Showing posts with label Culture. Show all posts
 
পিসটিভি বাংলায় ডা. জাকির নায়েকের নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রশ্নউত্তর পর্বে এবার এক হিন্দু মেয়ে জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা ডা. জাকির! আপনি বলে থাকেন, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সবাই ভাই ভাই। আমরা সবাই যদি ভাই ভাই হয়ে থাকি তাহলে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারি না কেন?

মেয়েটির প্রশ্নের প্রশংসা করে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আপনার বাসা কোথায়?
মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।
জাকির নায়েক : জন্মস্থান কোথায়?
মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।
বোন আপনি কি জানেন, ইন্ডিয়ায় বসবাস বা ইন্ডিয়ায় জন্ম নিয়েও আপনি ইন্ডিয়ার এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না?
মেয়েটির উত্তর, না, এমন কোনো জায়গা থাকতে পারে না। আমি ইন্ডিয়ার সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারি।


ডা. জাকির নায়েক ফের বলেন, আপনি সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারলেও একটা জায়গায় প্রবেশ করতে পারবেন না। আর সেটা হলো ক্যান্টনমেন্ট। এখানে তাদেরই প্রবেশ করতে দেয়া হয়, যারা দেশের যেকোনো কল্যাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।


বোন ইসলামের একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে, সেটা হলো মক্কা ও মদিনা শরিফ। এখানে তারাই প্রবেশ করতে পারে, যারা আল্লাহর জন্য জানমাল দিতে পারে। আপনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- এই ক্লাবের পাসপোর্টধারী হলেই আপনি মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।


ডা. জাকির নায়েকের এমন চমৎকার উত্তর শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। প্রশ্নকারী হিন্দু মেয়েটি মাথা নিচু করে নিজ আসনে বসে যান।
সূত্র : পিসটিভি
সাধারণ অবস্থায় পানাহার ও স্ত্রী গমন হালাল হওয়া সত্ত্বেও রমজানে দিনের বেলা এগুলো থেকে বিরত থেকে ‘তাকওয়া’র অনুশীলন করা হয়। তা এভাবে যে, আল্লাহর নির্দেশের কারণে পুরো বছর যা হালাল ছিল তা-ই হারাম হয়ে গেছে। তাহলে যা আগে থেকেই ১২ মাস হারাম, অশ্লীল ও গোনাহ, তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আর রমজানে তা থেকে বিরত থাকা তো আরও বেশি জরুরি। যেমন-

১. দৃষ্টিকে সব ধরনের গোনাহ থেকে যেমন- বেগানা মেয়েদের দেখা থেকে হেফাজত করা। তা সরাসরি দেখা হোক বা টিভি-সিনেমায় দেখা হোক বা ম্যাগাজিন ও পত্রিকার ছবি হোক। অনেকে রোজা রেখে অবসর সময় নাটক-সিনেমা দেখে কাটায়। এতে তাদের রোজার নষ্ট হয়ে যায়।

২. জবানের হেফাজত করা। অর্থা‍ৎ মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা, অশ্লীল কথাবার্তা ও ঝগড়া থেকে রিবত থাকা। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যাচার ও মন্দ কাজ ত্যাগ করেনি তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। -সহিহ বুখারি: ১/২৫৫, হাদিস- ১৯০৩

অন্য এক হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রোজা অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল, হট্টগোলে লিপ্ত না হয়। যদি কেউ তার সঙ্গে গালিগালাজ বা মারামারি-কাটাকাটিতে লিপ্ত হতে চায় তবে সে (অনুরূপ আচরণ না করে) বলবে, আমি রোজাদার।’ -সহিহ বুখারি: ১/২৫৫, হাদিস- ১৯০৪

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রোজা অবস্থায় মারামারি ও ঝগড়াঝাটি তো দূরের কথা, শোরগোল করাও রোজার আদব পরিপন্থী। অতএব জবানকে এসব থেকে বিরত রেখে সর্বদা জিকির-আজকার ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে তরতাজা রাখবে।

৩. কানের হেফাজত। যেমন- গান শোনা, গিবত, পরনিন্দা ও অশ্লীল কথাবার্তা শোনা থেকে বিরত থাকা।

৪. অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যেমন হাত-পা ইত্যাদিকেও গোনাহ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা।

৫. সেহরি ও ইফতারে হারাম আহার পরিহার করা। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি সারাদিন রোজা রেখে হারাম মাল দ্বারা ইফতার করে সে যেন একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে আর একটি শহর ধ্বংস করে।

৬. অন্তরকেও সব রকমের গোনাহ থেকে বিরত রাখা। যেমন- গোনাহের কল্পনা করা, পেছনের গোনাহ স্মরণ করে স্বাদ গ্রহণ করা, অহঙ্কার, হিংসা, কু-ধারণা ইত্যাদি থেকে অন্তরকে হেফাজত করা।
আল্লাহর হুকুম মেনে চলার জন্য বিশেষ ধরনের মানসিক দৃঢ়তা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট ও গুণাবলীর প্রয়োজন। রমজানের রোজা মানুষকে এই চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়তা করে। রমজান একজন মুসলমানের মাঝে যে চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টি করে তা যেমন চমকপ্রদ তেমনি বিস্ময়কর। রমজানের একমাস রোজা রাখার আগে একজন মুসলমানের যে অবস্থা ছিল একমাস পরে তার আর সে অবস্থা থাকে না। তার মধ্যে যে বিশেষ পরিবর্তনগুলো দেখা যায় সেগুলো হচ্ছে-

এক. সে নিজেকে আল্লাহর একজন একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে গণ্য করতে থাকে।

দুই. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া তার জীবনের দ্বিতীয় কোনো লক্ষ্য থাকে না।

তিন. যে কোনো অবস্থায় যে কোনো সময় আল্লাহর হুকুম মেনে চলার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত রাখে।
চার. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তিনি সব কিছু দেখেন, জানেন ও শুনেন এ অনুভূতি তার মধ্যে বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ফলে আল্লাহর হুকুমের বিরোধী কোনো কাজ করার ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলে।

পাঁচ. আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার সবকিছুর কর্তৃত্ব সে অস্বীকার করতে শেখে, সারাদিন সে না খেয়ে থাকে। তার সামনে ভালো ভালো খাবার আসে। পরিবেশের চাপ তাকে খেতে উৎসাহিত করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ চাপ তাকে খাবার প্রেরণা যোগায়। কিন্তু কারোর সামনে সে মাথানত করে না। বরং পরিবেশ ও বাইরের সমস্ত প্রভাব ও শক্তিকে সে আল্লাহর হুকুমের অনুগত করে। এভাবেই রমজানের একমাসের মধ্যে সে তার নিজের ও আশপাশের সবকিছুর ওপর আল্লাহর হুকমের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

ছয়. রোজা মুসলমানের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুণটির সৃষ্টি করে তা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে একটা একনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। বান্দা একদিকে স্বেচ্ছায় ও সানন্দে আল্লাহর কর্তৃত্ব মেনে নেয়। তার সব হুকুম মেনে চলতে থাকে। আর অপরদিকে আল্লাহ ও বান্দাহর সমস্ত কাজ সুনজরে দেখতেও পছন্দ করতে থাকেন। তাই সারাদিন অভুক্ত থাকার কারণে রোজাদারের মুখে যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, তা আল্লাহর কাছে মৃগণাভির চাইতেও সুগন্ধময়। তাই হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান’ রোজাদারের জন্য আল্লাহর ঘোষণা প্রমাণ করে যে, রোজা আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

বলা চলে, রোজা সামগ্রিকভাবে উপরোল্লেখিত গুণগুলোর উৎস। এই গুণগুলো সৃষ্টির জন্য আল্লাহতায়ালা রোজার ব্যবস্থা করেছেন। তবে, রোজা হতে যে সুফল লাভ করা যায় তা রোজাদারের নিয়ত, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহের ওপর নির্ভর করে।

যে ব্যক্তি এর উদ্দেশ্য জানতে ও ভালো করে বুঝতে পারবে এবং তা দ্বারা মূল্য উদ্দেশ্য লাভের চেষ্টা করবে সে তো কম বেশি মোত্তাকি নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু যে এর উদ্দেশ্যই জানবে না এবং তা হাসিলের জন্য চেষ্টা করবে না, রোজা দ্বারা তার কোনো উপকারই হবার আশা নেই।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করবে না, তার শুধু খানাপিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনোই প্রয়োজন নেই।’ অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘অনেক রোজাদার এমন আছে, কেবল ক্ষুধা আর পিপাসা ছাড়া তার ভাগ্যে অন্য কিছুই জোটে না। তেমনি রাত্রিতে ইবাদতকারী অনেক মানুষও আছে, যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই লাভ করতে পারে না।

অতএব, এ থেকে বুঝা যায় যে, শুধু ক্ষুধার্ত ও পিপাসায় কাতর থাকাই ইবাদত নয়। এটা আসল ইবাদতের উপায় অবলম্বন মাত্র। আর আল্লাহর ভয়ে আল্লাহর আইন ভঙ্গের অপরাধ না করা এবং যে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, আর যতদূর সম্ভব নিজের আমিত্বকে নষ্ট করা যায়; আল্লাহকে ভালোবেসে সে সব কাজ ঐকান্তিক আগ্রহের সঙ্গে পালন করা হলো আসল ইবাদত।

তাই রমজান মাসে আমাদের করণীয় হলো, শুধু অভুক্ত থাকা নয়। শুধু পানাহার ও স্ত্রী সঙ্গ থেকে বিরত থাকা নয়। রোজা রেখে আত্মপরিশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মোন্নয়ন করা। এ পদ্ধতিতে আমরা আল্লাহর নিকটতম বান্দা হতে পারবো। আল্লাহ সৃষ্ট সব কিছুর ওপর একমাত্র আল্লাহর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করে নিজেকে আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দাহ্য় পরিণত করে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে পরিপূর্ণ সাফল্য অর্জন করতে পারবো।
মুসলিম আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পদের সুষম বন্টনের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, মুসলিম আইনে পরিষ্কার ভাবে বলা আছে মৃত ব্যক্তির সম্পদ তার উত্তরাধিকারীরা কে কিভাবে পাবেন। আসুন জেনে নেই মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন মৃত ব্যক্তির উপর তার উত্তরাধিকারীরা কে কতটা সম্পদের অধিকারী হবেন।
একজন মুসলমান যদি মারা যায় তবে তার সম্পদ বন্টনের আগে কিছু বিষয়ে তার আত্মীয় স্বজনদের বিশেষ মনোযোগ রাখতে হয় এবং ঐ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করা যাবে।

এবার চলুন জেনে নেয়া যাক একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর তার সম্পদ ভাগের আগে যা করনীয়:
১) যদি মৃত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পদ থাকে তবে তার সম্পদ থেকে তার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা।
২) মৃত ব্যক্তির কোন প্রকারের ঋণ কিংবা ধার দেনা থাকলে তা ঐ ব্যক্তির সম্পদ থেকে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা।
৩) মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর দেনমোহোর পরিশোধ হয়েছে কিনা দেখা যদি না হয়ে থাকে তা পরিশোধ করা।
৪) মৃত ব্যক্তি যদি কোন হেবা বা দান কিংবা অসিহত করে যান তবে উল্লেখিত সম্পত্তি দান করে দেয়া।
এবার যদি উপরের কাজ সমূহ করার পরে মৃত ব্যক্তির কোন সম্পদ অবশিষ্ট থাকে তবে অবশিষ্ট সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টন করতে হবে। তবে বন্টনের ক্ষেত্রে মুসলিম আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ আছে।
চলুন এবার জেনে নেয়া যাক মৃত ব্যক্তির সম্পদের উপর তার উত্তরাধিকারীরা কে কি পরিমাণ পাবেনঃ
স্বামীঃ
* স্বামী দুই ভাবে স্ত্রীর উপরে সম্পত্তি পাবে-
* যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি থাকে তবে স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ।
* যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে স্বামী পাবে অর্ধেক সম্পত্তি।
স্ত্রীঃ
* মৃত ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেন-
* যদি মৃত ব্যক্তির এবং তার স্ত্রীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তবে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তি এবং তার স্ত্রীর সংসারে কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন।
পুত্রঃ
ছেলেরা মৃতের উপরে সকল ক্ষেত্রেই সম্পদ পেয়ে থাকে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ক্ষেত্রে সকলের অংশ ভাগের পর অবশিষ্ট সকল অংশ ছেলে এবং মেয়ে পাবে। তবে এই ক্ষেত্রে ছেলে সম্পদে যে পরিমাণ অংশ পায় মেয়েরা সম্পদের উপরে ছেলের অর্ধেক পরিমাণ পাবে। যদি মেয়ে না থাকে তবে বাকী সম্পূর্ণ অংশ ছেলে পাবে।
মেয়েঃ
* মুসলিম সম্পত্তি আইন অনুযায়ী একজন মেয়ে ৩ নিয়মে মৃতের সম্পদ পেয়ে থাকে-
* যদি একজন মেয়ে হয় তবে দুইভাগের একভাগ (১/২) পাবে।
* যদি একাধিক মেয়ে হয় তবে সবাইকে তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) দেয়া হবে।
* যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে মেয়ে উভয়েই থাকে তবে ছেলে যে পরিমাণ পাবে মেয়ে তাঁর অর্ধেক পাবে।
বাবাঃ
* মৃত ব্যক্তির সম্পদের উপর তার বাবা ৩ প্রকারে সম্পদ পাবেন-
* যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র কিংবা আরও নিচে পুত্রের পুত্রের পুত্র যত নিচেই হোক না কেন থাকে তবে মৃত ব্যক্তির পিতা পাবেন সম্পদের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র কিংবা নিন্মগামী পুত্র না থাকে কেবল কন্যা থাকে তবে ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন এবং কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে তবে বাদ বাকী অংশীদারদের দেয়ার পর সকল সম্পত্তি বাবা পাবেন। মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে যদি বাবাও না থাকে তবে তাঁর জীবিত ভাই পাবে, ভাই না থাকলে ভাইয়ের সন্তান পাবে।
মাতাঃ
* মৃত ব্যক্তির মা তিন ভাবে সম্পদ পাবেন
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) পাবেন।
* যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) মাতা পাবেন।
এবার চলুন মুসলিম আইনের কিছু সাধারণ বিষয় জেনে নেয়া যাকঃ
অনেকেই ভাবেন পিতার সম্পদে সন্তানকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করা যায় অর্থাৎ ত্যাজ্য করলে সন্তান সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু বিষয়টি ঠিক নয় কেউ চাইলে কাউকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করতে পারবেনা।
অনেক ক্ষেত্রে সৎ ছেলে মেয়ের বিষয়টি আসে, কিন্তু ইসলামে পরিষ্কার বলা আছে সৎ ছেলে মেয়ে কখনোই সৎ বাবা মায়ের সম্পদের অংশীদার হবেনা একই সাথে সৎ বাবা মাও সৎ ছেলে মেয়ের সম্পদের অংশীদার হবেনা।
ইসলামিক সরিয়া আইনে বলা আছে যদি পিতা বেঁচে থাকতে কোন বিবাহিত সন্তান স্ত্রী এবং সন্তান রেখে মারা যায় তবে ঐ পিতার মৃত্যুর পর পিতার বর্তমানে মৃত সন্তান কোন সম্পদ পাবেনা, কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে উত্তরাধিকার সংক্রান- বিধান সংশোধন করে মৃত ব্যক্তির সম্পদে বিবাহিত মৃত পুত্রের ওয়ারিশরা অংশ পাবে এই বিধান সংযুক্ত করা হয়।
গ্রিসের এক ইঞ্জিনিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি মোবাইল ফোনের সিমকার্ড আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে তারা দৈনন্দিন জীবনে ধর্মসংক্রান্ত আচার-অনুশাসন সহজে মেনে চলতে পারেন।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশে। এই দুইটি মহাদেশে মুঠোফোনের চলও বাড়ছে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের অর্ধেক মোবাইল ফোন সংক্রান্ত চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হচ্ছে এশিয়ায়। কিন্তু এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলি স্মার্টফোন নয়, বরং পুরনো মুঠোফোন।

ইয়ানিস হাৎসোপুলোস একজন ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, যার বাস গ্রিসের থেসালোনিকিতে। তিনি যে ‘ইসলামী সিমকার্ড’-টি উদ্ভাবন করেছেন, তা স্মার্টফোন কিংবা পুরনো মডেলের মুঠোফোন, দু'টোতেই ব্যবহার করা যাবে। 'ব্যবহারকারী এই মুঠোফোন দিয়ে মক্কা শরীফ কোন দিকে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। এই মুঠোফোন মুসলিমকে দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ার সময় মনে করিয়ে দেবে রিংটোন বাজিয়ে। এমনকি নামাজ পড়ার সময় ফোন নিজে থেকেই ‘মিউট’ হয়ে যাবে” বলেছেন হাৎসোপুলোস।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য মুঠোফোনে নানা ধরনের বিশেষ ‘ফাংশন’-এর ধারণাটা বিশেষ নতুন নয়: সাধারণত সর্বাধুনিক স্মার্টফোনেই এসব ফাংশন পাওয়া যায়। সে তুলনায় ইসলামী সিমকার্ড তথাকথিত দ্বিতীয় প্রজন্মের পুরনো মুঠোফোনেও ব্যবহার করা চলে। অন্যান্য সিমকার্ড কিংবা অ্যাপ-এর থেকে ইসলামী সিমকার্ড এখানেই এগিয়ে। আবার নামাজের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মিউট’ হয়ে যাওয়ার বৈশিষ্টটাও মসজিদের ইমামদের ভালো লাগার কথা, কেননা নামাজের মাঝখানে হঠাৎ ফোন বাজায় তারাই বিরক্ত হন সবচেয়ে বেশি।

হাৎসোপুলোসের মাথায় ইসলামী সিম-কার্ডের ধারণাটা আসে ২০০৯ সালে, যখন তিনি স্পেনের বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করছিলেন। এলজি সংস্থা সেই কংগ্রেসে একটি মোবাইল পেশ করে, যাতে মুসলিমদের জন্য বিশেষ ফাংশন ছিল। তা থেকেই হাৎসোপুলোসের মাথায় আইডিয়া আসে: এই সব ফাংশন একটি সহজ সিমকার্ডে দিতে পারলে মুসলমানরা যেকোনো মুঠোফোনে সেই সিমকার্ড ঢুকিয়ে ফোনটিকে একটি ‘ইসলামী মুঠোফোনে’ পরিণত করতে পারবেন।

হাৎসোপুলোস আপাতত দু'টি আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন। প্রথমত, রমজান মাসে এই ইসলামী মুঠোফোন রোজা শুরু করার এবং ইফতার করার সময় জানান দিতে পারবে রিংটোন বাজিয়ে। দ্বিতীয়ত, ইসলামী সিমকার্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাংশনগুলিকে ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, ‘‘যাতে তরুণ মুসলিমদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

- See more at: http://www.sheershanews.com/2013/11/25/13868#sthash.yUrX93cu.dpuf
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত- আমরা কী পরব? গোল জুব্বা নাকি কোট-টাই-প্যান্ট? এ বিতর্ক অনেক দিনের। আমাদের দেশে আজকাল প্রত্যেক তরিকাপন্থিদের পোশাক ও লেবাস আলাদা।
সাধারণ মুসলমানদের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে নানা দ্বিধা দ্বন্দ্ব। কিন্তু মূলত ইসলামে পোশাক সম্পর্কে কি নির্দেশনা রয়েছে?
একটি কথা প্রথমেই বুঝে নেওয়া দরকার, তা হলো ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট পোশাককে কারো ওপর চাপিয়ে দেয়নি। বরং পুরুষ ও নারীদের জন্য শালীনতা ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ে কিছু নির্দেশনা ও বিধিমালা দেওয়া হয়েছে-যার আলোকে যে কেউ তার পোশাক বেছে নিতে পারে। তবে অবশ্যই তাতে যেন পর্দা ও পোশাকের পূর্ণ অর্থের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।এ হচ্ছে সাধারণ মুসলমানদের জন্য। কিন্তু প্রকৃত অর্থেই যারা রাসুলকে (সা.) ভালোবেসে চলতে চান, ‌Ôতাদের জন্য পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আপনি বলুন (হে মুহাম্মদ!) তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো। এতে আল্লাহ তোমাদেরও ভালবাসবেন এবং তোমাদের মাফ করে দিবেন।’ আর তাই কোনটি ফরয কোনটি সুন্নাত এসব তর্ক-বিতর্কে না জড়িয়ে আসুন আমরা রাসুল (সা.) এর পোশাক সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা এবং কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিধিমালাগুলো দেখে নিই।

রাসুল (সা.) কখনো চাদর গায়ে দিতেন এবং লুঙ্গি পরতেন। তাঁর চাদর প্রায় ছয় হাত লম্বা থাকতো। তাঁর ব্যবহৃত পোশাকের মধ্যে আরও ছিল, জামা, জুব্বা, পাগড়ি। তিনি যে কামিজ পড়তেন এর বর্ণনা হচ্ছে- হাতের দিকে কব্জি পর্যন্ত আর লম্বায় টাখনুর উপর পর্যন্ত। তিনি হাঁটুর নিচে আধাআধি পর্যন্ত পোশাক পরার অনুমতিও দিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ সীমায় টাখনু পর্যন্ত লম্বা হলেও তা যেন টাখনুর নিচে না ঝুলে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেছেন।
তিনি কখনো পাগড়ি মাথায় দিতেন এবং পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তিনি টুপি ছাড়া পাগড়ি এবং পাগড়ি ছাড়া শুধু টুপিও পরতেন। রাসুল (সা.) এর পোশাক ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে শামায়েলে তিরমিযী দেখতে পারেন।
পুরুষদের ক্ষেত্রে ইসলাম যেসব নির্দেশনা দিয়েছে এগুলোর অন্যতম হল- স্বর্ণ কিংবা রেশম সম্বলিত কোনো পোশাক পরা যাবে না। সতর (শরীর) আবৃত হয় না, এমন যে কোনো পোশাক বর্জনীয়। এমন কোনো পোশাক পরা নিষেধ যা শুধুমাত্র কাফের ও বিধর্মীদের জন্য নির্ধারিত কিংবা তাদের কোনো বিশেষ পোশাক হিসেবে পরিচিত। নারীদের পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে এমন পোশাকও ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

রাসুল (সা.) ওইসব পুরুষদের অভিশম্পাত করেছেন যারা নারীদের বেশ ধারণ করে। (বুখারী-৫৫৪৬)

কাপড় পরার সময় বিসমিল্লাহ বলে ডান দিকের অংশ আগে গায়ে পরিধান করতে হবে। আর খোলার সময় বাম দিকের অংশ আগে খুলতে হবে। যখনই কোনো নতুন পোশাক পরবে তখন আল্লাহ পাকের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে।নিজের পরিধেয় কাপড়গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। আর ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পুরুষদের সর্বাবস্থায় নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে।সাদা রঙের পোশাক পরা মুস্তাহাব।
রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের পোশাক পরিধান করো। কারণ তোমাদের অন্যান্য রঙের কাপড় ও বস্ত্র থেকে এটি উত্তম। এ সাদা কাপড়েই তোমরা মৃতদের কাফন দিও। (তিরমিযী)
কেউ কেউ সবুজ রঙের পোশাক পরাকেও মুস্তাহাব বলেছেন। কারণ পবিত্র কুরআনে জান্নাতী লোকদের পোশাকের বর্ণনায় আল্লাহ এ রঙের কথা উল্লেখ করেছেন। (সুরা: ইনসান, আয়াত-২১)

হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সা.) এর প্রিয় রং হিসেবে সবুজ রঙের কথা এসেছে।

আর গাঢ় লাল রং এবং হলুদ রঙের পোশাক পরতে তিনি নিষেধ করেছেন। মুসলিম শরীফের এক হাদীসে তিনি এক সাহাবীর গায়ে এ রঙের কাপড় দেখে বলেছিলেন, এটি কাফেরদের পোশাক। তোমরা এ রং পরবে না।
রাসুল (সা.) লিনেন, সুতি এবং পশম থেকে উৎপন্ন সব ধরনের পোশাক পরেছেন।

গায়ের যে কোনো পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা হারাম। রাসুল (সা.) ওই অংশকে জাহান্নামের বলে অভিহিত করেছেন। (বুখারী-৫৪৫০)

মুসলিম শরীফের এক হাদীসে এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তাদের (যারা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরে) সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণা।

মানুষকে দেখানোর জন্য এবং নিজের বড়ত্ব ও ভাব দেখিয়ে ‘বাহবা’ পাওয়ার জন্য যে কোনো পোশাক পরিধান করা হারাম। আবু দাঊদ শরীফে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, যে দুনিয়াতে বাহাদুরির পোশাক পরবে আল্লাহ পাক তাকে কেয়ামতের দিন অপমানের পোশাক পরাবেন।

- See more at:http://jonogon-ashraf.blogspot.com/p/islam.html
`বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা কিংবা সহবাস। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন “ বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন, “ মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী বিবাহ করা সুন্নতে মোয়ক্কেদা। এর থেকে বিরত থাকা বা নিবৃত হওয়া পাপ বা অন্যায়। কারণ বিবাহ নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বের হেফাজত করে, পারষ্পরিক ভালবাসা ও প্রশান্তি অর্জনে ভূমিকা রাখে এবং বংশ ধারা অব্যহত রাখে।

মানব ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রাচীন সমাজে নারীদের মান-মর্যাদার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী বিবাহের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব সংরক্ষিত হয়। ১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী, বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়কে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক-বয়স্কা এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স ন্যূনতম ২১ বছর এবং স্ত্রীলোকের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।

প্রস্তাব দান এবং কবুল: 
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাব দান ও গ্রহণ একই বৈঠক/মজলিসে কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষ সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষীর সামনে হতে হবে। তবে সাক্ষীগণকে একই বৈঠকে হাজির থাকতে হবে।

এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

তবে হানাফী মাযহাব মতে ২ জন সাক্ষী এবং শিয়া মতে কোন সাক্ষী দরকার নেই।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন:
 বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে সরকার নিযুক্ত নিকাহ্ রেজিস্ট্র্রার দ্বারা অবশ্যই বিবাহ রেজিস্ট্র্রি করাতে হবে।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন ফি:
 সরকার গেজেট নোটিফিকেশন দিয়ে বিবাহের ফি নির্ধারণ করেছে। বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন ফি দেনমোহরের ওপর নির্ধারণ হয়ে থাকে। দেনমোহরের প্রতি হাজারে ১০ টাকা হারে ফি নিকাহ্ রেজিস্ট্র্রাররা সরকার নির্ধারিত রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকেন। দেনমোহর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি চার হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রি না করার ফলাফল: 
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্র্রি করা বাধ্যতামূলক। বিবাহ রেজিস্ট্র্রি না করলে নিম্নলিখিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়:

১. সরকার নিযুক্ত নিকাহ্ রেজিস্ট্র্রার কর্তৃক বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিবাদ-বিসংবাদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২. বিবাহ রেজিস্ট্রি না হওয়ায় বিবাহের বৈধতার ক্ষেত্রে দলিলগত সাক্ষীর অভাব ঘটে, ফলে বিবাদ নিষ্পত্তি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৩. বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার ফলে মৃতের সন্তানদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বৈধতার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
৪. বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন না হলে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর বিরুদ্ধে খোরপোষ ও মোহরানার দাবির মামলা অগ্রাহ্য বলে গণ্য হতে পারে।

বিবাহের দেনমোহরঃ
দাম্পত্য জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেনমোহর। দেনমোহর বিবাহের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। বিবাহের রেজিস্ট্র্রেশনের সময় দেনমোহর ধার্য করতে হবে। স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।

বিবাহের সময় প্রতিদানস্বরূপ বর কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দিতে সম্মত অথবা গৃহীত কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে মোহর বলে।

মোহর প্রাপ্তির অধিকার সম্পূর্ণরুপে স্ত্রীর। মোহরানা বলতে এমন অর্থ সম্পদ বুঝায়, যা বিয়ের বন্ধনে স্ত্রীর উপর স্বামীত্বের অধিকার লাভের বিনিময়ে স্বামীকে আদায় করতে হয়।

মোহরানা স্বামীর কোনো করুণা কিংবা কোনো সামাজিক ঐতিহ্য নয়। স্ত্রীর মোহরানা দেওয়ার জন্য আল্লাহ্ নির্দেশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। স্ত্রীর মোহরানার অর্থ আদায় করা স্বামীর ওপর যেমন অবশ্য কর্তব্য, তেমনি তা ইবাদতও।

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী মোহর আদায় প্রতিটি স্বামীর জন্য ফরজ। দেনমোহর স্বামীর জন্য একটি ঋণ, সর্বাবস্থায় দেনমোহর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

রাসুল (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি কোনো মেয়েকে মোহরানা দেয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু সে মোহরানা দিতে তার ইচ্ছে নেই, কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে’ (মুসনাদে আহমদ)।
সম্প্রতি এক গবেষণা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, ইন্টারনেট পর্ণোগ্রাফি এমন একটি তরুণ প্রজন্ম তৈরি করছে, যারা শোবার ঘরে একেবারেই হতাশাজনক। নতুন এই মিডিয়া তরুণগোষ্ঠীকে এতই আকৃষ্ট এবং প্রভাবিত করছে যে, তারা প্রকৃত নারীর সান্নিধ্যে তেমন একটা আকর্ষণ অনুভব করছে না। যৌন অক্ষমতা এখন কেবল আর খারাপ শরীরের প্রৌঢ়দের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, এটা এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর ভেতরও প্রকট হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খুব সন্মানজনক গবেষণা জার্নাল, ‘সাইকোলজি টুডে’-তে একটি গবেষণাপত্রে সম্প্রতি উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিষয়টি এখন এতই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, মাত্র ২০ বছরের তরতাজা যুবকও প্রকৃত অর্থে স্বাভাবিক যৌনাচরণ করতে পারছে না। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যারা পর্ণো দেখে তাদের যৌন উত্তেজনা তৈরিতে ব্রেনে এক্সট্রিম উত্তেজনার (ডাক্তারি ভাষায় এটাকে বলে (ডোপামাইন স্পাইক) প্রয়োজন হয়। আর একবার এই উত্তেজনায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে, তখন সাধারণ নারীতে আর সেই উত্তেজনা আসে না এবং ব্রেন ঠিকমত কাজ করে না। ফলে তারা নপুংশক হয়ে যায়।
রিপোর্টটির লেখিকা মারনিয়া রবিনসন্স বলেন, যৌন উত্তেজক গল্প, ছবি, ভিডিও—এগুলো আগেও ছিল। কিন্তু ইন্টারনেটের কারণে এই ‘ডোপামাইন স্পাইক’ সীমাহীন পর্যায়ে চলে যেতে পারে। ফলে এর প্রভাব অনেক বেশি ক্ষতিকর। অনেক যুবকের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, তাদের ওপর এই ডোপামাইন স্পাইকের প্রভাব এতই বেশি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রমাগত পর্ণো না দেখলে তারা যৌন উত্তেজনাই অনুভব করে না। তাদের কেউ কেউ খুবই হতাশ হয়ে পড়েন, যখন দেখতে পান তাদের স্বাভাবিক যৌন জীবন আর স্বাভাবিক থাকছে না। পাশাপাশি অনেকেই জানে না, ইন্টারনেট পর্ণোগ্রাফি এভাবে যৌন উত্তেজনাকে কমিয়ে ফেলতে পারে এবং এটা জানার পর তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
রবিনসনের মতে, এর থেকে মুক্তির উপায় হলো ব্রেনকে আবার রিবুট করা। অর্থাত্ পর্ণোগ্রাফি দেখা একদম বন্ধ করে দেয়া এবং কয়েক মাস পুরোপুরি বিশ্রাম নেয়া। এর ফলে ব্রেন থেকে সেই অতি উত্তেজনাকর সিগনালগুলো দুর্বল হয়ে যাবে এবং একটা সময় সেই মানুষটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেও পারে। উঠতি বয়সী তরুণদের হাতে এখন কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট রয়েছে। এর অর্থ হলো, তাদের কাছে পর্ণোগ্রাফি ২৪ ঘণ্টাই হাতের কাছে রয়েছে। আর ওই বয়সে একবার তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, তার পুরো জীবনের ওপর সেটা প্রভাব ফেলতে বাধ্য।
প্রতিটি বাবা-মা’র উচিত হবে, এ বিষয়গুলো তার সন্তানদের ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া এবং তরুণ বয়সী ছেলেমেয়েদের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা। মনে রাখতে হবে, ‘সেক্স এডুকেশন’ আর ‘সেক্স’ এক জিনিস নয়। শিক্ষা মানুষকে সুন্দর করার জন্য। তাই ভুল কোনো ধারণায় বশবর্তী না হয়ে সঠিক শিক্ষাটি নিন, ভালো থাকুন।
সূত্রঃ আমার দেশ
শুরু হলো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রেমীদের মহোৎসব দ্বাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক দারিয়ুশ মেহেরজুই, ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোরশেদ, উৎসব পরিচালক আহমেদ মোস্তফা জামাল, ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ।


এ সময় অতিথিরা এই উৎসবকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দর্শকদের জন্য একটি মহোৎসব বলে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, এই উৎসব দেশি-বিদেশি ভালো সিনেমা দেখার সুযোগ করে দেয়। তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে এই উৎসবটি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ক্লিয়ার ম্যাককার্থির পরিচালনায় অস্ট্রেলীয় চলচ্চিত্র ‘দ্য ওয়েটিং সিটি’ প্রদর্শন করা হয়।


রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৫টি দেশের দুই শতাধিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হবে।


উৎসবে অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার ১৭টি ছবি নিয়ে প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র নির্ধারণে থাকছে জুরি বোর্ড। রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগে থাকছে চলচ্চিত্রকার দারিউস মেহেরজুইয়ের ৬টি এবং ইলমাজ গুনের ৫টি চলচ্চিত্র ও ফরাসি চলচ্চিত্রকার পিয়েরে কুলিবিউফরের ৭টি চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে আরেকটি রেট্রোস্পেকটিভ।


প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদের ৫টি চলচ্চিত্র নিয়ে রয়েছে ট্রিবিউটস বিভাগ। চিলড্রেনস বিভাগে দেখানো হবে ৫টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র। শিশুদের জন্য এসব প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশতজন্মবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ শাখায় ভারত ও বাংলাদেশের কয়েকটি রবীন্দ্র চলচ্চিত্র দেখানো হবে।


বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে বাংলাদেশের ৮টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে। এটি প্রয়াত চলচ্চিত্রকার আখতারুজ্জামানের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।


চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ভেন্যুগুলো হলো- কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন, কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন।

বাংলাদেশের ২ টাকার নোট পৃথিবীর সবেচেয়ে সুন্দর নোট হিসেবে স্বীকৃতি পেল। এরপর সেরা নোটের তালিকায় আছে সাও টোমের ৫০ হাজার ডোবরা নোট। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে যথাক্রমে বাহামার ১ ডলারের নোট এবং বাহরাইনের ৫ দিনারের নোট। রাশিয়ার একটি বিনোদন কেন্দ্র পরিচালিত জরিপে এ অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে। সূত্র প্যান আর্মেনিয়ান ডট নেট।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে জর্জিয়ার ১০ লরি নোট, ষষ্ঠ স্থানে ১০ হংকং ডলার, সপ্তম স্থানে ১০ কুক আইল্যান্ড ডলার, অষ্টম স্থানে ৫০ ইসরাইলি শেকেল, নবম স্থানে ২০ হাজার আইল্যান্ড ক্রোনা নোট এবং ও দশম স্থানে আছে ৫০ ফেরো আইল্যান্ড ক্রুনার নোট।
এছাড়া এ তালিকায় একাদশ থেকে বিংশ অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, কমোরোস, ফ্রান্স, পলিনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, জ্যামাইকা এবং জাপানের নোট।
ঢালিউডের বিউটি কুইনখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা এখন ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসারী। বড় পর্দার শাবানার সাথে বাস্তবের শাবানার এখন কোনো মিল নেই। ফুলহাতা কামিজ ও হিজাব সেই শাবানাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে। এখন তার দেখা পাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে তো বটেই, কোনো সাংবাদিকের পক্ষেও প্রায় অসম্ভব। স্বামী ওয়াহিদ সাদিক, দুই মেয়ে সুমী ও উর্মি এবং একমাত্র পুত্র নাহিনকে নিয়ে তিনি এখন বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। গুণী এই অভিনেত্রী এখন অনেকটাই লোকচুক্ষুর আড়ালে। এখন তিনি আত্মীয়স্বজন ছাড়া কারো সাথে দেখা দেন না, কথাও বলেন না।
কোটি দর্শকের স্বপ্নের নায়িকা হিজাবপরা শাবানাকে এখন দেশে-বিদেশে দেখলে তার পরিচিতরা অবাক হন। একজন শীর্ষস্থানীয় নায়িকা হঠাৎ পর্দার অন্তরালে নিজেকে এভাবে লুকিয়ে রাখবেন এটা তারা ভাবতেও পারেন না।
শাবানা তার ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, হজ করার পর তিনি আর ছবি না করে পর্দা করার সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে সাধারণ জীবন-যাপন তার খুব ভালো লাগছে। এই দূর প্রবাসে সংসার, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়েই একান্ত সময় কেটে যায় শাবানার। তিনি এখন প্রবাসে একটা বুটিক হাউস দেয়ার চিন্তা করছেন।
শাবানার আসল নাম রত্না। মাত্র ৯ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ ছবিতে ছোট্ট মেয়ের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শাবানার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে। তার বাবা ফয়েজ চৌধুরী একসময় চিত্র পরিচালক ছিলেন। এরও আগে তার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় মেয়েকে ফিল্মে দিয়ে এবং নিজে চলচ্চিত্রে জড়িয়ে ভাগ্য গড়ার চেষ্টা চালাতে থাকেন। একদিন তার সে আশা পূরণ হয়েছিল। শাবানা তখন রত্না নামে ‘নতুন সুর’ ছবিতে অভিনয়ের পরে তালাশ, সাগর, ভাইয়াসহ আরও কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেন।
১৯৬৬ সাল থেকে তার উত্থান ঘটতে শুরু হয়। সে বছরই ‘আবার বনবাসে রূপবান’-এ সুলতানা জামানের কন্যা সোনাভানের চরিত্রে অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে রত্না প্রথম দর্শকের মন কাড়লেন। এরপর ‘জংলি মেয়ে’ এবং ‘চকোরি’ ছবি দুটিতে প্রধান নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার পর শাবানাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
শাবানা তার অভিনয়ের প্রথম দিককার সম্পর্কে একবার বলেছিলেন, ১৯৬৭ সালে ‘চকোরি’ রিলিজের পর থেকে আমার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল ঢাকার বাইরে লাহোর ও করাচিতে। ১৯৬৮ সালে নায়িকা হিসেচে চাঁদ আওর চাঁদনি, ভাগ্যচক্র এবং কুলিতে; ১৯৬৯ সালে-দাগ, মুক্তি; ১৯৭০ সালে ‘পায়েল, সমাপ্তি, ছদ্মবেশী, বাবুল, মধু মিলন ও একই অঙ্গে এত রূপ’-এ অভিনয় করলাম। রাজ্জাক-সুচন্দা জুটির অসম্ভব জনপ্রিয়তার সময় কাজী জহিরের ‘মধুমিলন’-এ অভিনয় দেখে দর্শক প্রশংসা শুরু করল আমাকে নিয়ে। দ্বৈত অনুরাগের সংঘাত ও পরিণতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এ ছবি দর্শকের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। আমার তো মনে হয়, ‘মধু মিলন’ ছবিতে সম্ভবত প্রথম হৃদয়স্পর্শী অভিনয় দেখাতে সক্ষম হয়েছিলাম।
স্বাধীনতার পর আবার ছবি নির্মাণ শুরু। শাবানা আগের জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৭২ সালেই ৮টি ছবির নায়িকা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘ওরা এগারো জন’ আর কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’ করে সারা বাংলাদেশে জানান দিলেন ঢাকার ফিল্মে শাবানার তুলনা হয় না। অন্যান্য ছবি যেমন- সমাধান, ছন্দ হারিয়ে গেল, এরাও মানুষ, মুন্না আওর বিজলি, চৌধুরী বাড়ি আর স্বীকৃতিও সফল হয়েছিল।
শাবানা মোট ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি প্রথম এই পুরস্কার পান ‘জননী’ সিনেমার জন্য। এরপর ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৭, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৪ সালেও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তার অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে আছে ১৯৯১ সালে প্রযোজক সমিতি পুরস্কার, ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে বাচসাস পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে আর্ট ফোরাম পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে আর্ট ফোরাম পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে নাট্যসভা পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে কামরুল হাসান পুরস্কার, ১৯৮২ সালে নাট্য নিকেতন পুরস্কার, ১৯৮৫ সালে ললিতকলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে সায়েন্স ক্লাব পুরস্কার, ১৯৮৯ সালে কথক একাডেমী পুরস্কার এবং জাতীয় যুব সংগঠন পুরস্কার।
শাবানা ১৯৭৩ সালে ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন। তখন সাদিক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের দেখাশোনার ভার তার স্বামীর ওপর পড়ে। ১৯৯৭ সালে শাবানা দীর্ঘ ৩৪ বছর কাজ শেষে হঠাৎ চলচ্চিত্র-অঙ্গন থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। ২০০০ সালে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
>নানা কারণে অনেক সময় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়ে যায়। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা সবল করে হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা দূর করা যায়। আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সবল না দুর্বল, তা আপনি যাচাই করে নিতে পারেন। এ জন্য ফেসবুকে ঢুকে www.facebook.com/update_security_info.php?wizard=1&src=netego ঠিকানায় যান। যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সবল হয়, তাহলে Strong (সবুজ রং চিহ্নিত) লেখা থাকবে। যদি নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হয়, তাহলে low (লাল রং চিহ্নিত) লেখা থাকবে। এ রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা সবল করার জন্য আপনাকে তিনটি অপশন দেওয়া হবে। প্রথম অপশন থেকে আপনি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক মেইল যোগ করবেন। দ্বিতীয় অপশনে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপনার মুঠোফোন নম্বর যোগ করতে হবে। তৃতীয় অপশনে নিরাপত্তা প্রশ্ন যোগ করুন।
মনে রাখবেন, হ্যাকাররা সাধারণত প্রথমে ই-মেইল আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করে। ওপরের ধাপগুলো পূরণ করলে আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হলেও তা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকবে। এ ছাড়া ওপরে ডানে Account/Account Settings/ Account Security অপশনে গিয়ে ডান পাশের change অপশনের চেকবক্সগুলোতে টিকচিহ্ন দিয়ে সেভ করুন। এর পর থেকে ফেসবুকে লগইন করলে Name New Computer নামের একটি পেজ আসবে। এখানে কম্পিউটারের যেকোনো একটি নাম দিয়ে Continue বাটনে ক্লিক করুন। এখন থেকে আপনার ফেসবুক আইডি লগইন করলে আপনার ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরে (যদি মোবাইল অপারেটর ফেসবুক এসএমএস সাপোর্ট করে) একটি বার্তা আসবে। ওই বার্তায় লেখা থাকবে সর্বশেষ কখন কোন নাম দিয়ে আপনার ফেসবুক আইডিটি লগইন করা হয়েছে। যদি আপনি ওই নাম দিয়ে ফেসবুকে লগইন করে না থাকেন, তাহলে দ্রুত ফেসবুকের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। নিরাপত্তার জন্য আপনি আরও কিছু বিষয় খেয়াল করতে পারেন। যেমন ফেসবুকে কেউ আপনাকে সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করতে বললে সে লিংকে ক্লিক করবেন না। ফেসবুক প্রোফাইলে অপ্রয়োজনীয় অথবা সন্দেহজনক কোনো Application যোগ করবেন না। ফেসবুক Application কিছু কিছু স্প্যাম ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। আপনার প্রোফাইলে যোগ করা এর তালিকা account/privacy settings/edit your settings (application and website) অপশনে গিয়ে দেখতে পারবেন। এখান app you use ট্যাবের Remove অপশনে ক্লিক করুন এবং সন্দেহজনক Application তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন।
link

শুধুই মুসলিম বিশ্বের জন্য ‘সালাম ওয়ার্ল্ড’ নামে সামাজিক যোগাযোগ সাইট চালু হয়েছে। এ সাইট পরিচালনায় অর্থায়ন করেছে কজন মুসলিম ব্যবসায়ী। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ইস্তাম্বুলভিত্তিক এ সামাজিক সাইটের কয়েকটি দেশভিত্তিক শাখা অফিস খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে শাখা অফিসগুলো হয়েছে কায়রো, লন্ডন, মস্কো, দুবাই এবং নিউ ইয়র্কের মতো বিখ্যাত শহরে।

বিশ্বের বহুল প্রচলিত ১৫টি ভাষায় এ যোগাযোগ সাইটে তথ্য বিনিময় করা যাবে। সালাম ওয়ার্ল্ড সাইটের মূল স্লোগান হচ্ছে নো পলিটিকস, নো ব্যানস, নো লিমিট। অর্থাৎ রাজনীতিহীন একটি অবাধ এবং সুস্থ অনলাইন মুসলিম বিশ্ব গড়াই হচ্ছে এ সালাম ওয়ার্ল্ডের মূল লক্ষ্য।
শুরুর তিন বছরে ১০ কোটি গ্রাহক পূর্তিই হচ্ছে এ সামাজিক যোগাযোগের মূল লক্ষ্য। মুসলিম যুব সমাজ, সুশীল ব্যক্তি এবং অমুসলিমদের ইসলাম শিক্ষায় সুশিক্ষিত করতেই ক’জন মুসলিম ব্যবসায়ী এ সাইটের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগ্রহীরা (www.salamworld.com) এ সাইটে ইমেইল দিয়ে সহজেই নিবন্ধিত সদস্য হতে পারবেন।

ক্রমেই আরও জনপ্রিয় হতে সেবামূলক কৌশল অবমুক্ত করছে ফেসবুক। এ ধারাবাহিকতায় এবারের সংযোজন ‘সাবস্ক্রাইব’ ফিচার। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় তাৎক্ষণিক উন্মুক্ত মতামত প্রকাশেই এ সেবামাধ্যম চালু করছে ফেসবুক।
এতে মতামত দিতে ফেসবুকে নিবন্ধিত থাকতে হবে। আর মতামত দিতে শুধু একটি ক্লিকই যথেষ্ট। সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের মতামত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামতের গণমাধ্যমে প্রকাশ করতেই এ ফিচার কাজ করবে বলে ফেসবুক সূত্র জানিয়েছে।
এটি হবে প্ল্যাগইন ধরনের একটি ফিচার। এ ফিচার ফেসবুক ভোক্তার নিউজ ফিড অংশে সুরক্ষিত থাকবে।

এতে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকেও সংবাদভিত্তিক মতামত সক্রিয় হবে। জনমতের পূর্ণ জরিপও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে এর মাধ্যমে। এ ছাড়াও দ্রুত বিশ্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জনজরিপ কোন পথে এর সঠিক অবস্থানও নিশ্চিত করা সম্ভব।
জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রা এবং সংবাদ সেবাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে ফেসবুক। অচিরেই এ সেবার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করবে ফেসবুক।
জেরুজালেম: জেরুজালেমে ২০০০ বছরের পুরোনো ছোট একটি সোনার ঘণ্টা পাওয়া গেছে। শুক্রবার শহরের পুরনো এলাকায় ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এটি পাওয়া যায়। ঘণ্টাটি নবী সোলাইমানের সময়কার বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষ (আইএএ)।

আইএএ কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, ছোট ঘণ্টাটি এক প্রকার অলংকার হিসেবে ব্যবহার হতো, যা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাপড়ের সঙ্গে সেলাই করা ছিলো। ডেভিড শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য খনন কাজ চালানোর এক পর্যায়ে এই ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়। ডেভিড শহরটি আরব প্রতিবেশী সিলওয়ানের পাশেই এবং পুরানো শহরের দক্ষিণে।

ঘণ্টাটি মূল নিষ্কাশন চ্যানেলের মধ্যে পাওয়া যায়। আর এই চ্যানেল হয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বৃষ্টির পানি সিলম ডোবায় চলে যায়। আর এই ডোবার কথা বাইবেলে বেশ কয়েকবার উল্লেখ আছে।

আপাতদৃষ্টিতে জেরুজালেমের রাস্তা দিয়ে রকিনসনের খিলানের কাছে কোনো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হাঁটার সময় তার পোশাক থেকে সোনার ঘণ্টাটি রাস্তার নিচের নিষ্কাশন চ্যানেলে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে।

খ্রিস্টানদের উচ্চস্থানীয় পাদ্রীরা তাদের পরিহিত পোশাকে ঘণ্টা সেলাই করে রাখতেন।

তাই বলা হয়েছে, ঘণ্টাটি কোনো এক পাদ্রীরও হতে পারে।
ঢাকা: বাংলাদেশে বয়স ১৮ হওয়ার আগেই যৌন অভিজ্ঞতা হচ্ছে ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ পরোক্ষভাবে প্ররোচিত হয়ে যৌন কর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। এদের এক-তৃতীয়াংশ আবার লিপ্ত হচ্ছেন দলগত যৌনকর্মে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের যৌনসঙ্গী হচ্ছেন পেশাদার যৌনকর্মী।

কিন্তু এসব তরুণের অর্ধেকই যৌনকর্মে একদমই নিরোধ ব্যবহার করছেন না। বাকীরাও নিরোধ ব্যবহারে অনিয়মিত। তাই তাদের মধ্যে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে।

আইসিডিডিআরবি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যান এমন এক হাজার তরুণের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।

এদিকে এমন অনিরাপদ যৌনকর্মের মাধ্যমে ৫২ শতাংশ এইডস ছড়ায় বলে মনে করছে  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জাতীয় এইডস কর্মসূচি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে। আর তরুণরাই বেশি এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে।

তরুণদের এইডস ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক মো. ওয়াদুদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘যৌন আচরণে পরিবর্তন হওয়ার কারণে তরুণের মধ্যে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলের তরুণদের মধ্যেই এইডস ছড়াচ্ছে বেশি।’

তিনি বলেন, ‘তরুণ সমাজকে এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আমরা বিশেষ সচেতনামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি। এতে তরুণদের জন্য কাউন্সেলিং থাকবে। এছাড়া পাঠ্য পুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিষয়টি সিলেবাসে নিয়ে আসা হবে।’

এছাড়া সরকার জেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতাল যুব বান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া তরুণের প্রায় ৭৯ শতাংশই এইডস সম্পর্কে সচেতন নন। যৌন মিলনের পর যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বলেও মনে করেন তারা।

যৌনকর্মে লিপ্ত হতে এসব তরুণের ৮০ শতাংশ যাচ্ছেন আবাসিক হোটেলে। আর ২০ শতাংশ অপেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন।

আর জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ তরুণ হওয়ায় দেশের বৃহৎ ও নিভর্রশীল এই জনগোষ্ঠী  ব্যাপক ঝুঁকিতে মধ্যে আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, তরুণদের অধিকাংশ যৌন চাহিদা মেটাতে যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন। সব ধরণের যৌন আচরণ করছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, এসব তরুণের প্রায় ২০ শতাংশের মধ্যে যৌনবাহিত ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়। তবে এদের মাত্র ১৫ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে যান।

ঢাকার ৯টি আবাসিক হোটেলে আইসিডিডিআরবি পরিচালিত জরিপটিতে আরো দেখা গেছে, তরুণের দুই তৃতীয়াংশ স্কুল ও কলেজ পড়–য়া। তারা যৌনকর্মে প্ররোচিত হন বন্ধু বা বন্ধুস্থানীয় কাউকে দিয়ে। প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ পরোক্ষভাবে প্ররোচিত হয়ে যৌন কর্মে লিপ্ত জন। আবার অনেকে পর্ন সিডি দেখে যৌন কর্মে উৎসাহিত হন। এদের অনেকের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছর।

এছাড়া বিবাহিতরাও যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন বলে দেখা গেছে গবেষণা জরিপে।
সত্যিই হাস্যকর। বিশ্বে প্রথমবারের মত ‘পৃথিবীর সব চেয়ে হাস্যকর জাতি নির্বাচন’-এ সবাইকে পেছনে ফেলে সম্প্রতি এক ভোট জড়িপে সার্বিক বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে হাস্যকর জাতির নির্বাচিত হয়েছে আমেরিকানরা। অন্যদিকে মাথাগরম জাতি হিসেবে পরিচিত জার্মানরা তাদের পূর্ব পরিচিতি ঠিক রেখে অর্জন করেছে বিশ্বের সবচেয়ে কম হাস্যকর জাতির খেতাব!

ভোট যুদ্ধে ইতালী ও ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সব চেয়ে মজার জাতির তকমা পেয়েছে স্পেন।

সামাজিক ওয়েবসাইট বাডু ডট কম (www.badoo.com) ‘বিশ্বের সবচেয়ে হাস্যকর ও সবচেয়ে কম হাস্যকর জাতি’ বিষয়ে পৃথিবীর ১৫টি দেশের ৩০ হাজার মানুষকে প্রশ্ন করে। এতে আমেরিকানরা বিশ্বের সবচেয়ে হাস্যকর জাতি হিসেবে প্রথম, স্প্যানিশরা দ্বিতীয় এবং ইতালীয়রা তৃতীয় স্থান লাভ করে।

ভোটিংয়ে আমেরিকানরা বিশ্বের সবচেয়ে হাস্যকর জাতি হিসেবে প্রথম আর জার্মনরা সর্বশেষ স্থান পাওয়ার ঘটনায় অনেকেরই হয়তো মনেপড়ে যাচ্ছে আমেরিকান ঔপন্যাসিক মার্ক টোয়েনের সেই বিখ্যাত উক্তিটি ‘জার্মানদের কৌতুকে হাসার মত কিছু নেই’ এর কথা। মার্ক টোয়েন তাহলে সত্যি কথাই বলেছিলেন!

অপরদিকে ‘দি অফিস’ এবং ‘মন্টি পাইথন’ শো দু’টিকে বৃটিশরা ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ হিউমার হিসেবে আখ্যায়িত করলেও বাডু ডট কম-এর মাধ্যমে জানা গেল তারা নিজেদের যতটা মজার জাতি হিসেবে মনে করে আসলে তারা ততটা নয়। বাডু’র ভোট জড়িপে বিশ্বের হাস্যকর জাতির তালিকায় তাদের অবস্থান ১৭ যা তালিকায় ব্রাজিল, ফ্রান্স এবং মেক্সিকানদেরও পরের স্থানে রয়েছে।

তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে বাডু’র উল্টো প্রশ্ন ‘কোন দেশ বিশ্বের সব চেয়ে কম হাস্যকর’ এর উত্তরে বৃটিশদের অবস্থান চতুর্থ এবং তা তুর্কীদেরও পরে।

এ বিষয়ে বাডু’র ডাইরেক্টর অব মার্কেটিং লাইওড প্রাইস যিনি নিজে একজন বৃটিশ, মন্তব্য করেন- ‘আমি ভীত যে এর চেয়ে আরো বেশি হাস্যকর ফলাফল আমরা পেতে পারতাম।’

বিশ্বের সবচেয়ে হাস্যকর জাতি হিসেবে আমেরিকানদের এ বিজয়ের পেছনে ‘ফ্রেন্ডস, সিম্পসন্স, ফ্রেইজার, সেনিফিল্ড এবং মার্কস ব্রাদারস থেকে শুরু করে উডি অ্যালেন, স্টিভ মার্টিন, ল্যারি ডেভিড, বেন স্টেলার অথবা হালের টিনা ফে’র মত বেশকিছু টিভি সিরিয়ালের ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে; ব্যাডো’র ‘বিশ্বের সব চেয়ে হাস্যকর জাতি’র ভোট জড়িপে জাতি হিসেবে আমাদের নাম না থাকলেও এ ধরনের অন্য কোনও প্রতিযোগিতায় কিন্তু আমরা পেয়েও যেতে পরি শিরোপা।

এই যেমন ধরুন- দুর্নীর্তি!
বাংলানিউজ
‘আজিজুল হাকিম আর জিনাত হাকিম আমার ভালো বন্ধু। আমি, হাকিম এবং আরও কয়েকজন প্রায় কাছাকাছি সময়ে নাটকে কাজ শুরু করেছিলাম। মজার ব্যাপার হলো, আমি এখন হাকিমের মেয়ের সঙ্গে অভিনয় করছি। নাযাহ্ একেবারে আমার বিপরীতেই অভিনয় করছে। কাজটা ও খুব ভালো করছে।’ বললেন শহীদুজ্জামান সেলিম।
এক কিশোরীর অসম প্রেমভাবনা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নাটক পেসমেকার। গতকাল বুধবার থেকে শুটিংবাড়ি আশ্রয়ে নাটকটির কাজ শুরু হয়েছে। এখানে অংশ নিচ্ছেন সেলিম ও নাযাহ্।
আজিজুল হাকিম আর জিনাত হাকিম দম্পতির মেয়ে নাযাহ্ বাস্তবে এখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী। নাটকের গল্পে তার মনে নানা রং। বাসার গৃহশিক্ষক সেলিমকে ঘিরে সে স্বপ্নের জাল বোনে। একসময় তা ভেঙে যায়। নাযাহ্ চিকিৎসক হয়েছে। অনেক বছর পর বৃদ্ধ সেলিমের হূদ্যন্ত্রে পেসমেকার দিতে হবে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে সেলিমকে চিনতে পারে মেয়েটি। নিজের হাতে সেলিমের হূদ্যন্ত্রে পেসমেকার যুক্ত করে সে।
নাযাহ্ বললেন, ‘আমি এর আগেও এক ঘণ্টার এবং ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছি। তবে এবার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছি। তাও আবার সেলিম আঙ্কেলের (শহীদুজ্জামান সেলিম) সঙ্গে! খুব ভালো লাগছে।’
  আমাদের বাঙালির আকাশ সংস্কৃতির সিংহ ভাগ জুড়ে দখল করে নিয়েছে বর্তমানে ভারতীয় টি ভি চ্যানেল। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ টির মত প্রাইভেট টি ভি চ্যানেল। আর ও ৬ টির মত আসছে। তার মানে এ বছর এর শেষ দিকে হয়ত ২০ টি ভি চ্যানেল দেখা যাবে। পরিসংখান তো তাই বলে। Telis trial সুবিধা নিয়ে চলছে একমাত্র বি টি ভি। সরকার নিয়ন্ত্রিত এই চ্যানেল এর বর্তমান গ্রহন যোগ্যতা কতটুকু এটা আমরা সবাই জানি। আজ অজপাড়া গায়ে পৌঁছে গেছে star plus,star zalsa, star world, sony,zee bangle,etv bangla, ruposi,tara bangla, টাটা, কিংবা ডিশ টি ভির আশীর্বাদে মাত্র ৩০০০ টাকা খরচ করে তারা দেখছে এইসব চ্যানেল। এখন আর ক্যাবল অপারেটরদের কাছ থেকে ডিশ সংযোগ নেবার দরকার পড়েনা। একটা পরিসংখান এ দেখা যাচ্ছে প্রায় ৫০ ভাগের বেশি মানুষ ইন্ডিয়ান টি ভি চ্যানেল এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে । সর্বনাশ! কেন এই ইন্ডিয়ান চ্যানেল প্রীতি আমাদের? পরিসংখ্যান আর ও বলে ডিশ ব্যবহার করে এমন পরিবারের মোট মহিলাদের ৪০ ভাগ স্টার প্লাস,৩৫ ভাগ সনি,১৫ ভাগ স্টার জলসা দেখে। পরিসংখ্যান আর ও বলে ডিশ ব্যবহার করা পরিবার গুলির ৬০ ভাগ সদস্য বাংলা চ্যানেল দেখেনা! একি সর্বনাশা কথা।


কেন এই পরিনতি?
আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু জরিপ করে, কিছু পত্রিকার সাহায্য নিয়ে, বিভিন্ন ওয়েব ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছু কারন খুঁজে পেয়েছি। প্রিয় পাঠক, আপনারা অনেকে হয়তো জানেন আমাদের টিভি চ্যানেল ইন্ডিয়ায় প্রচারের অনুমতি নেই। অর্থাৎ ইন্ডিয়ান নাগরিক চাইলেও বাংলাদেশী চ্যানেল দেখতে পারেনা। অথচ আমরা দেদারসে দেখছি ইন্ডিয়ান চ্যানেল। ঐ দেশের সরকার যদি বাংলাদেশী চ্যানেল এর প্রবেশাধিকার না দেয়, তবে আমরা দিচ্ছি কার স্বার্থে? স্বার্থ আসে হয়তোবা। যাই হোক সেই দিকে নাই বা গেলাম। এবার আশা যাক কেন ইন্ডিয়ান চ্যানেল প্রীতি।


১। প্রিয় পাঠক জাতী হিসাবে পহেলা বৈশাখে যত ই বাঙ্গালিয়ানা দেখাইনা কেন, ভিন দেশি জিনিসের প্রতি একটি দুর্বলতা আমাদের সব সময় রয়েছে। একটি কাপড়, একটি শার্ট, প্যান্ট, ইলেক্ট্রিক ইকুইপমেন্ট, প্রসাধনী সব ই বিদেশী চাই। এটি আবার কারো মানসিক ব্যাধি ও বটে, বিদেশী মানেই উন্নত জিনিস।


২। কাজেই ভিনদেশী টি ভি চ্যানেল এর প্রতি মানসিক ব্যাধিটি এখানে অনেকটা কাজ করে।


৩। প্রযুক্তি বা কারিগরি দিক দিয়ে আমরা ইন্ডিয়া থেকে অনেক পেছনে। এতে কোন সন্দেহ নেই। ওরা যেই এইচ ডি ফরমেটে সুট করে, আমরা সেটা পারিনি এখনও। যার কারনে ওদের ভিডিও ফুটেজ এত প্রাণবন্ত। ওদের ল্যাব অনেক উন্নত।জেই কারনে আমাদের দেশের অনেক বিজ্ঞাপন এই দেশে বানিয়ে ও ইন্ডিয়াতে ল্যাব প্রিন্ট করতে হয়।


৪।একটা মুভি বা নাটক ,বা অন্য যে কোন অনুষ্ঠানই বানানো হোক না কেন, তাঁকে প্রানবন্ত করতে দুইটি জিনিস জরুরি।এক, সুন্দর সেট, দুই, চমৎকার লাইটিং। পাঠক লক্ষ্য করুন ইন্ডিয়ান টি ভি চ্যানেল এর সেট চোখ ধাঁধানো। আমরা পেছনে আছি এখানেও ।


পাঠক ভাববেন শুধু কি এই সব কারনে ইন্ডিয়ান চ্যানেল প্রীতি? না! এবার বলি কিছু বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা।


৫।দেখুন সময় জ্ঞান বলতে আমাদের টিভি চ্যানেল কারো ধার ধারে না।(এক মাত্র নিউজ এর ক্ষেত্র বাতিত) কখন প্রোগ্রাম শুরু হবে সেইটা দর্শক পূর্বে থেকে জানেনা। ইন্ডিয়ান চ্যানেল এর দিকে তাকান। প্রতি ৩০ মিনিটে একটি চাঙ্ক হিসেবে তারা অনুষ্ঠান চালায়। তার মানে তারা ঠিক রাত ৮.৩০ মিনিটে স্টার জলসায় “মা” সিলিয়াল দেখে। ইন্ডিয়ান যে কোন টি ভি চ্যানেল কোন অবস্থায় ই টাইম ব্রেক করেনা। আপনি একটু পরখ করে দেখতে পারেন।


৬। এবার আমরা কি করি। একটা উদাহরণ দেই। ধরুন এন টি ভি রাতের নিউজ এর পর একটা নাটক দেখাবে,নিউজ শুরু হোল ৭.৩০ এ। শেষ হোল ৮,১৫ মিনিটে। এবার তারা ট্রেইলার দেখাল। এর পর দেখবেন অমুক নাটক। সৌজন্যে……………………………।? এবার শুরু হলো বিজ্ঞাপন। রাত তখন প্রায় ৮.৪৫।এবার ট্রেইলার, এখন দেখুন নাটক……? এইবার যাদের সৌজন্যে প্রোগ্রাম তাদের বিজ্ঞাপন। শুরু হলে আবার ১০ মিনিট। এইবার নাটক হোল শুরু। খণ্ড নাটক দেখবে দর্শক। ৫ মিনিট শুরু হতে নাটক আবার বিজ্ঞাপন। মোট নাটক ১৭ মিনিট।বিজ্ঞাপন ২০ মিনিট। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আজ ই দেখে নিন। আমরা বিজ্ঞাপনের মাঝে নাটক দেখি। ইন্ডিয়ান চ্যানেল নাটকের মাঝে বিজ্ঞাপন দেখায়। এটা ও পরখ করে পাঠক দেখুন।


৭।এবার বলুন, ১৭ মিনিটের সিরিয়াল বা নাটক দেখতে বসে থাকতে হচ্ছে প্রায় ৬০ মিনিট,আপনার এত সময় বা ধৈর্য আছে কি?


৮।ইন্ডিয়ান চ্যানেল যেখানে ৩০ মিনিটের প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ ৭ মিনিট সময় লাগায় বিজ্ঞাপনে ,সেইখানে আমরা লাগাই এক ঘণ্টা।


৯। পাঠক ভাববেন, বিজ্ঞাপনে না চললে চ্যানেল চলবে কেমন করে? যারা ইতিমধ্যে ভাবা শুরু করেছেন লেখককে কমেন্ট অপশনে গিয়ে এইটা লিখে সাইজ করবো। তাদের সেই সুযোগটুকু দিচ্ছি না বলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। দেখুন টি ভি মিডিয়াতে কাজ করেছি অনেকটা সময়। টি ভি চ্যানেল চলে বিজ্ঞাপনে- এটা ঠিক। তবে সেই বিজ্ঞাপনের জন্য যদি দর্শক সরে যায়, মানে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে স্পন্সর পাবেন কেমন করে? এইটা কিন্তু অনেক টি ভি চ্যানেল এখন বুঝতে পেরেছে। তাই তারা এখন ট্রেইলার দেখায়…………অমুক দিন দেখুন বিরতিহীন নাটক…………?


পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের কিছু ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনুষ্ঠান এর মান খুব একটা খারাপ নয়। শুধু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দেশি চ্যানেল গুলি দর্শক হারাচ্ছে। সরকার অন্তত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে ও যেন ইন্ডিয়াতে আমদের চ্যানেল গুলি চালানোর ব্যাবস্থা করে। সেই ক্ষেত্রে বিদেশে চ্যানেল চালান বাবদ আমরা বড় একটা গেট ওয়ে পেমেন্ট পাবো। চ্যানেলগুলি অতিরিক্ত অর্থ পাবে। বিজ্ঞাপন এর জন্য তখন তারা পাগলামি করবে না। যেইটা করেনা ইন্ডিয়ান চ্যানেল । কারন পে চ্যানেল হবার কারনে তারা অতি বেশি বিজ্ঞাপন মুখী নয়।
Copyright © 2013 MEDIA INFO