Showing posts with label Bangladesh. Show all posts
মোবাইল এর মাধ্যমে ও আপনি ফলাফল জানতে পারেনঃ-
 প্রাথমিক শিক্ষা (PSC) এর ফলাফল মোবাইল এ এস এম এস এর মাধ্যমে পেতে ম্যাসেজ অপশোন এ গিয়ে টাইপ করুনঃ-

DPEআপনার থানা অথবা উপজেলার কোড নাম্বার স্পেস রোল নাম্বার তারপর পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ এই নাম্বার এ।ফিরতি এস এম এস এর মাধ্যমে আপনার ফলাফল পেয়ে জাবেন। 

উদাহরন সরুপঃ- DPE 22327 435675 and send to 16222

মাদ্রাশা বোর্ড এর জন্যঃ-
EBTআপনার থানা অথবা উপজেলার কোড নাম্বার স্পেস রোল নাম্বার তারপর পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ এই নাম্বার এ।ফিরতি এস এম এস এর মাধ্যমে আপনার ফলাফল পেয়ে জাবেন।

উদাহরন সরুপঃ- EBT 71657 765643 and Send To 16222

জে এস সি ও জে ডি সি এর ফলাফল মোবাইল এ এস এম এস এর মাধ্যমে পেতে ম্যাসেজ অপশোন এ গিয়ে টাইপ করুনঃ-

JSC স্পেস আপনার বোর্ড এর প্রথম তিনটা অক্ষর স্পেস রোল নাম্বার এর পর পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ এই নাম্বারে ফিরতি এস এম এস এর মাধ্যমে আপনার ফলাফল পেয়ে জাবেন।

উদাহরন সরুপঃ-  JSC DHA 123456 and Send to 16222

মাদ্রাশা বোর্ড এর জন্যঃ-
JDC স্পেস মাদ্রাশা বোর্ডএর প্রথম তিনটা অক্ষর স্পেস রোল নাম্বার এর পর পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ এই নাম্বারে ফিরতি এস এম এস এর মাধ্যমে আপনার ফলাফল পেয়ে জাবেন
।

উদাহরন সরুপঃ-  JDC MAD 123456 and Send to 16222 

বাংলাদেশ এর সকল মোবাইল অপোরেটর থেকে এই এস এম করতে পারবেন
।

এছাড়াও একই দিনে প্রকাশিত হবে (PSC) প্রাইমারী স্কুল সটিফিকেট পরীক্ষার ফলাফল । প্রাইমারী পরীক্ষার ফলাফল জানতে :->>  www.educationboardresults.gov.bd/ and http://dperesult.teletalk.com.bd/
২০১৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা নিচে দেওয়া হলো। 
  • ২১ ফেব্রুয়ারি (৯ ফাল্গুন), রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস।
  • ১৭ মার্চ (৩ চৈত্র), বৃহস্পতিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। 
  • ২৬ মার্চ (১২ চৈত্র), শনিবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। 
  • ১ মে (১৮ বৈশাখ), রোববার মে দিবস। 
  • ২১ মে (৭ জ্যৈষ্ঠ), শনিবার বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)। 
  • ১ জুলাই (১৭ আষাঢ়), শুক্রবার জুমাতুল বিদা। 
  • *৬ জুলাই (২২ আষাঢ়), বুধবার ঈদুল ফিতর। 
  • ১৫ আগস্ট (৩১ শ্রাবণ), সোমবার জাতীয় শোক দিবস। 
  • *২৫ আগস্ট (১০ ভাদ্র), বৃহস্পতিবার জন্মাষ্টমী। 
  • * ১২ সেপ্টেম্বর (২৮ ভাদ্র), সোমবার ঈদুল আজহা। 
  • *১১ অক্টোবর (২৬ আশ্বিন), মঙ্গলবার দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী)। 
  • *১২ ডিসেম্বর (২৮ অগ্রহায়ণ), সোমবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। 
  • ১৬ ডিসেম্বর (১১ পৌষ), শুক্রবার বিজয় দিবস। 
  • ২৫ ডিসেম্বর (১১ পৌষ), রোববার যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন)।
যেসব ছুটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোতে তারকা (*) চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে ভোটার হবার আবেদন করতে এই লিংকে যান https://services.nidw.gov.bd/newVoter
 তারপর আপনার ভোটার তথ্য পুরন করুন । অনলাইনে ভোটার হতে নিচের শর্ত গুলো ভাল করে পড়ে নিন এবং “আমি রাজি ও নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে চাই” ক্লিক করুন । 
 নতুন ভোটার নিবন্ধন !! 
 ১) নতুন ভোটার হিসাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আপনাকে স্বাগত জানাই। 
 ক) ভূমিকাঃ 

  •  অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনি সঠিকভাবে ভোটার রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে পারবেন) 
  • আপনি ইতোমধ্যে ভোটার হয়ে থাকলে পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই। 
  • নিবন্ধিত ব্যাক্তি পুনরায় আবেদন করলে সেটি দন্ডনীয় অপরাধ 
  • নতুন ১৮ বয়সের অধিক, প্রবাসী বা বাদপড়া ভোটারগণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন 
  • বিস্তারিত জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন । 

খ। ধাপসমূহঃ 

  • ধাপে ধাপে সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন 
  • নিজের পূর্ণনাম ছাড়া সকল তথ্য বাংলায় ইউনিকোডে পুরণ করুন 
  • সকল ধাপ সম্পন্ন হবার পরে প্রিভিউএর মাধ্যমে সকল তথ্য পুনর্বার যাচাই করে নিন 
  • পিডিএফ ফাইল তৈরি করে সেটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে জমা দিন 
  • আপনার প্রদত্ত তথ্যাদি যাচাই এবং ঠিকানা যাচাইয়ের পরে তথ্যাদি সঠিক নিশ্চিত হলে আপনার কার্ড তৈরি হবে 
  • কার্ডের রশিদ জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করুন

 গ। প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীঃ 
 বর্তমানে ফরমের চেহারা এইরূপ (পিডিএফ)। ফরম পূরণের আগে সকল তথ্য সাথে রাখুন ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের কপি জমা দিন
১। প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়? 
উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
২। প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে? 
উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।
৩। প্রশ্নঃ ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে? উত্তরঃ জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।
৪। প্রশ্নঃ আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে? 
উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।
৫। প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি? 
উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।
৬। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন ID Card থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে? 
উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।
৭। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি? 
উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
৮। প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি? 
উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।
৯। প্রশ্নঃ আমার ID Card এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার? 
উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে। 
১০। প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে? উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সদন, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।
১১। প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে? 
উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি,ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।
১২। প্রশ্নঃ পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ দাখিল করতে হয়? 
উত্তরঃ পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত সনদ দাখিল করতে হবে।
১৩। প্রশ্নঃ ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়? 
উত্তরঃ শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফরমে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।
১৪। প্রশ্নঃ আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছি না। লোকে বলে ID Card –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে? উত্তরঃ ID Card এ প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
১৫। প্রশ্নঃ একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়? 
উত্তরঃ সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।
১৬। প্রশ্নঃ আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি? 
উত্তরঃ আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।
 ১৭। প্রশ্নঃ ID Card এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে? 
উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।
 ১৮। প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়? 
উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।
 ১৯। প্রশ্নঃ বয়স/ জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া কি?
উত্তরঃ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
 ২০। প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি? 
উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। তবে স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যাবে।
 ২১। প্রশ্নঃ আমার জন্ম তারিখ যথাযথভাবে লেখা হয়নি, আমার কাছে প্রামাণিক কোন দলিল নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে? 
উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 ২২। প্রশ্নঃ একটি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়? 
উত্তরঃ এক তথ্য শুধুমাত্র একবার সংশোধন করা যাবে। তবে যুক্তিযুক্ত না হলে কোন সংশোধন গ্রহণযোগ্য হবে না।
 ২৩। প্রশ্নঃ ভোটার তালিকার নামের সাথে বিভিন্ন খেতাব, পেশা, ধর্মীয় উপাধি, পদবী ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে কিনা? উত্তরঃ ভোটার তালিকার ডাটাবেজে শুধুমাত্র নাম সংযুক্ত করা হয়, কোন উপাধি বা অর্জিত পদবী তাতে সংযুক্ত করার অবকাশ নাই।
২৪। প্রশ্নঃ কোথা হতে ID Card সংগ্রহ করা যাবে? 
উত্তরঃ যে এলাকায় ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে ID Card সংগ্রহ করা যাবে।
 ২৫। প্রশ্নঃ আমি বিদেশে চলে যাব। আমার কার্ড কি অন্য কেউ উত্তোলন করতে পারবে? 
উত্তরঃ হ্যাঁ । আপনার ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির যথাযথ ক্ষমতাপত্র ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Authorization Letter) নিয়ে তা সংগ্রহ করাতে পারবে।
 ২৬। প্রশ্নঃ কার্ডে ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দিলে কি হবে? 
উত্তরঃ জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
 ২৭। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৩ আবার কারো ১৭ কেন? 
উত্তরঃ ২০০৮ এর পরে যত আইডি কার্ড প্রিন্ট করা হচ্ছে বা পুণঃ তৈরি হচ্ছে সে সকল কার্ডের নম্বর ১৭ ডিজিট হয়ে থাকে।
 ২৮। প্রশ্নঃ বিভিন্ন দলিলে আমার বিভিন্ন বয়স/নাম আছে। কোনটা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? 
উত্তরঃ এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষার সনদে উল্লেখিত বয়স ও নাম। ভবিষ্যতে ৫ম/৮ম সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও গ্রহণযোগ্য হবে।লেখাপড়া না জানা থাকলে জন্ম সনদ,পাসপোর্ট,ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ও আবেদন করা যাবে।
 ২৯। প্রশ্নঃ আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে কি ডুপ্লিকেট এন্ট্রি সনাক্ত করা সম্ভব? 
উত্তরঃ হ্যাঁ, সনাক্ত করা সম্ভব।
 ৩০। প্রশ্নঃ এক ব্যক্তির পক্ষে কি একাধিক নামে ও বয়সে একাধিক কার্ড পাওয়া সম্ভব? 
উত্তরঃ না। একজন একটি মাত্র কার্ড করতে পারবেন। তথ্য গোপন করে একাধিক স্থানে ভোটার হলে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আঙুলের ছাপ দ্বারা তা ধরা পড়বে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।
 ৩১। প্রশ্নঃ নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে কি কি কাগজ পত্রাদি প্রয়োজন? 
উত্তরঃ জন্ম নিবন্ধন সনদ, এস,এস,সি বা সমমানের পরীক্ষা পাসের সনদ (যদি থাকে), ঠিকানা প্রমানের জন্য কোন ইউটিলিটি বিলের কপি, নাগরিক সনদ, বাবা-মা এবং বিবাহিত হলে স্বামী/স্ত্রীর NID কার্ডের ফটোকপি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, TIN নম্বর (যদি থাকে)।
 ৩২। প্রশ্নঃ আমি খুব দরিদ্র ও বয়স ১৮ বছরের কম। ১৮ বছরের উপরে বয়স দেখিয়ে একটি ID Card পেলে গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরিতে বা অন্য কোথাও চাকুরী পেতে পারি। মানবিক কারণে এই পরিস্থিতি বিবেচনা করা যায় কি? উত্তরঃ না। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।মানবিক বিবেচনার কোন সুযোগ নেই।
 ৩৩। প্রশ্নঃ আমি ভুলে দু’বার রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছি এখন কি করবো? 
উত্তরঃ যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা জানান। বর্তমানে Finger Print Matching কার্যক্রম চলছে। অচিরেই সকল Duplicate Entry সনাক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
 ৩৪। প্রশ্নঃ ID Card আছে কিন্তু ২০০৮ এর সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। এরূপ সমস্যা সমাধানের উপায় কি? 
উত্তরঃ অবিলম্বে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
 ৩৫। প্রশ্নঃ একজনের কার্ড অন্যজন সংগ্রহ করতে পারবে কিনা? 
উত্তরঃ ক্ষমতাপত্র ও প্রাপ্তিস্বীকার রশিদ নিয়ে আসলে সংগ্রহ করা যাবে।
 ৩৬। প্রশ্নঃ আপনারা বিভিন্ন ফরমের কথা বলেছেন? এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে? 
উত্তরঃ NID Registration Wing/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা যাবে অথবা Website : www.ecs.gov.bd বা www.nidw.gov.bd থেকে ডাউন-লোড করা যাবে।
৩৭। প্রশ্নঃ এই সমস্ত ফরমের জন্য কোন মূল্য পরিশোধ করতে হয় কি না? 
উত্তরঃ না।
১। প্রশ্নঃ ID Card হারিয়ে গিয়েছে। কিভাবে নতুন কার্ড পেতে পারি? 
উত্তরঃ নিকটতম থানায় জিডি করে জিডির মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেল/থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ঢাকায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে। 
 ২। প্রশ্নঃ হারানো আইডি কার্ড পেতে বা তথ্য সংশোধনের জন্য কি কোন ফি দিতে হয়?
 উত্তরঃ এখনো হারানো কার্ড পেতে কোন প্রকার ফি দিতে হয় না। তবে ভবিষ্যতে হারানো আইডি কার্ড পেতে/সংশোধন করতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ধার্য করা হবে। 
 ৩। প্রশ্নঃ হারানো ও সংশোধন একই সাথে করা যায় কি? 
উত্তরঃ হারানো ও সংশোধন একই সাথে সম্ভব নয়। আগে হারানো কার্ড তুলতে হবে, পরবর্তীতে সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে। 
 ৪। প্রশ্নঃ হারিয়ে যাওয়া আইডি কার্ড কিভাবে সংশোধন করব? 
উত্তরঃ প্রথমে হারানো আইডি কার্ড উত্তোলন করে তারপর সংশোধনের আবেদন করতে হবে। 
 ৫। প্রশ্নঃ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র / স্লিপ হারালে করণীয় কি? 
উত্তরঃ স্লিপ হারালেও থানায় জিডি করে সঠিক ভোটার আইডি নাম্বার দিয়ে হারানো কার্ডের জন্য আবেদন পত্র জমা দিতে হবে। 
 ৬। প্রশ্নঃ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র / ID Card হারিয়ে গেছে কিন্তু কোন Document নেই বা NID নম্বর/ ভোটার নম্বর/ স্লিপের নম্বর নেই, সে ক্ষেত্রে কি করণীয়? 
উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে Voter Number সংগ্রহ করে NID Registration Wing/ উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। 
 ৭। প্রশ্নঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে নেই কিন্তু তথ্য পরিবর্তিত হয়েছে এমন তথ্যাদি পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব? 
উত্তরঃজাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে এ সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি সহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে বিবেচনা করা হবে। 
 ৮। প্রশ্নঃ জাতীয় পরিচয় পত্রের মান বর্তমানে তেমন ভালো না এটা কি ভবিষ্যতে উন্নত করার সম্ভাবনা আছে? 
উত্তরঃ হ্যাঁ। আগামীতে স্মার্ট আইডি কার্ড প্রদানের জন্য কাযর্ক্রম চলমান আছে যাতে অনেক উন্নত ও আধুনিক ফিচার সমৃদ্ধ থাকবে এবং মান অনেক উন্নত হবে। 

১। প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?
 উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
 ২। প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?
  উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।
 ৩। প্রশ্নঃ ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?
  উত্তরঃ জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।
৪। প্রশ্নঃ আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে?
  উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে। ৫। প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?
  উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।
৬। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন ID Card থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে?
  উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।
৭। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?
 উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
 ৮। প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?
  উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।
৯। প্রশ্নঃ আমার ID Card এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?
 উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।
১০। প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?  উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সদন, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।
১১। প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?
  উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি,ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।
১২। প্রশ্নঃ পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ দাখিল করতে হয়?
  উত্তরঃ পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত সনদ দাখিল করতে হবে।
 ১৩। প্রশ্নঃ ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?
  উত্তরঃ শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফরমে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।
 ১৪। প্রশ্নঃ আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছি না। লোকে বলে ID Card –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে? উত্তরঃ ID Card এ প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
১৫। প্রশ্নঃ একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?
  উত্তরঃ সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।
১৬। প্রশ্নঃ আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?
 উত্তরঃ আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।
১৭। প্রশ্নঃ ID Card এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে?
 উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।
১৮। প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?
 উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।
১৯। প্রশ্নঃ বয়স/ জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া কি?
 উত্তরঃ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
২০। প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি?
 উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। তবে স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যাবে।
২১। প্রশ্নঃ আমার জন্ম তারিখ যথাযথভাবে লেখা হয়নি, আমার কাছে প্রামাণিক কোন দলিল নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে?
 উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২২। প্রশ্নঃ একটি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়?
 উত্তরঃ এক তথ্য শুধুমাত্র একবার সংশোধন করা যাবে। তবে যুক্তিযুক্ত না হলে কোন সংশোধন গ্রহণযোগ্য হবে না।

সূত্র: https://services.nidw.gov.bd/faq
১) জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নাম (বাংলা/ইংরেজি) এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে, উক্ত সংশোধনের স্বপক্ষে, ক্ষেত্রমত, নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র/তথ্যাদি জমা দিতে হইবে, যথা:-
(ক) শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান হইলে এসএসসি/সমমান সনদপত্র;
(খ) শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান না হইলে এবং তিনি সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত কিংবা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থায় চাকুরীরত হইলে, চাকুরী বই/মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও);
(গ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেনস/ট্রেড লাইসেনস/কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপি;
(ঘ) নামের আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, প্রার্থিত পরিবর্তনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি [এসএসসি সনদ/পাসপোর্ট/চাকুরী বই/মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও)/ড্রার্ইভিং লাইসেনস, যাহার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য] ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি;
(ঙ) ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি এবং আবেদনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি (শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেনস/জন্ম নিবন্ধন সনদ, ইত্যাদি যাহার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য)।

(২) বিবাহ বা বিবাহ বিচ্ছেদ বা অন্য কোন কারণে কোনো মহিলা তাহার নামের সহিত স্বামীর নামের অংশ (টাইটেল) সংযোজন বা বিয়োজন বা সংশোধন করিতে চাহিলে, তাহাকে কাবিননামা/তালাকনামা/মৃত্যু সনদ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা/বিবাহ বিচ্ছেদ ডিক্রির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, সরেজমিন তদন্ত করিতে পারিবেন।

 (৩) পিতা/মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে, জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান সনদপত্র (যদি উহাতে পিতা/মাতার নাম উল্লিখিত থাকে) এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, সরেজমিন তদন্ত করিতে পারিবেন।

 (৪) পিতা/মাতার নামের পূর্বে “মৃত” অভিব্যক্তিটি সংযোজন বা বিয়োজন করিতে চাহিলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পিতা/মাতার মৃত্যু সনদের সত্যায়িত অনুলিপি বা তাহাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি ও জীবিত থাকিবার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/কাউনিসলরের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হইবে।

 (৫) ঠিকানা (বাসা/হোল্ডিং/গ্রাম/রাস্তা/ডাকঘর) সংশোধনের ক্ষেত্রে, সঠিক ঠিকানার স্বপক্ষে বাড়ির দলিল/টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল/বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র/বাড়িভাড়া রশিদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে।

 (৬) রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে, উহার স্বপক্ষে ডাক্তারী সনদপত্র জমা দিতে হইবে।

 (৭) শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে।

 (৮) টিআইএন/ড্রাইভিং লাইসেনস নম্বর/পাসপোর্ট নম্বর সংশোধনের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে, টিআইএন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেনস/পাসপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে।

 (৯) অন্যবিধ যে কোনো সংশোধনের ক্ষেত্রে, উক্তরূপ সংশোধনের স্বপক্ষে উপযুক্ত সনদ, দলিল ইত্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে।

 (১০) আবেদনপত্রের সহিত দাখিলকৃত অনুলিপিসমূহ নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিবর্গ সত্যায়ন করিতে পারিবেন:
(ক) সংসদ সদস্য,
(খ) স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি,
(গ) গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা, এবং
(ঘ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

 (১১) অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

সূত্র: https://services.nidw.gov.bd/#
ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যিনি বাংলাদেশের নাগরিক, সচরাচর কোন এলাকায় বসবাস করেন কিন্তু এখনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি এবং আপনার বয়স যদি ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারী বা তার পূর্বে ১৮ বছর হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে আপনার এলাকার সিডিউল মোতাবেক ফরম-২ পূরণ করে ভোটার হোন । ভোটার হওয়ার সময় আপনার কিছু সংযুক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, যা নিন্মরুপ-
• এস.এস.সি সনদ -(বয়স প্রমানের সনদ)
• জন্ম নিবন্ধন -(বয়স প্রমানের সনদ)
• পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / টি.আই.এন -(বয়স প্রমানের সনদ)
• ইউটিলিটি বিলের কপি/বাড়ী ভাড়ার রশিদ/হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ – (ঐ এলাকায় সচরাচর বসবাস করেন এরুপ কোন প্রমান)
• নাগরিকত্বের সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
• বাবা, মা, স্বামী/স্ত্রীর আই.ডি কার্ডের কপি(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

সূত্র: https://services.nidw.gov.bd/#

>বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনে নিন কিছু তথ্য>>> 
•বিশ্বের ৭৬তম ধনী রাষ্ট্র। 
•বিশ্বের ১১তম সুখী দেশ। 
•বিশ্বের ৬ষ্ঠতম ভাষা আমাদেরই। 
•আমরাই একমাত্র ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি। 
•অন্যতম শক্তিশালী ১০টি মুসলিম দেশের একটি। 
•এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত (কক্সবাজার)। 
•বিশ্বের সবচেয়ে বড় লোনাপানির বনাঞ্চল (সুন্দরবন) এখানে। 
•বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ সেতু (যমুনা সেতু) তো এ দেশেই 
•জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে বেশী বাহিনী প্রেরন করা দেশ। 
•রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে বিশ্বে ২৭তম, গার্মেন্টস শিল্পে প্রথম। 
•প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ দেশটি ২০৫০ সালে বিশ্বের অন্যতম ১০টি ক্ষমতাধর দেশের একটিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। 
•আমাদের রয়েছে নিজ ভাষা রক্ষার্থে প্রাণ দেওয়ার ইতিহাস, রয়েছে ৩০লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে কেনা
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ, ব্যবসা চিন্তাবিদদের এক নতুন তালিকায় স্থান পেয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে তাঁর অবস্থান ১১তম।
মার্কিন দৈনিক ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এই তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় প্রথমে আছেন অর্থনীতি বিশারদ পল ক্রুগম্যান। লেখক ও পরামর্শদাতা গ্যারি হ্যামেলকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষ স্থান দখল করেন। তালিকায় স্থান পাওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী জোসেফ স্টিগলিজ, মাইক্রোসফটের সাবেক চেয়ারম্যান বিল গেটস, মাইকেল পর্টার, থমাস ফ্রিডম্যান, এরিক স্মিট, রিচার্ড ব্র্যানসন, ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল, রবার্ট রিক, জ্যাক ওয়েলচ, মুহাম্মদ ইউনূস, নিয়েল ফার্গুসন, মাইকেল ডেল, হাওয়ার্ড গার্ডনার ও জিমি ওয়েলস। গুগল অনুসন্ধানে (সার্চ) অবস্থান, গণমাধ্যমে পাওয়া প্রচারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক কৃতিত্বের ভিত্তিতে পত্রিকাটি এই তালিকা তৈরি করেছে। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের রিসার্স লাইব্রেরিয়ান জেফ্রে ক্রোনিনকে নিয়ে এ বছরের ওই তালিকা সংকলন করেন ব্যবসন কলেজের ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ও ‘হোয়াটস দ্য বিগ আইডিয়া?’ বইয়ের লেখক টম ড্যাভেনপোর্ট। ড্যাভেনপোর্ট বলেন, ‘নতুন এ তালিকা তারকা অর্থনীতিবিদেরা দখল করেছেন।’
তালিকায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের তুলনায় অর্থনীতি বিশারদদের প্রাধান্য থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘(বিশ্ব) অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ের কাছেই অর্থনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি বা জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
=> প্রথম আলো
গত ৫ মে গভীর রাতে মতিঝিলের নিষ্প্রদীপ শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির ১০ হাজার সদস্যের যৌথ অভিযানে কত লোক নিহত হয়েছিল তা এখনো অজ্ঞাত। সরকারি শ্বেতপত্রে নিহতের সংখ্যা ১১ জন দাবি করে বলা হয়, রাতে অভিযানের সময় নয়, ৫ মে দিনের বেলায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এসব লোক নিহত হয়। শ্বেতপত্রে আরো বলা হয়, তাদের কয়েকজনের লাশ হেফাজতে ইসলামের সমাবেশস্থলে পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম আল-জাজিরা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তাদের অনুসন্ধানের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্যের ভিন্নতা ফুটে উঠেছে। আল-জাজিরা হত্যাযজ্ঞের একটি স্পর্শকাতর ভিডিও চিত্র পেয়েছে।
ভিডিও চিত্রে ঢাকার একটি সরকারি গোরস্তান দেখানো হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিনিধি গোরখোদক আবদুল জলিলের সঙ্গে দেখা করেন। তার বয়স ২০-২২ বছর। আবদুল জলিল বধির ও বোবা। চেক শার্ট পরিহিত জলিল ইশারা ইঙ্গিতে আল-জাজিরার প্রতিনিধির কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করে। একটি গোরস্তানে দাঁড়িয়ে আলাপকালে জলিল জানিয়েছে, সে রাতে এ গোরস্তানে ১৪ টি লাশ কবর দিয়েছে। নিহতরা ছিল শশ্রুধারী ও গুলিবিদ্ধ।
ভিডিও চিত্রে হাজার হাজার মানুষকে আর্তনাদ করতে এবং বহু লোককে উঁচু দেয়াল টপকে পালাতে দেখা গেছে। আলিকো ভবনের সামনে পুলিশ টুপি দাড়িওয়ালাদের বন্দুক দিয়ে পেটাচ্ছে। রক্তাক্ত রাজপথে শ্বেত শুভ্র বহু লাশ লুটোপুটি খাচ্ছে। গুলিবিদ্ধ অনেককে মাটিতে ঢলে পড়তে দেখা যাচ্ছে। অনেকের শরীর রক্তাক্ত। পুলিশের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অ্যাম্বুলেন্সে লাশ তুলতে দেখা যাচ্ছে।
মানবাধিকার গ্রুপগুলো এ ঘৃণ্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে। নিহতদের সংখ্যা অধিক বলে প্রতীয়মান হওয়ায় আল-জাজিরার প্রতিনিধি জেমস বেইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির মুখোমুখি হন। সাক্ষাৎকারে দীপু মনি হতাহতদের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত সংখ্যা সঠিক বলে দাবি করেছেন।
হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশে বিভিন্ন সংস্থা নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছে। এ ব্যাপারে জেমস বেইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবসময় অনুসন্ধান করা যেতে পারে। যে কোনো ঘটনার তদন্ত হতে পারে। সরকার অথবা এ দেশের অধিকাংশ লোক মনে না করে যে, এ ব্যাপারে কোনো বিতর্ক আছে।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ৫ মে ঢাকা অবরোধের দিন পুলিশ ও হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বিক্ষোভে নিহতদের সঠিক সংখ্যা অস্পষ্ট। শনিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যমের খবরে নিহতদের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারো হিসাবেই নিহতের সংখ্যা ৫০ জনের বেশি উল্লেখ করা হয়নি। হেফাজতে ইসলাম দাবি করেছে যে, তাদের সমাবেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক সংখ্যক লোক হতাহত হয়েছে এবং অচিরেই নিহতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
- THESUNRISETODAY.COM
আল্লামা আহমদে শফী'র "জীবন ও র্কম"
সৃষ্টির সূচনাকাল থেকেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত মানবজাতিকে সত্য, সুন্দর কল্যাণ ও মুক্তির আলোকিত তুলে আনার জন্য ওয়াজ-নসিহত, শিক্ষা ও তরবিয়্যতের মিশনে নিয়োজিত থেকেছেন নবী-রাসূলের উত্তরসূরি আলিম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, অলি-আউলিয়া। বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন :
’(হে মুহাম্মদ সা.) আপনি (মানবজাতিকে) হিকমাত ও সুন্দর উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে আপনার প্রভুর পথে আহবান করুন।’
আল্লাহ প্রদত্ত এ দায়িত্ব পালনকে জীবনের প্রধান লক্ষ্যরুপে নির্ধারণ করেছেন এবং উদ্দেশ্যকে সফল করতে পার্থিব সম্পদ-ঐশ্বর্য, সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও যাবতীয় লোভ-লালসা, ভয়ভীতি, তিরস্কার-ভৎর্সনা উপেক্ষা করে হকের দাওয়াতী মশাল প্রজ্জ্বলিত রেখেছেন। কেয়ামত পর্যন্ত ইনশা’আল্লাহ এই প্রদীপ আলো ছড়াবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন,
’আমার উম্মতের একটি দল সর্বাবস্থায় সত্যেও ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, শত্রুরা তাদেও কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’
সুতরাং কোনো শতাব্দী, কোনো যুগ সত্যপন্থী এই পবিত্র দলের তৎপরতাবিহীন থাকবে না। প্রত্যেক যুগের এদেও একটি কাফেলা থাকবে; যারা ইসলামের প্রচার, উপস্থাপন ও আল্লাহর বাণীকে সর্বোচ্চে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আল্লাহর পথের দাঈ ও রাসূলের আদর্শেও পতাকাবাহী দীনের এই সৈনিকরা পৃথিবীর মহামূল্যবান সম্পদ। জনসমাজে, ইতিহাসের পাতায় ও মানুষের হৃদয়ে তারা চিরদিন রাজত্ব করেন, ইহজগত থেকে শারীরিকভাবে লোকান্তরিত হয়েও জগতে তাঁরা বেঁচে থাকেন চিরকাল।

উপমাহাদেশের এমন ক্ষণজন্ম মহাপুরুষদের অন্যতম হলেন, দেশবরেণ্য আলিমেদীন, অলিয়ে কামেল, শায়খুল ইসলাম হযরত আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানীর (রাহ.) অন্যতম খলিফা, দেশের প্রাচীন ও বৃহৎ দীনি দরসেগাহ জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মুহতামিম, শায়খুল আল্লামা শাহ আহমদ শফী। যার কৈশৌর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব আর বার্ধক্য ইলম, আমল, ইখলাস (আত্মশুদ্ধি), দাওয়াতের পূণ্যময় আলোয় উদ্ভাসিত। গোটা জাতির অবিসংবাদিত এই আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক একাধারে মেধাবী আলিম, সফল শিক্ষক, পরিশুদ্ধ সাধক, দূরদর্শী সমাজসংস্কারক, সংযমী, বিনয়ী, সদালাপী, মিষ্টভাষী, যু্ক্তিবাদী, উদার ও পরম স্নেহবৎসল এক জ্যোর্তিময় ব্যক্তিত্ব।
পঙ্কিলতার আবর্তে ডুবে যাওয়া সমাজে আত্মশুদ্ধির মঞ্চে শুদ্ধতার ছড়ি হাতে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বের ধীর অথচ দৃঢ় কদমে অগ্রসরমান এক শান্ত-সমাহিত ব্যক্তিত্বের আলেখ্য পাঠকের হাতে তুলে দিতে চাই। ভক্তপ্রাণের হৃদয়নদে দু’কুল ছাপিয়ে বহমান অঢেল প্রশান্তির শূর্তপ্রতীক শ্বেতশুভ্র পোষাকে অনিন্দ্যসুন্দর এক অসাধারণ মানুষের কাহিনী হয়রত আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব (দা.বা.) এই সংক্ষিপ্ত ’জীবন কথা’।

জন্ম, বেড়ে ওঠা শিক্ষা-দীক্ষা পর্ব
১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৫১ হিজরী সালে বার আউলিয়ার পূর্ণভুমি বীর চট্টলার রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পাখিয়ার টিলা নামক গ্রামে এক অভিজাত, সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী দীনদান পরিবারে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জন্ম। তাঁর ভাগ্যবান পিতা জনাব বরকত আলী ও রতœগর্ভা মাতা মেহেরুন নেসা বেগম। নবজাতক আহমদ শফীর জন্মের পর মা-বাবা তাদের নয়নমনি, প্রিয় সন্তানকে মুসলিম উম্মাহর পথনির্দেশক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বুনতে থাকেন। মহান আল্লাহ, তাঁদের এ মহৎ স্বপ্ন অপূর্ণ রাখেননি। শৈশবে তাঁর পিতা-মাতা শিশু আহমদ শফীকে পবিত্র কুরআন শিক্ষা দেবার মৌলভী আজিজুর রহমানের কাছে প্রেরণ করেন। সমান্তরালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গেই চতুর্থ শ্রেণী পর্যনত্ সাধারণ শিক্ষার পাঠক্রম সম্পন্ন করেন। এরপর সরফভাটা মাদ্রাসায় প্রাথমিক কিতাবাদি অধ্যয়ন শুরু করেন। ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত ন¤্র, বিনয়ী, চিন্তাশীল, প্রখর মেধাবী, তীক্ষèধীরশক্তির, অধিকারী হওয়া বয়সেই তিনি কুরআনের কারিমের নাজার, প্রাথমিক শিক্ষাস্তর কৃতিত্বের সঙ্গে সমাপ্ত করেন। অতঃপর কিশোর আহমদ শফী মাধ্যমিক স্তরের পড়ালেখার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এতিহ্যবাহী প্রাচীর ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল আরবিয়া জিরি-তে ভর্তি হন। সেখানে ৫/৬ মাস অধ্যয়ন করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঢংকা বেজে উঠার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩৬১ হিজরীতে তাাঁর শ্রদ্ধাস্পদ হিতাকাক্সক্ষী হাফেজ ইমতিয়াজের প্রচেষ্টায় এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারীতে ভর্তি হন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১০ বছর। দশ বছরের বালক আহমদ শফীকে এ বয়সেই শোক সাগরে ভাসিয়ে মাতা-পিতা দু’জন পরপর ইন্তেকালা করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

দারুল উলূম হাটহাজারীতে তিনি টানা দশ বছর আত্মত্যাগ, কঠোর ধৈর্য, সদাচার, লেখাপড়ায় গভীর অভিনিবেশ ইত্যাদি গুণাবলির কারণে উস্তাদমহলের বিশেষ স্নেহভাজন ছাত্রে পরিণত হন। এখানে এক দশক অতিক্রান্ত হল। সম-সাময়িক বিজ্ঞ আলিমদের স্নেহধন্য সান্নিধ্যে থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের দক্ষ উস্তাদদের প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে আরবি সাহিত্য, ব্যাকরণ, নাহু-সরফ, ইলমে ফিকহ, মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), দর্শন, বালাগাত (আরবী ভাষার অলঙ্কারশাস্ত্র) প্রভৃতি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
দারুল উলূম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারীতে তিনি দেশের শীর্ষ আলিম ও বুজর্গ ব্যক্তিত্বগণের কাছে সরাসরি শিক্ষাগ্রহণের সৌভাজ্য অর্জন করেরন। তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে খ্যাতিমান আলিমেদীন, সমাজসংস্কারক, উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনবিশারদ আল্লামা মুফতিয়ে আযম হযরত মাওলানা ফয়েজুল্লাহ (রাহ.), শায়খুল হাদিস আল্লামা সুফী আবদুল কাইয়ুম (রাহ.), শায়খুল আদব আল্লামা মুহাম্মদ আলী নিজামপুরী (রাহ.) ও আল্লামা শায়খ আবুল হাসান (রাহ.) এর নাম প্রণিধানযোগ্য।
উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে দারুল উলূম দেওবন্দ যাত্রা

নবীপ্রেমিক এই বুজর্গের বল্যকাল, প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার সময়-প্রবাহ ছিল, বৈচিত্রময় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পূর্ণ। ১৩৭১ হিজরী সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার অদম্য আগ্রহ ও জ্ঞানার্জনের প্রবল তৃষ্ণা নিয়ে ছুটে যান উপমহাদেশের বৃহত্তম ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী হাদিস শিক্ষার পাদপীঠ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম সূতিকার দারুল উলূম দেওবন্দে। দারুল উলূম দেওবন্দে তিনি হাদিস, তাফসীর প্রভৃতি উচ্চতর বিশেষায়িত কোর্স সম্পন্ন করেন। দারুল উলূম দেওবন্দে অধ্যয়নকালে তিনি যাঁদের সংশ্রব লাভে করেন তাদের সর্বাগ্রে যার নাম উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন, শায়খুল আরব ওয়াল আজম, আওলাদে রাসুল সা., যুগশ্রেষ্ঠ ও বিশ্ববরেণ্য মুহাদ্দিস, জ্ঞান ও তাকওয়ার অনন্য প্রতীক, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার, মুজাহিদে মিল্লাত, শায়খুল ইসলাম হযরত আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানীর (রাহ.)। অধ্যয়নরত অবস্থায়ই তিনি হযরত মাদাীর হাতে বায়আত গ্রহণ করে খেলাফতপ্রাপ্তির সৌভাগ্য অর্জন করেন।

দারুল উলুম অপরাপর উস্তাদগণ হলেন, হযরত মাওলানা ইব্্রাহিম বলিয়াভী (রাহ.), হযরত মাওলানা ফখরুল হাসান (রাহ.), তিরমিযী ও আবু দাউদ শরীফের উস্তাদ শয়খুল আদব মাওলানা ই’জাজ আলী রাহ.), নাসাঈ শরীফের উস্তাদ হযরত মাওলানা ফখরুল হাসান (রাহ.), মুসলিম শরীফের উস্তাদ হযরত মাওলানা ইবরাহীম বলিয়াভী (রাহ.), তাহাভী শরীফের উস্তাদ হযরত মাওলানা জহিরুল হাসান (রাহ.), মুয়াত্তা মালেকের উস্তাদ হযরত মাওলানা জলিল আহমদ (রাহ.)।

ইলম, আমল আধ্যাত্মিকতায় ধন্য এই মনীষী একাধারে ৪ বছর বিরামহীন অধ্যয়ন ও বিশ্ববিখ্যাত আসাতিযায়ে কেরামের খেদমত ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে হাদিস, তাফসীর, ফিক্হশাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন যুগের অন্যতম শীর্ষ মুহাদ্দিস আল্লামা মাদানীর ইলমী ও আমলী প্রতিনিধি হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষকতা
দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর হযরত তাঁর পরম হিতাকাক্সক্ষী উস্তাদ দারূল উলূম হাটহাজারীর তৎকালীন মুহতামিম আল্লামা শাহ আবদুল ওয়াহহাব (রাহ,) এর সাথে সাক্ষাত করেন। আল্লামা আবদুল ওয়াহহাব তাঁর চরিত্র মাধুরী, গুণাবলি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পান্ডিত্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উৎকৃষ্ট বোধশক্তি, সততা, উদারতা, আত্মত্যাগের মানসিকতা, ইখলাস, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্বসচেতনতা সর্বোপরি ইলমের গভীরতা অবলোকন করে খুবই প্রীত ও বিমোহিত হন। ফলে তিনি প্রিয় শিষ্যকে জামিয়ার শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। আল্লাহপ্রেমের লক্ষ্যপানে অবিশ্রান্ত ছুটে চলা অভিযাত্রী, চিরপ্রত্যয়ী, মননশীল এ তরুণ আলিম এ জামিয়া থেকে তাঁর অধ্যাপনার কথা পুরো জামিয়া ছড়িয়ে পড়ে অল্পদিনের মধ্যেই। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ইলমের তৃষ্ণার্ত সন্ধানী মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে জামিয়ায়। পাশাপশি তিনি নবী আদর্শের প্রতিচ্ছবিরুপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারার ফলেই নানা শ্রেণী-পেশা মানুষ আত্মশুদ্ধি ও আত্মিক উন্নয়নের তৃষ্ণা নিবারণে তাঁর কাছে ছুটে আসে সবসময়।
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারীর পরিচালক

১৪০৭ হিজরী সালে তদানীন্তন জামিয়ার মুহতামিম আল্লামা হামেদ ৯রাহ.) পরলোক গমন করলে জামিয়ার সর্বোচ্চ মজলিসে শুরার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামিয়া পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় বর্তমান মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপর। হযরতের দক্ষতাপূর্ণ পরিচালনায় এ পর্যন্ত জামিয়া আহলিয়া হাটহাজারীর ইলমী, আমলী, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রভূতি উন্নতি সাধিত হয়। বর্তমানে তিনি পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জামিয়ার শায়খুল হাদিসেরও দায়িত্ব আঞ্জাম দিচ্ছেন। দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী তাঁর আমলেই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
ঘযরতের সফল উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় দারুল উলূমের ব্যাপক সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্রদের আবাসন সঙ্কট নিরসনকল্পে বহু আবাসিক ছাত্রাবাস ভবন, দারুল হাদিস সম্প্রসারণ, জামিয়ার উত্তর পাশে তিন তলা বিশিষ্ট নতুর জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। রেলওয়ে থেকে পরিত্যক্ত ভূমি স্থায়ী লিজ নিয়ে সেখানে নির্মিত হয়েছে ৬ তলা বিশিষ্ট দু’টি আবাসিক স্টাফ কোয়ার্টার ভবন।

১৯৯৫ সালে জামিয়ার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ’শতবার্ষিকী দস্তারবন্দী মহসম্মেল’ বা সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ১০ হাজারের বেশি প্রাক্তণ ছাত্র অংশ গ্রহণ করে যাদের দস্তারে ফজিলত প্রদান করা হয়। ২০০২ সালে হযরতের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তবার্ষিকী মহাসম্মেলন। বর্তমানে জামিয়ার বার্ষিক মাহফিলে দস্তাবন্দী সম্মেলন তথা সমাবর্তনও অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টা ও আগ্রহে জামিয়ায় কিরাত, তাজভীদ, তাহফীজ, উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগের পাশাপাশি আরবি সাহিত্য বিভাগ, বাংলা সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগ, কম্পিউটার, ছাত্রপাঠাগার, জামিয়ার মুখপত্র মাসিক মুইনুল ইসলাম-এর নিয়মিত প্রকাশনা, ইসলামি আইন পরিষদ, সাহিত্য পরিষদ, ফাতাওয়া বিভাগ ইত্যাদি সুন্দররূপে ও গতিশীলতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

সামাজিক আন্দোলন ও ধর্মীয় তৎপরতা
অন্যদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি ব্যাপক কর্মকা-ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শায়খুই ইসলাম হয়রত হুসাইন আহমদ মাদানীর এই আধ্যাত্মিক শিষ্য স্বীয় ও পীর উস্তাদের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ইসলামি আকীদ-বিশ্বাস, তাহজীব-তামাদ্দুন, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে যে কোন বাস্তব কর্মসূচিতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ও সাড়া জাগানো অরাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক সংগঠন ’হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ এর আমীর। নাস্তিক-বিরোধী মাত্র দেড় মাসর আন্দোলনে যে সংগঠন গোটা বাংলাদেশের লাখো-কোটি তাওহীদি জনতাকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। দেশব্যাপী নবীপ্রেমিক জনতার মহাজাগরণ সৃষ্টি করেছে আল্লাহর অসীম রহমত ও অপরিমেয় সাহায্যের ফলে। এই পুস্তকের পরিশিষ্টে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আন্দোলন ও কর্মতৎপরতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে বিধায় এখানে সে বিষয়ে আলোচনা থেকে বিরত রইলাম।
তিনি বাংলাদেশের হক্কানী ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বধানী বিশুদ্দ আকীদার সকল ইসলামি সংগঠনের অভিভাবকত্ব করে যাচ্ছেন। তিনিই যেন সকলের সমন্বয়স্থল। বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ যেকোনো সমস্যায় হযরতের কাছে ছুটে আসেন। 


হযরতের শিষ্য ও দেশ-বিদেশের সম্মাননা
বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডন, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, কয়েতসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ও উপমাহদেশের বহু জায়গায় তাঁর ছাত্র-শিষ্য, মুরিদ অনুসারী ছড়িয়ে আছে। বিশেষত, আরবদেশগুলোতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা ঈর্ষণীয়। তাঁর ন¤্রতা, তাকওয়া, ইলম, প্রজ্ঞা প্রত্যক্ষ করে স্বয়ং হারাম শরীফের ইমামগণ তাঁকে (আরবের সবচেয়ে সম্মানসূচক শব্দ) ’শায়খ’ শব্দে সম্বোধন করে থাকেন। ১৯ আগস্ট ২০০১ সালে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পথে পবিত্র ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করলে হারামাইন শরীফাইনের মহাপরিচালক শায়খ সালেহ বিন আল হুমাইদ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের এক পর্যায়ে তিনি হযরতকে কা’বা শরীফের গেলাফের একটি অংশ উপহার দিয়ে সম্মনিত করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সীরাত কমিটি ২০০৫ সালে তাকে ’শ্রেষ্ঠ ইসলামি ব্যক্তিত্ব’ ঘোষণা করে স্বর্ণপদক প্রদান করে।

সূযের আলোকরশ্মি যেরূপ বিশ্ববাসীকে পথ দেখায়, তেমনই একজন আশলসম্পন্ন প্রকৃত আলিম, নায়েবে রাসূল সা. বিশ্বের মানুষকে আলোর পথ ও সত্যের পথ দেখাতে সক্ষম। মুসলিম উম্মাহর এই ত্যাগী সংগ্রামী ও বিপ্লবী সমাজসংস্কারক আজীবন শিরক-বিদআত, কবর পূজা, মাজার পূজা, তথা সকল কুসংস্কার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সদা জাগ্রত। হযরতের আবেগঘন, জ্বালাময়ী ও সারগর্ভ উপস্থাপনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর তথ্যবহুল, বিশ্লেষণধর্মী ও যু্িক্তপূর্ণ বয়ান, ভাষণ ইত্যাদির ফলে লাখ লাখ মানুষ ভ্রষ্টাচার ও ভ্রান্তপথ ছেড়ে ঈমান ও আমলের আলোকিত পথে উঠে আসছেন- আলহামদুলিল্লাহ।

আধ্যাত্মিকতা
কর্মময় জীবনের হাজারো ব্যস্ততা স্বত্বেও সময় ও নিয়মানুবর্তিতা হযরতের জীবনধারার এক অবিচ্ছেদ অংশ। দিন-রাতের মূল্যবান সময়কে নির্দিষ্ট রুটিনে ভাগ করে অধ্যাপনা, অধ্যয়ন, মাদ্রাসা পরিচালনা, ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আজকার, সাক্ষাৎপ্রার্থী ও শুভার্থীদের সাক্ষাৎ দেয়া ইত্যাদি সম্পন্ন করেন। গভীর রজনীতে মানুষ যখন গভীর নিদ্রায় বিভোর তখন তিনি দাঁড়িযে যান তাহাজ্জুদ নামাজে। একান্ত-নিভৃতে আদায় করে বিভিন্ন অজিফ। অশ্রুবিগলিত কন্ঠে, কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন দেশ, জাতি, সমাজ-রাষ্ট্র ও গোটা মুসলিম উম্মাহ সর্বোপরি মানবতার জন্যে।

লেখক, গবেষক ও গ্রন্থাকার আল্লামা আহমদ শফী
দারস-অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গণে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চরেছেন। ঈমান, আকীদা, আত্মশুদ্ধি, দাওয়াত, জিহাদ, ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ বহু বিষয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করে একদিকে তাঁর গবেষণালব্ধ জ্ঞান মানুষের মাঝে সাবলিল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন অন্যদিকে মিথ্যা, বিকৃত ও ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানেদের চোখ খুলে দিয়েছেন।

তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম হল-
১. হক বাতিলের চিরন্তর দ্বন্ধ
২. ইসলামী অর্থব্যবস্থা
৩. ইসলাম ও রাজনীতি
৪. ইজহারে হাকিকত বা বাস্তব দৃষ্টিতে মওদুদী মতবাদ
৫. তাকফীরে মুসলিম বা মুসলমানকে কাফির বলার পরিণাম
৬. সত্যের দিকে করুণ আহবান
৭. একটি সন্দেহের অবসান
৮. একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া
৯. তাবলীগ অন্যতম জিহাদ
১০. ইছমতে আম্বিয়া ও মি’ইয়ারে হক
১১. বায়আতের হাকিকত প্রভৃতি।

পরিশিষ্ট: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা আহমদ শফী
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি সামাজিক, আধ্যাত্মিক ও আত্মসংশোধনমূলক সংগঠন। মূলত, এটি সবৃজনীন অরাজনৈতিক একটি প্লাটফরম। মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা, সভ্যতা-সংস্কৃতি, ইসলামের বিধান ও প্রতীকসমূহের হেফাজত সম্পর্কে মুসলমানদের সচেতন করে তোলা এবং ধর্মীয় ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দেলন অব্যাহত রাখা হেফাজত ইসলামের প্রধান লক্ষ্য।

হেফাজতে ইসলাম মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা ও তাহযীব-তামাদ্দুন সংরক্ষণে সর্বাত্মক ও নিরাপস ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি পরিচালিত হয় না। কারো সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক স্বার্থভিত্তিক বন্ধুত্ব বা শত্রুতা নেই। কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুর আড়ালে ইসলামকে টার্গেট করা হচ্ছে বিধায় দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলাম সর্বস্তরের মু’মিন –মুসলমান তথা নবীপ্রেমিক, ইসলামপ্রিয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কিচু কর্মসূটি ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা, রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম, ইসলামের বিধান ও প্রতীকসমূহের ওপর কাফের-মুশরিক, ইয়াহুদি-নাসারা ও তাদের দোসরদের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। উম্মতে মুসলিমার সঙ্কটকালে আকাবেরীন ওলামায়ে দেওবন্দ যেভাবে কুরবানী ও ত্যাগের নজরানা পেশ করেছিলেন তা আমাদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের অনুসারী হিসেবে আমরা প্রত্যেকে দীনের মুজাহিদ হিসেবে নিজেকে আল্লাহর রাস্তায় পেশ করতে হবে।
শতকরা নব্বই শাতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। এদেশ হাজার হাজার আলিমা-ওলামা, পীর-বুজর্গ, মুহাদ্দি-মুফাস্সির, মুফতি, অলি-আউলিয়ার জন্মভূমি। যাঁদের পদচারণায় বাংলার মাটি ইসলামের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে, ইমামুল হিন্দ শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহদ্দিসে দেহলভী রাহ. এর উত্তরসূরি, হুজ্জাতুল ইসলাম কাসম নানুতুভী রাহ., ফকীহুল হিন্দ রশীদ আহমদ গঙ্গুহী রাহ. ও শায়খুল ইসলাম সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ. এর লাখো রূহানী সন্তান। এ ঐতিহাসিক বাস্তবতার কারণেই এ মাটির গভীরে প্রোথিত আছে ইসলামের বিস্তৃত শিকড়। আজ সেই বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে সমূলে উৎখাতের হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী গোষ্ঠী এবং তাদের এদেশীয় এজেন্ট মুসলিম নামধারী কিছু নাস্তিক মুরতাদ ও তাসলিমা নাসরিনের ভাবশিষ্য বামপন্থী ব্লগাররা। যারা আল্লাহ, রাসুল, ইসলামের প্রতীকসমূহের ওপর আক্রমণের দিক থেকে ইতোমধ্যেই তাসলিমা নাসরিনসহ তাদের সকল পূর্বসূরী নাস্তিক এমনকি ইয়াহুদি স্যামবাসিলকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আল্লাহ-রাসুল সা., উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাহাবায়ে কেরাম ও ইসলামের মৌলিক বিধান সমূহের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, বামপন্থী নাস্তিক বুদ্ধিজীবিদের পরামর্শে বর্তমান সরকার এ দেশ থেকে ইসলাম বিতাড়নের দীর্ঘমেয়াদী নীল নকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কতিপয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তাদের বলিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রতিনিয়ত ইসলাম, মুসলমান ও আলিম-ওলঅমাদের হেয়প্রতিপন্ন করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা আলিম-ওলামা ও মাদানিসে দীনিয়্যার বিরুদ্ধে হরদম মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে বিভক্ত করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আযাদী আন্দোলনের দুর্দান্ত সিপাহসালার শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানীর (রাহ.) সুযোগ্য উত্তরসূরি দলমত-শ্রেণীগোষ্ঠী নির্বিশেষে ঈমান, আকীদা, ইসলামের প্রতীক, বিধান, তাহযীব-তামাদ্দুন সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে ঈমানী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলনে সর্বত্র অভাবনীয় সাড়া জেগেছে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া নবীপ্রেমিক জনতার এই মহাজাগরণ আল্লামা আহমদ শফীর ইখলাস, নিষ্ঠা, লিল্লাহিয়্যাত ও ঈমানীশক্তির বরকতের ফসল। হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আল্লামা শাহ আহমদ শফী যে কর্মসূচি দিচ্ছেন সবখানেই বিস্ময়করভাবে আল্লাহর সাহায্য পরিদৃষ্ট হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

- Vision2021 - ভিশন২০২১
ওখানে পুকুর ছিল। টলমল করত পানি। পানিতে ছিল মাছ। কোথাও কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদ। সেই পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হয় অট্টালিকা। দু-তিনতলা নয়, নয়তলা ভবন। সে ভবন ভাড়া নিয়েছেন পোশাকশিল্প মালিকেরা। প্রতিষ্ঠা করেছেন লাভজনক কারখানা। এক দালানে একটি নয়—চার চারটে পোশাকশিল্প। সেখানে কাজ করেন হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক। ওই ভবনে রয়েছে শ তিনেক দোকান। একটি বেসরকারি ব্যাংক।
হাতিরঝিলের বুকের ভেতরে যেমন গড়ে উঠেছে বিশাল সৌধ, তেমনি সাভারে পুকুর ভরাট করে নির্মিত হয়েছিল রানা প্লাজা। সেটি বুধবার সকালে অবলীলায় ধসে পড়ল। ধসে পড়ল হাজার হাজার শ্রমিকের মাথার ওপর। ওঁদের পুড়ে মরাই নিয়তি। এবার দালানচাপায় মরলেন। কতজন যে মরেছেন তার সঠিক সংখ্যা কোনো দিনই জানা যাবে না। যেমন এর আগের দুর্ঘটনাগুলোতে পুড়ে ছাই হয়ে কতজন মারা যান সে তথ্য আজও জানা যায়নি।
রানা প্লাজায় যাঁরা চাপা পড়েছেন তৎক্ষণাৎ তাঁদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধারের আগেই তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। টিভিতে দেখা গেল বিএনপির নেতা বলছেন, দয়াপরবশ হয়ে ‘ওই এলাকায় হরতাল আমরা শিথিল করছি।’ আঠার দলের নেতাদের এ কম উদারতা নয়!
রাষ্ট্রের আর কোনো অন্যায়-অবিচারে নয়, বিরোধী দলের ডাকা ঘন ঘন হরতালে পোশাকশিল্পের মালিকেরা বড়ই বিচলিত। গত মঙ্গলবার বিজিএমইএ নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ঘন ঘন হরতাল, সহিংসতা ও প্রাণহানিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছেন, আস্থা হারাচ্ছেন। হরতাল নামক বিশাল দানবের উপর্যুপরি আঘাতে ৩০ বছরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা তৈরি পোশাকশিল্প ক্ষতবিক্ষত ও বিপর্যস্ত হচ্ছে। একে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনের প্রাজ্ঞ সভাপতি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এত ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়নি। চলমান সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পের অস্তিত্ব কীভাবে টিকিয়ে রাখব? কীভাবে টিকে থাকব? আমাদের বাইরের খোলসটাই আপনারা দেখছেন। ভেতরের রক্তক্ষরণটা দেখতে পাচ্ছেন না।’
অতি খাঁটি কথা। হরতালওয়ালারা তাঁদের শিল্পটাকেই গলা টিপে হত্যা করছে। এখন মালিকদের আমরা যা দেখছি তা খোলস। মানুষ দৃষ্টিশক্তিহীন বলে তাঁদের ভেতরের রক্তক্ষরণটা দেখতে পাচ্ছেন না। স্পেকট্রাম, তাজরীন প্রভৃতির হতভাগ্য শ্রমিকদের কোনো মালিকই গলা টিপে হত্যা করেননি। তাঁদের হত্যা করা হয়েছে পুড়িয়ে, মালিকদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে ভেতরে। রানা প্লাজার শ্রমিকদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে শরীরে। তফাৎ শুধু এটুকুই।
গত এক যুগে হরতালে যত লোক মারা গেছে, পোশাকশিল্পে পুড়ে ও পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছে তার বহু গুণ বেশি। তাতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় না? ওসব হত্যাকাণ্ডের দায় কার? এ প্রশ্নের জবাব দিতে আমাদের রাষ্ট্র নেই, কেউ নেই।
অমন একটি দুর্বল ভবনে অত কারখানা কেন? বিজিএমইএর বিজ্ঞদের কাছে জবাব চাই। আগেরদিন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও ঠেলে শ্রমিকদের যে মালিকেরা কারখানায় ঢুকিয়েছিলেন হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডই তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি। ভবনের মালিক, নির্মাণ-প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে—এটাই এখন জনগণের দাবি।

সাভার দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ছুটি থাকবে না।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে দাঁড়িয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শোক ঘোষণার ফাইল স্বাক্ষর করেছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়া হবে। তবে এদিন ছুটি থাকবে না।”


বর্তমানে হেফাজতে ইসলাম যে আন্দোলন করছে তাতে কি আমাদের অংশগ্রহণ করা জরুরী? আপনাদের কি মত?


হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো ঠিক আছে এবং তাতে আমরা সমর্থন করি। অবশ্যই এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। 
আদালতের মৌলিক কাজ হচ্ছে অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি বিধান করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্টা করা। আইনের আশ্রয় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সুবিচার পাবে এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায় প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করতে বা হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়।

পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে এ ধরনের খবর। সাক্ষী সাজিয়ে মামলা উপস্থাপন করায় প্রতিপক্ষ হয়রানির মুখোমুখো হন । এছাড়া মামলা চালাতে গিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আমরা দেখার চেষ্টা করব এ সম্পর্কে আইন কী বলে।
ফৌজদারী কার্যবিধির ২৫০ ধারা উপধারা (১) অনুসারে কোন মামলা যদি নালিশের মাধ্যমে অথবা পুলিশের বা ম্যাজিষ্ট্রেট কাছে তথ্য প্রদান করার মাধ্যমে করা হয় এবং পরবর্তীতে যদি ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযুক্ত বা একাধিক অভিযুক্তের কাউকে খালাস দেন এবং ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে প্রতীয়মান হয় যে , অভিযোগগুলো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তাহলে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এই মর্মে উক্ত অভিযোগকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারেন।

অভিযোগকারী আদালতে অনুপস্থিত থাকলে আদালত হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য সমন জারী করতে পারেন ।

উপধারা (২) অনুসারে, অভিযোগকারী কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তাহলে সর্বোচ্চ ১০০০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন।

এক্ষেত্রে তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট হলে জরিমানার পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। জরিমানার অর্থটি মামলায় বিবাদীকে পরিশোধ করতে হবে।

জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিষ্ট্রেট সর্বোচ্চ ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন।

এছাড়া Law of Torts অনুসারে বিদ্বেষপরায়ণ মামলার ক্ষেত্রে প্রতিকার পেতে চাইলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে,

(ক) বিবাদী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল

(খ) পূর্বের মামলার প্রকৃতি দেখে মনে হয় , মামলাটি বাদীর অনুকূলে শেষ হতে পারত
(গ) মামলাটি যুক্তিসংগত এবং সম্ভাব্য কারণ ছাড়া করা হয়েছিল
(ঘ) মামলাটি বিদ্বেষবশত করা হয়েছিল
(ঙ) মামলার ফলে বাদীর ক্ষতি হয়েছে
এখানে উল্লেখ্য যে, কোন মামলায় যদি কাউকে দণ্ডিত করা হয়, তবে দণ্ডিত ব্যক্তি ঐ দণ্ডাদেশকে বিদ্বেষবশত বলে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না।

দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা অনুসারে বিচারিক প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বা সাক্ষ্য বিকৃত করলে ঐ ব্যক্তি সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বা সাক্ষ্য বিকৃত করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

দণ্ডবিধিরি ১৯৪ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য বা সাক্ষ্য বিকৃত করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কোন অপরাধে কাউকে দণ্ডিত করায়, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন । এক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য বা সাক্ষ্য বিকৃত করার ফলে যদি নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তাহলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা ১৯৪ ধারায় বর্ণিত অন্যান্য দণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।

দণ্ডবিধির ১৯৫ ধারায় উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য বা সাক্ষ্য বিকৃত করে কাউকে এমন কোন অপরাধে দণ্ডিত করায় যার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সাত বছরের কারাদণ্ড, তাহলে উক্ত ব্যক্তিও সমদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।
এছাড়াও তথ্য প্রমাণ গোপন করা, অপরাধ সংগঠনের মিথ্যা সংবাদ প্রদান করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলাও করতে পারেন।
- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বর্তমানে যে কোনো ব্যক্তির মনে হঠাৎ গুম বা গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা থাকাটা স্বাভাবিক।

এরই মধ্যে অনেকে গুম কিংবা বা গ্রেফতারের নামে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। পরে তাদের ব্যাপারে আর কিছুই জানা যায়নি। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরও তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামেই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেই ব্যক্তির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট থানা বা নিকটস্থ প্রশাসনের সাহায্য নিতে গেলে তারা এর কোনো দায়ভারও স্বীকার করে না। কখনো হয়তো নিরুদ্দেশ ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় কখনো বা তাও মেলে না। কিছু দিন আগেও ঢাকা থেকে গুম হওয়া তিনজনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। যাদের গ্রেফতারের নামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

আমদের দেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবে। অর্থাৎ পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ হলেই যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আটকে রাখতে পারবে। এই ধারা পুলিশকে স্বেচ্ছাচারিতা করার সুযোগ দিয়েছে। ইচ্ছা মতো যাকে তাকে যখন তখন পুলিশ সন্দেহ করতে পারে। এর জন্য পুলিশকে কোনো জবাবদিহিও করতে হয় না। আমরা সাধারণ নাগরিক এই ক্ষেত্রে তাদের কাছে অসহায়। যেন স্বাধীন দেশে থেকেও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি আমরা। এই ধারায় পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার নিয়ম নেই। তাছাড়া ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার ক্রিমিনাল জুরিস্প্রুড্যান্সও সমর্থন করে না। ৫৪ ধারায় আটক ব্যক্তি প্রায়ই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। যার প্রমাণ আমরা কম বেশি দেখে আসছি। এমন কি পুলিশ হেফাজতে অনেক বন্দির মৃত্যুর কারণও এই ধারায় প্রদত্ত অসীম ক্ষমতা। এই ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার জনগণের জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে ব্যাহত করে। যা সরাসরি আমাদের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ছাড়াই চালান করে দেওয়া হয় যা অমানবিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে থাকে।

সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গ্রেফতারের এই নিয়ম নিয়ে এরই মধ্যে আমাদের দেশে অনেকবার সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক আগে থেকেই এই ধারা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা জোর দাবি জানিয়ে এলেও কোনো সরকার এই ধারা বাতিল কিংবা সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়নি। মাঝে মধ্যে মন্ত্রীরা নানা আশার কথা শোনালেও তারা এই ধারা মূলত বিরোধী দলকে দমন ও অপছন্দের ব্যক্তিদের শায়েস্তা করতে ব্যবহার করেছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে পুলিশের আটক সংক্রান্ত ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ BALST Vs. BANGLADESH (55 DLR 363) মামলায় সরকারকে আটটি নির্দেশনা মেনে চলার সুপারিশ করে। সুপারিশগুলো হলো-
১.বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সালের তিন ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তিকে আটক করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তা ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না। ২. গ্রেফতারের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় প্রদান করবে এবং যদি প্রয়োজন হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ও উপস্থিত সবাইকে তার পরিচয়পত্র (ID Card) প্রদর্শন করবে। ৩. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে থানায় আনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতারের কারণ নথিভুক্ত করবে এবং আনুষঙ্গিক তথ্য যেমন, আমলযোগ্য অপরাধে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তার নিজের জ্ঞান, অপরাধের প্রকৃতি, যে পরিস্থিতিতে তাকে গ্রেফতার করা হলো, তথ্যের উৎস, ওই তথ্য বিশ্বাস করার কারণ, যেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় সে জায়গার বর্ণনা, গ্রেফতারের তারিখ ও সময় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, ওই ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা এবং এই উদ্দেশের জন্য থানায় রক্ষিত সাধারণ ডায়েরিতে তা উপস্থাপন করতে হবে। ৪. গ্রেফতারের সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে পুলিশ কর্মকর্তা তা রেকর্ড করে রাখবেন এবং ওই ব্যক্তিকে নিকটস্থ হাসপাতালে বা সরকারি চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবেন এবং ওই আঘাতের কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করবেন। ৫. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে থানায় চালানের তিন ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রফতারের কারণ জানাতে হবে। ৬. যদি কোনো ব্যক্তিকে তার বাড়ি বা অফিস থেকে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে তাকে গ্রেফতারের এক ঘণ্টার মধ্যে তার কোনো আত্মীয়কে টেলিফোনে বা বার্তাবাহকের মাধ্যমে জানাতে হবে। ৭. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তার পছন্দের আইনজীবী বা তার ইচ্ছানুযায়ী কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে দিতে হবে ৮. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করাতে হবে এবং তখন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট আবেদন পত্রে উল্লেখ করতে হবে, কেন তদন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়নি, কেন তিনি মনে করেন যে তার অভিযোগের বা তথ্যের সুস্পষ্ট ভিত্তিমূল রয়েছে-যদি এমন অবস্থার প্রয়োজন পড়ে। এই মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্যের অন্তর্ভূক্তির কপি মামালার ডায়েরির BP from No.38 একই ম্যাজিস্ট্রেটকে হস্তান্তর করতে হবে।

এছাড়া ভুয়া পরোয়ানা দেখিয়ে আটক বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সরকারের প্রতি হাইকোর্টের তিন সপ্তাহের রুল জারি হয়।

কিন্তু হাইকোর্টের এই সব নির্দেশনা যদি পুলিশ সঠিকভাবে মেনে চলতো তাহলে গ্রেফতারের সময় সাধারণ নাগরিকদের এতো দুর্ভোগ পোহাতে হতোনা। মানুষেরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অনেক আস্থা থাকতো। অন্য কেউ পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দিয়ে সহজে কোনো সাধারণ নাগরিককে গুম বা গ্রেফতার করার সুযোগ পেতো না। আর এই ব্যাপারে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। আশেপাশের পরিচিত কেউ অজ্ঞাত কারণে গ্রেফতার হলে দেখতে হবে, কে বা কারা গ্রেফতার করছে বা তাকে গ্রফতারের নামে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশা করি, হাইকোর্টের দেওয়া গ্রেফতার সম্পর্কিত এই সব নির্দেশনা পুলিশ সঠিকভাবে পালন করলে দেশে গুম বা গুপ্ত হত্যা কিংবা অবৈধ গ্রেফতারের মতো ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।
- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নিউজবিএনএন ডেস্ক: একটি মুসলিমপ্রধান দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা থাকবে এটাই ছিল যৌক্তিকভাবে প্রত্যাশিত। যে শিক্ষা ও সভ্যতা আমাদের জাতিকে অন্যান্য জাতি থেকে পৃথক সত্তায় এবং আলাদা বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করে আর উন্নত মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে সে শিক্ষাই হওয়ার কথা ছিল আমাদের জাতীয় শিক্ষা। কিন্তু আজ আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির শিক্ষা ব্যবস্থায় এ কী অসহনীয় বাস্তবতা লক্ষ্য করছি। এসব কীসের আলামত? এ শিক্ষায় ধর্মীয় জ্ঞান ও মূল্যবোধের চর্চা তো দূরের কথা বরং শিক্ষার সব পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ধর্মের প্রতি অবমাননা আর ধর্মবিদ্বেষের বিষাক্ত বীজ। বিকৃত করা হয়েছে ইসলামের আলোকিত ইতিহাস এবং চরিত্রহনন করা হয়েছে ইতিহাসের আলোচিত মুসলিম শাসকদের। প্রাথমিক স্তর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বস্তরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে বিকৃত ইতিহাস আর ধর্মের প্রতি অবমাননামূলক নানা বিষয়। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে এবং পাঠ্যপুস্তকে অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা ইসলাম অবমাননার যে ভয়াবহ চিত্র পেয়েছি, শিক্ষার সব স্তর থেকে এ নিবন্ধে তার এক-একটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো :
প্রাথমিক স্তর : পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার ৫৮নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ‘ইসলাম এত উদার যে মহানবী (সা.) ইয়াহুদি খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের মদিনা মসজিদে ইবাদত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। [দৈনিক আমার দেশ ১৬.৩.২০১৩ইং]
পাঠ্যপুস্তকের এহেন অসত্য বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসকেই শুধু বিকৃত করা হয়নি, বরং ইসলামের অপরিহার্য আকিদা বিশ্বাসের মূলেও আঘাত করা হয়েছে। কারণ মহানবী (সা.) ইয়াহুদি খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের মদিনা মসজিদে ইবাদত করার সুযাগ করে দেয়ার বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায় তিনি এদের বাতিল ধর্মকেও ইসলামের মতোই সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ)। অথচ মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে ইসলামই আল্লাহর কাছে একমাত্র ধর্ম’ [আলে ইমরান, আয়াত : ১৯] অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত (আলে ইমরান : ৮৫)। তাহলে ইসলামের ইতিহাস বিকৃত করার মাধ্যমে এর একটি মৌলিক ও অপরিহার্য আকিদার বিষয়ে তরলমতি শিশুদের মনে সংশয় ঈমান আকিদা নষ্ট করার চেষ্টার পেছনে উদ্দেশ্য কী তা ভেবে দেখা দরকার।
মাধ্যমিক স্তর : নবম শ্রেণীতে পাঠ্য ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে দেবদেবীকে মহান আল্লাহর সমমর্যাদায় এনে দেবদেবীর নামে উত্সর্গীকৃত পশু খাওয়াকে হালাল বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। বইটির—৮২নং পৃষ্ঠায় ‘হালাল হারাম’ অংশে হারাম খাদ্য ও দ্রব্যের তালিকায় ৫ নম্বরে লেখা হয়েছে ‘দেবদেবীর বা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উত্সর্গীকৃত পশুর গোশত (খাওয়া হারাম)। তার মানে স্পষ্টত এই দাঁড়ায় যে দেবদেবীরাও মহান আল্লাহর সমপর্যায়ের (নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক)। এ বক্তব্যের
মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে শিরক করা হয়েছে যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহর শরিক করে সে এক মহাপাপ করে।’ [সুরা নিসা, আয়াত নং ৪৮]। ন্যূনতম ধর্মীয়
জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিও জানেন যে দেবদেবীর নামে উত্সর্গীকৃত পশুর গোশত সম্পূর্ণরূপে হারাম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যেসব জীবজন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উত্সর্গ করা হয়’ [সুরা বাকারা, আয়াত ১৭৩] উল্লেখ্য যে পাঠ্যপুস্তকে মহান আল্লাহর এহেন অবমাননার বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরার পর এই গুরুতর অপরাধে জড়িতদের কোনো বিচার হয়েছে বলে আজ পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শুধু তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে এর একটি সংশোধনী জারি করে। একটি মুসলিম প্রধান দেশে মুসলমানদের অর্থে পরিচালিত শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকে এমন ভয়াবহ ইসলাম অবমাননার বিষয়টি কী করে ঘটল সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল।
সর্বোচ্চ স্তর : সাধারণ শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকেও রয়েছে ধর্মবিদ্বেষের বিষাক্ত বীজ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সর্বশেষ সংস্করণেও তা বাদ দেয়া হয়নি। স্নাতক শ্রেণীর বাংলা (আবশ্যিক) বইয়ের দুটি লেখায় এই অবমাননা চোখে পড়েছে। একটি লেখার শিরোনাম হচ্ছে ‘সংস্কৃতি কথা’ আর অপরটির নাম ‘হুজুর কেবলা’। সংস্কৃতি কথা প্রবন্ধটিতে লেখক দাবি করেন ধর্ম হচ্ছে সাধারণ লোকের কালচার। মার্জিত আলোকপ্রাপ্তদের জন্য ধর্মের এতটা দরকার হয় না। বরং তাদের ওপর ধর্মের নীতি চাপাতে গেলে ক্ষতি হয়।’ (এবং তাদের আত্মা নষ্ট হয়ে যায়)। দার্শনিক শ’র উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যার আকাশে তাঁর সম্বন্ধে সাবধান’। এর কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখক বলেন, ‘কেননা তার দ্বারা যে কোনো অন্যায় ও নিষ্ঠুর কাজ হতে পারে’ কতদূর এগিয়ে লেখক ধর্মাশ্রয়ীদের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন তুলে ধরেন এভাবে ‘ইহকাল ও পরকালে সর্বত্রই একটা ইতর লোভ।’ আর ‘হুজুর কেবলা’ গল্পটিতে বাহ্যত একজন ভণ্ড পীরের মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে—বোঝানো হলেও এর বিভিন্ন অংশজুড়ে রয়েছে আমাদের প্রিয় ধর্মের প্রতি চরম কটাক্ষপাত ও অবমাননা। গল্পকার এ গল্পে নবীজির (সা.) প্রসঙ্গ এনে এমন এমন কুরুচিপূর্ণ সংলাপ চালিয়েছেন যা পাঠ করলে একজন সামান্য মুসলমানের হৃদয়ও কেঁপে ওঠে। এতে দেখানো হয়েছে যে হুজুর (সা.) আত্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে একজন বয়োবৃদ্ধ ভণ্ডপীরকে তাঁর এক যুবক মুরিদের যুবতী স্ত্রীকে বিবাহ করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং সেমতে ওই পীর (হুজুর কেবলা) অনিচ্ছা সত্ত্বেও উম্মতের কল্যাণ চিন্তায় ওই বিবাহিতা যুবতীকে শরিয়তের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিবাহ করছেন। পুরো বিষয়টাকে অত্যন্ত নোংরাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে—একটি মুসলিম প্রধান দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বস্তরে ধর্মের এহেন অবমাননা ও ধর্মবিদ্বেষের এমন বিষাক্ত বীজ কারা ঢুকিয়ে দিচ্ছে এবং কারা ওদের সহযোগিতা ও প্রশ্রয় দিচ্ছে। মূলত এহেন শিক্ষাই আমাদের জাতির নৈতিক মেরুদণ্ড প্রতিনিয়ত ভেঙে দিচ্ছে এবং সমাজে অনৈতিকতা, ধর্মদ্রোহিতা ও নবী বিদ্বেষের ঝড় বইয়ে দিচ্ছে। মুসলমানের সন্তানরা শিক্ষার নামে কী বিষ গিলছে! পাঠ্যপুস্তকের বাইরে নানাভাবে পবিত্র কোরআন, মহান আল্লাহ ও তাঁর মহান রাসুল (সা.)-এর অবমাননা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.) পবিত্র কোরআন ও ইসলামের বিরুদ্ধে এক-একটি ভয়ঙ্কর হামলা চালানো হবে আর ধরা পড়ার পর এবং মুসলিম জনতার হৃিপণ্ডে রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর আয়েশিভঙ্গিতে ‘স্যরি’ বলে দেয়া হবে, একটি মুসলিম দেশ তো এভাবে চলতে পারে না। অন্যায় হত্যাকাণ্ডের পর মুখে ‘স্যরি’ বলে দিলেই কি ল্যাঠা চুকে যায়? অপরাধীর দায় শেষ হয়ে যায়। বিষয়টি আমাদের বুঝতে হবে এবং সে হিসেবে কর্তব্য স্থির করতে হবে।
Copyright © 2013 MEDIA INFO