নিজের যত্ন নিন সুস্থ থাকুন

জীবনকে নয়, নিয়ন্ত্রণ করুন জীবন যাপনকে। জীবনের আনন্দকে নয়, বাঁচাতে শিখুন জীবনের ছন্দ-হীনতা বা বিশৃঙ্খলাকে। করোনারি হূদরোগ মহামারীর মুখোমুখি দাড়িয়ে স্বাস্থ্য সচেতন জীবন যাপন ছাড়া অন্য কোনভাবেই জোরদার লড়াই শুরু করা যাবে না হূদরোগ মহামারীর শক্তিমান দানবের সঙ্গে। লড়াইটা শুরু হোক করোনারি হূদরোগ নিয়ে বিজ্ঞান সম্মত চেতনার আলোয়, জীবনযাপনের শৃঙ্খলার অস্ত্রে। জীবনে অসুখ বিসুখ আছে এবং থাকবেই, একে মোকাবেলা করার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, ধর্মীয় অনুভূতির ভিত্তিতে নিস্কলুষ জীবন যাপন করা উচিত।


সুস্থভাবে বেশিদিন বাঁচর জন্য কিছু পরামর্শ হল:


০০ অধিক রাত জাগবেন না। রাত জাগলে অনেক সময় আমাদের ক্ষুধা পায় এবং এই অধিক রাতের বাড়তি খাবারই আমাদের মুটিয়ে দিতে পারে। এমনকি তার পরিমাণ সামান্য হলেও।


০০ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠুন। নামাজ বা ধর্মীয় আচার আচরণ শেষ করে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী বা ডাক্তারের নির্দেশ মোতাবেক অন্য কোন ব্যায়াম করুন। সকালে নির্মল বায়ুতে প্রচুর অক্সিজেন থাকে যা আপনাকে সজীব রাখতে সাহায্য করবে সারাদিন।


০০ বয়স ৪০ এর বেশি হলে কোন সমস্যা না থাকলেও একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে ডায়াবেটিশিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। ওজন স্বাভাবিক রাখুন, যদি আপনার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে ওজন কমালে রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগিস্নসারাইড এর মাত্রা কমে। সপ্তাহে অন্তত একদিন দৈহিক ওজন মেপে দেখা উচিত।


০০ চর্বি ও কোলেস্টেল জাতীয় খাবার এড়িয়ে প্রচুর পরিমাণ শাক সবজি, অাঁশযুক্ত ফলমূল খাবেন। এতে চর্বি কমে আসবে। রান্নায় কম তেল ব্যবহার করবেন।


০০ কাঁচা রসুন বা রান্না রসুনের ব্যবহার বাড়িযে দিন। প্রতিদিন খাদ্যে রসুন থাকলে রক্তের কোলেস্টেরল ও এলডিএল কোলেস্টেরল (ক্ষতিকর কোলেস্টেরল) এর পরিমাণ হ্রাস করে। সম্প্রতি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, রসুন খাদ্যের বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করে।


০০ তেঁতুল খেলে রক্তের কোলেস্টেরল কমে। প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ৫ গ্রাম হিসাব করে প্রতিদিন তেঁতুলের শরবত খেলে ২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তে চর্বির পরিমাণ হ্রাস পাবে, সাথে সাথে হূদরোগের ঝুঁকিও অনেকটা কমবে। খাবার সময় আলাদা (টেবিল সল্ট) লবণ খাবেন না। এর সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি ও হূদরোগের সম্পর্ক রয়েছে। শুধু লবণ নয় বাজারে প্রচলিত নোনতা খাবার, নোনতা বিস্কুট, চিপস, পাপড়, ক্যান বা টিনে সংরক্ষিত খাবার, বেকিং পাউডার, স্বাদ লবণ (টেস্টিং সল্প), বোতলজাত, সালাদ, ট্রেসিং ইত্যাদি নোনতা খাবার এড়িয়ে চললে কিডনি ভাল থাকবে। এছাড়াও কার্বনেটেড বেভারেজ অর্থাৎ কোকোকোলা, পেপসি, ফান্টা ইত্যাদি গ্রহণ না করাই ভাল।


০০ প্রতিদিন যে কোন ধরনের মৌসুমি ফল খাবেন। বেশি দামে বিদেশী ফলের প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন প্রকার দেশী ফল খনিজ ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। খাদ্য ক্যালসিয়ামযুক্ত হওয়া প্রয়োজন। চাপের সময় এই খনিজ ক্ষয় হয়, ক্ষয় হয় গর্ভাবস্থায়-ও। বার্ধক্যেই এর অভাবে কষ্ট পেতে হয় বেশি। এজন্য ননী তোলা দুধ খাওয়ার অভ্যাস করুন।


০০ ভিটামিন সি যুক্ত খাবার প্রতিদিন খাবেন এটি শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন খেতে হবে কারণ এই ভিটামিন দেহে সঞ্চিত থাকেনা। টাটকা টক জাতীয় ফলে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আমলকিতে, এছাড়া পেঁয়ারা, আমড়া, লেবু, টমেটো, কাঁচামরিচ ইত্যাদিও ভাল উৎস। ভিটামিন সি আপনার যৌবন ধরে রাখবে, বার্ধক্য দূরে ঠেলে দিবে। আপনার শরীরের ফ্যাট ভাঙ্গবে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করবে। সর্দি কাশি নিরাময় করবে। সর্বপরি দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করবে। যথেষ্ট পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করবেন। তবে খাওয়ার সময় নয়। পানি পান করবেন খাওয়ার ঠিক এক ঘন্টা পরে। বাইরে বের হলে ব্যাগে সম্ভব হলে ফুটানো বা টিউবওয়েলের পানি রাখাই ভাল। বিশুদ্ধ পানি পাওয়া না গেলে ডাবের পানি খাওয়া, চা কফি কম খাবেন। দুটোতেই ক্যাফেইন আছে। পানিতে চা পাতা ছেড়ে বেশিক্ষণ ফুটাবেন না। টি ব্যাগ বা চা পাতা যাই হোক স্বল্প সময় গরম করে চা বানিয়ে ফেলতে হবে। অধিক্ষণ ফুটন্ত তা ক্ষতিকর। অম্বলের দোষ থাকলে এড়িয়ে চলাই ভাল।


০০ সিগারেট, বিড়ি, তামাক পাতা, জর্দ্দা, গুল এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। এসবে ক্যান্সারের ভয় থাকে। হার্টের জন্যও ক্ষতিকর। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমান। সম্ভব হলে দুপুরের কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত।


এছাড়াও: ০০ সবার সঙ্গে মিশতে শিখুন। সামাজিক হোন। ভাল থাকুন।


০০ জীবনটা দেঁৗড় নয়। অহেতুক প্রতিযো-গিতায় নামবেন না।


০০ রসবোধকে কাজে লাগান। আড্ডা দিন মন খুলে, প্রাণ খুলে হাসতে ভূলবেন না।


০০ যতটা শরীর মন নিতে পারে ততটাই কাজ করুন।


০০ বন্ধুদের সময় দিন। সপ্তাহে, দু-সপ্তাহে বা অন্তত মাসে একদিন কাছে কোথাও বেড়িয়ে আসুন। মন যেমন চায়।


০০ স্বাস্থ্যকর খাবার খান। একবারে বেশি নয়। বার বার অল্প অল্প খান। খাবার সময় বেশি তাড়াহুড়া করবেন না।


০০ নেশা তৈরি হতে দেবেন না। নেশা থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসুন।


০০ চলিস্নশ বছর এর পর থেকে নিয়মিত চিকিৎসক দিয়ে শরীর চেকআপ করান। পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খান।


০০ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন। এর ওর কথায় ভুলেও নয়। একটানা খেতে হবে এমন ওষুধ মাঝপথে বন্ধ করে দেবেন না।


০০ সঠিক খাদ্যভ্যাস এবং সুষ্ঠ জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। উচ্চ রক্তচাপ, ষ্ট্রোক এবং হূদরোগেদর ঝুঁকি কমান।

0 comments:

Thanks for Comment

Copyright © 2013 MEDIA INFO