Showing posts with label Business Trips. Show all posts
সন্তান যখন পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তখন অনেক অভিভাবকই সন্তানের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করার ভয় দেখান। আবার যখন কোন প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী সহসাই কর্মক্ষেত্রে খারাপ পারফরমেন্স দেখাতে শুরু করেন তখন অফিসের পরিচালক মনে করেন ঐ কর্মীর বেতন বাড়িয়ে দেওয়টাই বুঝি যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ হবে।

উপরে উল্লেখিত দুটি পদ্ধতির কোনটিই সুদীর্ঘ সময়ের জন্য কাউকে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে না। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে লেখা-পড়ায় মনোঃনিবেশ করাতে ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে শাস্তি দেয়ার চাইতে বরং একজন ভাল শিক্ষকের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। অফিসে কর্তাব্যক্তি হিসেবে আপনিও কর্মীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে পারেন।

কেন আপনার কর্মী ভালো কাজ করার উৎসাহ হারাচ্ছে তা খুঁজে বের করুন
 কাজের প্রতি হারিয়ে যাওয়া উৎসাহ আবার ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে মানসিকতা পরিবর্তনের কারণ খুঁজে বের করা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে আপনার কর্মী অলসতাবশত কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন,কিন্তু এর পেছনে মনস্তাত্বিক কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন:

উদ্দেশ্যহীনতায় ভোগা- আপনার টিমের সদস্যরা যদি কোম্পানির লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত না থাকেন তবে তাঁরা কাজের মান নিয়ে অবহেলা করতে থাকবেন। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পরিবর্তন সম্পর্কে কর্মীদেরকে অবহিত করে দিন। একটি মিশন শেষ হলে আরেকটি মিশন নির্ধারণ করুন। কোম্পানির বর্তমান অবস্থান এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে আপনারা কাজে নেমেছেন তা সম্পর্কে সবসময় খোলা-মেলা আলোচনা করুন।

কাজের উপর কতৃত্ব হ্রাস পাওয়া- গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিজের কাজের উপর কিছুটা হলেও নিয়ণ্ত্রণ পেলে কর্মীরা কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেবল বসের কথায় উঠতে-বসতে হলে অনেকেরই কাজের প্রতি অনিহা জন্মে। কর্মীদেরকে তাদের নিজেদের মত করে কাজ করার স্বাধীনতা দিন।

ব্যক্তিগত সমস্যা- একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে কোন সমস্যা ঘটলে তা অবশ্যই কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্মজীবন এবং ব্যক্তিজীবন দুটোই পরস্পরের সাথে নিদারূণভাবে সম্পর্কিত। কর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের সমস্যা সম্পর্কে নিজেকে অবহিত রাখুন এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করুন।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিন
একটি টাইমলাইন তৈরি করুন- ঠিক কতটা সময়ের মধ্যে আপনি একটি কাজ শেষ করতে চান তা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে দিন। কোন কাজ শেষ করার জন্য অনির্দিষ্টকাল সময় বেঁধে দিলে তা কখনও শেষ হবে না।

লক্ষ্য অর্জনে কতটুকু অগ্রগতি সাধন হয়েছে তা সবাইকে জানান- এক্ষেত্র আপনি চার্ট বা হোয়াইট বোর্ডের সাহায্য নিতে পারেন। আপনাদের প্রতিষ্ঠান যে দিন দিন উন্নতি লাভ করছে তার একটি নিদর্শন চার্টে এঁকে তা প্রদশর্ন করতে পারেন। এটি নিঃসন্দেহে সবার মনোবল বৃ্দ্ধি করবে এবং পরবর্তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

কাজ সম্পর্কে সঠিক মন্তব্য করুন
প্রত্যেক কর্মীই তার কাজ সম্পর্কে সৎ এবং সঠিক মন্তব্য পাওয়ার দাবি রাখেন। প্রশংসা যেমন ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেয়, তেমনি সমালোচনাও আমাদেরকে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এরকম মন্তব্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে কর্মী এবং কর্তাব্যক্তির মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সাফল্যের স্বীকৃ্তি দিন- যেকোন ধরণের ভালো কাজের জন্য আপনার টিমকে বাহবা দিন। এর ফলে তারা সবসময় আরও বেশি ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবেন। তাছাড়াও এধরনের বাহবা কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দ্বায়িত্বশীলতা সৃষ্টি করে।

আন্তরিকতা নিয়ে প্রশংসা করুন- কখনই দায়সারা ভাবে কারও প্রশংসা করবেন না। কেউ যদি সত্যিই কোন ভাল কাজ করে থাকেন তবে আন্তরিকতা নিয়ে তাকে কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান।

কর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করুন- প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিশ্রমের মূল্য দিন। ভালো কাজের জন্য নানাভাবে তাদেরকে আপনি পুরস্কৃ্ত করতে পারেন। বেতন বাড়িয়ে, ছুটি মঞ্জুর করে বা বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে আপনি তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেন। ফলে কর্মীদের মাঝে বার্তা পৌঁছে যাবে যে আপনি সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত দেখতে চান।

সব কথার শেষকথা এই যে, আপনি যদি কোন কর্মীর কর্মউদ্দীপনায় ঘাটতি দেখতে পান, তবে শুরুতেই ভেবে বসবেন না যে তিনি অলসতা বা অসাবধানতার বশে কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন। সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করুন এবং সেই অনুযায়ী উদ্দেশ্য/লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিন। প্রশংসা এবং উৎসাহ যোগানোর মাধ্যমে একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করুন। এভাবে আপনি আনায়াসেই গড়ে তুলতে পারবেন একটি দারূণ কর্মচঞ্চল টিম যারা কিনা নানারকম প্রতিকূলতা সামলে আপনার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যাবে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে।

- See more at: http://finance.priyo.com/node/9967#sthash.6eYsXGzQ.dpuf
শুধু জিনিয়াসরাই নিজের মত করে কাজ করতে পারে। আর যারা জিনিয়াস না তারা অন্যকে অনুসরণ করে। এখন আপনিই ভাবুন কোনটা বেছে নিবেন।


  •  আপনি কি জানতে চান আপনি চলে যাওয়ার পর সবাই আপনাকে কতটুকু মিস করবে? এক গ্লাস পানিতে আঙ্গুল ডুবান। তারপর আঙ্গুল উঠিয়ে ফেলুন। আপনার আঙ্গুলের দ্বারা যে শূণ্য স্থান তৈরি হয়েছিল তা মুহুর্তেই পূর্ণ হয়ে যাবে। পানির শূণ্যস্থান পূর্ণ হতে যে পরিমাণ সময় লেগেছে আপনার শূণ্যতাও সেই পরিমাণই থাকবে।
  •  আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কখনোই কাজে লাগাই না। যদিও আমাদের কর্মক্ষমতা সীমিত, আমরা এই সীমিত ক্ষমতাকেই কাজে রূপ দেই না।
  •  আপনি নেতৃত্বে না আসলে পরিবর্তন কখনোই সম্ভব না। যদি অন্য মানুষকে অনুসরণ করে চলেন তবে আপনার পক্ষে সর্বোচ্চ অন্য কারও মত হওয়া সম্ভব। এর চেয়ে বেশি কিংবা এর চেয়ে ভিন্ন হওয়া সম্ভব না।
  •  দুই কারনে মানুষ ব্যথা পায়। এক, নিয়ম মেনে চলতে গেলে মানুষ ব্যথা পায়। দুই, নিজের ভুলের জন্য কিংবা অনিয়মের জন্য মানুষ ব্যথা পায়। মনে রাখবেন, নিয়ম মেনে চললে আপনি হয়তো এক আউন্স পরিমাণ ব্যথা পাবেন আর নিয়ম মেনে না চললে আপনি এক টন পরিমাণ ব্যথা পাবেন। 
  • স্থূলকায়, মাতাল ও নির্বোধ লোক জীবনে কিছুই করতে পারে না। 
  • ভীরু কাপুরুষ মরে হাজার হাজার বার, কিন্তু সাহসী বীর মরে মাত্র একবার। 
  • আজকের ব্যথাই আগামীদিনের শক্তি। আজকে যত বেশি ব্যথা পাবেন আগামীকাল তত বেশি শক্তিশালী হবেন।
  •  ভয়কে জয় করতে পারার নামই সাহসিকতা।
  •  হয় কাজটি করুন, না হয় কাজটি ছেড়ে দিন। চেষ্টা করছি কখনোই বলা যাবে না। 
  • সময় হবে তারপর কাজ করবেন এমনটা কখনোই করা যাবে না। বার বার কাজ করার পর একদিন হয়তো সাফল্যের সেই কাংক্ষিত সময় আপনার কাছে ধরা দিবে। 
  • বিরক্তিভাব হচ্ছে বিষপানের মত, যা একদিন আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবে।
  •  জনহীন পতিত জমির মত সামনে বিশাল পথ। এ পথ পাড়ি দিতে হবে একা।
  •  অধ্যবসায়ী কোন দিন ব্যর্থ হয় না।

  •  - See more at: http://finance.priyo.com/node/10067#sthash.GD2uq2Dy.dpuf
বেশির ভাগ ব্যবসায়ীই তাদের ব্যবসা শুরু করে অল্প পুঁজি নিয়ে। পৃথিবীর বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো এদের বেশির ভাগই শুরু হয়েছিল অল্প পুঁজি নিয়ে। এদের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান সফল হয়েছে তাদের নামই আমরা শুনতে পাই। যেসব প্রতিষ্ঠান সফল হতে পারে নি তাদের নাম আমরা শুনতে পাই না। তবে নিশ্চয়ই আমরা অনুমান করতে পারি যে, যারা সফল তাদের কাজের ধরণ আর যারা ব্যর্থ তাদের কাজের ধরণ এক ছিলো না। এখন আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলবো যেগুলো সফল ব্যাক্তিরা তাদের ব্যবসা শুরু করার সময় অনুসরণ করতেন।

যারা স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরুর চিন্তা করছেন তারা যদি এ বিষয়গুলো মেনে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন তবে তাদের দ্বারা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

অন্যের কথায় ভয় পাওয়া যাবে না
অনেকেই খুব সহজে বলে থাকে তুমি যা করছো তা ঠিকমতো হচ্ছে না, তোমার এখন অন্য কিছু শুরু করা উচিত। এরকম কথা বলা খুবই সহজ। যদি আপনি এসব কথায় প্রভাবিত হোন তাহলে ভাববেন বিষাক্ত কোন ঔষধ গেলা আরম্ভ করছেন। আপনি যদি এরকম কথায় প্রভাবিত হয়ে থাকেন তবে এখনই এ প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসুন। নিজের মত করে আপনার প্রতিষ্ঠানকে চালিয়ে নিয়ে যান। আপনার নিজের কাছে যখন মনে হবে আর চালিয়ে নেয়া সম্ভব না ঠিক তখনই থামেন। অন্যের কথায় কখনো আপনার প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা যাবে না।

মিতব্যায়ী হোন
কাস্টমার নিয়মিত আসা শুরু করার আগে জাঁকজমক অফিস নির্মানের কোন প্রয়োজন নেই। যদিও বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই এ ভুলটা করে থাকে। প্রথমেই সুন্দর ও আকর্ষনীয় অফিস দিয়ে কাস্টমারদের আকর্ষনের চেষ্টা করেন অনেকেই। তবে শুরুতেই এটা করতে যাওয়া এক ধরণের বোকামি। একইভাবে প্রথমেই উচ্চ প্রযুক্তির কম্পিউটার বা সফটওয়্যার এর কোন প্রয়োজন নেই। কারণ এর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন যা একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার পক্ষে ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

উৎসাহ ধরে রাখুন
উৎসাহ ধরে রাখা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। শুরুর দিকে উৎসাহ ধরে রাখা আরও বেশি কঠিন কাজ। শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের হতাশা চলে আসে। ব্যর্থতা মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়। সামান্য ব্যর্থ হলেই কাজ বন্ধ করে দেয় অনেকেই। এরকম কখনোই করা যাবে। সাফল্য আসার আগ পর্যন্ত নিজের উৎসাহ উদ্দীপনা ধরে রাখতে হবে।

আপনার টিমের ব্যাপারে সচেতন থাকুন
মনে রাখবেন আপনার টিম আপনাকে সাফল্য এনে দিতে পারে আবার ব্যর্থতাও এনে দিতে পারে। একা একা কখনোই কোন প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো সম্ভব নয়। আপনি যে কোন সফল উদ্যোক্তাকে যদি প্রশ্ন করেন, আপনার সফলতার রহস্য কি? তিনি একবাক্যে উত্তর দিবেন, আমার টিমের কারণে আমি সফল। সুতরাং টিমের দিকে আপনাকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। টিম যদি সর্বোচ্চ ত্যাগ করে আপনার জন্য কাজ করে তবেই আপনি সফল, আর যদি তা না করে তবে আপনি ব্যর্থ।
- See more at: http://finance.priyo.com/node/10148#sthash.GNP49Lzg.dpuf
‘ব্যক্তি’ এবং ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনগত সত্ত্বা। ‘ব্যক্তি’ যখন ব্যক্তি হিসেবে ব্যবসা করে তখন তার থাকে এক ধরনের সত্ত্বা। আবার একই ব্যক্তি যখন একটি ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে’ সম্পৃক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে তখন তার ভিন্ন আইনগত সত্ত্বা ও অবস্থান তৈরী হয়।

এটাই আইন এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি ব্যবসায়ীক রীতি।

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের সকল বিধিবদ্ধ আইন ও রীতিনীতি অনুসরন করা, কোম্পানী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করা, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিকট কোম্পানীর প্রকৃত ও সত্য তথ্য প্রকাশ করে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা অনুধাবন করতে সহায়তা করা ইত্যাদি কর্পোরেট গর্ভনেন্স নীতিমালার অংশ।

কোম্পানী পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদে এক বা একাথিক স্বাধীন পরিচালক প্রতিনিধির অংশগ্রহন নিশ্চিত করা এ নীতিমালার অংশ। নিয়মিত বোর্ড সভা ও বার্ষিক সাধারন সভা আয়োজন, কোম্পানীর বোর্ড ও সাধারন পরিষদের সভাকে এর সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র বিন্দু বানানোর বিষয়ে এই নীতিমালা সহায়তা করে।

সকল পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কোম্পানী পরিচালনার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের একক ও খামখেয়ালীপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ন্ত্রিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

আমাদের দেশে প্রায় ৭০ হাজারের বেশী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী গঠিত ও পরিচালিত হলেও সেসকল প্রতিষ্ঠানসমূহে গড়ে উঠেনি বিশ্বমানের কর্পোরেট কালচার। পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী হয়েও কখনো কখনো এসকল কোম্পানীর বোর্ড/পরিচালনা পর্ষদ প্রাইভেট বা ব্যক্তিগত কোম্পানীর বা একক মালিকানা প্রতিষ্ঠানের মত আচরণ করে।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীসমূহ মালিকের একক ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় পরিচালিত হলেও ষ্টক মার্কেটে শেয়ার ইস্যূ করে লক্ষ-লক্ষ শেয়ারহোল্ডোরের নিকট থেকে সংগৃহীত টাকায় পরিচালিত পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীসমূহেও যথাযথ কর্পোরেট কালচারের অভাব রয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

ফলে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের টাকায় ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করার কথা তা মালিকপক্ষ পালন করেনা। ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। কখনো কখনো বঞ্চিত হচ্ছে টাকা লগ্নিকারী ব্যাংকও।

এ সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় হচ্ছে- কর্পোরেট গর্ভনেন্স নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরন করা। এর ফলে ব্যক্তি ও কোম্পানী যথাযথভাবে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করতে পারবে এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থও সংরক্ষিত হবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীসমূহ প্রতি অর্থ বছরে কর্পোরেট গর্ভনেন্স নীতিমালা কিভাবে অনুুসরন করেছে তা বছরান্তে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করবে যাতে শেয়ারহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ তা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করতে পারে।

কিন্তু খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের অনেক পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী রয়েছে যাদের ষ্টক মার্কেটে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী থাকলেও এগুলো এখনো পরিচালিত হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন মুদি দোকানের মত।

সেখানে নেই কোন কর্পোরেট কালচার, নেই কোন কর্পোরেট ষ্ট্রাকচার। মালিক যা বলেন তাই হয়। অনেক বিধিবদ্ধ পদে নেই জনবলও। মালিকের ইচ্ছেয় একই ব্যক্তিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বশীল হিসাবে কর্তৃপক্ষকে দেখানো হয়।

কখনো কখনো কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় নিজের সন্তান বা আত্মীয় স্বজনকেই। কর্মকর্তাদের কারোরই থাকেনা স্বাধীন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাও। উপরন্তু স্বাধীন মত প্রকাশের দুঃসাহস দেখালে চাকরী খোয়াতে হয়।

এ সকল কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদের অবস্থা আরো শোচনীয়। একই পরিবারের স্বামী,স্ত্রী, সন্তান বোর্ডের সদস্য। নিরপেক্ষ পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় নিজের পছন্দমত, তিনিও মালিকের কথায় থাকেন নীরব, নিশ্চুপ। এদের নিয়মিত বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়না। মালিক একক সিদ্ধান্তে কোম্পানী পরিচালনা করে থাকেন।

যদি বোর্ডসভার কার্যবিবরণীর প্রয়োজন হয় তবে কার্যবিবরনী প্রস্তুত করে সকলের নিকট পাঠিয়ে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। কোন কোন পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর মালিক, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারাবছর সপরিবারে বিদেশে অবস্থান করেন। দেশে নিয়োগ দেয়া কয়েকজন কর্মকর্তা পুরো বিষয়টিকে সামলান।

বোর্ড সভাতো বাদই দিলাম, এসকল কোম্পানী বার্ষিক সাধারন সভারও আয়োজন করেনা। বার্ষিক হিসাব বিবরণী তৈরী করে ইচ্ছেমত। কোন বছর লাভ দেখান তো, কোন বছর লোকসান।

সামান্য কিছু সংখ্যক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বিতরণ করেন, কিন্তু কমিশনকে রিপোর্ট দেয় সকল শেয়ারহোল্ডারকেই পাঠানো হয়েছে -ইত্যাদি। কমিশন বা ষ্টক এক্সচেঞ্জ প্রতি বছর তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করে আর এর মালিকরা ৫-১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যায়। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

এসকল কোম্পানীর ষ্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভূক্তিও বাতিল হয়না। কমিশন কোন পদক্ষেপ নিলে এরা দ্বারস্থ হয় মাননীয় আদালতের, স্থগিতাদেশ নেয় ও সময় অতিবাহিত করে। দেশের একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা মিলেই যেহেতু এদের সাথে পেরে উঠেনা, সেহেতু এদের দ্বারা কোম্পানীর লক্ষ লক্ষ শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থ কতটা সংরক্ষিত হয় তা সহজেই অনুমেয়।

তবে এটা আশার কথা এই যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের সার্বক্ষণিক জোরালো মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রনের কারনে দেশের ব্যাংকসমূহ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ও গুটিকতক বহুজাতিক কোম্পানী কর্পোরেট গর্ভনেন্স এর নীতিমালা অনুসরণ করছে।

ধাপে ধাপে অন্যান্য খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ এই নীতিমালার আওতায় আসবে বলে সকলে বিশ্বাস করে।

দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে কর্পোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ষ্টক মার্কেটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংক্ষেপে ‘কমিশন’) গত ০৭ আগষ্ট, ২০১২ইং তারিখে নোটিফিকেশন No. SEC/CMRRCD/2006-158/134/Admin/44-এর ইস্যূর মাধ্যমে কর্পোরেট গভর্নেন্স নীতিমালা বিষয়ক ইতিপূর্বেকার গত ২০-০৬-২০০৬ইং তারিখে ইস্যূকৃত নোটিফিকেশন বাতিল করে সংশোধিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।

ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ ও চট্টগ্রাম ষ্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ -উভয় ষ্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভূক্ত (পাবলিকলি ট্রেডেড) সকল কোম্পানীসমূহকে এই গাইডলাইন/নীতিমালা অনুসরন করতে হবে।

উক্ত কর্পোরেট গর্ভনেন্স গাইডলাইন অনুযায়ী পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীসমূহকে তাদের ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নি¤œলিখিত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। যথা- কোম্পানীর পরিচালনা পষর্দের (বোর্ড) আকার প্রতিটি পাবলিককি ট্রেডেড কোম্পানীর বোর্ডের পরিচালক সংখ্যা হবে সর্বনিম্ন ৫(পাঁচ)জন এবং সর্বোচ্চ ২০(বিশ) জন।

তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্সুরেন্স কোম্পানী বা বিশেষায়িত খাতের কোম্পানীসমূহকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইন মেনে পরিচালনা পর্ষদের আকার নির্ধারণ করতে হবে। স্বাধীন (ইনডিপেন্ডেন্ট) পরিচালক নিয়োগ প্রদানপ্রতিটি পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীসমূহকে এক বা একাধিক স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে নীচের নীতিগুলেঅ অনুসরন করতে হবে-

ক. কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদে কমপক্ষে ২০%(এক পঞ্চমাংশ) স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে ;

খ. স্বাধীন পরিচালক বলতে এমন পরিচালককে বোঝাবে যিনি কোন শেয়ারের মালিক নয় অথবা কোম্পানীর ১% এর কম শেয়ারের মালিক হবেন ;

গ. স্বাধীন পরিচালকবৃন্দ কোম্পানীর ষ্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হবেন না এবং পরিবারভূক্ত কেউ যিনি ১% বা বেশী শেয়ার ধারন করে এমন পরিচালকদের সাথেও সম্পৃক্ত হবেন না ;

ঘ. কোম্পানীর সাথে নিরপেক্ষ পরিচালকদের অন্য কোন কোনরূপ সম্পৃক্ততা থাকবে না ;

ঙ. যিনি কোন ষ্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য, পরিচালক বা কর্মকর্তা নয়

চ. যিনি ষ্টক এক্সচেঞ্জের বা ক্যাপিটাল মার্কেটের কোন সদস্যের কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক বা কর্মকর্তা নয়

ছ. যিনি কোম্পানীর বিগত ৩ বছরের বিধিবদ্ধ অডিটর ফার্মের অংশীদার বা কর্মকর্তা ছিলেন না

জ. যিনি ৩(তিন)টির বেশী তালিকাভূক্ত কোম্পানীর নিরপেক্ষ পরিচালক হবেন না

ঝ. যিনি ঋণ খেলাপীর কারনে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত/সাজা প্রাপ্ত নন

ঞ. যিনি আদালত কর্তৃক অন্য কোন অপরাধে শাষিÍপ্রাপ্ত নন

ট. কোম্পানীর সাধারন সভার অনুমোদনক্রমে বোর্ড এ ধরনের পরিচালক নিয়োগ দিবে

ঠ. স্বাধীন পরিচালকের পদ ৯০(নব্বই) দিনের বেশী শূণ্য থাকবেনা

ড. বোর্ড এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রস্তুত করবে এবং বছরে তার কি কি অনুসরন করা হয়েছে তার রেকর্ড রাখবে

ঢ. স্বাধীন পরিচালকের মেয়াদকাল হবে ৩(তিন) বছর এবং একজনকে সর্বোচ্চ ২(দুই) মেয়াদের বেশী নিয়োগ দেয়া যাবে না -ইত্যাদি।

স্বাধীন পরিচালকের যোগ্যতা স্বাধীন পরিচালককে ব্যবসা সম্পর্কিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে। অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নেতা, ব্যুরোক্র্যাট, অর্থনীতি আইন বা ব্যবসায় প্রশাসনের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সি.এ., চার্টার্ড সেক্রেটারীজ বা কষ্ট ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট পেশার যে কাউকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে, যার স্ব-স্ব ক্ষেত্রে/কর্পোরেট প্রশাসনে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

তবে কমিশনের সুপারিশে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন যে কাউকে নিয়োগ দেয়া যাবে। একই ব্যক্তি চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে পারবে নাপাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী একই ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দিতে পারবে না।

বোর্ড সদস্যদের মধ্য হতে একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে এবং বোর্ড তার কাজের পরিধি ও দায়িত্ব-কর্তব্য সুষ্পষ্টভাবে নির্ধারন করে দেবে।

কোম্পানী তার পরিচালকদের মধ্য হতে অন্য একজনকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দিতে পারেন বা বাইরের কাউকে এই পদে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানী স্ব-স্ব আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিমালা অনুযায়ী উক্ত পদে নিয়োগ দিতে পারেন।

পরিচালকের রিপোর্ট কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ১৮৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী প্রতি বছরান্তে কোম্পানীর সার্বিক অবস্থা উল্লেখপূর্বক একটি ‘পরিচালক রিপোর্ট ’ প্রস্তুত করে বার্ষিক রির্পোটের সাথে শেয়ারহোল্ডারদের নিকট প্রেরণ করবে। কোম্পানীর আয়-ব্যয়, উন্নয়ন, পণ্য ভিত্তিক বিশ্লেষণ, ঝুকি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি এ রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, আভ্যন্তরীন নিরীক্ষার প্রধান ও কোম্পানী সেক্রেটারী নিয়োগপ্রতিটি পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী একজন করে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, আভ্যন্তরীন নিরীক্ষা প্রধান ও কোম্পানী সেক্রেটারী নিয়োগ দিবেন এবং বোর্ড তাদের কাজের পরিধি ও দায়-দায়িত্ব বিস্তারিতভাবে নির্ধারন করে দিবেন।

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও কোম্পানী সেক্রেটারী বোর্ড সভায় উপস্থিত থাকবেনপাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী কর্তক নিয়োগকৃত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও কোম্পানী সেক্রেটারী কোম্পানীর বোর্ড সভাসমূহে উপস্থিত থাকবেন তবে তাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে আলোচনা হতে পারে এমন সভায়/সভার অংশে তারা উপস্থিত না থাকলেও চলবে।

অডিট কমিটি গঠন ও দায়িত্ব পালনপ্রতিটি পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীতে পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সাব-কমিটি হিসাবে একটি অডিট কমিটি কাজ করবে। কোম্পানীর আর্থিক প্রতিবেদন যাতে কোম্পানীর সঠিক চিত্র তুলে ধরে এ লক্ষ্যে অডিট কমিটি বোর্ডকে সহায়তা করবে। এই কমিটি বোর্ডের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং এর কাজের আওতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত থাকবে।

কমপক্ষে ৩(তিন) জন সদস্যের সমন্বয়ে অডিট কমিটি গঠিত হবে। একাধিক পরিচালক এবং কমপক্ষে ১জন স্বাধীন পরিচালক নিয়ে বোর্ড এই কমিটি গঠণ করবেন। কমিটির সদ্যবৃন্দ কোম্পানীর আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে পারদর্শী হতে হবে এবং কমিটির কমপক্ষে একজন সদস্যকে হিসাব/ফিন্যান্স ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী/অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে।

কোম্পানী সেক্রেটারী উক্ত কমিটির সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। উক্ত কমিটির সভার কোরাম পূর্ণ হতে হলে কমপক্ষে একজন স্বাধীন পরিচালকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

বোর্ড, স্বাধীন পরিচালকদের মধ্য হতে একজনকে উক্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে নির্ধারন করবেন। এই কমিমিটর চেয়ারম্যান কোম্পানীর সাধারন সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন। বহিঃ নিরীক্ষককে আভ্যন্তরীন কাজে নিয়োগ না করাকোম্পানী আইনের ধারা অনুযায়ী যে বহিঃ নিরীক্ষককে কোম্পানীর হিসাব প্রতিবেদন নিরীক্ষার জন্য নিয়োগ দেয়া হবে তাকে এর আভ্যন্তরীন সম্পদ মূল্যায়ন, ব্রোকার-ডিলার সেবা প্রদান, এ্যাকচুয়ারী সেবা প্রদান, আর্থিক কাঠামো উন্নয়ন, হিসাব সংরক্ষণ, আভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কাজ তদারকী ইত্যাদি কাজে নিয়োগ প্রদান করা যাবেনা ।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার দায়িত্ব-কর্তব্য পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বোর্ডকে নিশ্চিত করবে যে, তারা কোম্পানীর বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছে এবং তাদের বিশ্বাস ও জানামতে উক্ত প্রতিবেদনে কোন মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়নি, বড় ধনের কোন সত্য ঘটনা বাদ দেয়া হয়নি, এসকল প্রতিবেদন কোম্পানীর প্রকৃত তথ্যকে চিত্রায়িত করছে ইত্যাদি।

রিপোর্টিং ও কর্পোরেট গর্ভনেন্স রীতি নীতি অনুসরনকোম্পানীসমূহ, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ইস্যূকৃত কর্পোরেট গর্ভনেন্স নীতিমালার শর্তাবলী কিভাবে বা কতটুকু অনুসরণ করছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রতি বছরান্তে, প্রতিটি পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীকে এ বিষয়ে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট বা চার্টার্ড সেক্রেটারীজ বা কষ্ট ম্যনেজমেন্ট একাউন্টেন্টদের নিকট থেকে একটি ‘কমপ্ল্যায়েন্স সার্টিফিকেট’ গ্রহণ করতে হবে।

এই সার্টিফিকেটের কপি কোম্পানীর বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসাবে প্রতিটি শেয়ারহোল্ডারদের নিকট প্রেরণ করতে হবে। পাশাপাশি কমিশনের নির্ধারিত ফরমেটে পরিচালকবৃন্দ বার্ষিক প্রতিবেদনের সাথে কর্পোরেট গর্ভনেন্সের শর্তাবলী অনুসরণ করার বিস্তারিত বিবরণ/রিপোর্ট শেয়ারহোল্ডারদেরকে প্রেরণ করবেন।

বিগত বছরে কোম্পানীর কতগুলো বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, বোর্ড সভায় পরিচালকদের উপস্থিতি ও ভূমিকার বিবরণ, অডিট কমিটিসহ বিভিন্ন সাব-কমিটির কাজের বিস্তারিত বিবরণ, পরিচালকদের স্বার্থ ও নৈতিকতা সংশ্লিষ্ট তথ্যাদির বিবরণ ইত্যাদি।

সিঙ্গাপুর, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের কর্পোরেট কালচারের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা কর্পোরেট গর্ভনেন্স গাইডলাইন বেশ কয়েক দশক ধরেই যথাযথভাবে অনুসরণ করছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এ বিষয়ে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

ফলে এ সকল দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুব দ্রুত ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণও সম্ভব হয়।

তাদের কোম্পানীগুলো এ কারণে দ্রুত দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আর্ন্তজাতিক বিশ্বে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়।

দেশের স্টক মার্কেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্পোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কর্পোরেট গর্ভনেন্স নীতিমালা অনুসরণ করা একান্ত জরুরী। এর প্রয়োগ যত বাড়বে দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ তত বেশী সমৃদ্ধ হবে এবং তা বিনিয়োগকারীসহ সকল পক্ষসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক মনোভাব ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে কমিশনের নিয়মিত তদারকী ও গঠণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ সুফল এনে দিতে সক্ষম হবে বলে সকলে প্রত্যাশা করেন।
=> বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ছোট লঙ্কার ঝাল বেশি ব্যাপারটা তেমনি। ব্যবসা ছোট হলেই যে, ঝুঁকি কম-ব্যাপারটা আসলে তেমন না। যেকোন পরিসরের ব্যবসাতেই, প্রাথমিক ভাবে প্রত্যেক উদ্যোক্তাই বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন। কিভাবে শুরু করবে, ভবিষ্যৎ কেমন হবে, কোন কাজগুলো ব্যবসার জন্য ভাল হবে ইত্যাদি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আপনার ব্যবসা যদি ছোট হয় তবে আপনার চ্যালেঞ্জটা অন্যদের তুলনায় একটু বেশি।

আপনার যা আছে গ্রাহককে তাই দেওয়ার চেষ্টা করুন:
 আপনার যা আছে তার বেশি কখনো গল্প করা উচিত নয়। এতে গ্রাহকেরা আপনার প্রতি যে চাওয়া তৈরি হবে তা পরবর্তিতে পূরণে ব্যর্থ হলে বিষয়টা অন্য রকম দেখাবে। দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন অল্প মানের ব্যবসায়ীর ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তাই বলে যে আপনি অনেক ছোট তা কখনো ভাববেন না। খুব সাধারণভাবে নিয়মিত পেপার ওয়ার্ক, আইডিয়া, কাজের গতি বাড়িয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হবে।

বিশ্বাস অর্জন আপনার চ্যালেঞ্জ:
 গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করা খুব সহজ কাজ নয়। অথচ ছোট পরিসরের ব্যবসার জন্য এই অর্জনটাই আপনাকে করতে হবে সবার আগে। প্রত্যেক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বা অন্যান্য পলিসি আলাদা হতে পারে কিন্তু গ্রাহককে বিশ্বস্ত করাই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্রাহক তৈরি করা এবং গ্রাহক ধরে রাখার উপর মূলত ব্যবসায়ের ভবিষৎ নির্ভর করে। আর আপনি যেহেতু স্বল্প পরিসরে শুরু করছেন সেক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রাহকই আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সম্পদ আছে দৃশ্যমান নয় তবে তা অর্জন করতে তেমন মূলধনেরও প্রয়োজন হয় না, একজন অল্প মানের ব্যবসায়ীর উচিত সেই সম্পদ অর্থাৎ বিশ্বস্ততা, গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা।

প্রতিষ্ঠানে প্রচুর সময় দিন:
 প্রতিষ্ঠানের ভিতর কর্মীদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। অফিসে অধিক সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। সহকর্মীদের ভেতর সম্প্রীতি গড়ে তোলা, গ্রাহক তার প্রয়োজন এবং অভিযোগের বিষয়টি যেন কোম্পানির সবোর্চ্চ কর্মকর্তাকে বলতে পারে সে সুযোগ তৈরি করা, সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা প্রভৃতি বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন। মনে রাখতে হবে, বর্তমান সময়ে ব্যবসায়ে তারাই বেশী এগিয়ে যাদের তথ্য ভান্ডার বেশী সমৃদ্ধ। এ জন্য প্রতিষ্ঠানে অবাধ যোগাযোগের কর্মক্ষেত্র তৈরি হলে সমসাময়িক তথ্যের সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচিত থাকবে এবং প্রতিযোগিতার বাজারে এগিয়ে থাকবে। দেখবেন আপনার ব্যবসাটি আর ছোট নেই। একদিন খুব বড় হয়ে গেছে।

কোম্পানির একটা নিজস্ব সংস্কৃতি আছে তা ধরে রাখুন: 
 আপনার ব্যবসা ছোট বলে অফিসে কোম্পানি গন্ধ থাকবেনা তা নয়। সবসময় কাজের পাশাপাশি একটা সদ্যজাত কোম্পানির উচিত ‘কোম্পানি কালচার’ গড়ে তোলা। যদি কোন কোম্পানি চিন্তা করে যে তারা গ্রাহককে সর্বোচ্চ সুবিধা দেবে পাশাপাশি কোম্পানিকে আগে তার কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মাঝে মাঝে কোম্পানি তার নিজস্ব কালচার অনুযায়ী অফিস কর্মকান্ডের বাহিরে কর্মকর্তা, কর্মচারী, গ্রাহকদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। এতে গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ বাড়বে।

- See more at: http://finance.priyo.com/node/738#sthash.HrzenGMF.dpuf
সকল উদ্যোক্তাই সফল হতে পারেন না। আবার যারা সফল হন তাঁরাও যে খুব সহজে সফল হয়েছেন- তা নয়। অনেক পরিশ্রম আর মেধার সমন্বয়ে উদ্যোক্তা তার সফলতার পথ খুঁজে নেন। সফল হওয়ার সড়কে নেমে অনেকেই পিছনে পরে যান। অন্য একজন যখন সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছেন তখন কেন কিছু উদ্যোক্তা সফলতার পথে এগুতে পারছেন না? এর রয়েছে কিছু কারন।

লিখিত পরিকল্পনা না থাকা: 
আপনি আসলে কোথায় পৌঁছতে চান তার একটি লিখিত পরিকল্পনা থাকতে হবে। অনেকেই মনে মনে করেন ব্যবসা তো শুরু করেছি দেখি কি হয়। এমন উদাসীন থাকলে উদ্যোক্তা সফল হতে পারে না। একজন উদ্যোক্তা কি করতে চান, কিভাবে করতে চান, কত সময়ের মধ্যে করতে চান, কোথায় পৌঁছতে চান- এই সমস্ত বিষয়গুলো লিখিত আকারে থাকলে পথ খুঁজে নেওয়া সহজ হয়।

সঠিক ব্যবসা মডেল না থাকা: 
একজন নতুন উদ্যোক্তা অবশ্যই পুরাতনের তুলনায় কম জানেন। তাকে নানান বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে শিখতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ কোন সফল উদ্যোক্তাকে অনুসরণ করতে পারেন বা বিশেষ কোন সফল প্রতিষ্ঠানকে তার মডেল হিসেবে বিবেচনা করে এগিয়ে যেতে পারেন। উদ্যোক্তা যে বিজনেস মডেলটি অনুসরণ করছেন তা অনুসরণ করে অন্যরা সফল হয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখুন।

আইডিয়া নয়, দরকার সুযোগ সৃষ্টি: 
বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা তৈরী না হওয়ার কারনে অনেক উদ্যোক্তাই ঝরে পড়েন। দেখা যায় ভালো আইডিয়া কিংবা ভালো পণ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী সফল হতে পারছেন না। ব্যবসায়ে সুযোগ তৈরি হওয়ার একটা ব্যাপার আছে আবার সুযোগ তৈরি করারও একটা ব্যাপার আছে। একজন ভালো উদ্যোক্তা জানেন কিভাবে ব্যবসার সুযোগ তৈরী করে নিতে হবে।

পরিচালনায় ব্যথর্তা: 
পরিচালনায় অপটুতা উদ্যোক্তার ব্যর্থতার কারন হতে পারে। ব্যবসায়িক মনোভাব এবং ব্যবসায়ে পরিপক্বতা অর্জন খুব জরুরী বিষয়। অনেকেরই প্রচুর বিনিয়োগ করার সামর্থ্য আছে কিন্তু তা সঠিকভাবে পরিচালনা করার সামর্থ্য নেই।

তীব্র প্রতিযোগিতা: 
ব্যবসার জগতে ধাবমান আরো অনেক উদ্যোক্তার সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। আর বর্তমান সময়ে এই প্রতিযোগিতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে একজন নতুন উদ্যোক্তাকে প্রথমেই এসে হিমসিম খেতে হয়। এ জন্য মার্কেটিংয়ের আগে একজন উদ্যোক্তার মার্কেটপ্লেস সর্ম্পকে সম্যক ধারণা নিয়ে নিজস্ব মার্কেটিং পলিসি নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মনোবল না থাকাও উদ্যোক্তার অসফলতার কারন।

কৌশলী দৃষ্টিভঙ্গির অভাব:
 ব্যবসায়ে অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হয়। একটি মাত্র সিদ্ধান্তই একটি ব্যবসাকে সর্বোচ্চ সফলতায় নিয়ে যেতে পারে আবার ব্যর্থতায় তলিয়ে করতে পারে। সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ব্যবসায়ে কৌশলী হওয়ার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলী দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে ব্যবসার উন্নতি সম্ভব না।

দরকার স্বপ্নবাজ সহকর্মী: 
উদ্যোক্তার সহকর্মীরা হবেন উদ্যোক্তার মতই স্বপ্নবাজ। আর এজন্যই ব্যবসায়ে সহকর্মী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিজ্ঞ, পরিশ্রমী, সৎ সহযোগি নির্বাচন না করলে ব্যবসা স্থিমিত হয়ে পড়ে। শুধুমাত্র চাকুরীজীবী দিয়ে উদ্যোগ সফল হয় না।

যথেষ্ঠ মার্কেটিং জ্ঞান না থাকা: 
সম্ভাব্য গ্রাহক কারা-বিষয়টি বুঝতে হবে। উদ্যোক্তার যথেষ্ঠ মার্কেটিং জ্ঞান না থাকলে মার্কেট গবেষণা সম্ভব নয়। বর্তমান বাজারে মার্কেট গবেষণা না করে, সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় তা সফল হয়না।

ধৈর্যচ্যুত হওয়া: 
হোঁচট খেলেই থামতে হবে- তা নয়। উদ্যোক্তা মাত্রই সে উদ্যমী এবং প্রথম অবস্থায় তাকে নানান অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু দেখা যায় অনেকেই প্রাথমিক ভাবে কোন হোঁচট খাওয়ার পর মনোবল হারিয়ে ব্যবসায়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অথচ এই হোঁচটই তার জন্য ছিল শিক্ষণীয়। ধৈর্য সহকারে প্রতিটি ব্যর্থতাকে কাটিয়ে সাফল্যের পথে হাঁটাই একজন প্রকৃত উদ্যোক্তার পরিচয়।

উদ্যোম হারিয়ে ফেলা:
 অনেকেই শুরু করেন আট ঘাট বেঁধে। কিন্তু মাঝ পথে গিয়ে আর এই উদ্যোম থাকেনা। মোটামুটি একধরনের উদাসীন হয়ে যান। আর উদ্যোম হারিয়ে ফেললে সফলতা আর আপনার হাতে ধরা দেবেনা।

- See more at: http://finance.priyo.com/node/794#sthash.BCGQOKH2.dpuf
কী ব্যবসা করবেন তা ঠিক করে হুট করে ব্যবসায় নামলেন আর তরতর করে এগিয়ে চললেন- তা নয়। কোন ধরণের ব্যবসা করবেন সে পরিকল্পনা তো নেওয়াই হয়েছে। তবে যখন ব্যবসা শুরু করবেন তখনই আসল পরিকল্পনা নেওয়ার পালা। অনেক পরিকল্পনার সমন্বয়ে একটি ব্যবসার পরিকল্পনা সফল হয়ে ওঠে। বলা যায় একাধিক পরিকল্পনাই একটি সম্পুর্ণ ব্যবসায় প্লান।

প্রাথমিক ভাবনা:
একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করে ব্যবসার সফলতা। একটি সম্পূর্ণ নতুন কোম্পানির জন্য বিজনেস প্লান খুব শক্ত হয়। যেমন প্রাথমিক অবস্থায় কি রকম কোম্পানি, তার পণ্য বা সেবা কি হবে, মার্কেটিং কিভাবে হবে, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো কিভাবে সমন্বয় হবে। এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হলে একটা আদর্শ ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হয়ে যায়।

অভ্যান্তরীণ পরিকল্পনা:
ব্যবাসার বাজেট, নির্বাহী বোর্ড, বেতন কাঠামো, ইত্যাদি ব্যবসায়ের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় পক্ষের কোন কিছুই এই পরিকল্পনার ভিতর আসবেনা।

কার্যকরী পরিকল্পনা:
কার্যকরী পরিকল্পনাকে একক রকম অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা বলা যেতে পারে। এটাকে আরো সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে বলা যায় একটি ব্যবসার ধারণা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, কিকি ডাটা নিয়ে প্লান তৈরি করা হবে বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবস্থাপকের দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয় এই কার্যকরী পরিকল্পনায়।

পরিসংখ্যানগত পরিকল্পনা:
পরিসংখ্যানগত প্লানকেও এক রকম অভ্যান্তরীণ পরিকল্পনা বলা যেতে পারে। কিন্তু এটি সমস্ত বিষয়টিকে আরো বিশদভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তারিখের মাধ্যমে প্রকাশ করে। এটি কোম্পানির ব্যবস্থাপক টিমের বিষয় বর্ণনা করে না বরং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট সময় সীমার আওতায় এনে কোম্পানির বর্তমান ও সামনের গতিপথের ক্যালেন্ডার রচনা করে। এক কথায় সংখ্যার ধারণায় কবে কখন কিভাবে কোন কাজ করা হবে তার পরিকল্পনা করা হয়।

উন্নয়ন পরিকল্পনা বা নিউ প্রোডাক্ট প্লান:
বিজনেসের কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়কে আলাদা করে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এটি অভ্যন্তরীন পরিকল্পনা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। এই পরিকল্পনা সাধারণত লোন এ্যাপ্লিকেশন এবং নতুন ইনভেস্টমেন্টের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ আপনার বর্তমান বিজনেসকে আরো বিস্তৃত পর্যায়ে পৌঁছাতে যে পরিকল্পনা তাই এক্সপানসন প্লান বা উন্নয়ন পরিকল্পনা।

সম্ভাব্য প্লান:
সম্ভাব্য প্লান সাধারণ প্রাথমকি পরিকল্পনার মতোই। সম্ভাব্য প্লানে একটি কোম্পানির সারাংশ, মিশন এস্টেটমেন্ট, কী টু সাকসেস, বেসিক মার্কেটিং এনালাইসিস, প্রাথমিক কস্ট এনালাইসিস, প্রাইসিং, সম্ভাব্য খরচ প্রভৃতির সন্নিবেশ থাকে। এই ধরনের প্লান সিদ্ধান্ত পৌঁছতে সাহায্য করে।

বিপণন পরিকল্পনা:
এই অংশে থাকবে কীভাবে আপনি আপনার উৎপাদিত পণ্য বা সেবা গ্রাহকদের মাঝে পৌঁছে দিতে চান। ক্রেতার কাছে কীভাবে পণ্য পৌঁছাবে অর্থাৎ সরাসরি, পরিবেশক, নাকি পুনর্বিক্রেতার মাধ্যমে, তা এই অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্রেতার চাহিদা, তা কীভাবে পূরণ করা হবে, কীভাবে পণ্য তাঁদের মধ্যে জনপ্রিয় করা যায়, পণ্যের দামের বিষয়ে ক্রেতারা কতটুকু সচেতন-এসব বিষয়ও থাকবে বিপণন পরিকল্পনায়। সব মিলিয়ে একটি ভাল কৌশল অবলম্বনই হবে একটি পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

- See more at: http://finance.priyo.com/node/718#sthash.wEj12d02.dpuf
Copyright © 2013 MEDIA INFO