Showing posts with label Health Trips. Show all posts

মাইগ্রেন বা আধকপালি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। অনেককেই ভোগায় এই মাইগ্রেন। এতে মাথার এক পাশ বা দুই পাশজুড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয় মাঝেমধ্যে, সঙ্গে বমি ভাব, বমি, চোখব্যথা, চোখের সামনে আঁকাবুকি দেখা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। মাইগ্রেনের সঙ্গে জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। কিছু খাবার মাইগ্রেনের আক্রমণ কমাতে সাহায্য করে, আবার কিছু খাবার আছে, যা খেলে অ্যাটাক হয়। তাই জেনে নিন মাইগ্রেনের রোগীর খাবার সম্পর্কে।

যা বেশি করে খাবেন
 বাঁধাকপি-বাঁধাকপির ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা ৩ ও ফাইবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। বাঁধাকপির স্যুপ, স্মুথি বা সালাদ রোজকার খাবারে রাখুন।
গাজর ও মিষ্টি আলু: এ দুটিতে বিটা ক্যারোটিন অনেক। তা ছাড়া ভিটামিন সি, বি২, বি৬, নিয়াসিন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস আছে, যা ব্যথা ও প্রদাহ দূর করে।
মাশরুম: ম্যাগনেশিয়াম ও রিবোফ্লোবিন থাকায় মাশরুম মাইগ্রেনের স্থিতি ও পুনরাবৃত্তি রোধ করে।
চেরি: এই ফলে প্রচুর পলিফেনলস নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি স্ট্রেস দূর করে, মাথাব্যথা কমায়। চেরি ফলের জুসও ভালো। অরগান মিট: অরগান মিট হলো প্রাণীর ভেতরকার সেসব অঙ্গ যেমন যকৃৎ, হার্ট, কিডনি ইত্যাদি। এতে ভিটামিন বি১২ ও এ থাকার কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। যাঁদের দূরে যাত্রার কারণে মাথাব্যথা হয়, তাঁরা ভ্রমণের সময় এই অরগান মিট রাখতে পারেন বা যাত্রার আগে খেতে পারেন। চিংড়ি: চিংড়ির অ্যাসটাজ্যানথিন মাইগ্রেনের অ্যাটাক কমায়। আদা: মাইগ্রেনের ব্যথা ওঠার পর আদা দেওয়া চা বা কয়েক চামচ আদার গুঁড়া পানিতে গুলে খেলে ব্যথা কমে যাবে। শজনেপাতার রস: শজনেপাতায় অনেক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় শজনেপাতার রস দিয়ে তৈরি চা খেলে মাথাব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

যা খাবেন না
চকলেট, অ্যালকোহল (ওয়াইন), ডিম, দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য, পেঁয়াজ, টমেটো, সাদা রুটি মাইগ্রেনের অ্যাটাকের সময় খাওয়া উচিত নয়। আর মনে রাখবেন মাইগ্রেনের ব্যথার সময় প্রচুর পানি পান করবেন।

----> প্রথম আলো থেকে সংরক্ষিত 

আপনি কি কোনো ধরনের ব্যায়াম ছাড়াই কয়েক পাউন্ড ওজন কমাতে চান? দৌড়ানো, জগিং ও অন্যান্য ব্যায়াম ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যেই ওজন কমানো সম্ভব। আপনাকে এর জন্য শুধু ধৈর্য ধরতে হবে।

কিভাবে ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমানো যায় এর সাতটি টিপস দেয়া হলো-

১. স্বাস্থ্যকর নাশতা:  যেহেতু আপনি এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো ধরনের ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমাতে চান এর মানে এই না যে আপনি দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারটি খাবেন না। আপনি ডায়েটে থাকুন কিংবা নাই থাকুন অন্তত প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যকর নাশতা করবেন। প্রতিদিন সকালের নাশতায় প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখবেন, যা আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

২. অল্প খাওয়া: দিনে অল্প করে খেলে আপনার শরীরের অবাঞ্ছিত ওজন কমে যাবে। খাওয়ার সময় বড় প্লেটের বদলে ছোট প্লেটটি বাছাই করুন এবং আলু, পাস্তা, ভাত এর বদলে মাংস ও শাকসবজি বেশি করে খান। পরিমাণ মতো মাংস খেলে আপনার শরীরের ওজন বাড়বে না।

৩. কার্বোহাইড্রেট খাবার খাবেন না: ওজন কমানোর আরেকটি উপায় হলো সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট খাবার না খাওয়া। এই কাজটি হয়ত অনেকের কাছেই অনেক কঠিন মনে হবে, কিন্তু এটি বর্জন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া স্টার্চ এবং পরিশোধিত চিনি বর্জন করতে হবে। আপনাকে প্রোটিন জাতীয় খাওয়া খেতে হবে। যদিও এটি ওজন কমানোর কোনো সেরা কৌশল না কিন্তু এটি অনুসরণ করলে এক সপ্তাহের মধ্যে অবাঞ্ছিত ওজন কমে যাবে।

৪. পানি পান করুন: খাওয়ার আগে এবং পরে পানি পান করুন। এটি আপনার পেটকে ভরা রাখবে আর খাবার কম খেতে সাহায্য করবে। যদি আপনি প্রায় সময়ই বেশি করে খাবার খান এবং এটিই যদি আপনার ওজন বাড়ার প্রধান কারণ হয়ে থাকে তাহলে সব সময় আপনার খাওয়ার আগে বেশি করে পানি পান করবেন। পানি পান আপনার শরীরের শুধু ওজনই কমাবে না, এটি আপনার ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

৫. খাদ্য তালিকা তৈরি:  ওজন কমানোর আরেকটি উপায় হলো খাদ্য তালিকা তৈরি করা। এটি তৈরি করলে আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন আর কোন খাওয়াটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন তা দেখতে পাবেন। অনেকে মনে করে এটি কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না। কিন্তু এই জিনিসটা আসলে অবিশ্বাস্যভাবে কার্যকরি। এছাড়া এই তালিকাটি তৈরি করতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

৬. পরিমাণ মতো ঘুম: পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম সবার জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কারণ, যখন আমরা অনেক বেশি ক্লান্ত থাকি তখন আমাদের স্বাভাবিকভাবেই অনেক ক্ষুধা পায়। সুতরাং আমরা ব্যায়াম ছাড়াই অবাঞ্ছিত ওজন কমাতে চাইলে আমাদের রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। কারো ঘুম পর্যাপ্ত পরিমাণে না হলে দৌড়ানো, জগিং করাই তার জন্য ঠিক।

৭. ক্যালোরি গণনা করা: ওজন কমানোর জন্য খাদ্য তালিকার মতো ক্যালোরি গণনাও একটি কার্যকরি উপায়। আপনার ক্যালোরি কতখানি বার্ন হয়েছে তা প্রতিদিন দেখুন। এতে করে আপনি খাবার নিয়ে আরো বেশি সচেতন হবেন।

যখন ওজন কমানোর কথা আসে তখন সবার মাথায় যে জিনিসটা কাজ করে তা হলো ব্যায়াম। তবে উপরের উপায়গুলো কাজে লাগাতে পারলে আপনার ওজন এক সপ্তাহের মধ্যে কমাতে পারবেন।

সূত্র - নুতনবার্তা 


প্রাত্যহিক জীবনে আমরা এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করি যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সচেতনতার অভাবে আমরা বুঝতেও পারি না যে এসব অভ্যাস স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অথচ একটু সচেতন হলেই এসব অভ্যাসকে বিদায় জানিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি ক্ষতিকর অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

একনাগাড়ে বসে থাকা
আপনি যদি চাকরিজীবী হন তাহলে কাজের তাগিদে দীর্ঘক্ষণ অফিসের চেয়ারে বসে থাকতে হতে পারে। প্রতিদিন একনাগাড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাটা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। সুস্থ থাকতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে। একনাগাড়ে বসে না থেকে কাজে বিরতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। অফিস শেষে বাসায় ছুটে গিয়েই টিভি দেখতে বসে পড়ার অভ্যাস থাকলে সেটাও দূর করতে হবে।

ভারী ব্যায়াম শুরুর আগে হালকা ব্যায়াম না করা
শরীর ফিট রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে দৌড়াচ্ছেন কিংবা জিমে ঢুকেই ভারী ব্যায়াম শুরু করে দিচ্ছেন? সাবধান। হালকা ব্যায়াম না করে এসব করবেন না। ওয়ার্মআপ বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে আগে শরীরের মাংসপেশিকে উজ্জীবিত করে নিন। তারপর ভারী ব্যায়াম শুরু করুন। এতে করে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকবে এবং পরিশ্রম করার শক্তিও বেশি পাবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আগে হালকা ব্যায়াম করে নিলে
ভারী ব্যায়াম করার সময় চোট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

মাত্রাতিরিক্ত ঘুম
গভীর ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ঘুমালে তা আপনার শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন সাত থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমান উচিত। এর কমবেশি হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম দিলেও প্রতিদিন সকালে ওঠার সময় কি স্নুজ বোতাম চাপতে হচ্ছে আপনাকে? কিংবা অ্যালার্ম বন্ধ করে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন? এমন অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিন। প্রতিরাতে নিয়ম করে একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে একই সময়ে জেগে ওঠার অভ্যাস রপ্ত করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান না করা
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার চেয়ে ভালো অভ্যাস আর হতে পারে না। কিন্তু যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করেন, তাহলে শরীরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান থেকে বঞ্চিত করছেন আপনি। পর্যাপ্ত পানি পান না করার অভ্যাস থাকলে এখনই তাকে বিদায় জানান। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত।
হাসি দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করেঃ
 নেতিবাচক মনোভাব এবং মানসিক চাপের কারণে দেহে একধরণের কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন ঘটায় যা আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে তোলে এবং আমরা অসুস্থবোধ করি। কিন্তু প্রাণখোলা হাসি আমাদের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে তোলে। এতে করে আমাদের দেহ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে এবং আমরা সুস্থ থাকি। হাসলে

দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়ঃ
 আমরা যখন প্রাণখোলা হাসি হেসে থাকি তখন আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এতে দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে এবং মস্তিষ্কে ভালো ভাবে রক্ত সঞ্চালন হয় যা প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সচল এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হাসলে

ক্যালোরি ক্ষয় হয়ঃ 
 আমরা দেহের ক্যালোরি ক্ষয়ের জন্য কতো কিছুই না করে থাকি। কিন্তু আমরা জানিও না সারাদিনের প্রাণখোলা হাসি আমাদের ক্যালোরি ক্ষয় করতে কতোটা সহায়ক। মাত্র ১৫ মিনিটের প্রাণ খোলা হাসি আমাদের ২০-৪০ ক্যালোরি পর্যন্ত ক্ষয় করে।

 মানসিক চাপ মুক্ত করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায় হাসিঃ 
 মানসিক চাপ আমাদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়। কিন্তু হাসলে ‘এনডোরফিন’ নামক হরমোনের নিঃসরণ হয়, যা আপনার মস্তিষ্কে জাগায় ভাল লাগার অনুভূতি। এতে মানসিক চাপ দূর হয় এবং আমাদের হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরে আসে। সুতরাং প্রাণখুলে হাসুন।
মাথার চুল পড়ে যাওয়া আজকাল কমবেশি সকলেরই সমস্যা। চুল একবার পড়ে যাওয়ার পর নতুন করে চুল গজানো যেন অসম্ভব একটি ব্যাপার! তবে হ্যাঁ, এই অসম্ভবকে সম্ভব করারও আছে উপায়। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন রাতে ঘুমানোর আগে করুন একটি সহজ কাজ। এই কাজটি আপনার খালি হয়ে যাওয়া মাথায় নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আর এতে আপনার কাজে আসবে খুব সাধারণ অলিভ অয়েল ও রসুন! হ্যাঁ, রসুনেই গজাবে চুল!
রসুনে আছে উচ্চমাত্রার সালফার, ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম এবং হরেক রকম খনিজ উপাদান যারা নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত সহায়ক। রসুনে উপস্থিত কপার নতুন চুল গজায়, চুল কালো করে ও চুলকে ঘন করে। রসুনের ব্যবহারে চুলে কোন সাইড এফেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই।

কী করবেন?
আপনাকে করতে হবে দুটি কাজ। এক, রসুনের নির্যাস মেশানো অলিভ অয়েল তৈরি করতে হবে। এটা করার জন্য এক বোতল অলিভ অয়েলে কয়েক কোয়া রসুন ফেলে রাখুন সপ্তাহ খানেক। মোটামুটি ৭ দিন পার হয়ে গেলেই তৈরি আপনার তেল। মাথায় যখনই তেল দেবেন, এই তেলটি ব্যবহার করুন। চুল পড়া রোধ করতে ও মাথায় নতুন চুল গজাতে এই তেলটি অত্যন্ত সহায়ক।
এছাড়াও সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ বার করবেন এই কাজটি-
-কয়েক কোয়া রসুন নেবেন, এই রসুনের কোয়া একটু থেঁতলে নিয়ে চুল কমে যাওয়া স্থানগুলোতে ঘষে ঘষে লাগাবেন। আপনি চাইলে রসুনের রস বা রসুনের পেস্টও চুল কমে যাওয়া স্থানগুলোতে প্রয়োগ করতে পারেন।
-রসুন মাথায় লাগানোর পর এক ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন। তারপর অলিভ অয়েল দিয়ে মাথার ত্বক খুব ভালো করে ম্যাসাজ করে নেবেন।
-তারপর একটি শাওয়ার ক্যাপ বা পলিথিন মাথায় লাগিয়ে ঘুমাতে যান। কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা চুলে এই মিশ্রণ রাখবেন।
-সকালে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন।

টিপস-
-যদি রসুন দেয়ায় মাথায় জ্বলুনি হয়, তাহলে সাথে সাথে ধুয়ে ফেলুন মাথা। এবং আর কখনো ব্যবহার করবেন না।
সারা বিশ্বে আবাদ হওয়ার দিক থেকে ৪ নম্বরে রয়েছে যে সবজিটি, সেটি হলো শসা। শসার রয়েছে হরেক গুণ। রূপচর্চা ও মেদ নিয়ন্ত্রণসহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজির।
শসার হাজার গুণের মধ্যে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞরা। আসুন, একবার নজর বোলাই:

দেহের পানিশূন্যতা দূর করে ধরুন
আপনি এমন কোথাও আছেন, যেখানে হাতের কাছে পানি নেই, কিন্তু শসা আছে। বড়সড় একটা শসা চিবিয়ে খেয়ে নিন। পিপাসা মিটে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন চনমনে।কারণ, শসার ৯০ শতাংশই পানি।
দেহের ভেতর-বাইরের তাপ শোষক
কখনো কখনো আপনি শরীরের ভেতর-বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করেন। দেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এ অবস্থায় একটি শসা খেয়ে নিন।এ ছাড়া সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে ঘষে নিন। নিশ্চিত ফল পাবেন।
বিষাক্ততা দূর করে
শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা অদৃশ্য ঝাটার মতো কাজ করে। নিয়মিত শসা খাওয়ায় কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়।
প্রাত্যহিক ভিটামিনের শূন্যতা পূরণ করে
প্রতিদিন আমাদের দেহে যেসব ভিটামিনের দরকার হয়, তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান। ভিটামিন এ, বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়। সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শসা পিষে রস করে খেলে এই তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে।
ত্বকবান্ধব খনিজের সরবরাহকারী
শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে, যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ জন্য ত্বকের পরিচর্যায় গোসলের সময় শসা ব্যবহার করা হয়।
হজম ও ওজনহ্রাসে সহায়ক
শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ফলে যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করবে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা স্যুপ ও সালাদে বেশি বেশি শসা ব্যবহার করবেন। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয়।
চোখের জ্যোতি বাড়ায়
সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন।এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে।চোখের প্রদাহপ্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া ঠেকাতেও এটি কাজ করে।
ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে
শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল—এ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান আছে। জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এই তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি দেয়, কোলস্টেরল কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মুখ পরিষ্কার রাখে
দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করে। গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধা মিনিট রাখুন। শসার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস।
চুল ও নখ সতেজ করে
শসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে। এ ছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গেঁটেবাত থেকে মুক্তি
শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
মাথাধরা থেকে নিষ্কৃতি
ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথা ধরে। শরীর ম্যাজম্যাজ করে। শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক স্লাইস শসা খেয়ে নিলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর এ সমস্যা থাকবে না।
কিডনি সুস্থ রাখে
শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শসা। এতে কিডনি থাকে সুস্থ ও সতেজ।
১/ কাঁচা পেয়ারা হৃদ রোগের উপকার। 
২/ কাঁচা পেয়ারা লবন দিয়ে খান কাশের ভাল উপকার হবে। 
৩/ কাঁচা পেয়ারা রক্ত বর্ধক। 
৪/ পেয়ারা বাত পিত্ত কফ নাশক। 
৫/ শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য কাঁচা পেয়ারা অত্যন্ত উপকারী। 
৬/ যাদের হাতে পায়ে জ্বালা কাঁচা পেয়ারায় উপকার পাবেন। 
৭/ পেয়ারা পাতা দাঁতের মাড়ি ব্যথায় উপকার। 
৮/ তুলশি গিলই এবং পেয়ারা পাতা সেদ্ধ জল জ্বরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 
৯/ কাঁচা পেয়ারা আনন্দ দায়ক। 
১০/ নেশা মুক্তির জন্য কাঁচা পেয়ারার পাতা সেদ্ধ জল খাওয়ান।
- গরম পানিতে গোসল ত্যাগ করা উচিত। 
- প্রচুর পানি পান করুন। 
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন। 
- চুল ট্রিম করুন। 
- হেয়ার ম্যাসাজ করুন। 
- জেনেটিক, হরমোন পরিবর্তন বা মা হওয়ার পর চুল পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভেজা চুলে চিরুনি দেবেন না। 
- গোড়া শক্ত করে সব সময় চুল বাঁধবেন না। 
- চুল পড়তে থাকলে চুলে তেল দেয়া বন্ধ করুন। 
- আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ করুন, সবুজ এবং হলুদ সবজি ও ফল বেশি করে খান। 
- প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের সাদা অংশ, ভেড়ার মাংস, সয়াবিন, পনির, দুধ এবং দই চুলের জন্য উপকারী। 
- চুলে হিট দিলে তা চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই হিট বন্ধ করুন। 
- সূর্যের তাপ পরিহার করুন। 
- মাথার চামড়ার ওপর নরম ম্যাসাজ চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়ায়, যা চুলের জন্য ভালো। 
- চুল অতিরিক্ত আঁচড়াবেন না। 
- চিকন হওয়ার জন্য অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল চুলের জন্য ক্ষতিকর। 
- ধূমপান চুলের জন্যও ক্ষতিকর। 
- ভিটামিন সি, ই এবং বিটা ক্যারোটিন চুলের জন্য ভালো। 
- মেডিটেশন এবং যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়, যা চুলের জন্যও ভালো। 
- কুমড়োর বিচি ফাইটোস্ট্রোজেনের উৎস, যা চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। এক চা-চামচ করে সপ্তাহে তিন চামচ বেটে চুলে দিলে এক্ষেত্রে কার্যকর হবে। 
- কন্ডিশনার কেবল ত্বকের ওপর নয়, চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট রেখে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
- চিরুনির ফাঁক হওয়া উচিত বড়। ঘন দাঁতওয়ালা চিরুনি ব্যবহার করা উচিত নয়। 
- কালারিং, সোজাকরণ ইত্যাদি একসঙ্গে করা উচিত নয়। 
- উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত জাঙ্ক ফুডে চুল শক্ত হলেও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- চুলকে কিছু বিশ্রাম দেয়া উচিত। তাকে হাওয়ায় উড়তে দিন ইচ্ছামতো।
১. এক গ্লাস পানি ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে যদি আপনি পানকরেন, তবে শরীরের সমস্তঅঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়ে যায়। 
২. এক গ্লাস পানি যদি আপনি খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পান করেন তবে এটা খাবার হজমে সাহায্যকরবে বেশি। 
৩. এক গ্লাস পানি গোসলের আগমুহূর্তে আপনি পান করলে এটা আপনাকে উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। 
৪. এক গ্লাস পানি ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে যদি পান করেন তবে আপনাকেহৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
১. কাজ করুন, বাদাম খান

 গবেষকরা ওগুলোর নামই দিয়েছেন আলফা-নাটস। যাতে আলফা লিনোলেনিক এসিড থাকে। এটি এক ধরনের ওমেগা-৩ ফ্যাট যা শরীরের অভ্যন্তরে প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে। বাদাম এক ধরনের এন্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরে গ্লুকোজকে শক্তিতে পরিণত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিক বাটকাস হার্ট অ্যান্ড ভাসকুলার স্ক্রিনিং সেন্টারের পরিচালক ড. ল্যারি স্যানটোরা তার গবেষণা থেকে এই মত দিয়েছেন। আর ইয়েলের গবেষকরা বলছেন, প্রতি আধাবেলা আধা কাপ বাদাম আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সতেজ রাখবে।
২. নাড়িস্পন্দন মেপে রাখুন

ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছেড়ে স্লিপারে পা গলানোর আগে নাড়ির স্পন্দন মেপে নিন। আর তা অভ্যাসে পরিণত করুন। দেখুন প্রতি মিনিটে কতবার স্পন্দিত হচ্ছে আপনার নাড়ি। এই পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড রাউন্ডসের ভাইস চেয়ারম্যান কার্ডিওথোরাকিক সার্জন ড. পিয়েরে থিওডোরের। আপনি স্বাস্থ্যবান হলে আপর স্পন্দন হবে ৭০ বা তার কম বিপিএম (বিট পার মিনিট)।যদি দেখতে পান মাত্রা এর চেয়ে বেশি তাহলে দ্রুত ডাক্তার ডাকুন। 
৩. ভালোবাসুন অন্তত দুবার

মাসে যেসব পুরুষ মাত্র একবার কিংবা তারও কম সঙ্গম করছেন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই ঝুঁকি, যারা সপ্তাহে দুই কিংবা তিনবার মিলিত হচ্ছেন তাদের ৪৫ ভাগ কম। আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওলজি এই তথ্য দিচ্ছে। আপনার হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় যৌনমিলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. বিষাক্ত বাতাসে যাবেন না

দুষিত, ধুলোময় বাতাস শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকে আপনার আরটারির দেয়াল পুরু করে দিতে পারে। পরবর্তীতে সেটাই আপনার হার্ট অ্যাটাকের কারণ হবে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ কথা বলেছেন।
৫. শিম, মটরশুঁটি কিনুন

আলুর প্লেট সরিয়ে দিয়ে শিম-মটরশুঁটির দিকে চামচ বাড়িয়ে দিন। ওগুলো আঁশ-সম্মৃদ্ধ খাবার। আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিন’র একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা দিনে আধাকাপ আঁশ-সম্মৃদ্ধ মসুর-মটরশুটি-কলাই খাচ্ছেন তাদের রক্তচাপ ৪এমএম পর্যন্ত কমে যায়। গবেষকরা তাই সালাদে কালো শিম, যেকোনো তরকারিতে মসুরের ডাল কিংবা মাসকলাই ঢেলে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
৬. দৌড়ান প্রতিদিন

সপ্তাহে কোন না কোন শারীরিক কসরত অবশ্যই করুন। হতে পারে তিন কিলোমিটার দৌড়‍ানো। এই সময় ও দুরত্ব ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিন। কোনো ধরনের বড় পরিবর্তন দেখলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। যেমন ধরুন আপনার হৃদযন্ত্রের ধুকপুকানির মাত্রা যদি দৌড়ের পর ১৮৫ বিপিএম হয় তা কিন্তু আপনার জন্য একটি সিগন্যাল। হতে পারে আপনার আর্টারির দেয়ালে স্তর জমেছে নয়তো হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে, এই মত ড. থিওডরের।
৭. শ্বাস নিন টেনে টেনে
থামুন-ধীর শ্বাস নিন। প্রতি ৩০ সেকেন্ডে ৫ বার শ্বাস নিন। এতে আপনার সিসকোলিক রক্তচাপ কমবে মিনিটে অন্তত ৪এমএমএইচজি মাত্রায়। এটিও হাইপারটেনশন রিসার্চ’র গবেষণালব্দ তথ্য। যদি আপনি ক্রমাগত এমন গভীরভাবে শ্বাসগ্রহণ করতে পারেন আপনার রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৮. কাজকে ঘাতক বানাবেন না

আপনার কাজকে আপনার ঘাতক হতে দেবেন ‍না। কাজের পরিশ্রান্তি আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাইকোসোমেটিক মেডিসিনের একটি গবেষণায় বিষয়টি দেখানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে মানুষগুলো কাজের কারণে পরিশ্রান্ত হয়ে থাকেন তারা হৃদযন্ত্রের জন্য সপ্তাহে দুই বা তিন দিন অনুশীলন করেও ৫৭ ভাগ কম সুবিধা পান।
৯. সর্দি-কাশিকে বিদায় দিন

সর্দি-কাশির জন্য যে ভ্যাকসিন নিচ্ছিন তা কেবল ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তা-ই নয়, এতে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। হার্ট জার্নালে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। হতে পারে, এর কারণ হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে কেবল প্রতিষেধক হিসেবেই কাজ করে না এতে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে যা আর্টারিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
১০. ঘুম করুন নিরবচ্ছিন্ন

ঘুম যাদের নির্বিঘ্ন তাদের চেয়ে ইনসমনিয়ায় ভুগছেন এমন রোগীর হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি ৪৫ শতাংশ বেশি। নরওয়ের একটি গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন মাত্র ৩০ মিনিট করে শারীরিক কসরত আপনার ঘুম বাড়িয়ে দিতে পারে। অনুশীলন করেই ফল পেতে চাইবেন না। ধৈর্য ধরুন। ফল পেতে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে, বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।
১১. কিন্তু বেশি ঘুমাবেন না

বেশি বা অতিরিক্ত ঘুমেও হতে পারে একই সমস্যা। যারা রাতে ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুমান তারা হৃদরোগের ঝুঁকিই বাড়িয়ে দেন, স্লিপ জার্নালে সে কথাই বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বেশি ঘুমালে ওজন বেড়ে যায়, মানসিক স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। দিনে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার ঘুমেও যদি পরিতৃপ্তি না আসে শিগগিরই ডাক্তারের কাছে যান।
১২. অশোষণীয় চর্বি খাবেন না

অশোষনীয় (আনস্যাচুরেটেড) চর্বি গ্রহণের পরিমান বছরে ১ শতাংশ কমাতে পারলেও আপনি শরীর থেকে ক্ষতিকর এলডিএল কলেস্টেরল উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারবেন। এই কলেস্টেরল আপনাকে হৃদরোগের ঝুঁকিতে রাখে। তবে খাদ্যদ্রব্য থেকেই এখন এ ধরনের চর্বি বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে সেগুলো একেবারে চলে যায়নি। অতএক খাবার কেনার সময় লেবেলে লেখাগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
১৩. খান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
 
যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন শরীরে অতিরিক্ত এক হাজার মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ব্লাড প্রেসার কমায়। তাই খান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। একটি কলায় আছে ৪২০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়া মিষ্টি আলু এবং মাছেও আছে যথেষ্ট পটাশিয়াম।
১৪. শরীরে লাগান সূর্যের আলো
 
কটল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, ২০ মিনিট সূর্য স্নান করলে সূর্যের অতি বেগুনী আলো শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বাড়ায় যা উচ্চ রক্তচাপ কমায়। সপ্তাহে দুই বার দশ মিনিট করে গায়ে সূর্যের আলো লাগানো যেতে পারে। তবে সূর্যের আলোতে অ্যালার্জি থাকলে কিংবা ত্বকের ক্যানসার থাকলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১৫. নীরব পরিবেশে থাকুন
 
ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শব্দ দূষণ প্রতি দশ ডেসিবল বৃদ্ধিতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে দশ শতাংশ করে। যদি আশপাশের পরিবেশ কোলাহলপূর্ণ হয় তবে প্রয়োজনে ঘুমানোর সময় এয়ারপ্লাগ ব্যবহার করে ঘুমান।
১৬. কুকুর হোক পোষ্য
 
গবেষণায় দেখা গেছে যারা কুকুর পালেন এবং তাদের নিয়ে হাঁটতে বের হন তাদের ব্লাড প্রেসার যারা কুকুর পালেন না তাদের থেকে কম। কুকুরকে হাঁটানোর কারণে কুকুরের মালিকেরও ব্যায়াম হয়ে যায়।
১৭. নিয়মিত সকালের নাশতা করুন

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যারা সকালের নাশতা এড়িয়ে যান তাদের হার্টের অসুখের হার ২৭ শতাংশ বেশি। সকালের নাস্তা না খাওয়ার ফলে রক্তে ব্লাড সুগারের অনিয়মিত ওঠানামাই এর জন্য দায়ী।
১৮. এনার্জি ড্রিংক ছুঁড়ে ফেলুন

এনার্জি ড্রিংক পরিত্যাগ করুন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের গবেষণায় দেখা গেছে এসব ক্যাফেইন সমৃদ্ধ এনার্জি ড্রিংক সুস্থ মানুষেরও ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে তুলতে পারে।
১৯. দুধ খান পরিমিত
 ফরাসি গবেষকরা দেখেছেন দুধের ক্যালসিয়াম কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। তাই ফ্যাটবিহীন দুধ খাওয়া যেতে পারে পরিমিত পরিমাণে।
২০. ভারী ব্যায়াম নয়

হালকা শারীরিক ব্যায়াম রক্তের এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়ায়। তবে ভারী ব্যায়াম যেমন ভারউত্তোলন ইত্যাদি কম করাই ভালো। কারণ এটি রক্তে এইচডিএল কমিয়ে দেয়।
২১. মেতে থাকুন নাচ-গানে

একদল সুইডিশ গবেষকের মতে, যারা একসঙ্গে গান গেয়ে থাকেন তাদের হৃদস্পন্দনের পরিবর্তনশীলতা বা কম্পনের মধ্যে ব্যবধানের মাত্রা অন্যদের চেয়ে ভালো থাকে। হৃদযন্ত্রের বেশি বেশি কম্পন হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
২২. মসলা খান বেশি বেশি

একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, দারুচিনির মতো মসলাগুলোকে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও এটা কিন্তু ওষুধের মতো কাজ করে। খাবারের সঙ্গে দুই চা চামচ দারুচিনি খাবার পরবর্তী রক্তে চিনির ঢেউ দমিয়ে দিতে পারে।
২৩. দলভুক্ত থাকুন

ফিনল্যান্ডের একদল গবেষক বলেন, বিবাহিত পুরুষের চেয়ে অবিবাহিত পুরুষ ১৬৮ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ভোগেন। অতএব, দলভুক্ত হয়ে বসবাসের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একান্নবর্তী পরিবারের লোকজনই হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুঝুঁকিতে কম থাকেন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ অটুট রেখেও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।
২৪. সালাদে সস খাওয়া বন্ধ করুন
 
ব্লাড প্রেসার ডাউন’র লেখক জ্যানেট বন্ড ব্রিলের মতে, সালাদে দুই ‍চা চামচ চিনি রক্তে চিনি ও এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তবে সালাদে জলপাই তেল, সিরকা ও লেবুর রস মেশানো যেতে পারে।
২৫. বাধাকপি খান বেশি

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, সপ্তাহে মাত্র একটি বাধাকপি খাওয়া লোকটির চেয়ে প্রত্যহ দেড়টি সবুজ বাধাকপি খাওয়া লোকটির হৃদরোগের ঝুঁকি ১২ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২৬. থাকুন হাস্যোজ্জ্বল
 
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, হাসিখুশি থাকলে মানসিক চাপ ও প্রদাহ কমে যাওয়ার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়।
২৭. ক্ষিপ্র গতি নয়


হৃদরোগ কমাতে দৌঁড়াদৌঁড়ি কিংবা বাইসাইকেল ভ্রমণে পরামর্শ দিয়েছেন কানাডিয়ান গবেষকরা। তবে তা ক্ষিপ্র গতিতে নয়। পাঁচ মিনিট ওয়ার্ম আপ করে তবে সাইকেল চালাতে শুরু করুন। ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড দ্রুত প্যাডেল চালান এরপর আবার একই পরিমান সময় নিন ধীর গতির প্যাডেলিংয়ে। এভাবে ১০মিনিট চালিয়ে চার মিনিটের বিরতি নিন। আবার চালান। এতে আপনার লিপিডের অনুপাত বাড়বে।
২৮. হাতের মুঠো সচল রাখুন
 হাতের মুঠো সচল রাখার চার সপ্তাহের একটি ছোট্ট অনুশীলন আপনার রক্তচাপ ১০ ভাগ কমিয়ে দিতে পারে। হাইপারটেনশন জার্নালে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন মুষ্ঠী সঞ্চালনের এই অনুশীলন আপনাকে চাপমুক্ত রাখে, এতে রক্তসঞ্চালন বেড়ে যায়। দুই হাতে চারবার দুই মিনিট করে কব্জির এই অনুশীলনটি নিয়মিত করুন। প্রতিবার শুরু করার আগে এক মিনিট জিরিয়ে নিতে হবে।
২৯. ডিমে ক্ষতি নেই, উপকারী 


যারা ভাবতেন ডিমে ক্ষতিকর কলস্টেরল এলডিএল বেড়ে যায় তারা ভুল করছেন। ব্রাজিলের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে ডিম খেলে হৃদযন্ত্রের আর্টারিগুলো পরিস্কার হয়ে যায়। ডিমের কুসুমে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন ই, বি১২ এবং ফোলেট রয়েছে। দিনে চারটি পর্যন্ত ডিম খাওয়া যেতে পারে বলেই গবেষকদের মত। তবে ক্যালোরির কথা মাথায় রেখে এর বেশি না খাওয়ারই পরামর্শ তাদের।
৩০. নিজেকে স্বাস্থ্যবান করে গড়ে তুলুন 
ফিনল্যান্ডের একদল গবেষক বলেন, বেটা-ক্যারোটিনে সর্বনিম্ন রক্তের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অপরদিকে বেটা-ক্যারোটিনে সর্বোচ্চ রক্তের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
নিজেকে ভালো রাখতে, যৌবন ধরে রাখতে কতই না চেষ্টা আমাদের। আসুন জেনে নেওয়া যাক, নিজেকে ভালো রাখার কিছু টিপস। 
১. হাসতে গিয়েও হাসতে পারছেন না? একটু সরিষার তেল এবং লবন মিশিয়ে দাঁতে লাগান, দাঁত হবে ঝকঝকে সাদা আর মজবুত। 
২. নিজকে কিছুটা স্বাধীনতা দিন! খালি পায়ে দৌঁড়াতে ভাল লাগে? এটি আপনার পা কে শক্তিশালী এবং সচল করে। 
৩. জ্বর হলে বেশি করে পানীয় এবং ফলের রস যেমন, বেদানা বা কমলার রস খান। 
৪. খাওয়ায় অরুচি ও ক্ষধা মন্দা হলে ১-৩ গ্রাম আদা খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে কুচিয়ে নিন এবং তার সাথে লবন এবং কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে ৭-৮ দিন খান। 
৫. মধু খাওয়ায় সতর্কতা। 
নিন্ম লিখিত খাবারের সাথে মধু খাওয়া যাবে না: 
ক) মধুর সাথে কোন গরম খাবার। 
খ) সমান মাত্রায় মধু এবং ঘি। 
গ) মধু ও ঘোল। 
ঘ) মধু ও খিচুরী।
ছোট ছোট হালকা সবুজ রঙের আমলকি ফলটি নিশ্চয়ই সবাই চেনেন তাই না? খেতে একটু ভিন্ন ধরণের স্বাদ বলে অনেকেই এই ফলটি পছন্দ করেন না। আবার অনেকে বেশ পছন্দ করেই খেয়ে থাকেন আমলকি। এই ফলের মজার একটি বৈশিষ্ট্যও আছে। আর তা হলো চিবিয়ে খাওয়ার সময় কিছুটা টক ও তেতো লাগলেও এই ফলটি খেয়ে পানি খেলে মিষ্টি লাগে।
আমলকীর ৫ টি স্বাস্থ্য উপকারীতা ছোট ছোট হালকা সবুজ রঙের আমলকি ফলটি নিশ্চয়ই সবাই চেনেন তাই না? খেতে একটু ভিন্ন ধরণের স্বাদ বলে অনেকেই এই ফলটি পছন্দ করেন না। আবার অনেকে বেশ পছন্দ করেই খেয়ে থাকেন আমলকি। এই ফলের মজার একটি বৈশিষ্ট্যও আছে। আর তা হলো চিবিয়ে খাওয়ার সময় কিছুটা টক ও তেতো লাগলেও এই ফলটি খেয়ে পানি খেলে মিষ্টি লাগে।
স্বাস্থ্য ও রূপ চর্চায় আমলকির কোনো তুলনা নেই। আমলকি তে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। তাই শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করে আমলকি।
প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে আছে পানি- ৯১.৪ গ্রাম, খনিজ -০.৭ গ্রাম, প্রোটিন – ০.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম – ৩৪.০ মিগ্রা, আয়রণ – ১.২ মিগ্রা, ভিটামিন বি১-১০.০২ মিগ্রা, ভিটামিন বি২-২০.০৮ মিগ্রা, ভিটামিন সি-৪৬৩ মিগ্রা।
 আসুন জেনে নেয়া যাক আমলকির ৫টি স্বাস্থ্য উপকারীতা -

হজমে সহায়তা করে
আমলকি তে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। আমলকির টক ও তেতো স্বাদ মুখের লালা বাড়িয়ে হজমে সহায়ক এনজাইম কে সক্রিয় করে। আমলকির রস পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও যাদের এসিডিটির সমস্যা আছে তারা আমলকি খেলে উপকার পাবেন। তাই হজমের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা নিয়মিত অন্তত একটি করে আমলকি খান।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
নিয়মিত আমলকি খেলে রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কম চিনি এবং প্রচুর ফাইবার যুক্ত খাবার ভালো। আমলকিতে চিনি নেই বললেই চলে এবং এতে উচ্চ মাত্রার ফাইবার আছে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আমলকি একটি আদর্শ খাবার। তাই যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না তারা নিয়মিত আমলকির রস খান।

ত্বক ভালো রাখে
আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি আছে। আমলকি ত্বককে মসৃন ও সুন্দর করে তোলে। এছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও আমলকি ভূমিকা রাখে। নিয়মিত আমলকি খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। ফলে ব্রণ কিংবা অন্যান্য ত্বকের সমস্যাও কমে। বয়সের কারণে বলিরেখা ঠেকাতেও আমলকি বেশ কার্যকরী।

কোলেস্টেরল কমায়
আমলকিতে ভিটামিন সি, এমিনো এসিড ও পেকটিন আছে। পেকটিন রক্তের থেকে কোলেস্টেরল সিরাম কমায় এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও নিয়মিত আমলকি খেলে রক্তের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। আমলকি রক্ত নালীতে চর্বি জমতেও বাঁধা দেয়। নিয়মিত আমলকি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ট্রাইগ্লিসারিডের মাত্রা কমে যায়। ফলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের বৃদ্ধি কমায়। এছাড়াও আমলকি শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে রক্ত বিশুদ্ধ করে। তাই নিয়মিত আমলকি খেলে ত্বক ও পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।
কোন খাবারটি খাওয়া উচিৎ এবং কোন খাবারটি উচিৎ নয় তা নিয়ে ছেলে মানুষ একটু কমই মাথা ঘামিয়ে থকেন। বিশেষ করে যখন তার খাবারের প্রতি খেয়াল রাখার মতো কেউ না থাকেন। অনেক পুরুষই কাজের কারণে এবং জীবনের প্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে থাকেন বেশীরভাগ সময়। সে সময় যদি বুঝে শুনে না খান তবে এতে শরীরের ক্ষতি হয় অনেক বেশি। বাইরে খাবারের কারণে সে সমস্যায় ভুগতে বেশি দেখা যায় তা হলো গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার। এই সকল ঝামেলা এড়াতে অবশ্যই বুঝে শুনে খাবার খাওয়া উচিৎ। সুস্থ থাকতে হলে কিছুটা ঝামেলা করে হলেও তৈরি করা উচিৎ ভালো খাদ্যাভ্যাসের। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক এমনই ৫ টি খাবার যা নিয়মিত খাওয়া উচিৎ সকল পুরুষের।

টমেটো
টমেটোকে সুপারফুড বলা হয়ে থাকে। টমেটোর অনেক পুস্টিগুনের জন্যই করা হয়েছে এই নামকরণ। টমেটোতে রয়েছে ‘লাইকোপিন’। লাইকোপিন কলোরেক্টাল ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সার, হৃদপিণ্ডের সমস্যা এবং দেহের কলেস্টোরল কমাতে বেশ সহায়ক একটি সবজি। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই টমেটো রাখা উচিৎ।  

গোটা শস্য
লাল চাল, ওটস এবং গমের আটা জাতীয় গোটা শস্য স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাদ্য। এই সকল গোটা শস্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিলারেল, ফোলাইট, বায়োটিন এবং ফাইবার। এই সকল শস্যের ভিটামিন বি বিষণ্ণতা দূর করতে এবং বায়োটিন চুল পরা রোধে বেশ কার্যকর। এছাড়াও গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে ফোলাইট পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখে।  
রসুন
কাঁচা রসুন খাওয়ার কথা অনেকেই ভাবতে পারেন না। বিশেষ করে ছেলেরা তো এই জিনিসটি একেবারেই অপছন্দ করেন। কিন্তু প্রতিদিন কাঁচা রসুন খেলে পুরুষেরা হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন। কারণ কাঁচা রসুন দেহের কলেস্টোরলের মাত্রা কমায়।  

ব্রকলি
ব্রকলিও অনেকের কাছে বেশ অপছন্দের একটি খাবার। কিন্তু ব্রকলি এবং ব্রকলি জাতীয় খাবার যেমন, পাতাকপি, বাঁধাকপি, অঙ্কুরিত সিমের বীচি ইত্যাদিতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধকারী উপাদান ‘সালফোরাফেইন’। এই উপাদানটি পুরুষদের দেহে মুত্রথলির ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সার এবং কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।  

ডিম
 পুরুষেরা বেশীরভাগ সময় চুল পরে যাওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন। এবং পুরুষদের মাথাতেই টাকের সমস্যা বেশি দেখা যায়। ডিম এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে। ডিমের উচ্চ মাত্রার প্রোটিন চুল পরা রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ডিমের কুসুম দেহে আয়রনের অভাব পূরণে সাহায্য করে।
শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য আমরা ব্যায়াম করে থাকি হরহামেশাই। এছাড়াও শরীরকে ক্ষতির হাত থেকে দূরে রাখার জন্যেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকি আমরা। গভীর শ্বাস নেওয়া, মেরুদণ্ড সোজা করে বসা, যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করে- এসব অভ্যাসের ফলে আমরা নিজেদের শরীরের উপকার করছি একটু একটু করে। কিন্তু এমন কি কোনো কাজ বা অভ্যাস আছে, যা আমাদের মনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে? আমাদের সারা শরীরের সাথেই সংযোগ আছে মস্তিষ্কের। শরীরের স্নায়ুতন্ত্র থেকে আসা বিভিন্ন সিগন্যাল মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এমন কিছু অভ্যাস আছে যা শরীরের পাশাপাশি আপনার মনকেও ভালো রাখতে সাহায্য করবে। হাসুন কারণে-অকারণে হাসি আমাদের মস্তিষ্ককে তরতাজা রাখে। খুব দুশ্চিন্তায় থাকা অবস্থাতেও জোর করে মুখে হাসি টেনে আনলে মনের ওপর থেকে অনেকটা চাপ সরে যায়। শুধুমাত্র মুখটা হাসি হাসি করে রাখলেই চলবে। এউ ছোট্ট ব্যায়ামটা মনের মাঝ থেকে কমিয়ে দেবে স্ট্রেস।
 ছড়িয়ে দিন দু-হাত
কিছু কিছু ভঙ্গিমা মনের মাঝে তৈরি করে শক্তির অনুভূতি। গবেষণায় দেখা যায়, শরীরকে ছড়িয়ে দেওয়ার এমন ভঙ্গিমা হরমোনের পরিমাণেও পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এতে সেই মানুষটি হয়ে ওঠে আরো আত্মবিশ্বাসী এবং ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক। দু-দিকে হাত ছড়িয়ে দেবার এই ভঙ্গিমা যদিও অনেকের কাছে পুরুষালী মনে হয়, কিন্তু এই ভঙ্গিমা নারীর মনেও শক্তি সঞ্চার করতে একইভাবে কার্যকরী। 
ছোট্ট ঘুমে হয়ে উঠুন বুদ্ধিমান 
অনেকেই আছেন যারা রাত্রেই কেবল ঘুমিয়ে থাকেন, সারাদিন আর ঘুমানোর ফুরসত পান না বা ঘুমাতে চান না। দিনের বেলায় ঘুমানোর ব্যাপারটাকে আলসেমি মনে করেন অনেক সময়ে। ছোট্ট একটু ঘুমানোর এই অভ্যাস কিন্তু মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এই ঘুমে শুধু যে আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্ক একটু বিশ্রাম পায় তাই নয়, এর পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, শিক্ষা গ্রহণের ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায়।
 বসুন ধ্যানের ভঙ্গিমায় 
অনেকে মনে করেন ধ্যানের মাধ্যমে মনের প্রশান্তি আনার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি জটিল। এটা কিন্তু তেমন জটিল নয়। গবেষণায় দেখা গেছে শুধুমাত্র ধ্যানের ভঙ্গিমায় বসে গভীর নিশ্বাস নিলেও মনের অনেক উপকার হয়। সম্ভবত নির্দিষ্ট এই ভঙ্গিমা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কারণেই মস্তিষ্কের এমন উপকার হয়।
স্মৃতিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন এরকম মানুষের সংখ্যা যেন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। হঠাৎ করেই দরকারী কথাটা ভুলে যাওয়া কিংবা চাবি, মোবাইল, ঘড়ি কোথায় রাখা আছে মনে করতে না পারা, একটি কাজ করা হয়েছে কি করা হয়নি সেটা চট করে মাথায় না আসা ইত্যাদি। এই সামান্য ভুলে যাওয়া থেকে স্মৃতিবিভ্রমের মতো অনেক মারাত্মক কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়ার জন্য আমরা ভুক্তভোগীদেরও কিছু ভুল থাকে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেই ভুলগুলো।

বিষণ্ণতায় ভোগা
নানা কারণেই অনেককে বিষণ্ণতায় ভোগেন। বিষণ্ণতা মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে করে ধীরে ধীরে কমে যায় স্মৃতিশক্তি। তাই বিষণ্ণ থাকবেন না। নিজেকে আনন্দে রাখুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

মানসিক দ্বন্দ্ব
বিভিন্ন কারণে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই মানসিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি। কোনো একটি কাজ করা উচিত হবে কি হবে না, কে কী ভাববে ইত্যাদি ধরনের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। মানসিক দ্বন্দ্বে থাকলে আমাদের মস্তিস্কের নিউরন ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। এতে করে মস্তিস্ক স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। দুর্বল হতে থাকে আমাদের স্মৃতিশক্তি।

আবেগ আড়াল করা
অনেকেই আছেন যারা বেশ চাপা স্বভাবের হয়ে থাকেন। সহজে নিজের আবেগ এবং মনে ভাব প্রকাশ করতে পারেন না। এ ধরনের মানুষদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। মানুষের মস্তিষ্কের ডান অংশ আবেগ এবং বাম অংশ যুক্তি নিয়ে কাজ করে। দুটো অংশ সমান কাজ করলে আমরা স্বাভাবিক থাকি। কিন্তু একটি অংশের কর্মক্ষমতা কম হলে আমাদের মস্তিষ্কে বেশ চাপ পড়ে। এতে করে মস্তিস্ক স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায় বলে দুর্বল হতে থাকে আমাদের স্মৃতিশক্তি।

মাদক, ধূমপান এবং মদ্যপান
মাদক, ধূমপান এবং মদ্যপান এই তিনটিই স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়ার জন্য সমানভাবে দায়ী। নিকোটিন ও অ্যালকোহল আমাদের মস্তিষ্কের সাধারণ কর্মক্ষমতা এবং স্বাভাবিক চিন্তা করার শক্তি নষ্ট করে দেয়। যারা নিয়মিত মাদক গ্রহণ, ধূমপান ও মদ্যপান করেন তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।

ঘুম কম হওয়া
কাজের ব্যস্ততায় বা অতিমাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহার কিংবা মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে কেউ কেউ কম ঘুমান যা পরবর্তীতে অনিদ্রা রোগে পরিণত হয়। ঘুম কম হওয়া এবং না হওয়ার কারণে ওপর একটি মারাত্মক প্রভাব হলো স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া। মানুষ যখন ঘুমান তখন তার মস্তিষ্কে নতুন নিউরনের সৃষ্টি হয় যা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সঠিক রাখে। কিন্তু ঘুম কম বা না হলে মস্তিস্ক তা করতে পারে না ফলে আমাদের স্মৃতিশক্তি দিনের পর দিন দুর্বল হতে থাকে।

- See more at: http://www.bd-pratidin.com/
প্রথম তিন মাস : প্রস্রাব বা রক্ত পরীক্ষায় যদি বোঝা যায় আপনি সন্তানসম্ভবা তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এ সময় অনেকের বমির ভাব হয়, বমিও হয়। এতে ঘাবড়ানো কিছু নেই। অনেকের খাবারে অরুচি তৈরি হয় বা নতুন কোনো খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এ সময় ফলিক এসিড সেবনে বাচ্চার মস্তিষ্ক সুগঠিত হয়।

তিন থেকে পাঁচ মাস : প্রথম তিন মাসে যেমন খারাপ লেগেছিল শরীর তার অনেকটাই এ সময় দূর হয়ে যাবে। আরামদায়ক ঢিলেঢালা কাপড় পরুন। মজার ব্যাপার হলো, এ সময় বুঝতে পারবেন আপনার বাচ্চা পেটের মধ্যে নড়াচড়া করছে। আস্তে আস্তে বাচ্চার নড়াচড়া আরও স্পষ্ট হয়।

পাঁচ থেকে সাত মাস : এ সময় আপনার পেট দ্রুত বাড়তে থাকবে এবং বাহ্যত দৃশ্যমান হবে আপনি গর্ভবতী। আগের চেয়ে ক্ষুধা বেড়ে যাবে। এ সময় সুষম খাবার খেতে হবে। যেমন- রুটি, আলু, ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পানির, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, শস্য জাতীয় খাবার ইত্যাদি। এক কথায় সহজে হজম হয় এমন খাবার খাবেন। বেশি তেল চর্বিযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া পরিহার করুন। সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, টমেটো, লেবু, আমলকী, বাদাম ক্যালসিয়াম ও আয়রনের অভাব পূরণ করে।

সাত থেকে আট মাস : ভাবতে শুরু করুন আপনার বাচ্চার জন্য আপনি কি কি করতে চান। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করুনআপনার আরও সন্তান থাকলে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। একই রক্তের গ্রুপসম্পন্ন বন্ধু বা আত্মীয় ঠিক রাখুন যিনি প্রয়োজনে রক্ত দিতে পারবেন। হাঁটহাঁটি সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম।

আট থেকে নয় মাস : যদি হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করান তবে আগে থেকেই কাপড়-চোপড়, টাকা-পয়সা, সেবাদানকারীর ব্যবস্থা করে রাখুন। প্রসবব্যথা ওঠার আগে প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ মনে হয়। তাই এ সময় এমন কিছু করুন যেন একঘেয়েমি না লাগে। তলপেট শক্ত, কোমরের ব্যথা সামনে তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়া, বারবার ব্যথা ওঠা, পানি ভাঙা, রক্তমিশ্রিত প্রসাব বের হওয়া প্রসব বেদনার লক্ষণ।

গর্ভাবস্থার কিছু সাধারণ সমস্যা ও করণীয়

গর্ভাবস্থায় সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীরকে প্রচুর কাজ করতে হয়। কিছু পরিবর্তন আপনার কাছে অসুবিধাজনক মনে হতে পারে। যদি কোনো সমস্যা মারাত্দক হয়ে দেখা দেয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বমিভাব : বমি ভাব প্রথম দিকের একটি সাধারণ সমস্যা, তবে কেউ কেউ এতে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কোমর ও পেটে ব্যথা : বাচ্চা প্রসবে সহায়তার জন্য হাড়জোড়া ও মাংসপেশিগুলো এ সময় শিথিল হতে থাকে। এছাড়া মায়ের বহনকারী বাচ্চার ওজন এ ব্যথার কারণ। এ সময় ভারী কাজ ও ঝুঁকে কাজ করার প্রবণতা পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
* হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ কারণে শাকসবজি ও প্রচুর পানীয় খেতে হবে।
* শরীরে পানি জমার কারণে গায়ের গিটা বা পা ফোলে। নানা কারণে এ পানি জমতে পারে।
* মাংসপেশির সঙ্কোচনের ফলে এক ধরনের টাটানো ব্যথা হয়। এটি সাধারণত ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে ঘটে। ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট সেবনে এর প্রকোপ কমে যায়।
* পেটের আকৃতি বেড়ে যাওয়ার কারণে বদহজম বা বুক জ্বালা হয়। বুক জ্বালার পাশাপাশি অনেক সময় পাঁজরেও ব্যথা হতে পারে।
* এ সময় অনেক মহিলার মাথা ব্যথা হয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা কালো হতে পারে।

লেখক : গাইনোকলজিস্ট, ডা. পূরবী'স হেল্প ডেস্ক
- See more at: http://www.bd-pratidin.com
সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু এটা ঠিক কী কী উপকারে আসে আর তার সুফল কেমন করে পাওয়া যায়, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। অল্প কিছু বিষয় মেনে চললেই সকালে খালি পেটে পানি পান করে সুস্থ-সবল থাকার পথে একধাপ এগিয়ে থাকা সম্ভব।

সকালে পানি পানে শুধু পাকস্থলীই পরিষ্কার হয় না, এটা অনেকগুলো রোগের ঝুঁকি থেকে আমাদের বাঁচতে সহায়তা করে। প্রথমত, এই অভ্যাস মলাশয়কে ঠিকঠাক ও সচল রাখতে সহায়তা করে এবং পরিপাকক্রিয়া থেকে সঠিকভাবে নানা পুষ্টি উপাদান গ্রহণে শরীরকে সাহায্য করে। ভালো হজমশক্তি আপনা থেকেই অনেকগুলো স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে উপকারে আসে।

দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত পানি পানে শরীরের ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকে। রক্ত থেকে ‘টক্সিন’ বা বিষাক্ত নানা উপাদান দূর করে পানি। শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই পানি। কেননা, পানি নতুন রক্ত কোষ এবং পেশি কোষ জন্মানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। আর ওজন কমিয়ে রাখতেও উপকারী পর্যাপ্ত পানি পান।

সকালে পানি পানের পর অল্প কিছুক্ষণ অন্য কিছু না খাওয়াই ভালো। এই জল-চিকিত্সার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটা পরিপাক ক্রিয়ার জন্য দারুণ উপকারী। প্রতিদিন সকালে গড়ে চার গ্লাস পানি (প্রায় এক লিটার) পান করা স্বাস্থ্যের খুবই ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টা সহজেই আয়ত্ত হয়ে যাবে এবং এর উপকারিতাও টের পাওয়া যাবে।


প্রথম আলো
আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের চিন্তা, আবেগ, ভাষা, কর্মক্ষমতা, শ্বাস প্রশ্বাস, পরিপাক সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। আর এ সব কিছুর জন্যে মস্তিষ্কের প্রয়োজন পড়ে প্রচুর অক্সিজেন। আমাদের নিশ্বাসের গৃহীত অক্সিজেনের ২০% ই মস্তিষ্কের কাজে ব্যবহৃত হয়। ধমনির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছায় ও একে সচল রাখে।
কিন্তু যদি কোন কারণে রক্তপ্রবাহে বাধা পড়ে, তবে কয়েক মিনিটের মাঝেই মস্তিষ্কের কোষগুলো মারা যেতে থাকে অক্সিজেনের অভাবে। রক্তচাপের কারনের মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণও এর আরেকটি কারণ। স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা লোপ, দীর্ঘ সময়ের পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

ইদানিং অনেক মানুষ স্ট্রোকের শিকার হয়ে দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুবরণ করছেন কেননা এ রোগটির নাম অনেক পরিচিত হলেও এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে খুব কম মানুষেরই ধারণা আছে। ফলে দেরী করে ডাক্তার ডাকা, বুঝতে না পারার কারণে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন না।
জেনে নিন স্ট্রোকের লক্ষণগুলো-
১। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়াঃ
যদি দেখেন আপনার সামনের মানুষটির মুখের একটি অংশ হঠাৎ করে বেঁকে যাচ্ছে বা ঝুলে যাচ্ছে তবে তা স্ট্রোকের অন্যতম একটি লক্ষণ। এক্ষেত্রে তাকে হাসতে বলুন। তিনি যদি সে অবস্থায় হাসতে পারেন তবে বুঝবেন ভয়ের কিছু নেই কিন্তু হাসতে সমস্যা হলে তিনি স্ট্রোকের খুব কাছাকাছি আছেন।
২। এক দিকের হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়াঃ
এক্ষেত্রে স্ট্রোকের আগে ব্যক্তির শরীরের একটি দিক অবশ হতে থাকে। যদি আপনার মনে হয় তার একদিনের বাহু ঝুলে যাচ্ছে না নুয়ে যাচ্ছে। তবে দেরী না করে তাকে দু হাত উপরে তুলতে বলুন। স্ট্রোকের কাছাকাছি থাকলে তিনি দু হাত কখনোই একসাথে উপরে তুলতে পারবেন না।
৩। কথা জড়িয়ে যাওয়াঃ
অথা বলতে বলতে আপনার সামনের মানুষটির কি কথা জড়িয়ে যাচ্ছে বা হঠাত করেই অসংলগ্ন, দূর্বোধ্য ভাবে কথা বলছেন, বুঝতে পারছেন কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। দেরী না করে তাকে একটি সহজ সাধারণ কথা কয়েকবার বলতে বলুন। যেমন, “আকাশ অনেক নীল”। তিনি যদি তা না পারেন তবে নিশ্চিত স্ট্রোকের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
৪। হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখাঃ
আপনার সামনে মানুষটি যদি আপনাকে বলেন যে হঠাৎই তিনি এক বা দু চোখে ঝাপসা দেখছেন, তবে এটই স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে উপরের বাকী তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
৫। কারণ ছাড়াই প্রচন্ড মাথা ব্যাথাঃ
যদি কোন কারণ ছাড়াই প্রচন্ড মাথা ব্যাথায় দাঁড়িয়ে না থাকতে পারেন, এছাড়া হাঁটায় সমস্যা, অপ্রাসঙ্গিক কোন কথা বলা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে বাকী লক্ষণগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন ও দেরী না করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই মূল্যবান। যত দ্রুত আপনি চিহ্নিত করতে পারবেন, ততই রোগীর বড় ধরনের কোন শারীরিক ক্ষতি হবার আশঙ্কা কমে আসবে। আপনার একটু সচেতনতায় বেঁচে উঠুক একজন মৃত্যু পথযাত্রী। ভালো থাকুন।

- See more at: http://www.priyo.com/
শীত পেরিয়ে এখন গরম পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সময়ে দেখা দেয় নানা অসুখ-বিসুখ। এ সময়ে ছড়ায় এমনি একটি মারাত্মক রোগের নাম টাইফয়েড। টাইফয়েড রোগ পানিবাহিত। সালমনেলা টাইফি ও প্যারাটাইফি জীবাণু থেকে টাইফয়েড রোগ হয়ে থাকে।
টাইফয়েডের লক্ষণ
প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেটব্যথা, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ফারেনহাইট, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, চামড়ায় লালচে দানা দেখা দেওয়া টাইফয়েডের প্রাথমিক লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রেই এই জ্বর প্রথম সপ্তাহে ধরা পড়ে না। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জ্বর ধরা পড়ে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ওষুধ চলা অবস্থায়ও সপ্তাহ খানেক জ্বর থাকতে পারে।
টাইফয়েডের কারণ
টাইফয়েডের অন্যতম কারণ হলো দূষিত খাবার গ্রহণ। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এবং পানির মাধ্যমেও এই রোগের জীবাণু ছড়ায়। এ রোগের জটিলতাও নেহাত কম নয়। রক্তক্ষরণ, অগ্নাশয়ে প্রদাহ, মেরুদণ্ডে সংক্রমণ এমনকি কিডনিতেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে টাইফয়েড থেকে।
কী করবেন
টাইফয়েড হলে কী করতে হবে সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের চিকিত্সক ড. দীনা শারমিন—
রক্ত পরীক্ষা
টাইফয়েড পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। তাই টাইফয়েড হয়েছে কি না, তা বুঝতে সবার আগে অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
সব সময় পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহূত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে।
পানি, খাবারে সতর্কতা
পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। বাইরের খাবার খেলে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। অপরিষ্কার শাক-সবজি ও কাঁচা-ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
বাসস্থান ও টয়লেটের সুব্যবস্থা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন টয়লেটে ময়লা বা পানি জমে না থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে খোলামেলা ও পরিষ্কার বাসায় রাখতে হবে।
টাইফয়েড হয়েছে কি না, তা যেমন রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে, তেমনি ওষুধ খাওয়ার জন্যও অবশ্যই রোগীকে একজন চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
- প্রথম আলো
ধূমপান ত্যাগের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের ইচ্ছাশক্তি। ধূমপান ছাড়ার জন্য নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনি যতটা দৃঢ় থাকবেন, ততই সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে। ধূমপান আপনার নিজের এবং কাছের মানুষটির বা আপনার শিশুসন্তানটির জন্য পরোক্ষভাবে কী ক্ষতি ডেকে আনছে তা জানুন। প্রয়োজনে কুফলগুলো নিজ হাতে কাগজে লিখে ফেলুন, কাগজটি সঙ্গে রাখুন এবং যখন ধূমপানের ইচ্ছা জাগবে, তখন কাগজটি বের করে পড়ুন।
—ধূমপান ত্যাগের জন্য নির্দিষ্ট একটি দিন ঠিক করুন। তার আগের দিন বাসায় থাকা সিগারেট, অ্যাসট্রে ও লাইটার ফেলে দিন।
—পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সহযোগিতা নিন। তাঁদের জানিয়ে রাখুন ধূমপান ত্যাগের তারিখটি। তাঁরা যেন আপনাকে ধূমপানের আহ্বান না জানান। কিংবা আপনার আশপাশে ধূমপান না করে।
—ধূমপান ত্যাগের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি বোধ হতে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে এর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা গড়ে ওঠে। তবে ধীরে ধীরে এ সমস্যাগুলো কেটে যায়। মুখে ‘কী যেন নেই’ ধরনের অস্বস্তি কাটাতে চিনিমুক্ত চুইংগাম, মিন্ট বা ক্যান্ডি ব্যবহার করতে পারেন। হাত বা আঙুলের অস্বস্তি কাটাতে মাঝেমধ্যে দুই আঙুলের ফাঁকে পেনসিল বা পেপার ক্লিপ, হাতে ছোট আকারের বল ব্যবহার করতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খান।
—মনকে ব্যস্ত রাখুন। ম্যাগাজিন-গল্পের বই পড়ুন, পছন্দের গান শুনুন, সুস্থ বিনোদনে অংশ নিন। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন।
—ধূমপায়ীদের সঙ্গ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
—একবারে পুরোপুরি ধূমপান ছাড়তে না পারলে ধীরে ধীরে প্রতিদিন একটি বা দুটি বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ করে সিগারেট সেবন কমিয়েও সম্পূর্ণ ত্যাগের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন।


- See more at: http://www.ebanglahealth.com/4561#sthash.n6kSk2Yp.dpuf
Copyright © 2013 MEDIA INFO