বিদ্যুৎ সমস্যা মেটানো সম্ভব। যদি জেনারেটরটি ভবনের বাইরে কোনও উপযুক্ত জায়গায় ব্যবহার করা যায়।

বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যার কথা মাথাই রেখেই আমি বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যএ বিষয়ে গবেষণা শুরু করি।

আমার গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা শহরে যে বায়ু বিদ্যুৎ যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলোর অধিকাংশই পর্যাপ্ত বাতাস পায় না এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্ হয়। শহরের এই বিষয়টিই বায়ু বিদ্যুৎ সরবরাহের সবচেয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সৌভাগ্যক্রমে আমি আমার গবেষণায় শহরের এই অল্প বায়ু ব্যবহার করেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের উপায় বের করতে সক্ষম হয়েছি। যেটি আমার গবেষণায় কাজ করছে।

এখন আমার বাসার বারান্দা থেকে কয়েক ফুট দূরে একটি মেশিন বসিয়েছি। যেটির অল্প বাতাসে চলতে সক্ষম এবং আমি ২৪ ঘণ্টাই নূন্যতম ঘণ্টা ১ কি.মি গতিতে বাতাস পাচ্ছি।

এ যন্ত্রটি ব্যবহার করে আমি আমার রুমে আলো জ্বালানোর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যা দিয়ে আমি একটি ফ্যানও চালাচ্ছি।

হিসাব করে দেখা গেছে, যদি একটি ছোট বায়ু বিদ্যুৎ মেশিন ভবনের ছাদে স্থাপন করা যায় যেখানে দিনের ১৮ ঘণ্টাই ১ কি. মি. বেগে বাতাস পাওয়া যাবে তবে তা দিয়ে দুই হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

যেহেতু পরীক্ষামূলকভাবে আমি আমার বারান্দায় এ যন্ত্রটি স্থাপন করেছি সেহেতু আমি সর্বক্ষণপর্যবেক্ষণ করতে পারছিযা আমার গবেষণার জন্য খুবই দরকার।

আমি একটি বিশেষ ফ্যান উদ্ভাবন করেছি যেটি আমার কক্ষের পাওয়ার সার্কিটের ডিসি বা এসি ব্যাটারির  দিয়ে চালানো সম্ভব।

আমার উদ্ভাবিত এ বিশেষ ধরনের ফ্যানের কিছু সুবিধা রয়েছে। তা হলো-

১. এই ফ্যানটি চালাতে মাত্র ১৮-২৪ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় এবং সাধারণ ফ্যানের মতোই বাতাসহয়। বিখ্যাত ব্রান্ডের ফ্যান চালাতে কমপক্ষে ৮৬ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এখানে আমার উল্লেখ করা প্রয়োজন হবে না যে, এটাই একমাত্র সস্তা ফ্যান।

২. আমার উদ্ভাবিত লাইট জ্বালাতে মাত্র ৭ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং কক্ষে সাধারণ লাইটের মতোই আলো সরবরাহ করে।

আমার এই প্রজেক্টরে সুবিধা হলো:

যদি আমি আমর এই প্রকল্প ব্যবহার করি তবে একটি লাইট ও একটি ফ্যান চলাতে খরচ হবে মাত্র ২৪+৭=৩১ ওয়াট বিদ্যুৎ। যেখানে সাধারণ বাজারের লাইট বা ফ্যান ব্যবহার কররে খরচ হবে ৮৬+৬০= ১৪৬ ওয়াট বিদ্যুৎ। সুতরাং আমার এখানে ১৪৬-৩১= ১১৫ ওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। অন্যদিকে যদি আমি আমার উদ্ভাবিত জেনারেটর ব্যবহার করি তবে আমাকে কোনও বিদ্যুৎ বিল বহন করতে হবে না।

ছোট কক্ষের সঙ্গে স্থাপন করে যদি আমরা এ পদ্ধতি সারা দেশে ব্যবহার করি তবে আমরা কি কল্পনা করতে পারি যে কত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে?  আমাদের দেশের ৪০-৩০ শতাংশ মানুষ শুধুমাত্র লাইট এবং ফ্যান ব্যবহার করে।

এখন মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালে এই প্রযুক্তি পৌঁছানো এবং রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখে আমার সমস্ত প্রকল্পটির নকশা করছি।

সর্বশেষে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আশা করছি যে এ প্রকল্পটি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে। আমি আমার দেশের জন্য কিছু করতে চাই এবং আমার দেশের মানুষকে উৎসাহ দিতে চাই যাতে তারা নিজেদের প্রচেষ্টা, আরাধনা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারে।

এই কাজটি করতে কয়েকজন দেশপ্রেমিকআমাকে উৎসাহ যুগিয়ে ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের পথে নিয়ে এসেছেন। তাদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের নাম আমি কোনও এক সময় প্রকাশ করবো।
শাহরিয়ার হোসেন, প্রকৌশলী, এএমআইই (বুয়েট)।
Copyright © 2013 MEDIA INFO