Showing posts with label Islamic. Show all posts
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।
দোয়া ৩টি হলো-
১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)
৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)
নামাযে আমীন বলা ও রাফয়িল ইয়াদাইন! সম্পর্কে ৬ জন আলেম থেকে শুনুন।তারপর সঠিক দলিল জেনে আপনি যে কোনটাই আমল করতে পারেন।
>>>সালাতে (নামাযে) স্ব'শব্দে আমীন (উচ্চস্বরে) বলার হাদীসসমূহ <<<<
০১) বুখারি ১ম খন্ড ১০৮ পৃষ্ঠা
০২) মুসলিম শরীফ ১৭৬ পৃষ্ঠা
০৩) আবু দাউদ ১৩৪ পৃষ্ঠা
০৪) তিরমিজি ৫৭,৫৮ পৃষ্ঠা
০৫) নাসায়ী ১৪০ পৃষ্ঠা
০৬) ইবনে মাজাহ ৬২ পৃষ্ঠা
০৭) মুয়াত্তা মালেক ১০৮ পৃষ্ঠা
০৮) বায়হাকী ২য় খন্ড ৫৯ পৃষ্ঠা
০৯) দার কুৎনী ১২৭ পৃষ্ঠা
১০) মেশকাত ১ম খন্ড ৭৯,৮০ পৃষ্ঠা
১১) যাদুল মায়াদ ১ম খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা
১২) মাসনাদে ইমাম শাফী ২৩ পৃষ্ঠা
১৩) ইবনে আবি শায়বা ২৮ পৃষ্ঠা
১৪) ফাতহুল বারী ২য় খন্ড ২৬৭ পৃষ্ঠা
১৫) হিদায়া দিরায়াহ ১০৮ পৃষ্ঠা
১৬) আবকারুল মিনান ১৮৯ পৃষ্ঠা
১৭) ফাতহুল বায়ান ৩৪ পৃষ্ঠা
১৮) মুহাল্লা ২৬৩ পৃষ্ঠা
১৯) রাফউল ওজাজাহ ৩০০ পৃষ্ঠা
২০) তোহফাতুল আহয়াজি ১ম খন্ড ২০৮ পৃষ্ঠা
২১) তানভীরুল হায়ালেক ১০৮ পৃষ্ঠা
২২) মন্তাকা ৫৯ পৃষ্ঠা ২৩) নায়লুল আওতার ২য় খন্ড ২৪৪ পৃষ্ঠা
২৪) আহকাম ২০৭ পৃষ্ঠা ২৫) আততার গীব ২৩ পৃষ্ঠা ২৬) সবুলুস সালাম ২৪৩ পৃষ্ঠা ২৭) কানজুল ওম্মাল ৫৯ পৃষ্ঠা ২৮) জামেউল ফায়ায়েদ ৭৬ পৃষ্ঠা
২৯) তাল খিসুল হাবীর ৯০ পৃষ্ঠা
৩০) আউনুল মাবুদ ২৫২ পৃষ্ঠা
৩১) তায়সীরুল ওসুল ২১৭ পৃষ্ঠা

হানাফী মাযহাবের কেতাবগুলিতেও উচ্চস্বরে আমীন
১) আইনুল হেদায়া ১ম খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা
২) নুরুল হেদায়া ৯৭ পৃষ্ঠা
৩) ফতহুল কাদীর ৩৬৩ পৃষ্ঠা
৪) মাদারেজুন্নবুয়াত ৪০১ পৃষ্ঠা
৫) তানবীরুল আইনাইন ৪১ পৃষ্ঠা
৬) গুনিয়াতুত তালেবীন ১১ পৃষ্ঠা
৭) তাহকীকুল কালাম ১০ পৃষ্ঠা
৮) তালিকুল মুমাজ্জাদ ১০৫ পৃষ্ঠা (ভারতের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী হানাফী ) ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর উস্তাদ আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহঃ) বলেন - "আমি মসজিদুল হারাম কাবা শরীফে কমপক্ষে দুশ' জন সাহাবীকে আর বিভিন্ন দিনে হাজার হাজার সাহাবীকে এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, যখন ইমাম "অলাদ্দৌলীন" বলতেন তখন আমি তাদের আমীনের প্রতিধ্বনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শুনতাম" [বায়হাকী ২য় খন্ড ৫৯ পৃষ্ঠা, আইনী ৬ষ্ঠ খন্ড ৪৮ পৃষ্ঠা, ফাতহুল বারী ২য় খন্ড ২৬৭ পৃষ্ঠা]


ক্বাযা নামাজ কখন আদায় করা যায়, ক্বাযা নামাজ কত প্রকার ? এই সম্পর্কে শায়খ মতিউর রহমান মাদানী আলোচনা ঃ 



দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে যাকে অভিহিত করা হয় তিনি হলেন আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ স্বয়ং নিজে রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আল কালামের ৪ নম্বর আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘(হে নবী মুহাম্মদ) নিশ্চয়ই তুমি নীতি-নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত।’ আল্লাহ তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে রাসূল (সা.)কে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতিভূ হিসেবে তিনি মানব জাতির সামনে তাকে উপস্থাপন করেছেন। মুসলমানদের কাছে আল্লাহর বাণীই হলো শেষ কথা। স্বয়ং আল্লাহ যাকে নীতি-নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সে ব্যাপারে আর কারও সাক্ষ্যেরই প্রয়োজন নেই।
রাসূল (সা.) মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন। মানুষের ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন কীভাবে সুন্দরতম পর্যায়ে নেওয়া যায়, সে আলোকিত পথ বাতলে দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ মানব জাতিকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের আলোকিত পথ দেখাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে কোরআন নাজিল করেন। মানব জাতির জন্য গাইড লাইন হিসেবে স্বীকৃত কোরআনের জীবন্ত প্রতিকৃতি ছিলেন রাসূল (সা.)। তাকে অনুসরণ করলেই কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলা যায়। তাকে অনুসরণ করলেই মহান স্রষ্টা আল্লাহর হুকুমকে পালন করা হয়। রাসূল (সা.) পৃথিবীতে আবিভর্ূত হয়েছিলেন মানব জাতিকে আত্দনিগ্রহ ও আত্দবিড়ম্বনা থেকে রক্ষা করার জন্য। কুসংস্কার ও হীনম্মন্যতার লজ্জা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি আবিভর্ূত হয়েছিলেন। মানব জাতিকে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে যেতে উৎসাহিত করেছেন তিনি। মানবতাকে স্বকীয় মর্যাদায় উদ্ভাসিত করেছেন আল্লাহর এই নবী। রাসূল (সা.) তার যাপিত জীবনের সর্বক্ষেত্রে শিষ্টাচার ও বিনয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। দয়া ও মহানুভবতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত মহানবী (সা.)-এর অনুসারীদের সর্বক্ষেত্রে সুবুদ্ধি ও সুবিবেচনার পরিচয় দিতে হবে। রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রমাণে তাঁর প্রদর্শিত জীবন বিধানকে আঁকড়ে ধরতে হবে মনে-প্রাণে
অর্ধাঙ্গিনী না তিক্তাঙ্গিনি,বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে ইসলামী দিক নির্দেশনা নিয়ে ডা: জাকির নায়েকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনুন।

পর্ব ০১

পর্ব ০২

পর্ব ০৩
       
পর্ব ০৪


পর্ব ০৫

পর্ব ০৬

পর্ব ০৭

পর্ব ০৮



:- Collect from Youtube

বিবাহ সম্পর্কে ডা: জাকির নায়েকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনুন।


আল্লাহ তা আলার এত দয়া। তবুও তিন ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম করেছেন। তাহলে তারা কত বড় পাপী। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।

It's right but we forget it we will die one day.....thanks for nice message Sister.

বিশ্বপ্রতিপালক মহান রাব্বুল আলামীন সৃষ্টিলোককে সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন কেবল একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, আর তা হচ্ছে তাঁর দাসত্ব ও গোলামী করা। এ দাসত্ব অনেক ভাবেই হয়ে থাকে। যেমনঃ নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, দান-সাদকাহ, কুরবানী আশা-ভরসা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি। এ গুলোর মধ্যে সর্বত্তোম ইবাদত হল নামায। নাযাম পড়ার জন্য প্রয়োজন পবিত্রতা অর্জন করা। পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ তাআলার কাছে নামায গৃহীহ হবে না। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ

 لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ

 “আল্লাহ তাআলা তোমাদের কারও নামায গ্রহণ করবেন না, যখন সে অপবিত্র হয়ে যায়,যতক্ষন না সে অযু করে। (বুখারী ও মুসলিম) যে ব্যক্তি নিবেদিত প্রাণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সুন্দরভাবে অযু করবে তার জন্য রয়েছে পরকালীন জীবনে মহাপুরস্কার। নিম্নে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ হতে এ বিষয় কিছু আলোকপাত করা হল।

 ১) আল্লাহ তাআলার ভালবাসা লাভঃ অযু /ওযু হল পবিত্রতা, আর পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ তাআলা ভালবাসেন। এরশাদ হচ্ছে:
 إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

 “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের এবং পবিত্রা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা বাকারাঃ ২২২)

২) জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়ঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করবে অত:পর অযুর শেষে নিম্ন বর্ণিত দুআ পাঠ করবে তার জন্যে জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” দুআটি হলঃ
 أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِى مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِى مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ

 উচ্চারণঃ “আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজআলনী মিনাত্‌ তাওয়্যাবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাত্বহহিরীন।” (তিরমিযী)

৩) জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার কারণঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
 مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

 “যে কোন ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করে, একনিষ্ঠতার সাথে দুরাকাআত নামায আদায় করে তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।” (মুসলিম)

৪) বেলাল (রাঃ) এর বিশেষ আমলঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেলাল (রাঃ) কে বললেনঃ “তোমার সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে আমাকে বল, আমি জান্নাতে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি।” বেলাল (রাঃ) বললেন, আমার সর্বোত্তম আমল হল, আমি রাতে অথবা দিনে যখনই পবিত্রতা অর্জন করি তখনই তার দ্বারা সাধ্যমত নামায আদায় করে থাকি। (বুখারী)

৫) অযু এক নামায হতে অন্য নামাযের মধ্যে সংঘঠিত গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপঃ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ
 مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فَالصَّلوَاتُ الْمَكْتُوبَاتُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ
 “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূর্ণ ভাবে অযু সম্পাদন করে, (তার জন্য) ফরয নামাযগুলোর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘঠিত গুনাহের কাফ্‌ফারা হয়ে যায়।” (মুসলিম)

৬) গুনাহ দূর হওয়ার কারণঃ ওসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা উত্তমরূপে অযু সম্পাদন করলেন, অত:পর বললেন, যে ব্যক্তি আমার অযুর ন্যায় অযু করে দু’রাকাত নামায পড়বে এবং মনে অন্য কিছুর কল্পনা করবে না তার অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন একজন মুসলিম বা মু’মিন ব্যক্তি অযু করে, সে যখন তার চেহারা ধৌত করে পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার চেহারার গুনাহ সমূহ দূর হয়ে যায় যা তার দৃষ্টি দ্বারা হয়েছে। এমনিভাবে সে যখন তার দুহাত ধৌত করে তার হাতের গুনাহ সমূহ যা হাত দিয়ে ধরার মাধ্যমে করেছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। আবার যখন দু’পা ধৌত করে পায়ের গুনাহ সমূহ যা পা দিয়ে চলার মাধ্যমে হয়েছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। শেষ পর্যন- সে গুনাহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম)

৭) পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ “পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।” (মুসলিম)

৮) অযুর অংগ প্রত্যংগ গুলো কিয়ামতে আলোকিত হবে। আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাহাবাগণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার উম্মত যারা আপনার পরে আসবে তাদেরকে আপনি কিভাকে পরিচয় পাবেন? তিনি বললেন” “আমার উম্মতগণ কিয়ামতের দিন অযুর স্থানগুলো আলোকীত অবস্থায় উপস্তিত হবে।” (মুসলিম) অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে শুনেছি, তিনি এরশাদ করেছেন, আমার উম্মতগণকে কিয়ামতের দিন অযুর কারণে অযুর জায়গাগুলো চমকানো ভাবে আহবান করা হবে। অতএব যে চায় সে যেন তার উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। (বুখারী ও মুসলিম)

৯) অযুর প্রতি যত্নবান হওয়া ইমানে আলামতঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
 سَدِّدُوا وَقَارِبُوا، وَاعْلَمُوا أنّ خَيْرَ أَعْمَاِلكُمْ الصَّلاَةُ وَلَا يُحَافِظُ عَلَى اْلوَضُوْء إلاَّ مُؤْمِنٌ
 “সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক এবং দ্বীনের উপর অবিচল থাক আর জেনে রেখ! তোমাদের সর্বোত্তম আমল হচ্ছে, নামায, আর মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অযুর হেফাযত করে না। (সহীহ ইবনু হিব্বান)

 ১০) অযু মর্যাদা বৃদ্ধি ও পাপ মোচনের কারণঃ
 عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ. قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ
 “আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিষ সম্পর্কে সংবাদ দিব না যাতে তোমাদের পাপগুলো মোচন হবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে”? সাহাবাগণ বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ “কষ্টের সময় অযু করা এবং অধিকরূপে মাসজিদে পদাচরণ করা আর এক নামায হয়ে গেলে অন্য নামাযের জন্যে অপেক্ষা করা এটাই হল রেবাত। (মুসলিম)

১১) ঘূমানোর পূর্বে অযু করা দুআ কবুল হওয়ার কারণঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন অযু করে নিদ্রায় যায়, রাত্রিতে জেগে দুনিয়া এবং আখেরাতের কোন কল্যাণের দুআ করলে দুআ কবুল করা হয়।” (নাসাঈ)

১২) ঘূমানোর পূর্বে অযু করা ইসলামের উপর মৃত্যুর কারণঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তুমি যখন বিছানায় আসার মনস’ করবে তখন নামাযের ন্যায় অযু করবে এবং নিম্নের দুআটি পাঠ করবে। যদি তুমি ঐ রাত্রিতে মৃত্যু বরণ কর তবে ইসলামের উপর মৃত্যু বরণ করবে। আর যদি সকালে উপনিত হও তবে ছোয়াব পাবে। এদুআটি সকল কিছুর শেষে পাঠ করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
 اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِى إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِى إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِى إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِى إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِى أَنْزَلْتَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِى أَرْسَلْتَ.
 উচ্চারণ:“আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজজাহতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাওয়াযতু আমরী ইলাইকা, ওয়াল জা’তু যহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা-মালজাআ ওয়ালা মানজাআ মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযি আনযালতা ওয়াবি নাবিয়্যিকাল্লাযি আরসালতা।”

 অযুর পদ্ধতিঃ 
১) অন্তরে (মনে মনে) অযুর নিয়ত করবে। মুখে নয়, কেননা মুখে কোন বাক্য পাঠ করে নিয়ত করা বিদআত। এ সম্পর্কে শরীয়তের কোন দলীল নেই। অত:পর বিসমিল্লাহ বলবে, কেননা বিসমিল্লাহ না বললে অযু হবে না। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন:
 لاَوَضُوْءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِاسْمَ اللهِ عَلَيْهِ
 “যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলবে না তার অযু হবে না। (আবু দাউদ ও আহমাদ)
২) তারপর দুই হাতের তালুসহ কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে।
৩) তিন বার কুলি করবে এবং নাকে পানি টেনে নিয়ে নাক ঝাড়বে।
৪) মুখমন্ডলকে এক কান হতে অন্য কান পর্যন্ত এবং মাথার চুল গজানোর স্থান থেকে শুরু করে দাড়ীর নিচের থুতনী পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে।
৫) হস্তদ্বয়কে আঙ্গুল থেকে কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে। প্রথমে ডান হাত পরে বাম হাত।
৬) নতুন করে পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে ভিজা হাত দিয়ে একবার মাথা মাসেহ করবে। দুই একত্র করে মাথার অগ্রভাগ থেকে আরম্ভ করে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবার অগ্রভাগে নিয়ে এসে শেষ করবে।
৭) উভয় কানে এক বার মাসেহ করবে। উভয়ের হাতের তর্জন আঙ্গুলকে উভয় কানের ভিতরের অংশে প্রবেশ করিয়ে ভিতরের দিক এবং বৃদ্ধা আঙ্গুল দ্বারা উভয়ে কানের বাহিরের অংশ মাসেহ করবে। ঘাড় মাসে করবে না। কারণ ঘাড় মাসে করার ব্যাপারে যে হাদীস বর্ণিত আছে তা ঠিক নয়। এ জন্য ঘাড় সাসেহ করা বিদআত।
৮) উভয় পা-কে তিনবার আঙ্গূলের মাথা থেকে আরম্ভ করে টাখনু সহ ধৌত করবে। প্রথমে ডান পা পরে বাম পা। তার পর অযুর দুআ পাঠ করবে।

 অযুতে কিছু ভুল-ত্রুটি
 ১) আবরী ও অন্য কোন ভাষাতে নিয়ত উচ্চারণ করে পাঠ করা।
 ২) প্রত্যেকটি অংগ ধৌত করতে আলাদা আলাদা দুআ পাঠ করা।
৩) প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভাল ভাবে ধৌত না করা।
৪) দুআ পাঠ করার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করা। বা আকাশের দিকে তাকিয়ে দুআ পাঠ করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অযুর সকল প্রকার ভুল-ত্রুটিতে থেকে দূরে থেকে সঠিক ভাবে অযু করার তাওফীক দান করুন। আমীন। 
 
পিসটিভি বাংলায় ডা. জাকির নায়েকের নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রশ্নউত্তর পর্বে এবার এক হিন্দু মেয়ে জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা ডা. জাকির! আপনি বলে থাকেন, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সবাই ভাই ভাই। আমরা সবাই যদি ভাই ভাই হয়ে থাকি তাহলে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারি না কেন?

মেয়েটির প্রশ্নের প্রশংসা করে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আপনার বাসা কোথায়?
মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।
জাকির নায়েক : জন্মস্থান কোথায়?
মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।
বোন আপনি কি জানেন, ইন্ডিয়ায় বসবাস বা ইন্ডিয়ায় জন্ম নিয়েও আপনি ইন্ডিয়ার এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না?
মেয়েটির উত্তর, না, এমন কোনো জায়গা থাকতে পারে না। আমি ইন্ডিয়ার সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারি।


ডা. জাকির নায়েক ফের বলেন, আপনি সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারলেও একটা জায়গায় প্রবেশ করতে পারবেন না। আর সেটা হলো ক্যান্টনমেন্ট। এখানে তাদেরই প্রবেশ করতে দেয়া হয়, যারা দেশের যেকোনো কল্যাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।


বোন ইসলামের একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে, সেটা হলো মক্কা ও মদিনা শরিফ। এখানে তারাই প্রবেশ করতে পারে, যারা আল্লাহর জন্য জানমাল দিতে পারে। আপনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- এই ক্লাবের পাসপোর্টধারী হলেই আপনি মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।


ডা. জাকির নায়েকের এমন চমৎকার উত্তর শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। প্রশ্নকারী হিন্দু মেয়েটি মাথা নিচু করে নিজ আসনে বসে যান।
সূত্র : পিসটিভি
সাধারণ অবস্থায় পানাহার ও স্ত্রী গমন হালাল হওয়া সত্ত্বেও রমজানে দিনের বেলা এগুলো থেকে বিরত থেকে ‘তাকওয়া’র অনুশীলন করা হয়। তা এভাবে যে, আল্লাহর নির্দেশের কারণে পুরো বছর যা হালাল ছিল তা-ই হারাম হয়ে গেছে। তাহলে যা আগে থেকেই ১২ মাস হারাম, অশ্লীল ও গোনাহ, তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আর রমজানে তা থেকে বিরত থাকা তো আরও বেশি জরুরি। যেমন-

১. দৃষ্টিকে সব ধরনের গোনাহ থেকে যেমন- বেগানা মেয়েদের দেখা থেকে হেফাজত করা। তা সরাসরি দেখা হোক বা টিভি-সিনেমায় দেখা হোক বা ম্যাগাজিন ও পত্রিকার ছবি হোক। অনেকে রোজা রেখে অবসর সময় নাটক-সিনেমা দেখে কাটায়। এতে তাদের রোজার নষ্ট হয়ে যায়।

২. জবানের হেফাজত করা। অর্থা‍ৎ মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা, অশ্লীল কথাবার্তা ও ঝগড়া থেকে রিবত থাকা। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যাচার ও মন্দ কাজ ত্যাগ করেনি তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। -সহিহ বুখারি: ১/২৫৫, হাদিস- ১৯০৩

অন্য এক হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রোজা অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল, হট্টগোলে লিপ্ত না হয়। যদি কেউ তার সঙ্গে গালিগালাজ বা মারামারি-কাটাকাটিতে লিপ্ত হতে চায় তবে সে (অনুরূপ আচরণ না করে) বলবে, আমি রোজাদার।’ -সহিহ বুখারি: ১/২৫৫, হাদিস- ১৯০৪

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রোজা অবস্থায় মারামারি ও ঝগড়াঝাটি তো দূরের কথা, শোরগোল করাও রোজার আদব পরিপন্থী। অতএব জবানকে এসব থেকে বিরত রেখে সর্বদা জিকির-আজকার ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে তরতাজা রাখবে।

৩. কানের হেফাজত। যেমন- গান শোনা, গিবত, পরনিন্দা ও অশ্লীল কথাবার্তা শোনা থেকে বিরত থাকা।

৪. অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যেমন হাত-পা ইত্যাদিকেও গোনাহ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা।

৫. সেহরি ও ইফতারে হারাম আহার পরিহার করা। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি সারাদিন রোজা রেখে হারাম মাল দ্বারা ইফতার করে সে যেন একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে আর একটি শহর ধ্বংস করে।

৬. অন্তরকেও সব রকমের গোনাহ থেকে বিরত রাখা। যেমন- গোনাহের কল্পনা করা, পেছনের গোনাহ স্মরণ করে স্বাদ গ্রহণ করা, অহঙ্কার, হিংসা, কু-ধারণা ইত্যাদি থেকে অন্তরকে হেফাজত করা।
আল্লাহর হুকুম মেনে চলার জন্য বিশেষ ধরনের মানসিক দৃঢ়তা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট ও গুণাবলীর প্রয়োজন। রমজানের রোজা মানুষকে এই চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়তা করে। রমজান একজন মুসলমানের মাঝে যে চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টি করে তা যেমন চমকপ্রদ তেমনি বিস্ময়কর। রমজানের একমাস রোজা রাখার আগে একজন মুসলমানের যে অবস্থা ছিল একমাস পরে তার আর সে অবস্থা থাকে না। তার মধ্যে যে বিশেষ পরিবর্তনগুলো দেখা যায় সেগুলো হচ্ছে-

এক. সে নিজেকে আল্লাহর একজন একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে গণ্য করতে থাকে।

দুই. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া তার জীবনের দ্বিতীয় কোনো লক্ষ্য থাকে না।

তিন. যে কোনো অবস্থায় যে কোনো সময় আল্লাহর হুকুম মেনে চলার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত রাখে।
চার. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তিনি সব কিছু দেখেন, জানেন ও শুনেন এ অনুভূতি তার মধ্যে বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ফলে আল্লাহর হুকুমের বিরোধী কোনো কাজ করার ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলে।

পাঁচ. আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার সবকিছুর কর্তৃত্ব সে অস্বীকার করতে শেখে, সারাদিন সে না খেয়ে থাকে। তার সামনে ভালো ভালো খাবার আসে। পরিবেশের চাপ তাকে খেতে উৎসাহিত করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ চাপ তাকে খাবার প্রেরণা যোগায়। কিন্তু কারোর সামনে সে মাথানত করে না। বরং পরিবেশ ও বাইরের সমস্ত প্রভাব ও শক্তিকে সে আল্লাহর হুকুমের অনুগত করে। এভাবেই রমজানের একমাসের মধ্যে সে তার নিজের ও আশপাশের সবকিছুর ওপর আল্লাহর হুকমের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

ছয়. রোজা মুসলমানের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুণটির সৃষ্টি করে তা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে একটা একনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। বান্দা একদিকে স্বেচ্ছায় ও সানন্দে আল্লাহর কর্তৃত্ব মেনে নেয়। তার সব হুকুম মেনে চলতে থাকে। আর অপরদিকে আল্লাহ ও বান্দাহর সমস্ত কাজ সুনজরে দেখতেও পছন্দ করতে থাকেন। তাই সারাদিন অভুক্ত থাকার কারণে রোজাদারের মুখে যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, তা আল্লাহর কাছে মৃগণাভির চাইতেও সুগন্ধময়। তাই হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান’ রোজাদারের জন্য আল্লাহর ঘোষণা প্রমাণ করে যে, রোজা আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

বলা চলে, রোজা সামগ্রিকভাবে উপরোল্লেখিত গুণগুলোর উৎস। এই গুণগুলো সৃষ্টির জন্য আল্লাহতায়ালা রোজার ব্যবস্থা করেছেন। তবে, রোজা হতে যে সুফল লাভ করা যায় তা রোজাদারের নিয়ত, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহের ওপর নির্ভর করে।

যে ব্যক্তি এর উদ্দেশ্য জানতে ও ভালো করে বুঝতে পারবে এবং তা দ্বারা মূল্য উদ্দেশ্য লাভের চেষ্টা করবে সে তো কম বেশি মোত্তাকি নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু যে এর উদ্দেশ্যই জানবে না এবং তা হাসিলের জন্য চেষ্টা করবে না, রোজা দ্বারা তার কোনো উপকারই হবার আশা নেই।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করবে না, তার শুধু খানাপিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনোই প্রয়োজন নেই।’ অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘অনেক রোজাদার এমন আছে, কেবল ক্ষুধা আর পিপাসা ছাড়া তার ভাগ্যে অন্য কিছুই জোটে না। তেমনি রাত্রিতে ইবাদতকারী অনেক মানুষও আছে, যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই লাভ করতে পারে না।

অতএব, এ থেকে বুঝা যায় যে, শুধু ক্ষুধার্ত ও পিপাসায় কাতর থাকাই ইবাদত নয়। এটা আসল ইবাদতের উপায় অবলম্বন মাত্র। আর আল্লাহর ভয়ে আল্লাহর আইন ভঙ্গের অপরাধ না করা এবং যে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, আর যতদূর সম্ভব নিজের আমিত্বকে নষ্ট করা যায়; আল্লাহকে ভালোবেসে সে সব কাজ ঐকান্তিক আগ্রহের সঙ্গে পালন করা হলো আসল ইবাদত।

তাই রমজান মাসে আমাদের করণীয় হলো, শুধু অভুক্ত থাকা নয়। শুধু পানাহার ও স্ত্রী সঙ্গ থেকে বিরত থাকা নয়। রোজা রেখে আত্মপরিশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মোন্নয়ন করা। এ পদ্ধতিতে আমরা আল্লাহর নিকটতম বান্দা হতে পারবো। আল্লাহ সৃষ্ট সব কিছুর ওপর একমাত্র আল্লাহর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করে নিজেকে আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দাহ্য় পরিণত করে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে পরিপূর্ণ সাফল্য অর্জন করতে পারবো।
মুসলিম আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পদের সুষম বন্টনের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, মুসলিম আইনে পরিষ্কার ভাবে বলা আছে মৃত ব্যক্তির সম্পদ তার উত্তরাধিকারীরা কে কিভাবে পাবেন। আসুন জেনে নেই মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন মৃত ব্যক্তির উপর তার উত্তরাধিকারীরা কে কতটা সম্পদের অধিকারী হবেন।
একজন মুসলমান যদি মারা যায় তবে তার সম্পদ বন্টনের আগে কিছু বিষয়ে তার আত্মীয় স্বজনদের বিশেষ মনোযোগ রাখতে হয় এবং ঐ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করা যাবে।

এবার চলুন জেনে নেয়া যাক একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর তার সম্পদ ভাগের আগে যা করনীয়:
১) যদি মৃত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পদ থাকে তবে তার সম্পদ থেকে তার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা।
২) মৃত ব্যক্তির কোন প্রকারের ঋণ কিংবা ধার দেনা থাকলে তা ঐ ব্যক্তির সম্পদ থেকে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা।
৩) মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর দেনমোহোর পরিশোধ হয়েছে কিনা দেখা যদি না হয়ে থাকে তা পরিশোধ করা।
৪) মৃত ব্যক্তি যদি কোন হেবা বা দান কিংবা অসিহত করে যান তবে উল্লেখিত সম্পত্তি দান করে দেয়া।
এবার যদি উপরের কাজ সমূহ করার পরে মৃত ব্যক্তির কোন সম্পদ অবশিষ্ট থাকে তবে অবশিষ্ট সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টন করতে হবে। তবে বন্টনের ক্ষেত্রে মুসলিম আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ আছে।
চলুন এবার জেনে নেয়া যাক মৃত ব্যক্তির সম্পদের উপর তার উত্তরাধিকারীরা কে কি পরিমাণ পাবেনঃ
স্বামীঃ
* স্বামী দুই ভাবে স্ত্রীর উপরে সম্পত্তি পাবে-
* যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি থাকে তবে স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ।
* যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে স্বামী পাবে অর্ধেক সম্পত্তি।
স্ত্রীঃ
* মৃত ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেন-
* যদি মৃত ব্যক্তির এবং তার স্ত্রীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তবে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তি এবং তার স্ত্রীর সংসারে কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন।
পুত্রঃ
ছেলেরা মৃতের উপরে সকল ক্ষেত্রেই সম্পদ পেয়ে থাকে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ক্ষেত্রে সকলের অংশ ভাগের পর অবশিষ্ট সকল অংশ ছেলে এবং মেয়ে পাবে। তবে এই ক্ষেত্রে ছেলে সম্পদে যে পরিমাণ অংশ পায় মেয়েরা সম্পদের উপরে ছেলের অর্ধেক পরিমাণ পাবে। যদি মেয়ে না থাকে তবে বাকী সম্পূর্ণ অংশ ছেলে পাবে।
মেয়েঃ
* মুসলিম সম্পত্তি আইন অনুযায়ী একজন মেয়ে ৩ নিয়মে মৃতের সম্পদ পেয়ে থাকে-
* যদি একজন মেয়ে হয় তবে দুইভাগের একভাগ (১/২) পাবে।
* যদি একাধিক মেয়ে হয় তবে সবাইকে তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) দেয়া হবে।
* যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে মেয়ে উভয়েই থাকে তবে ছেলে যে পরিমাণ পাবে মেয়ে তাঁর অর্ধেক পাবে।
বাবাঃ
* মৃত ব্যক্তির সম্পদের উপর তার বাবা ৩ প্রকারে সম্পদ পাবেন-
* যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র কিংবা আরও নিচে পুত্রের পুত্রের পুত্র যত নিচেই হোক না কেন থাকে তবে মৃত ব্যক্তির পিতা পাবেন সম্পদের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র কিংবা নিন্মগামী পুত্র না থাকে কেবল কন্যা থাকে তবে ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন এবং কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে তবে বাদ বাকী অংশীদারদের দেয়ার পর সকল সম্পত্তি বাবা পাবেন। মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে যদি বাবাও না থাকে তবে তাঁর জীবিত ভাই পাবে, ভাই না থাকলে ভাইয়ের সন্তান পাবে।
মাতাঃ
* মৃত ব্যক্তির মা তিন ভাবে সম্পদ পাবেন
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) মাতা পাবেন।
এবার চলুন মুসলিম আইনের কিছু সাধারণ বিষয় জেনে নেয়া যাকঃ
অনেকেই ভাবেন পিতার সম্পদে সন্তানকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করা যায় অর্থাৎ ত্যাজ্য করলে সন্তান সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু বিষয়টি ঠিক নয় কেউ চাইলে কাউকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করতে পারবেনা।
অনেক ক্ষেত্রে সৎ ছেলে মেয়ের বিষয়টি আসে, কিন্তু ইসলামে পরিষ্কার বলা আছে সৎ ছেলে মেয়ে কখনোই সৎ বাবা মায়ের সম্পদের অংশীদার হবেনা একই সাথে সৎ বাবা মাও সৎ ছেলে মেয়ের সম্পদের অংশীদার হবেনা।
ইসলামিক সরিয়া আইনে বলা আছে যদি পিতা বেঁচে থাকতে কোন বিবাহিত সন্তান স্ত্রী এবং সন্তান রেখে মারা যায় তবে ঐ পিতার মৃত্যুর পর পিতার বর্তমানে মৃত সন্তান কোন সম্পদ পাবেনা, কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে উত্তরাধিকার সংক্রান- বিধান সংশোধন করে মৃত ব্যক্তির সম্পদে বিবাহিত মৃত পুত্রের ওয়ারিশরা অংশ পাবে এই বিধান সংযুক্ত করা হয়।
ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়ায় মানুষ কত কিছুই না করছেন। আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ অমান্য করে বিপথগামী হচ্ছেন। এটা সন্দেহাতীত যে, মৃত্যুপরবর্তী রোজ কিয়ামতে হাশরের ময়দানে শুধু হযরত ইব্রাহিম (রা.) ব্যতীত প্রতিটি মানুষকে খালি পাও, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে এবং বেহেশত ও দোযখের চূড়ান্ত ফায়সালা হবে।

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি এক দাওয়াতে নবী করীম (সা.)-এর সাথে ছিলাম। তিনি এরশাদ করেন, আমি কিয়ামতের দিন সকলের সর্দার হব। সে কঠিন দিনে কষ্ট সাইতে না পেরে মানুষ অস্থির হয়ে যাবে এবং কার দ্বারা সুপারিশ করলে আল্লাহ্ কবুল করবেন সে রূপ লোক তালাশ করতে থাকবে।

অতপর অন্যান্য নবীগণের নিকট হতে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষে সমস্ত লোক হুজুর (সা.)-এর কাছে এসে বলবে আপনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, আমাদের কষ্ট তো আপনি দেখেছেন, এখন দরবারে এলাহীতে আমাদেও জন্য সুপারিশ করুন যাতে আমাদেরকে পরিত্রাণ দেয়া হয়।

নবীজী (সা.) বলেন, আমি তখন আল্লাহ্র আরশের নিচে এসে সিজদায় পড়ে কান্নাকাটি করতে থাকব। অতপর আল্লাহ্ও তরফ থেকে বলা হবে, আপনি মাথা উঠান এবং ফরিয়াদ পেশ করুন। আপনার ফরিয়াদ কবুল করা হবে।

হুজুর (সা.) তখন মাথা উঠাবেন এবং বলবেন, হে প্রভু! তুমি আমার উম্মতগণকে ক্ষমা কর। আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, হে আমার প্রিয় নবী! আমার বেগোনাহ বান্দাদেরকে বেহেশতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করান। এতদ্ব্যতীত অন্য দরজা দিয়েও ইচ্ছে করলে ঢুকাতে পারেন।

সে বিচারে একমাত্র যিনি সুপারিশ করতে পারবেন তিনি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

হযরত আউফ বি মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার কাছে আল¬াহ্ তা’য়ালার কাছে থেকে এক দূত এসে জানালেন যে, আল¬াহ্ তা’য়ালা আমাকে দুটি প্রস্তাব দিয়ে পাঠিয়েছেন। এ দুটির মধ্যে থেকে যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাব দুটি হলো আমার অর্ধেক উম্মতকে বিনা হিসেবে বেহেশতে দেয়া হবে অথবা আমি যেকোনো উম্মতের জন্য আমার ইচ্ছেমত সুপারিশ করতে পারব। আমি সুপারিশ করার ক্ষমতাটাকেই গ্রহণ করেছি। কাজেই অমি মুশরিক ব্যতীত সকলের জন্য শাফায়াত করব।

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন যে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, আল¬াহ্ তা’য়ালা সকল নবীগণকেই একটি বিশেষ ক্ষামতা দিয়েছেন। তা এটাই যে, তাঁদের একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করা হবে। সকল নবীই প্রয়োজন মোতাবেক এক একটি জিনিস চেয়ে নিয়েছেন এবং তারা সকলেই পার্থিব জিনিস চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের নবীজী এরশাদ করেছেন, ‘আমি এ সুযোগ পৃথিবীতে গ্রহণ করিনি। রোজ হাশরে আমি আমার প্রাপ্য আদায় করব এবং তা হবে আমার উম্মতের নাজাতের জন্য সুপারিশ করা।’

১। হাশরের ময়দানে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে অতি শিগগিরই হিসাব-নিকাশের কাজ শুরু করার জন্য সকল নবীগণের কাছে যেতে শুরু করবে। কিন্তু সকলেই অপরাগতা প্রকাশ করার পর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কাছে উপস্থিত হবে এবং তিনি পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতির জন্য সুপারিশ করবেন।
২। দ্বিতীয় সুপারিশ হবে প্রথম দরজার মু’মিনগণকে হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বেহেশতে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য। এটাও শেষ নবীই (সা.) করবেন।
৩। তৃতীয় সুপারিশ হবে যারা স্বীয় অপকর্মের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত হয়ে পড়েছে তাদেরকে ক্ষামা করে দেয়ার জন্য। এ সুপারিশ নবীজী করবেন। এতদ্ব্যতীত ওলামা, শুহাদা এবং অন্যান্য মু’মুমিনগণও করবেন।
৪। চতুর্থ সুপারিশ হবে ঐ সকল গোনাহগারদের জন্য যাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করা হয়েছে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য আরজ পেশ করা হবে। আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং ফেরেশতাগণ এজন্য সুপারিশ করবেন।
৫। পঞ্চম সুপারিশ করা হবে যাদেরকে বেহেশতে দাখিল করা হয়েছে তাদের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।
ঝুলন্ত উদ্যানের কথা তো শুনেছেন। কিন্তু ঝুলন্ত মসজিদের কথা কেউ শুনেছেন কি? হ্যাঁ, এরকম একটি মসজিদ রয়েছে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহরে৷

বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান এ মসজিদটি তৈরি করেন। ফরাসি কোম্পানির হস্তক্ষেপে মসজিদের ভাষ্কর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদের দেয়ালে সরু নকশার কাজ দেখলে অবশ্যই বাহবা দিতে ইচ্ছে করবে ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউকে।

যাই হোক, মসজিদকে ভাসমান অ্যাখা দেয়ার কারণ কি? এটা জানতে গেলে পাড়ি দিতে হবে আটলান্টিক সমুদ্রে। জাহাজ থেকে ওই মসজিদকে দেখলে মনে হবে, টেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে।

আর একটু কান পাতলে শোনা যাবে একযোগে মুসলমানদের নামাজ পড়ার সুর৷ মসজিদের তিনভাগের একভাগ নীল আটলান্টিকের ওপরে বিরাজমান।

আর বাকি অংশটি সমুদ্রের তলায় রয়েছে বলে মনে হবে। ২২.২৪ একরের এই মসজিদে রয়েছে গ্রন্থাগার, কোরআন শিক্ষালয়, আলোচনা-কক্ষ প্রভৃতি৷

এখানের প্রার্থনাগৃহে একসঙ্গে এক লাখ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মিনারের উচ্চতা ২০০ মিটার। মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার এবং এর ছাদটি প্রতি ৩ মিনিট অন্তর কৃত্রিম উপায়ে খুলে যায়।

যার ফলে মসজিদের ভেতরে আলো, বাতাস ঢুকতে পারে। মসজিদের বাইরে রয়েছে ১২৪টি ঝরনা ও ৫০ টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি।

দ্বিতীয় হাসান মসজিদ-এর এই অভূতপূর্ব সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। আপনার আকাঙ্ক্ষা মেটাতে ঘুরে আসুন এই মসজিদে।
হযরত আলীর (রা.) নীতি কথা, উপদেশ বাণী ও প্রবাদ বাক্যসমূহের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, এগুলি নির্ভুল চিন্তা, বিশুদ্ধ ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং জীবন ও মানব স্বভাবের সুগভীর অধ্যায়ের কথা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণ করে যেন তা সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, চিন্তা-ভাবনা ও নিবিষ্ট অধ্যয়নের সারনির্যাস রূপে পেশ করা হয়েছে। যা হৃদয়ের গভীরে এবং জীবনের অতলান্তে প্রবেশের মাধ্যমেই করা সম্ভব।
পাঠকবৃন্দের সামনে তুলে ধরছি তার ২০টি নীতি বাক্য। সামনের দিনগুলিতে তার খুতবাসমূহের সাথে আপনাদের সময় সুযোগমত পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। 

১. প্রতিটি মানুষের মূল্য তার যোগ্যতায়। 
২. মানুষের সাথে তাদের বুদ্ধি পরিমাণ কথা বলো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ‘মিথ্যা সাব্যস্ত’ হোন? 
৩. অভিজাত লোকের হামলা সম্পর্কে সতর্ক হও যখন সে ক্ষুধার্ত হয়। আর ইতর লোকের হামলা হতে সতর্ক হও যখন সে পূর্ণ উদর হয়। 
৪.হৃদয়সমূহ একত্র করো এবং তা ধরে রাখতে হেকমতের আশ্রয় গ্রহণ করো (তোমরা)। কেননা শরীরের ন্যায় হৃদয়ও ক্লান্তি ও একঘেয়েমী বোধ করে। 
৫. নফস হলো প্রবৃত্তির পূজারী। সহজগামী আমোদ-প্রমোদের অভিলাসী, কু-প্ররোচনায় অভ্যস্ত, পাপাচারে আসক্ত, আরাম প্রিয় ও কর্মবিমুখ। যদি তাকে বাধ্য করো তাহলে সে দুর্বল হয়ে পড়বে। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলে (তুমি) ধ্বংস হয়ে যাবে। 
৬. তোমাদের কেউ যেন আপন প্রতিপালক ছাড়া অন্য কারো আশা না করে এবং তার ‘শাস্তি’ ছাড়া অন্য কিছুকে ভয় না করে। তোমাদের কেউ যেন যা জানে না তা শিখতে এবং না জানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে 'জানি না' বলতে সংকোচ বোধ না করে। 
৭. অভাব বিচক্ষণ ব্যক্তিকেও যুক্তির ক্ষেত্রে নির্বাক করে দেয়। অভাবী যেন নিজ দেশেই পরবাসী। 
৮. অক্ষমতা একটি বিপদ, ধৈর্যের অর্থ সাহসিকতা, ভোগ বিলাসিতায় নির্মোহতা অমূল্য সম্পদ এবং ধর্মানুরাগ জান্নাত লাভের মাধ্যম। 
৯. শিষ্টাচার হলো চির-নতুন পোশাক এবং চিন্তা হলো স্বচ্ছ আয়না। 
১০. দুনিয়া যখন কারো প্রতি প্রসন্ন হয় তখন অন্যের গুণাবলীও তাকে ধার দেয়, কিন্তু যখন অপ্রসন্ন হয় তখন তার নিজস্ব গুণাবলীও ছিনিয়ে নেয়। 
১১. (অন্তরে) যে যাই গোপন করে তা তার জিহ্বার ফাঁকে বের হয়ে পড়ে এবং মুখণ্ডলের অভিব্যক্তিতে ধরা পড়ে। 
১২. আল্লাহ্ যখন তোমাকে স্বাধীন বানিয়েছেন তখন তুমি অন্যের গোলাম হয়ো না। 
১৩. স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার উপর ভরসা করে বসে থেকো না, কেননা এটা হলো মূর্খ মানুষের পুঁজি। 
১৪. তোমাদের কে কি আদর্শ আলীমের পরিচয় বলব না? যিনি আল্লাহ্র বান্দাদের সামনে আল্লাহ্র নাফরমানীকে মনোহর রূপে তুলে ধরেন না এবং তাঁর ‘পাকড়াও’ সম্পর্কে তাদেরকে নিরুদ্বিগ্ন করে দেন না। এবং তাঁর রহমত সম্পর্কে হতাশ করে দেন না। 
১৫. মানুষ সব বুঝে বেঘোর, মৃত্যু আসা মাত্র জেগে উঠবে। 
১৬. মানুষ যা জানে না তার প্রতি বিরূপ হয়ে থাকে। 
১৭. যুগের (স্বভাব প্রকৃতির) সঙ্গে মানুষের সাদৃশ্য পিতৃ-সাদৃশ্যের চেয়ে অধিক। 
১৮. মানুষ তার জিহ্বার নীচে লুক্কায়িত থাকে। 
১৯. যে মানুষ আপন মর্যাদার সীমা বুঝে তার কোনো ধ্বংস নেই। 
২০. কখনো কখনো একটি মাত্র শব্দ বিরাট বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আলী ইবন আবু তালিবের (রা.) এমন বাণীনিচয় আসলে মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশে হতে পারে এক অনবদ্য পুঁজি। এমন সারবগর্ভ বাক্যসমূহ পরিপালনে একজন পূর্ণাঙ্গ মানব বা ইনসানী কামীল হওয়ার অনুপম সুযোগ তৈরী হয় নিঃসন্দেহে। 

তথ্য সূত্র : [১] হাসান যাইয়াত, তারিখ আল আদাব আল-আরাবী,(পৃ. ১৭৪) [২] সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী, হজরত আলী(রা.) : জীবন ও খিলাফত, (পৃ. ২০২)
(১) নামাজর মধ্যে কথা বললে, 
(২) অন্য লোককে সালাম দিলে, 
(৩) অপরের সালামের উত্তর দিলে, 
(৪) প্রয়োজন ছাড়া কাশি দিলে, 
(৫) উহ্ আহ্ শব্দ করলে, 
(৬) দুঃখ-কষ্ট অথবা ব্যথার কারণে চিৎকার দিলে, 
(৭) অন্যের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললে (তবে নামাজি নিজে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ বললে নামাজ ভঙ্গ হবে না), 
(৯) দুঃসংবাদ পেয়ে ‘ইন্না লিল্লাহ বললে, 
(১০) আশ্চর্যজনক সংবাদ শুনে ‘সুবহানাল্লাহ্’ বললে, 
(১১) নামাজের মধ্যে কোরআন শরীফ দেখে সূরা-কেরয়াত পাঠ করলে, 
(১২) নামাজের মধ্যে শব্দ করে হাসলে, (১৩) নামাজের মধ্যে পানাহার করলে, 
(১৪) আমলে কাছির করলে (অর্থাৎ এমন কার্যাদি করা যা দেখে মানুষ মনে করে যে, লোকটি নামাজে নেই, (১৫) নামাজের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সূরা কেরয়াত ভুল পাঠ করলে কিংবা উচ্চারণের জন্য অর্থ বিগড়িয়ে গেলে, 
(১৬) নামাজরত ব্যক্তি অন্যের লোকমা গ্রহণ করলে, 
(১৭) ভিন্ন ভিন্ন নামাজরত ব্যক্তি একে অন্যকে লোকমা দিলে, আর লোকমা গ্রহণ করলে তার নামাজও ভঙ্গ হবে, 
(১৮) নামাজের ভিতরে মানুষের কাছে কিছু প্রার্থনা করলে, 
(১৯) নামাজ অবস্থায় নিদ্রামগ্ন হয়ে ঢলে পড়লে, 
(২০) নামাজের আহকাম বা আরকান (ফরজ) ছুটে গেলে, 
(২১) অযথা গলা খাকার দিলে, 
(২২) নামাজরত অবস্থায় সন্তানকে দুধপান করালে।
√• ক্বাবা শরীফের গিলাপ প্রতি বছর হ্বজের সময় পরিবর্তন করা হয়। 
√• এই গিলাপের হাদিয়া প্রায় ২ কোটি সৌদি রিয়েল। 
√• এটির ওজন ৬৭০ কেজি। 
√• এটি শুধুমাত্র রেশমি কাপড়ের তৈরি হয়। 
√• এটি তৈরি করতে ১৫০ কেজি সোনা চান্দি লাগে। 
√•এটি ক্বাবা শরীফে পরাতে ৪ ঘণ্টার মত সময় লাগে৷
গ্রিসের এক ইঞ্জিনিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি মোবাইল ফোনের সিমকার্ড আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে তারা দৈনন্দিন জীবনে ধর্মসংক্রান্ত আচার-অনুশাসন সহজে মেনে চলতে পারেন।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশে। এই দুইটি মহাদেশে মুঠোফোনের চলও বাড়ছে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের অর্ধেক মোবাইল ফোন সংক্রান্ত চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হচ্ছে এশিয়ায়। কিন্তু এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলি স্মার্টফোন নয়, বরং পুরনো মুঠোফোন।

ইয়ানিস হাৎসোপুলোস একজন ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, যার বাস গ্রিসের থেসালোনিকিতে। তিনি যে ‘ইসলামী সিমকার্ড’-টি উদ্ভাবন করেছেন, তা স্মার্টফোন কিংবা পুরনো মডেলের মুঠোফোন, দু'টোতেই ব্যবহার করা যাবে। 'ব্যবহারকারী এই মুঠোফোন দিয়ে মক্কা শরীফ কোন দিকে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। এই মুঠোফোন মুসলিমকে দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ার সময় মনে করিয়ে দেবে রিংটোন বাজিয়ে। এমনকি নামাজ পড়ার সময় ফোন নিজে থেকেই ‘মিউট’ হয়ে যাবে” বলেছেন হাৎসোপুলোস।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য মুঠোফোনে নানা ধরনের বিশেষ ‘ফাংশন’-এর ধারণাটা বিশেষ নতুন নয়: সাধারণত সর্বাধুনিক স্মার্টফোনেই এসব ফাংশন পাওয়া যায়। সে তুলনায় ইসলামী সিমকার্ড তথাকথিত দ্বিতীয় প্রজন্মের পুরনো মুঠোফোনেও ব্যবহার করা চলে। অন্যান্য সিমকার্ড কিংবা অ্যাপ-এর থেকে ইসলামী সিমকার্ড এখানেই এগিয়ে। আবার নামাজের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মিউট’ হয়ে যাওয়ার বৈশিষ্টটাও মসজিদের ইমামদের ভালো লাগার কথা, কেননা নামাজের মাঝখানে হঠাৎ ফোন বাজায় তারাই বিরক্ত হন সবচেয়ে বেশি।

হাৎসোপুলোসের মাথায় ইসলামী সিম-কার্ডের ধারণাটা আসে ২০০৯ সালে, যখন তিনি স্পেনের বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করছিলেন। এলজি সংস্থা সেই কংগ্রেসে একটি মোবাইল পেশ করে, যাতে মুসলিমদের জন্য বিশেষ ফাংশন ছিল। তা থেকেই হাৎসোপুলোসের মাথায় আইডিয়া আসে: এই সব ফাংশন একটি সহজ সিমকার্ডে দিতে পারলে মুসলমানরা যেকোনো মুঠোফোনে সেই সিমকার্ড ঢুকিয়ে ফোনটিকে একটি ‘ইসলামী মুঠোফোনে’ পরিণত করতে পারবেন।

হাৎসোপুলোস আপাতত দু'টি আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন। প্রথমত, রমজান মাসে এই ইসলামী মুঠোফোন রোজা শুরু করার এবং ইফতার করার সময় জানান দিতে পারবে রিংটোন বাজিয়ে। দ্বিতীয়ত, ইসলামী সিমকার্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাংশনগুলিকে ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, ‘‘যাতে তরুণ মুসলিমদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

- See more at: http://www.sheershanews.com/2013/11/25/13868#sthash.yUrX93cu.dpuf
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত- আমরা কী পরব? গোল জুব্বা নাকি কোট-টাই-প্যান্ট? এ বিতর্ক অনেক দিনের। আমাদের দেশে আজকাল প্রত্যেক তরিকাপন্থিদের পোশাক ও লেবাস আলাদা।
সাধারণ মুসলমানদের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে নানা দ্বিধা দ্বন্দ্ব। কিন্তু মূলত ইসলামে পোশাক সম্পর্কে কি নির্দেশনা রয়েছে?
একটি কথা প্রথমেই বুঝে নেওয়া দরকার, তা হলো ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট পোশাককে কারো ওপর চাপিয়ে দেয়নি। বরং পুরুষ ও নারীদের জন্য শালীনতা ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ে কিছু নির্দেশনা ও বিধিমালা দেওয়া হয়েছে-যার আলোকে যে কেউ তার পোশাক বেছে নিতে পারে। তবে অবশ্যই তাতে যেন পর্দা ও পোশাকের পূর্ণ অর্থের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।এ হচ্ছে সাধারণ মুসলমানদের জন্য। কিন্তু প্রকৃত অর্থেই যারা রাসুলকে (সা.) ভালোবেসে চলতে চান, ‌Ôতাদের জন্য পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আপনি বলুন (হে মুহাম্মদ!) তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো। এতে আল্লাহ তোমাদেরও ভালবাসবেন এবং তোমাদের মাফ করে দিবেন।’ আর তাই কোনটি ফরয কোনটি সুন্নাত এসব তর্ক-বিতর্কে না জড়িয়ে আসুন আমরা রাসুল (সা.) এর পোশাক সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা এবং কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিধিমালাগুলো দেখে নিই।

রাসুল (সা.) কখনো চাদর গায়ে দিতেন এবং লুঙ্গি পরতেন। তাঁর চাদর প্রায় ছয় হাত লম্বা থাকতো। তাঁর ব্যবহৃত পোশাকের মধ্যে আরও ছিল, জামা, জুব্বা, পাগড়ি। তিনি যে কামিজ পড়তেন এর বর্ণনা হচ্ছে- হাতের দিকে কব্জি পর্যন্ত আর লম্বায় টাখনুর উপর পর্যন্ত। তিনি হাঁটুর নিচে আধাআধি পর্যন্ত পোশাক পরার অনুমতিও দিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ সীমায় টাখনু পর্যন্ত লম্বা হলেও তা যেন টাখনুর নিচে না ঝুলে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেছেন।
তিনি কখনো পাগড়ি মাথায় দিতেন এবং পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তিনি টুপি ছাড়া পাগড়ি এবং পাগড়ি ছাড়া শুধু টুপিও পরতেন। রাসুল (সা.) এর পোশাক ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে শামায়েলে তিরমিযী দেখতে পারেন।
পুরুষদের ক্ষেত্রে ইসলাম যেসব নির্দেশনা দিয়েছে এগুলোর অন্যতম হল- স্বর্ণ কিংবা রেশম সম্বলিত কোনো পোশাক পরা যাবে না। সতর (শরীর) আবৃত হয় না, এমন যে কোনো পোশাক বর্জনীয়। এমন কোনো পোশাক পরা নিষেধ যা শুধুমাত্র কাফের ও বিধর্মীদের জন্য নির্ধারিত কিংবা তাদের কোনো বিশেষ পোশাক হিসেবে পরিচিত। নারীদের পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে এমন পোশাকও ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

রাসুল (সা.) ওইসব পুরুষদের অভিশম্পাত করেছেন যারা নারীদের বেশ ধারণ করে। (বুখারী-৫৫৪৬)

কাপড় পরার সময় বিসমিল্লাহ বলে ডান দিকের অংশ আগে গায়ে পরিধান করতে হবে। আর খোলার সময় বাম দিকের অংশ আগে খুলতে হবে। যখনই কোনো নতুন পোশাক পরবে তখন আল্লাহ পাকের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে।নিজের পরিধেয় কাপড়গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। আর ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পুরুষদের সর্বাবস্থায় নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে।সাদা রঙের পোশাক পরা মুস্তাহাব।
রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের পোশাক পরিধান করো। কারণ তোমাদের অন্যান্য রঙের কাপড় ও বস্ত্র থেকে এটি উত্তম। এ সাদা কাপড়েই তোমরা মৃতদের কাফন দিও। (তিরমিযী)
কেউ কেউ সবুজ রঙের পোশাক পরাকেও মুস্তাহাব বলেছেন। কারণ পবিত্র কুরআনে জান্নাতী লোকদের পোশাকের বর্ণনায় আল্লাহ এ রঙের কথা উল্লেখ করেছেন। (সুরা: ইনসান, আয়াত-২১)

হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সা.) এর প্রিয় রং হিসেবে সবুজ রঙের কথা এসেছে।

আর গাঢ় লাল রং এবং হলুদ রঙের পোশাক পরতে তিনি নিষেধ করেছেন। মুসলিম শরীফের এক হাদীসে তিনি এক সাহাবীর গায়ে এ রঙের কাপড় দেখে বলেছিলেন, এটি কাফেরদের পোশাক। তোমরা এ রং পরবে না।
রাসুল (সা.) লিনেন, সুতি এবং পশম থেকে উৎপন্ন সব ধরনের পোশাক পরেছেন।

গায়ের যে কোনো পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা হারাম। রাসুল (সা.) ওই অংশকে জাহান্নামের বলে অভিহিত করেছেন। (বুখারী-৫৪৫০)

মুসলিম শরীফের এক হাদীসে এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তাদের (যারা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরে) সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণা।

মানুষকে দেখানোর জন্য এবং নিজের বড়ত্ব ও ভাব দেখিয়ে ‘বাহবা’ পাওয়ার জন্য যে কোনো পোশাক পরিধান করা হারাম। আবু দাঊদ শরীফে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, যে দুনিয়াতে বাহাদুরির পোশাক পরবে আল্লাহ পাক তাকে কেয়ামতের দিন অপমানের পোশাক পরাবেন।

- See more at:http://jonogon-ashraf.blogspot.com/p/islam.html
Copyright © 2013 MEDIA INFO