মন্ত্রী হবার ভো দৌড় তত্ত্ব!


সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ‘এতোদ্বারা পাঠক সাধারণকে জানানো যাইতেছে যে, যদি কেউ লেখাটি পড়িবার সময় ভো ‘দৌড় আবুলকে’ ’ভোদর আবুল’ পড়িয়া ফেলেন তবে নিশ্চিত তাকে আইনের হাতে সোপদ© করা হইবে।’
যেখানেই নিষিদ্ধ গন্ধ সেখানেই মানুষের ভীর। তাই সিগারেটের গায়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মৃত্যুর কথা স্মরন করিয়ে দিলেও মানুষ টাকা দিয়ে সিগারেট কিনতে ভুলে না। আমিও লেখাটি পড়তে পাঠককে প্রলুব্ধ করার জন্য শুরুতেই একটা বিজ্ঞপ্তি সেটে দিলাম যাতে পাঠকরা নিষিদ্ধ গন্ধের খোঁজে পুরো লেখাটা পড়ে ফেলেন।
আমাদের মন্ত্রী আবুল সাহেবেরও নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি রয়েছে দুর্নিবার নেশা। পদ্মা সেতু গর্ভে থাকাকালীন সময়েই তিনি এমন কর্মই করলেন যে, জন্মের পূর্বেই পদ্মা সেতুর মৃত্যু ঘটলো। যে যাই বলেন, আবুল ভাইয়ার মন্ত্রী হবার ইতিহাস ফাস করে দিয়ে দীর্ঘদিন সংবাদপত্রের পাতা বিভিন্ন খবর দিয়ে দখল করে রাখা আবুল যুগের আপাত অবসান ঘটিয়ে রনি এখন বাঙলায় হিট। ওদিকে রনি বোমায় আবুল সাহেবের কিছু না হলেও দলের সব নেতা কর্মীরা পাবলিক সামালোচনার ভয়ে ফিট।
রনি ব্রাদার কি বোম্ব ফাটালে তুমি!
কেপে উঠে দল, সাথে বাঙলার ভূমি।
সব পত্রিকা গরম এখন সেই খবরে। ওদিকে শাসক দলের বড় নেতা, মাঝারী নেতা, ছোট নেতা সবারই মাথার চান্দি চৈত্র মাসের ঠা ঠা রৌদ্রের মতো উত্তপ্ত। দৌড়ের এতো মাজেজা কে জানতো আগে। মন্ত্রী নির্বাচনের এই সহজ পদ্ধতি আগে জানা থাকলে শাসকদলগুলোর এতো পেরেসানিতে পড়তে হতো না। এখন থেকে ‘ক্ষুদে গানরাজ” কিংবা ‘ক্লোজআপ তোমাকেই খুঁজছে’ আদলে দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা যেতে পারে। মন্ত্রী নির্বাচনে ব্যক্তির বুদ্ধি কিংবা লাজ লজ্জা থাকার দরকার নাই। শুধুমাত্র বাঁশীর সুরে কষে দৌড় দিয়ে প্রথম হতে পারলেই চলবে।
দুধভাত মন্ত্রী আবুল
আবুল সাহেব বলেছেন, যোগাযোগমন্ত্রীর কাজ করেও তার অনেক সময় বেচে যায়। কাজেই আরো দুচারটা মন্ত্রীত্ব এক সাথে দিলে ক্ষতি নাই। কিন্তু তার অন্য দুটো বক্তব্য বলে ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, পদ্না সেতুর দুর্নিতি হয়ে থাকলে ওটা তিনি করেননি, অন্যকেউ করেছে। ‘অন্য কেউ’ যেহেতু করেছে, তাই দুর্নিতিও হয়েছে। তিনি ঘুরিয়ে হলেও স্বীকার করে নিলেন বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ ১০০ ভাগ হালাল সাবানের মতো খাঁটি। এই অন্য কেউটা কে?
‘আমি করি নাই’,
কে করেছে তবে?
হুদার উপর ব্লেম(Blame)।
পদ্মা সেতুর
চোরকে বলি
শেম তোমাকে শেম!!!
উপরের দিকে থুতু ছিটালে তা নিজের গায়েই পড়ে; আবুল না বুঝলেও তার নেত্রী ঠিকই বুঝেছেন। তাই পাবলিক বুঝার আগেই তড়িঘড়ি করে দোষটা বেহুদা নামে খ্যাত বিগত যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদার ঘাড়ে চাপিয়ে পাড় পাইতে চাইছেন। কিন্তু একাবিংশ শতাব্দীর এই যুগে সব কিছুই এতো ঠুনকো যুক্তির মাধ্যমে চালিয়ে দেয়া যায় না। জনগণ তিনবেলা না খেতে পারলেও দিনে অন্তত: একবার যেহেতু ভাত খায় কাজেই আসল ঘটনা বুঝার ক্ষমতা রাখে। কথার ফাঁদে আটকে গেলে রেজাল্ট ছাড়া মুক্তি নেই। এখন শেখ হাসিনাকে প্রমান অবশ্যই হাজির করতে হবে যে, হুদাই দুর্নিতির নায়ক। প্রমাণ করতে পারলে সেটা হবে বিরোধী দলের জন্য বড় ধাক্কা, ব্যথ© হলে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’। যদিও বিশ্বব্যাংক বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর দিকে আঙুল উচিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিজের কথার জালে আটকে গেছেন এখন। তিনি যদি চুপচাপ থাকতেন, দেশবাসী সন্দেহজনক অবস্থান নিয়ে বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচালে থেকে এক সময় ইস্যুটা বেমালুম ভুলে যেত। সেই সুযোগে সরকার হয়তো পার পেয়ে যেত পদ্মা সেতু দুর্নিতির কলংক থেকে। আবুল সাহেবের ‘আমি করি নাই’ এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘হুদা ব্লেম’ প্রমাণ করে দুর্নীতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য পরিস্থিতি এখন পয়েন্ট অব নো রিটান©| হয় দুর্নিতির কলংক টিপ পরতে হবে, না হয় যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করে টিপটা বিরোধী দলকে পরাতে হবে। অভিযোগটা এসেছে বিশ্বব্যাংক থেকে যে কিনা বিশ্বের মুনাফোখোরদের বস। কথার তীরটা বিরোধী দলের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন এমন আরেকজন ব্যক্তিত্ব যিনি বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। কাজেই এই অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ কথার কথা বলে চালিয়ে দেবার কোন উপায় নেই।
এই ডামাডোলের ভিতর আবুল সাহেব হাসের চরিত্র নিয়ে বললেন, দুর্নীতি হলেও আমি করি নাই। হাস পানিতে নামলেও ডাঙায় উঠে গা ঝারা দিলেই গায়ে কোন পানি থাকে না। আবুল সাহেবও ভেবেছেন, যে দেশে দুর্নিতি ছাড়া সুনীতির দেখা খুব কম মেলে সেদেশের জনগণও এসব ঘটনায় অভ্যস্ত। ‘করি নাই’ বললেই সব ধামাচাপা দেওয়া যাবে। ধরলাম, তিনি দুর্নিতি করেন নাই। যে ব্যক্তি নিজের মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ঠেকাতে পারেন না সে কি করে আরো দু’চার মন্ত্রণালয়ের বাড়তি দায়িত্ব পাবার আশা করে।
তার সে আশায় গুড়ে বালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে নিজের দায়িত্বে নিয়ে নিয়েছেন। অবশ্য যে বস্তার আম ইতিমধ্যে গায়েব করে ফেলা হয়েছে সেই বস্তা জব্দ করে লাভ কি! তবে কাজ একটা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সরিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকারান্তরে দুটো বিষয় স্বীকার করে নিলেন। প্রথমতঃ দুর্নীতির কথা এবং দ্বিতীয়ত, আবুল সাহেবের অযোগ্যতার কথা।
আবুল সাহেব অন্য একটা বক্তব্যে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করতে চাইলেও পদত্যাগ নাকি তার হাতে নেই। সেটা আমরা বুঝতে পেরেছি। দৌড়ের বাঁশী যেহেতু অন্যের হাতে, থামানোর লাল দড়িতো কাউকে না কাউকে অন্য মাথায় ধরে রাখতে হবে। কি অসহায় আমাদের মন্ত্রী। বাঁশী ছাড়া দৌড়াতেও পারে না, আবার লাল দড়ি ছাড়া থামতেও পারে না। উনি কি করে সড়কের বেহাল দশার উন্নতি করবেন। উনি যে শক্তির ছায়া যেতে হবে সেই শক্তির কাছে। দুধভাত মন্ত্রীর পিছনে ছুটে লাভ নেই।
দৌড় ফ্যান্টাসি
দৌড়ের এই মাজেজার জনপ্রিয়তাকে পুজি করে ব্যবসায়িকেরা মন্ত্রীর নামে এনার্জি ড্রিংক বের করতে পারেন। সেই পণ্যের বিজ্ঞাপনটা কেমন হতে পারে?
একটি মেয়ে ফোনে কথা বলছে আর নেচে নেচে গাইছে, ‘ক্রিং ক্রিং ক্রিং। আবুল এনার্জি ড্রিংক।’
এরপরে নেপথ্যে ভরাট কন্ঠে বলতে শুনা যাবে, ‘হ্যা ভাই। আবুল এনার্জি ড্রিংক। দৌড়ে জিতে একশত ভাগ মন্ত্রী হবার নিশ্চয়তা।’
পুনশ্চ: জনগণকে নিয়ে মশকরা করার অভ্যাস আমাদের রাজনীতিবিদদের গেল না। রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ দেশটাকে শুধু নিজের মনে করে। মন্ত্রীত্ত্বের মতো সম্মানজনক পদে দৌড় দেয়া কমেডিয়ানদের এনে জনগণকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধা দেখায়। দেশ কোন খেলার ময়দান নয় যে ভো দৌড় দেওয়া খেলোয়াড় দিয়ে ভরে ফেলতে হবে।
দৌড়ে জিতে আবুল মিঞার
নেইতো কোন হুশ
দেশটা যেন মামার বাড়ী
মন্ত্রী লেবেনচুষ।

0 comments:

Thanks for Comment

Copyright © 2013 MEDIA INFO