দক্ষিণ আমেরিকা সেরার মুকুট উরুগুয়ের

দিয়েগো ফোরলানের জোড়া গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে ৪৩তম কোপা আমেরিকার শিরোপা ঘরে তুলেছে উরগুয়ে। এটি দেশটির রেকর্ড ১৫তম কোপা শিরোপা।

আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সে এন্টোনিও ভেসপুসিও লিবার্টি স্টেডিয়ামে ফাইনালে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারায় উরগুয়ে। দলের পক্ষে অন্য গোলটি করেন লুইজ সুয়ারেজ।


প্রথমার্ধে নি®প্রভ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ জ্বলে উঠে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা। কিন্তু হলে কি হবে পুরো খেলায় বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও কোনো গোল করতে পারেনি তারা। অবশ্য শুধু এ খেলায় নয়, প্রায় সাড়ে তিনশ মিনিট ধরে কোনো গোল পায়নি দলটি।


২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা প্যারাগুয়েকে লড়াইয়ে ফেরানোর সবচেয়ে সহজ সুযোগ পান নেলসন ভালদেজ। কিন্তু ৫৪ মিনিটে তার ওই শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও গোল হয়নি। ক্রসবারে লেগে বল মাঠে ফিরে আসে।


দুই মিনিট পর আবারো সুযোগ পেয়ে যান ভালদেজ। কিন্তু সেবার আর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।


৬০ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার সহজতম সুযোগ পান সুয়ারেজ। কিন্তু অবৈধভাবে বাধা দিয়ে বল নেয়ায় রেফারির বাঁশি সেখানেই থামিয়ে দেয় তাকে। এ সময় প্যারাগুয়ে বেশ বিপদজনকভাবে বল নিয়ে উরুগুয়ের সীমানার দিকে যাচ্ছিল।


উরুগুয়ের রক্ষণভাগের দূর্বলতার সুযোগে ৬২ মিনিটের মাথায় গোল পরিশোধ করার আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে প্যারাগুয়ে। তবে গোলরক্ষক নেস্টর মুসলেরার দৃঢ়তায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় উরুগুয়ে।


খেলার শেষ দিকে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে প্যারাগুয়ে। এ সময় উরুগুয়ে নিজের রক্ষণ বাঁচাতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। তবে খেলার শেষ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে প্যারাগুয়ের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ফোরলান।


এর আগে প্রথমার্ধে সুয়ারেজ ও ফোরলান এগিয়ে রাখেন উরুগুয়েকে। তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক জাস্টো ভিলার চীনের প্রাচীর না হয়ে উঠলে প্রথমার্ধেই আরো তিন-চার গোল হজম করে বসলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না।


প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো উরুগুয়ে। অসম্ভব এক চেষ্টার পেছনে ছুটে সফলতা পেয়েই যাচ্ছিলেন লুইজ সুয়ারেজ। ওই আক্রমণ থেকে গোল না পেলেও প্যারাগুয়ের ভিত কাঁপিয়ে দেন।


তবে ১১ মিনিটের মাথায় আর রক্ষা পায়নি প্যারাগুয়ে। গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সুয়ারেজ।


প্রথম ৫ মিনিট প্রতিপক্ষের সীমানায় ভীতি ছড়ান সুয়ারেজ ও দিয়েগো ফোরলান। ওই সময়েই তিনটি কর্নার আদায় করে নেন তারা। এর মধ্যে তৃতীয় মিনিটে ফোরলানের নেয়া কর্নার থেকে গোলও পেয়ে যেতে পারতো উরুগুয়ে। কিন্তু প্রথমে ভিলার ও পরে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় নেস্টর অরটিগোজা দলকে রক্ষা করেন। অরটিগোজা হাত দিয়ে বল ক্লিয়ার করলেও এড়িয়ে যান রেফারি।


১৬ মিনিটেই গোল শোধ করার সুযোগ পেয়ে যায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু নেলসর ভালদেজ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় ওই সুযোগ আর কাজে আসেনি। প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের বলার মতো আক্রমণ এই একটিই।


৪১ মিনিটের মাথায় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোরলান। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। এর আগে ৩২ মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে নেয়ার সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন ফোরলান। কিন্তু তার ওই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ভিলার।

0 comments:

Thanks for Comment

Copyright © 2013 MEDIA INFO