'ভয়কে জয় করার নামই সাহস'

একেবারে শেষ মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আর পারব না, খুব ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়াই তো সাহস। শেষ পর্যন্ত পারলাম। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশকে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতে নিয়ে এলাম। নিজেকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর রাজা," বলছিলেন এভারেস্ট বিজয়ী এমএ মুহিত।

বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) এই সদস্য গত ২১ মে পা রাখেন এভারেস্ট চূড়ায়। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নিজের সেই অভিজ্ঞতা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

মুহিত বলেন, "দেশের সম্মান বাড়ানোর জন্য কাজ করতে তরুণদের উৎসাহ দিতে হবে, পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে।"

ট্রান্সকম বেভারেজ লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার প্রতিক আগরওয়াল, কাজী ফার্মস লিমিডেটের পরিচালক কাজী জাহিন হোসেন, চ্যানেল আইয়ের ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল হামিদ ও প্যারাগন গ্র"পের পরিচালক আব্দুল হামিদ এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৪ সালে পবর্তারোহণ শুরু করা মুহিত এভারেস্টের আগে চো উই জয় করেন। তবে তার এক বছর আগেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছে যান মুসা ইব্রাহিম। তিনি দেশের পর্বতারোহীদের আরেক সংগঠন নর্থ আলপাইন ক্লাবের সদস্য।

গত বছর মুসা ইব্রাহিমের সঙ্গে ওই অভিযানে মুহিতেরও যাওয়ার কথা ছিল- এমন খবর সঠিক নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন এভারেস্টজয়ী দ্বিতীয় বাংলাদেশি।

মুহিতের পরবর্তী লক্ষ্য বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলু।

"চার-পাঁচ জনের একটি দল থাকবে। তাদের একজন হবে অবশ্যই মেয়ে। বাংলাদেশে খুব বেশি মেয়ে পবর্তারোহী নেই। তবে মানাসলু অভিযানই বলে দেবে এভারেস্টের জন্য তারা প্রস্তুত কী না।"

মুহিত বলেন, "এখন ১৩ বছরের বাচ্চাও এভারেস্ট জয় করছে। মনে হতে পারে ব্যাপারটা খুব সোজা। কিন্তু বাস্তবতা তেমন নয়। এভারেস্টের পথে আমি পাঁচটি লাশ দেখেছি। আয়ারল্যান্ডের একজন পর্বতারোহী মারা গেছেন আমার চোখের সামনেই।"

এভারেস্ট অভিযানের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে এই পর্বতারোহী বলেন, অনেক উঁচুতে ওঠার কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্নি সরাসরি লাগায় মুখের চামড়া উঠে যায়। খেতে ইচ্ছে করে না, শরীরের শক্তি কমে যায়। শেষের দিকে সূর্যের প্রখরতার কারণে দিনে পথ চলা অসম্ভব হয়ে ওঠে। রাতে, হেলমেটে লাগানো লাইটের আলোয় দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়।

এভারেস্টে ওঠার পথে মোট পাঁচটি ক্যাম্প করতে হয় বলে জানান মুহিত। এরই একটি থেকে ফিরে আসেন ওই অভিযানে তার সঙ্গী সজল আশরাফ। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় তার পক্ষে আর সামনে এগুনো সম্ভব ছিল না। তবে প্রথম দিকেই বিষয়টি ধরা পড়ায় মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন সজল। এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।

এর আগে হিমলায়ের ৬ হাজার ২৫৭ মিটার উঁচু সেকিগো শৃঙ্গ জয়ে নেতৃত্ব দেন এমএ মুহিত। বর্তমানে এটি 'নেপাল-বাংলাদেশ মৈত্রি শিখর' নামে পরিচিত।

সুন্দরবনকে বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তার্শ্চের একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান মুহিত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "শুধু সম্মানের ব্যাপার নয়, সুন্দরবন বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তার্শ্চের একটি হলে পর্যটন খাত থেকে আমাদের আয়ও বাড়বে।"

৪১ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। ভোলা জেলায় তার আদি বাড়ি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএনএম/জেকে/০২৫৬ ঘ.

0 comments:

Thanks for Comment

Copyright © 2013 MEDIA INFO